প্রিয় ইচক দুয়েন্দে, আমাদের কচিভাই, কথাশিল্পী ও ছোটোকাগজ পেঁচা-সম্পাদক শামসুল কবীর বিদেহ হয়েছেন; বাংলাসাহিত্যে তিনি নতুনেক বয়ান নির্মাণ করেছেন, যেখানে গল্পকাহিনির চেয়ে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ব্যতিক্রমী ভাষামিতি, সংস্কৃতিচেতনা, সমাজসংবেদের পাশাপাশি মানসিক বন্দিত্বের দার্শনিক অনুসন্ধান; লালঘর-এ অপরাধ না জেনেই গ্রেফতার হওয়া মানুষদের মাধ্যমে তিনি দেখাতে চান যে কারাগার কেবল শাস্তিনিবাস বা সংশোধনাগার নয়, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও; তার রচনাভুবনে প্রচ্ছন্নভাবে ফ্রানৎস কাফকার জৈবনিক দুঃস্বপ্নধর্মী আবহের সাদৃশ্য থাকলেও ভাষায়ন, ব্যঙ্গবিদ্রূপ, দর্শনবোধ, অভিজ্ঞানে ও অভিপ্রায়ে তা স্বকীয়তায় ভিন্নতর; তার ভাষাভঙ্গি নিছক বাক্যশৈলী নয়, আগ্রাসী ভাষাপ্রমিতির বিরুদ্ধে এক নন্দনপ্রতিরোধ, ক্ষমতাকাঠামোতে সাহিত্যিক প্রত্যাঘাতও, যেখানে মিশেল ফুকোর পর্যবেক্ষণ ও শৃঙ্খলাতত্ত্বের প্রতিধ্বনি লক্ষযোগ্য; টিয়াদুর-এ সময়, স্মৃতি, ইতিহাস ও কল্পনার মিশেলে মনোদার্শনিক আবহে অন্তর্লৌকিক এক জগত গড়ে ওঠে; তিনটি খরগোস ও একটি দুষ্ট পিঁপড়ে গল্পগ্রন্থে শিশু-কিশোরসাহিত্যের নেপথ্যে ক্ষমতা, আধিপত্য, ভয়ভীতি, কূটিলতা, আশংকা ইত্যকার সামাজিক সূচকের রূপক সক্রিয় থাকে; তার সাহিত্য মানুষকে খুবেকটা বিনোদিত করে না করে চিন্তাচর্চা শেখায়; মহান ইচক দুয়েন্দের বিদেহ সত্তার সদ্গতি হোক, তার সৃষ্টিসমগ্র জীবিত থাকুক।
ইচকসমগ্র দীর্ঘজীবী হোক
হান্নান কল্লোল
হান্নান কল্লোল




কৃতজ্ঞতা জানাই
উত্তরমুছুন