১
হে সখা হে ইচক
অদৃশ্য টিয়ার ডানায় উড়াল দিয়ে এত উপরের দিকে যাচ্ছ কোথায়?
ইঁদুরের নখ নিয়ে অমন খুঁড়ছ কেন এই নরম মাটি,
সন্ধান পেয়ে গেছ বুঝি সেই আশ্চর্য লালঘরের?
একবারও বললে না তো—
পৃথ্বীর অভ্যন্তরে সেই সাড়ে তিনহাত ঘরে,
একা একা লিখবে তুমি ক্যামন কবিতা!
২
সবল ও রুগ্ন শরীরে তিন পায়ে হেঁটে হেঁটে এত অল্পতেই কেন পার হয়ে গেলে এই পথ
যাওয়ার আগে কি একবারও মনে হলো না তোমার আঙিনার তৃণদের কথা কিংবা পাশের বাড়ির শাদা ফুলঅলা নিমগাছটার কথা!
কেন তুমি ভুলে গেলে ঈদের ছুটিতে আমিও ফিরবো বাড়ি
ট্রেন থেকে প্রথমেই নামবো শিরোইল।
৩
ইশ
গোটা শিরোইল, শিরোইলটাই ফাঁকা হয়ে গেল...
৪
ও প্যাঁচা, প্যাঁচা ভাই, প্যাঁচাদা'
অবশেষে তোমার যাত্রা শুরু হলো
এক অনন্ত রাতে
৫
ঘুমাও সখা ঘুমাও
ঘুমের ভেতর হাঁটো
হাঁটো সখা হাঁটো
হাঁটো এই বরেন্দ্র বেয়ে বেয়ে
তারপর থামো সবচেয়ে উঁচু তালগাছটির সামনে
যেখানে আমরা আসর বসাবো মদিরার,
ঘুমাও সখা ঘুমাও
ঘুমের ভেতর হাঁটো...
৬
প্যাঁচা, তোমার সমাধিতে ঝরবে যত শিশির
জেনো তা এই হিমের চোখের জল।
৭
প্যাঁচা, তুমি কেমন আছ এখন?
মধ্যরাতের পর
তোমার অবসন্ন শরীরের ভেতর কী অনুভব করছ?
বিশ্রাম আর বিশ্রামে থাকা মগজ ও হৃদয় কি এখন হাসছে খুব?
চাপ্যাঁ মিতু নমকে ছা নখে?
৮
আমার প্রেমিকা চলে গেছে তোমার বাড়িতে
আমাকে দেখে আর মুগ্ধ হয় না সে
কী করি বলো ইচক দুয়েন্দে!
মুগ্ধ সে তোমার বৃদ্ধ মুখের গঠনে
মুগ্ধ সে তোমার চিকিৎসা সেবায়
মুগ্ধ সে তোমার গদ্য খেলা ও কথা কবিতার ইশারায়…
আমাকে দেখে আর একটুও মুগ্ধ নয় সে
কী করি, বলো কী করি ইচক দুয়েন্দে!
৯
আজকে এই দোসরা জ্যৈষ্ঠ চৌদ্দশ তেত্রিশ
তোমার জন্য কাঁদছে অনেক প্যাঁচা, টিয়া, ইঁদুর
আঙিনার কয়েকটা ক্যাকটাস আর হিম।
১০
এখন বলো তোমার কবরে কোন গাছ পুতলে তুমি খুশি হবে?
১১
আপন স্বভাব অনুযায়ী
প্যাঁচাটি রওনা দিলো রাত্রে
এখন তার আসল শিকারের সময়
১২
এই সকালে তোমাকে বিদায় দিতে হে প্যাঁচা
প্যাঁচারা জারুল গাছের ডালে বসে আছে সেই রাত্রিবেলা থেকে।
প্রিয় প্যাঁচা
হিম ঋতব্রত
হিম ঋতব্রত





মন্তব্য