কবি বিষ্ণু বিশ্বাস জন্মগ্রহণ করেন ঝিনাইদহ জেলার বিষয়খালিতে ২৯ মে ১৯৬২ সনে; ঝিনাইদহের নলডাঙা ভূষণ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৯ সালে এস এস সি এবং ১৯৮১ সালে ঝিনাইদহ সরকারি কে সি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিষ্ণু বিশ্বাস স্নাতক হয়েছেন ১৯৮৫ সনে। আশির দশকে প্রকাশিত প্রসূন, গান্ডীব, পেঁচা এবং নব্বই দশকে প্রকাশিত নদী, দ্রষ্টব্য ইত্যাদি লিটল ম্যগাজিনে তাঁপ কবিতা প্রকাশিত হত। পেঁচা লিটল ম্যাগজিনটি সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৩ সালে বিষ্ণু বিশ্বাস পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। বিন্দুর পাঠকদের জন্য তাঁর একগুচ্ছ কবিতা পুনঃপ্রকাশ করা হলো৷
–সম্পাদক
কন্যাকুমারী
তুমি দাঁড়িয়েছিলে
উত্তাল সমুদ্র ঢেউয়ের পারে
খণ্ডিত পাথরস্তম্ভে
অন্ধকার।
তোমার চুল উড়ে আছে
নারকোল পাতার মতো সরল
চোখ মুছে আছে বাতাসের অকরুণ ধ্যানে
তুমি যে বিস্ময়কর।
উত্তাল সমুদ্র ঢেউয়ের পারে
খণ্ডিত পাথরস্তম্ভে।
দৃশ্যমান।
পৃথিবী
যেভাবেই পারি-
এগুনোর কথা মনে থাকে।
এত একঘেয়ে পাথরের পথে
বালির প্রলেপ থেমে গেছে।
জয়ের ধুলো পথ মেশিনের ধুমোর মতো
একটি চড়ুই ফাঁদ
একদিন কিছু মৃত্যুর পরে, ভাঙবে।
অন্যভাবে
এগুনোর কথা মনে থাকে।
ঈশ্বরের জন্মজন্মান্তর
আমাকে পেরিয়ে গেলে তুমি পাবে এক ধূলিপথ
ডানে বাঁয়ে সবখানে শিলীভূত পাখিদের শব
মৃত্যু যেখানে অমর অমেয় জলের স্বপ্ন ধোয়া
বাঁশপাতা খড়খড়ি উষর দানোর লোহাগড়।
হয়ত থামতে হবে, বহুবার অনাত্মীয় শোকে
তোমার সোনালি জামা, হলুদ গন্ধের শাড়িখানা
উড়িয়ে নিয়েছে ঝড়। শুধু স্বপ্নের আঁধার-গান
তারাদের নীল জলে তোমাকে দিয়েছে কামরতি
তুমি কি বিয়োতে পারো আদি উষা, প্রথম বাগান?
দ্বিতীয় ঈশ্বর তবে তৃতীয় ঈশ্বর জন্মদানে
আবার মিলিত হবে সোনালি জামা হলুদ গন্ধে।
এই অর্ন্তুনের গল্পে যে পথে গিয়েছে ধূলিপথ
ডানে বায়ে সবখানে জাম আম সবুজ কথক
আমাকে পেরিয়ে গেলে নিশ্চিত কল্পতরুর গাছ।
কবর কাহিনী
রক্তাভ চাঁদ
শিখন্ডী বৃক্ষের বনে নিভে গেলে
ক্যাকটাস ঝরে থাকে বকুলের বনে
ঝরতেই থাকে।
শৈশব থেকে মৃত্যুর কাছাকাছি
কালোশূন্য অন্ধকারে জ্বলে
ঘাসের, ফড়িঙের হাড় ও খুলি।
মন্দ ও ঝড়ো হাওয়া
খুর ও শান, কামজ শ্রম
গতকাল ও কালের ক্রোধ
চ্যুত পত্রের মতো কবর খোঁজে।
ঘুমায়, ঘুমের মধ্যে হাঁটে
কথা বলে আচ্ছন্ন কবর।
ও স্বপ্নোদ্ধারিণী
জন্মেরও আগে মৃত্যু হাত পাতে
সূর্যহীন চাঁদ তারপর।
একা আছি
১.
একা আছি
অনেক দিন অন্ধকারে
অনেক দিন রক্তের ভিতরে স্তম্ভিত আকাশ
সমুদ্র দেখে নি
বিশাল বিমূর্ত অতীত জুড়ে অন্ধকার
অনেক নক্ষত্র জ্বলেছে আকাশে
বিক্ষোভে
সূর্যের কাছাকাছি সূর্যের মতো পুড়েছে
আলোর বহুদা রাস্তার প্রান্তিকে
বারবার অন্ধকার
সময় থেমেছে
শব্দহীন।
২.
মৌন মরুভূমি
ধ্যানী?
স্তব্দ আকাশের নিচে
হোমাগ্নি ঘিরে অঞ্চল বাতাস
বিগত অশ্বযাত্রীর পদচ্ছাপ
অক্ষত সত্যের ভাঙাচোরা বালির সূর্যরেখা
এইখানে তারা
যুদ্ধের মতো বসেছে
অরণি জ্বলছে
অনঙ্গ আলো আগ্নেয়াস্ত্রেও মতো
যজ্ঞ। স্তব্ধতার
দীর্ঘায়তন অন্ধকার কামনা।
৩.
একা আছি
অনেকদিন অন্ধকারে
আমার আগে অনেকে এসেছে এখানে
আমার পরে অনেকে এসেছে
কেউ কাউকে দেখি না
হাতড়ে হাত খুঁজি
ফাংগাস যন্ত্রণা
সমুদ্রের মতো কাঁপে।
সেই অন্ধকার মৃৎ স্তম্ভ
সেই অন্ধকার মৃৎ স্তম্ভ গলে যাবে।
পথে ও পাথরে
ধুলো এবং ঘাসে
বিচূর্ণ সূর্য ঝরে আছে।
পাহড়ের নিচে অগ্নিরণ
বীর্যীকরণ
ঝনঝন ঝর্না
বাদল চেয়ে মাদলে ঘা।
রক্তঝর্নার নিচে তোমার দুপুর
প্রাত্যহিক
রক্তঝর্নার নিচে তোমার জপতপ
আহ্নিক।
কাল ভেঙেছে স্নানঘরের
বন্ধ দরোজাটা
প্রাচীন গুহার পাশে দাঁড়িয়েছ এসে
ভবিষ্য ছুঁড়ে দেবে বিপুল অন্ধকারে?
গুহার ভিতরে অন্ধকার
তোমার হাতে অন্ধকার
সংঘর্ষে ফুটে ওঠে ক্রিসেন্থিমাম
এবং বিস্তার চিত্র।
তীর তীরন্দাজ, লাশ
ঘর গেরস্ত
মৈথুন। আগুন, শীর্ষাকাশ
আর অন্ধকারের নিচে পুড়ে যাচ্ছে অন্ধকার।
কয়েকটি কবিতা
বিষ্ণু বিশ্বাস
বিষ্ণু বিশ্বাস




মন্তব্য