.header-button .inner > span { font-size: 18px !important; } .header-button .inner i.fa { font-size: 40px !important; } .comment-form-message { background-color: #f4f4f4 !important; font-size: 14px !important; }

মাসুমুল আলমের নির্বাচিত ছোটগদ্য

ঘুমের জন্য The Sacrifice

৮ মিনিটেরও বেশি সময়  ধরে কাঠের বাড়িটা পুড়তে থাকে। দৃশ্যটা এক টেকেই শ্যুট করা হয়েছিলো, মুখ্য চরিত্র ----আলেকজান্ডারের বাড়ি ছিলো সেটা।

এদিকে,  সূর্য উঠে পড়েছে আর বাড়িটিতে আগুন ধরে গেছে..... আর সে পাগল হয়ে যায়।

অ্যাম্বুলেন্সে সে যাচ্ছে। 
আলেকজান্ডারের মানসিক বিপর্যয় দর্শককে আক্রান্ত করবে, অবশ্য সংবেদী দর্শক। 
আবার অনেককে আমি ছবি দেখতে দেখতে, গ্যাটে ইনস্টিটিউটে,  ঘুমিয়েও পড়তে দেখেছি। 

আর আন্দ্রেই তারকোভস্কি ঐ  দৃশ্যটি রচনার কথা ভেবেছিলেন দশ দশটি বছর। 
The Sacrifice এর শেষ দৃশ্য!


নেংটি, কাঠ খায় আঙরা হাগে -- আর আমাদের বইয়ের  কোমল বিহ্বল নামকরণ 

আমার একটাই নামঃ নেংটিমোহন দাশগুপ্ত।
আমার বিদ্যের বিশিষ্টতা হল,আমার বা পৃথিবীর দিনানুদিনের সঙ্গে রবীন্দ্রজীবনের দিনানুদিন আমি মিলিয়ে দেখি। যেমন বুয়েনার্স এয়ার্সে বসে গুরুদেব যখন  সেই ১৯২৪ সালের ২১ নভেম্বর তাঁর শেষ বসন্ত কবিতায় লিখেছিলেন....

তখন সেই বাঁশবনের এপারে, সন্ধ্যায়, বাংলা দেশে আমি, একমাসের শিশু একলা চিত হয়ে শুয়ে হাতপা ছুড়ছি।"
(নেংটি / মণীন্দ্র গুপ্ত)

* 'নেংটি' ---প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উপন্যাসের এরকম একটা নাম  দিতে পারবেন, দেবী চৌধুরানী?!
অথবা, এই রকমঃ 'কাঠ খায় আঙরা হাগে'? 
নাহ্, আপনার রুচিতে লাগবে! আপনার/আপনাদের লাগবে কোমল বিহ্বল নাম। থোকা থোকা নাম।

ওহ্ হো 'কাঠ খায় আংরা হাগে'---- এইটা বস্ সুবিমল মিশ্রের একটি গল্পগ্রন্থ!!


মিনি সংলাপঃ সাক্ষাৎকারের নামান্তর

'সংসার মায়াবী লাগে'----- নিশীথ ভড়ের এই কবিতা, তাঁর কবিতাসংগ্রহ,পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলালসহ জয় গোস্বামীর ওপর নিশীথ ভড়ের প্রভাব এবং তা উল্লেখে  এক জয়-ভক্ত---ওনার শ্রীময়ী ভক্তগণই বেশি--- আকস্মিক  প্রশ্ন রাখলেনঃ 

---- আপনার শিল্পগুরু কে?

---- কবি আজীজুল হক---নাম জানেন না, জানলেও পড়েননি , আর সুবিমল মিশ্র, সুভাষ ঘোষ, দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, অরূপরতন বসু, দেবর্ষি সারগী, হেনরি মিলার, মিলান কুন্দেরা, ইমরে কার্তেশজ,আইজ্যাক বাশিভিস সিঙ্গার, হুয়ান রুলফো, হোর্হে লুইস বোর্হেস, মারিও ভার্গাস য়োসা...
এবং, শুরুর দিকে  ২ বছরের জন্য সেলিম মোরশেদ, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ছাদে তারেক শাহরিয়ার,  আজিজ মার্কেটের ফুটপাতের পিঠাওয়ালি খালার দোকানের বেঞ্চে বসে থেকে কবি রথো রাফিসহ ১ বছরের জন্য গান্ডীবের সম্পাদক জনাব তপন বড়ুয়া। এঁরা।

---- আর ২ বছরের জন্য সেলিম মোরশেদ মানে? কোন দু'বছর? এখন কে?

---- ১৯৯৪-৯৬ সাল পর্যন্ত। 
এখন?
ইসমাইল কাদারে, কৃষ্ণপ্রিয় দাশগুপ্ত, মুর্শিদ এ.এম.... আরো আছে। 

---- বাশিভিস সিংগার? কিভাবে? সিংগারের লেখার স্পিরিচুয়ালিটি  আপনার  সাথে যায় না মনে হয়েছে।
 
---- যখন যার লেখা আমার ভালো লাগে, পড়ি। যখন, যতোক্ষণ  ঐ লেখা আমার  চেতনার ওপর ক্রিয়া করে সেই আমার গুরু। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় তো আন্তর্জাতিক মানের গল্পলেখক,তাঁর কতোকগুলো এমন  গল্প আছে.....

---- সিঙ্গার অল্প পড়েছি। কিন্তু তা প্রেমিকার প্রতি তীব্র আকর্ষণ সবটাই তো প্রেমের তীব্রতা...আসলে প্রতীচ্যে কোনো রবীন্দ্র প্রেম নেই সবইতো যৌনতাময়। তারা কখনই প্রেম আর যৌনতাকে আলাদা করে কি? এর বড় প্রমাণ 'ন হন্যতে'আর 'লা নুই বেংগলি'!

----- না।
ভয়াবহ যৌনতা নিয়ে ডিল করেছেন সিঙ্গার। তীব্র যৌনতাময় প্রেম। প'ড়ে দ্যাখেন।

প্রাচ্যেও  কিন্তু ঐরকম।
প্রেম যৌনতাময় সবসময়।
রাবীন্দ্রিক কিছু লোক আর শরৎচন্দ্র মার্কা  কিছু লোক প্রেমকে এমন খন্ডিত এবং তথাকথিত পূতপবিত্র করেছে।.....সন্দীপন, দীপেন, উৎপল, সুবিমল,জগদীশ গুপ্ত...  এঁরা, অথবা বাশিভিস  সিঙ্গার,  ভার্গাস য়োসা, মিলান কুন্দেরা...৷ এঁরা পূতপবিত্রতার নামে আরোপ করেননি কিছু। প্রেমের দূষণ ঘটান নি শিল্পসাহিত্যে। প্রেম---- এটা সব জায়গায় শরীরে ও মনে ইউনিভার্সাল।

দ্যাখেন, রবীন্দ্রনাথের জীবনকালে  বোলপুরে থাকা একা ঐ  জগদীশ গুপ্তের গল্প/উপন্যাস পড়লেই তো বোঝা যায়।

---- হ্যাঁ, এখানে রাবীন্দ্রিক প্রেম বেশি প্রিয়। সামাজিক জীবনে, আর মেয়েদের মননে...


তিন জন লেখকের ‘দেয়াল’

দলীপ কৌর টিওয়ানা-র গল্প----- "দেওয়াল"। 

পাঞ্জাবী এই গল্পটি  জাঁ পল সার্ত্র বা  ভৈকম মুহাম্মদ বশীরের " দেয়াল" গল্পের সাথে একাসনে পড়া যায়,দেবী চৌধুরানী।

১৯৩৫ সালে জন্ম  অপরিচিত বা স্বল্প পরিচিত দলীপ কৌর টিওয়ানা অতিপ্রসিদ্ধ অমৃতা প্রীতমের খুব কাছের এক নারীবন্ধু (লেখক)।


ভাষা ও ভণিতা

খুব মোটা দাগের একটা ভণিতা আছে। কারো পারিবারিক-আঞ্চলিক উপভাষার সাথে রাজধানীতে বসবাসের চলতি-নাগরিক ভাষার একটা সম্মিলন হলো।

ফলে, ভাষাটা আলাদা হয়ে গেলো এবং এমন প্রত্যয় হলো যে, এই-ই তো! আপনার আর্বানিটি থেকে আপনি ভাবলেন, এখনো প্রমিত ভাষায় যে লেখে, আর্বান ল্যাঙ্গুয়েজটাই সে ধরতে পারেনি, এবং সে বা তারা একটা ফালতু এক্সটেনশন!
কিন্তু আর্বানিটি কারো জন্মস্থান বা রাজধানী শহরে বেড়ে ওঠার সাথে সম্পর্কযুক্ত বিষয় না। কেউ যদি এই সময়ের চরিত্র বোঝেন, সময় যদি তাকে তাড়িত এবং সময়ানুগ করে, তাহলে সে আর্বান এবং মডার্ন। 

আপনি তো আপনার মুখের ভাষায় (হেডম, তব্দা, হইছে-না ইত্যাদি) লিখছেন, তো, কারো আঞ্চলিকতায় যদি ‘নাই’ না-থেকে কেবল ‘নেই’ থাকে; ‘ঝিমাচ্ছে' না বরং ‘ঝিমুচ্ছে' থাকে; আর তার-তাদের উপভাষাই যদি মানভাষা হয়, এবং সেই ভাষায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত-দীনবন্ধু মিত্র এঁদের মহাকাব্য-নাটক রচনার পর রবীন্দ্রসম্ভারও হয়ে যায়, সব রস শুষে নিয়ে সেই ভাষা তখন ঊষর হয়ে পড়ে। কিন্তু তারপরও ঐ ভাষায় প্রমথ চৌধুরী, গৌরকিশোর ঘোষ, মাহমুদুল হক, হাসান আজিজুল হক, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়-রা কেন লেখেন? তাঁরা কি অবশিষ্টাংশ?! তাঁরা তবে কোথায় আলাদা? 

এবং আপনি যদি তাঁদের উত্তরসূরি (মহা দুর্ভাগা) হন, তবে তো আপনি গেছেন!!! কেননা, একটা বিকশিত ভাষার ঝুঁকিতে আছেন আপনি।

উল্টে আপনি আছেন মহা-সুবিধায়, আফ্রিকা-অভিযাত্রী ডেভিড লিভিংস্টনের মতো, অবিকশিত বা বিকাশমান যে-ভাষা, প্রায় অনালোকিত বা আলো পড়েনি; এবং ভাগ্যবান আপনি, আপনার শিল্পচৈতন্য নিয়ে আপনি এগোতে থাকেন...

আপনার উপভাষা মিশ্রিত চলতি নাগরিক ভাষার সূত্রে আমরা অনেক কিছু পাবো। আপনার সান্ধ্যভাষার আছে অনন্ত সম্ভাবনা। আর যে মুখের ভাষা তথা মানভাষার চাপ নিয়ে আছে, তার তাবৎ প্রচেষ্টা একটা অন্তর্গত যুদ্ধের মতো, কেবল ভঙ্গিসর্বস্ব না। সেটা আরো টাফ, মি. চৌধুরী।


২২ পয়েন্ট বোল্ড

সেলিম মোরশেদের একটা বই আছে : “পাল্টা কথার সূত্রমুখ...” এরও আগে সুবিমল মিশ্রের একটা হলো: “সুবিমলের বিরুদ্ধে সুবিমল...”

মোদ্দা কথা, তাবিজ বানিয়ে গুলে খেয়েও গলাবাজিঅলারা কেবল ওঁদের ভঙ্গিটাই যা রপ্ত করেছেন। আর্ট না। আর্টের বৈপরীত্যে যেটা সেটাও শেষ পর্যন্ত আর্ট-ই। “আর্ট মানে আরাম”... “শিল্পের বাঘ”... কার লেখা? কোন গল্প?... এসো নিজে করি, মানে খুঁজে নিয়ে পড়েন। এই শ্লেষোক্তিও তাদের এন্টেনার ওপর দিয়ে যায়।

চিৎকার-সর্বস্বতা, শিল্পের ফিকিরে কেবল ‘ধান্দাবাজি নিয়ে থাকায় অমিয়ভূষণ (ক’জন পড়েছেন ‘গড় শ্রীখণ্ড’, ‘তাসিলার মেয়র’ কিংবা ‘রাজনগর’!) তো দূরস্থান, মায় সেলিম মোরশেদ-সুবিমলও তো এনাদের রাডারে ধরে না। একদম না। কেননা, যতোই মিছিলে ভিড় বাড়াক, অনুগামীদের প্রিয়লেখক তালিকায় তখন চলে আসে সমরেশ (“বসু” না কিন্তু) এবং নির্মলেন্দু গুণ।

এবং আমরা একসাথে চলি, জয়তু ২২ পয়েন্ট বোল্ড!


পাঠকের সন্তোষ

ইন্টারভিউ কিংবা অন্যান্য লেখাপত্র পড়ে পাঠক এক্ষেত্রে নেপথ্য ভাবনার সঙ্গে লেখার সম্পর্ক ধরতে পেরে বেশ স্বস্তি পান। যেমন, গার্সিয়া মার্কেজের Off love & Other demons. কিন্তু সমস্যা হয় যখন একজন লেখকের সাক্ষাৎকার বা লেখক-ভাবনা জানার পরও নির্দিষ্ট ঐ লেখার সঙ্গে পাঠক কোনো সম্পর্কসূত্র আবিষ্কার করতে পারেন না। একটা মানসিক চিত্র বা দূরান্বয়ী কোনো ইমেজের সংযুক্তি খুঁজে হয়রান পাঠক তখন বড়ো অস্বস্তি নিয়ে নোবেল-পাওয়া উইলিয়াম ফকনার-কে গ্রহণ করতে বাধ্য হন।

কিন্তু সান্ত্বনা না থাকলেও The Sound & The fury বা As I lay dying-কে সবাই যখন বলে, পরন্তু, যিনি উইলিয়াম ফকনার, এবং যাঁকে কার্পেন্তিয়ের-মার্কেজ-দের পূর্বসূরি ভাবা হয়; ফলে, এই দুই + দুই চার মিলানো সান্ত¡না-খোঁজা-আমপাঠক তথা কমলকুমারের 'ব্যাখ্যা-ক্যাংলা' পাঠকের তখন বড়োই অসুবিধা! অথচ মার্কেজ ও ফকনার দু’জনেই বড়ো লেখক: লেখা ভাবনা ও লেখার মধ্যে কো-রিলেশন দু'জনের জন্য দু’রকম, এবং কারো কারো ক্ষেত্রে এই গ্রাফ-টা অতো সরল না-এ আপনি বিলক্ষণ জানেন, মি. চৌধুরী!


দোস্তি কা সাইড এফেক্টস

দারা-পুত্র-পরিবার... এগুলো হলো দায়বদ্ধ সম্পর্ক।
এর বাইরে অনর্থক ত্যানা প্যাঁচানো, কোনো এক পক্ষের উপর্যুপরি রেসপন্সিবিলিটির ধুয়া তোলায় সেই সব সম্পর্কসূত্র একসময় বাদবাকি জীবনে দুঃসহ 'বোঝা' হয়ে যায়। রেসপন্সিভ সরল মেশামিশি তখন আর থাকে না। কারো জন্য কোথাও ব্রিদিং স্পেসটাও আর অবশিষ্ট নেই। ফলে, অনিবার্য বিচ্ছিন্নতা ও নিজের রাস্তা মাপা।

আর সাদত হোসেন মান্টোর জীবনে ইসমত চুঘতাই-এর মতো বান্ধবভাগ্য ক'জনই-বা পায় অথবা চার্লস বুকাওস্কি ও হেনরি মিলারের উপভোগ্য তথাকথিত নষ্ট জীবনের ঐসব এন্তার সহচর?!

দ্যাখো, এই সব কিছুর মধ্যে যৌন অভিসন্ধি আবিষ্কার করে কেমন একটা চোর-ধরা হাসি দিলেন দেবী চৌধুরাণী..!


আড্ডা ও দেয়াল

ভৈকম মুহম্মদ বশীরের ‘দেয়াল’ নিয়ে আলাপ হতে হতে-যা থেকে আদুরগোপাল কৃষ্ণানের ঐ সিনেমা, তখন কেউ একজন বললো জাঁ পল সার্ত্র-র 'দেয়াল' গল্পের কথা। এবং তখন সরলতার প্রতিমূর্তি দেবী চৌধুরানীর অকুস্থলে আগমন: তার গতরাতের ঘুম নাকি একরকম কামাই গেছে হুমায়ূন আহমেদের ‘দেয়াল’ উপন্যাসটা পড়ে।

তো, সন্দীপনের 'এক যে ছিল দেওয়াল' বা বের্টোল্ট ব্রেখটের ‘দেয়ালে উৎকীর্ণ লিপি’ অথবা জাকারিয়া তামের-এর ‘দেয়াল সম্প্রচার’ প্রসঙ্গ টানলে রুচিভেদে ঐ দেয়ালটা আরো ওপরেই ওঠে। কিন্তু ‘গণতান্ত্রিক’ আড্ডা দেবী চৌধুরানীকে তখন সানন্দা-অনন্যা প্রসঙ্গে চা-কফি অফার করলো, আপাতত...


বয়সের ভার

বয়সজনিত অনেক অভিজ্ঞতা আপনার, কিন্তু তাতে কী হলো বস্? হ্যাঁ, অনেক দেখেছেন আপনি! অ-নে-ক! অনেকানেক!
কিন্তু বিস্তৃত জীবনাভিজ্ঞতার সংগে পাঠ-অভিজ্ঞতার ব্যবধান থাকলে ঐ অভিজ্ঞতাটা তখন খণ্ডিত-ই। এবং আপনার কৃতিত্ব আপনি একজন ভালো সাবজেক্ট হান্টার!

তারপরও হে পলিতকেশ, তায় কালারড, ‘গুণগত’ অভিজ্ঞতাটা যদি নিজের বোধে জারিত হতো! কেননা, বিরাট (পরিমাণগত) অভিজ্ঞতার জন্য ময়মুরুব্বি-র অন্তরে যতোই আত্মশ্লাঘা বাজুক ঐ জিনিস কিন্তু ‘দ্রুত-পাঠযোগ্য’ ‘বাল্যসাহিত্য’ ভিন্ন আর কিছু না।

আর ‘অভিজ্ঞান’ জিনিসটাও, দেবী চৌধুরানী, সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ!!


যৌন-অযৌন

"তথাকথিত যৌনতা" বলতে অযৌনবাদী কিছু একটা বলে থাকেন অনেকে এবং তখন হাস্যকরভাবে একটা প্রতিপক্ষও ধরে নেয়া হয় যে ওরা হলো সেক্সিস্ট!

তো, সাহিত্য যদি জীবনেরই রকমফের হয়ে থাকে, তাহলে জানতে চাওয়া যেতো এই "তথাকথিত" মানে অস্বাভাবিকতা কি-না? 

এই পূর্বজ্ঞান তো সমাজবাহিত এবং উত্তরাধিকারসূত্রে গৃহীত! সুতরাং, দেখা যাচ্ছে, সেই ইডিপাস থেকে বিশ্বের সিংহভাগ সাহিত্যের চরিত্র-ই (যেন সেসব হাওয়া থেকে এসেছে) আসলে বিশুদ্ধতায় সেরা অযৌন একটি পক্ষের “তথাকথিত যৌনতা”-র ছাপ্পা মারা??

আচ্ছা, এক্ষেত্রে, ‘চতুষ্কোণ’ কী হবে? বা, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কন্দর্প দর্পণ’ ও ‘মাতৃচরিতমানস’, জগদীশ গুপ্ত’র ‘আদি কথার একটি’, অমিয়ভূষণ মজুমদারের ‘বিশ্ব মিত্তিরের পৃথিবী’, ফ্লবেয়ারের ‘মাদাম বোভারি’ সুবিমল মিশ্রের ‘প্রেমের মড়া...’, অরুণেশ ঘোষের ‘জীবনের জার্নাল’ হাসান আজিজুল হকের ‘মন তার শঙ্খিনী’, মাহমুদুল হকের ‘নিরাপদ তন্দ্রা’ (হিরণ-কাঞ্চন এই দুই অসম বয়সী চরিত্র), ইলিয়াসের 'তারাবিবির মরদ পোলা’, মারিও ভার্গাস য়োসা-যিনি নিজেই রিয়েল লাইফে তার এক মুরুব্বি আত্মীয়কে বিয়ে করেন (যাকে নিয়ে তাঁর উপন্যাস (Julia aunt & The manuscript writer)-এঁর লেখা, এসব লেখাপত্র তাহলে কী হবে? ছি-ছিক্কার-ভরা যৌনতা আর অজাচার তো??
আর তবে 'নষ্টনীড়', গার্সিয়া মার্কেজের One hundred years... কেন লেজ নিয়ে জন্মায় বুয়েন্দিয়াদের উত্তরপ্রজন্ম?... এরকম বহু, অসংখ্য...

তাহলে ‘কথিত যৌনতা’-টা কী, এনারা যদি একটু উদাহরণসহ খোলাসা করতেন (যে নৈতিক যৌনতার হাত ধরে ‘উন্নত জীবন মহৎ জীবন’-এ উত্তরণ ঘটে?)-বেশ হতো, বুঝতে পারতাম।
এবং এ-ও বুঝতাম যে শিল্পসাহিত্য একটা অবাস্তব ফাঁকিবাজির জিনিস, মি.চৌধুরী!!


ট্রাজেডি অথবা যা আপনার পড়তে ভালো লাগে না

কোনো একটা লেখা বা একটা সিনেমা ভালো না-ও লাগতে পারে। কিন্তু তিনি যদি হন এমন একজন যিনি ইতোমধ্যে সমাসীন তাঁর শিল্পের জগতে, তাহলে, পাঠক এইবার একটু নিজের দিকে তাকান: 
পরিষ্কার খামতি আছে আপনার। গলাফুলো বাক বাকুম পায়রার মতো কেবল ওটা ‘আরোপিত’-এরকম কৃত্রিম ইগো নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। 

বরং অমিয়ভূষণ মজুমদারের ‘বিশ্ব মিত্তিরের পৃথিবী’, ‘মহিষকুড়ার উপকথা’,  ‘দুখিয়ার কুঠি’, অরুণেশ ঘোষের ‘মদ ও মেয়েমানুষ’, ‘সন্তদের রাত’, মলয় রায়চৌধুরীর ‘ডুব জলে যেটুুকু প্রশ্বাস’ ... পড়ে দ্যাখেন। হালের অজিত রায়ের নাম শুনেছেন।-‘যোজন ভাইরাস’, ‘খানা খারাব’ বা কমল চক্রবর্তীর ‘ব্রাহ্মণ নবাব’, ‘লেম্বো’? 

... এসব আগে পড়েন, কিন্তু ইগোতেও যে লাগে! তারপর আবার সাহিত্যিক ঐ আঞ্চলিকতাও যে চাগিয়ে ওঠে। ‘এদিকের দৃষ্টান্ত কই’ বলে অনর্থক ‘ন্যাকড়া’ জুড়ে দিয়েন না, বস্!

পাঠককেও তৈরি হতে হয়, শুধু শুধু নিজের ভালো লাগা না-লাগা এই একগুঁয়ে বোধ নিয়ে তর্ক জারি রেখে কোনও লাভ নেই। অথচ লোকসমীপে, দেখছেন তো, আপনার এইসব ভালো না-লাগা লেখক-সাহিত্যিকের নাম নিয়েই মাঝেমধ্যে চলতে হচ্ছে আপনাকে। আর এইটা একটা ট্রাজেডি, দেবী চৌধুরী, আর এটা আপনি বেশ বোঝেন, না হলে যে মান থাকে না। 


ঝাঁপিয়ে পড়ার এখনই সময়

আপনার জন্মতিথি সামনে?
না হলেও অসুবিধা কিছু নেই।
এমনিতেই স্বপনপুর বা ছাতিমতলা বা ঐরকম কোনো এক স্পটে বয়ঃবৃদ্ধ আর বাচ্চা-মুরুব্বিদের সম্মিলনে ভিড় বাড়ান। সিন্ডিকেট সদস্যদের মাঝে শুভেচ্ছা স্মারক বিতরণ করেন। তারপর মৌসুমি ফলের মতো গাছে গাছে ঝুলে পড়েন। এবং একটা স্ট্রং সাহিত্যিক প্রেসার গ্রুপ তৈরিতে নিবিড় যোগাযোগ রাখেন মাদারকারেজ বা ফাদারগার্বেজ ময়মুরুব্বি বিশিষ্টজনদের সঙ্গে।
যদিও 'নো-বেল' এবছরে (২০১৮ সালে) হচ্ছে না, মানে যৌন কেলেংকারির দায়ে স্থগিত, তবু এ-বঙ্গে ও-বঙ্গে একটা কিছু তো জুটবেই...
অতএব, দেরি না করে এখনই ঝাঁপিয়ে পড়েন। 
দেবী চৌধুরাণী, শিকে ছেঁড়ার সময় আজ বয়ে যায়...


মূর্খ বড়ো, অ-সামাজিক নয়

তারা তাদের অক্ষমতা ঢাকতে অজ্ঞানতার দার্শনিক দোহাই দেন। মৈত্রেয়ী দেবী, কবিতা সিংহ, মল্লিকা সেনগুপ্ত, মন্দাক্রান্তা সেন, যশোধরা অথবা রুবি রহমান, ফেরদৌস নাহার, আকিমুন রহমান, নাসরীন  জাহান-দের নিজের চিন্তার বাহন করেন এইসব মিডিওকার।

এ সমাজে যে যতো পড়ে সে ততো মূর্খ হয়-এই প্রতীতি কোত্থেকে আসে তবে? পাঠচর্চা ছাড়া “এই সমাজে” এ পূরণ-সহায়ক তো গোচরে আসে না,   দেবী চৌধুরাণী!

তবে, কিন্তু, আপনিও পড়েন এবং আপনার পাঠোল্লেখ, এতটা ইনোসেন্ট লাগে, এতটাই ভাবালুতাপূর্ণ নির্বাচন, যে, দেবী চৌধুরাণী অবাক মানতে হয়!

‘খোয়াবনামা’, ‘তাসিলার মেয়র’, সারামাগোর ‘অন্ধত্ব’, কুন্দেরার ‘অমরত্ব’-এর পড়–য়া গাছপাঁঠা-রা আপনাকে নিশ্চয় শহীদ কাদরী-র অন্বেষণরত মাছরাঙা ভাবে না...

কী ইনোসেন্ট আপনি দেবী চৌধুরাণী, খেয়াল করবেন এই ‘গাছপাঁঠা’ জিনিসটা কিন্তু কাঁঠালগাছেই ফলে!!


খাম্বা ও ‘জীবনের জার্নাল’

‘জীবনের জার্নাল’ টা অরুণেশ ঘোষের। উত্তম পুরুষে লেখা, এবং তাই স্ট্রেসটা বেশি। এটার মতো তাঁর ‘সন্তদের রাত’ পড়ে উঠতে গিয়ে পাঠক নিষিদ্ধ বারুদগন্ধ বেশ টের পায়। কিন্তু লেখক-কাম-পাঠক, আপনি তো এ জিনিস নিতে পারবেন না।

আর আপনি যা আপনি তা লেখেন না। আপনার কথাও তাই। যে যাপনের মধ্যে আপনি থাকেন, আপনার লেখায় তা নেই। যে রিলেশনশিপে থাকেন যে কৌশলী জীবনে, এসব থাকা আর না-থাকাথাকি নিয়ে আপনার যাপনচিত্রটা লেখায় আসে না। ঠিক যে মুহূর্তে আপনি লেখেন, আশ্চর্যজনক ভাবে আপনি সচেতন দূরত্বেই থাকেন, আর আপনার কমিউনিকেটিভ ল্যাঙ্গুয়েজ ছাল-বাকলের মতো আপনার সাথে সাথেই থাকে। তবু নিজের চামড়া ছাড়াতে পারছেন না আপনি।

আর দুর্বোধ্যতার নির্মোক যার বা যাদের, আপনার পর্যবেক্ষণে, তার বা তাদের কথা তো বাদ-ই। অনেক থিফ-রিডার আছেন যাঁরা এঁদের একটুখানি পড়ে প্রশংসায় কান এঁটো করে দেন। কিন্তু আদৌ পড়েননি, আর পড়লেও রাডারে ধরেনি।...

মোদ্দাকথা, আপনার লেখাপত্র, যাপন এসবের সংগে আপনার লেখা যায় না। বিস্তর ব্যবধান!!
সহজ ব্যাপারটা হলো, বিদ্যমান স্থিতাবস্থায় বিপ্লবের কুঠার-ফুঠার না, ঘুণপোকার সিংহাসনে বসে যেটুকু করা যায়, সেই অন্তর্গত ভাঙনেও আপনি নেই। 'এই সময়ে' বসে মডিফায়েড একটা উন্নতজীবন-মহৎজীবনের লাইনে আপনি খুঁটি পুঁতে বসে আছেন!


প্রতিবেদন ও সাহিত্য

মোনাজাতউদ্দিনের পায়রাবন্দের শেকড় সংবাদ, সংবাদ নেপথ্যে, লক্ষ্মীটারী, কানসাট; দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'রিপোর্টাজ' ; দেবেশ রায়ের বোম্বাই হত্যার প্রতিবেদন, খরার প্রতিবেদন, একটি ইচ্ছামৃত্যুর প্রতিবেদন; গার্সিয়া মার্কেজের News of Kidnapping, The story of shipwrecked sailor, Off love and other demons, Calendestine, in Chille...

... এঁদের মধ্যে দেবেশ রায় এবং মার্কেজ প্রামাণ্যের দিক থেকে শৈল্পিক ব্যঞ্জনায় একটা বিশ্বাসযোগ্য জায়গায় রয়েছেন। কি গল্পে কি উপন্যাসে। প্রতিবেদন-ধর্মিতার সারফেস রিয়েলিটিতে থেকে চরিত্রের মধ্যে ঢুকে কথা বলা, আবার ফিরে আসা অর্থাৎ সারফেস-ইনারের স্মুথনেস জার্নি একমাত্র এ দু’জনের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। 

যদিও দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বতন্ত্রভাবে তাঁর ছোটগল্প এবং উপন্যাসের জন্যই নামি কথাশিল্পী।
আর ছোট ছোট গল্পের নামে মোনাজাতউদ্দিন অথবা দীপেন্দ্রনাথের তো এসব নিয়ে কোনো আত্মাভিমানও নেই!

এদিকে, ‘পরিদর্শন-প্রতিবেদন’ এখন বেশ দেখা যাচ্ছে ...


ছায়ায় ছায়ায় খেলা

সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের একটা গল্প আছে: অন্ধ স্কুলে ঘণ্টা বাজবে কখন-যেখানে একটা ইঁদুর অন্ধ স্কুলের সামনে বেড়ালের কাছে এসে ‘তুমি আমাকে খাও’... ধরনা দিয়ে প্রতীক্ষায় থাকে। কখন স্কুলের ঘণ্টা পড়বে আর কোনো অন্ধজনের অসতর্ক পা বেড়ালের লেজে পড়লে ইঁদুরটা তার ভক্ষ্য হবে। মনে পড়বে, শহিদুল জহিরের ইন্দুর-বিলাই’ খেলা। আর এই অবসরে জীবনানন্দ দাশের অনুপম ত্রিবেদীর কথাও মনে পড়ে যাবে।


ছদ্মবেশী

শিল্পীর ছদ্মবেশে থাকতে হয় এনাদের। আর সব ধরনের সুবিধা নিতে গেলে সিরিয়াসনেসের মোড়কে এই ভানটা তখন খুব জরুরি।
এবং মূলধারার শিল্পচর্চা তো পুরোপুরি ক্ষমতাকেন্দ্রিক। প্রবল প্রাতিষ্ঠানিক। তারা একটা পালের মতো সদলবলে ঘোরেন, তারা একটা সিন্ডিকেট এবং তারা স্বীকৃতি ও পুরস্কারের জন্য একটা প্রেসার গ্রুপও বটেন। 
কিন্তু এর বাইরে যারা, এখনো তাদের ওপর আস্থা রাখা যায়। যদিও সিন্ডিকেট ও প্রচারযন্ত্রের কল্যাণে পপুলার বাদেও এক শ্রেণির মিডিওকার, সিরিয়াস-ভান-সর্বস্ব শিল্পীরাও নৈবেদ্য পাচ্ছেন বেশ।
কিন্তু তাই বলে পাঠকের কোনো দোষ নেই- তাদেরকে জানতে দেয়া হয় না। নীরবতার ষড়যন্ত্রে তারা একতাবদ্ধ। এবং তথাকথিত জাতশিল্পী গলায় মুক্তাহারশোভিত ঘুরে বেড়ান; তবে, কখনো কি তারা আয়নার সামনে ভেঙে পড়েন এই পদক-খচিতগণ? কখনো...


শো-অফ

কোনো ধারণাপুষ্ট হয়ে সারফেস লেবেলের না-মানামানিটা কার্যকর কিছু না, দেখনসই না। ২২ পয়েন্ট বোল্ড না। 
চে গুয়েভারার ছবি দিয়ে টি-শার্ট পরে যেমন লোকে ঘুরে বেড়ায়, undergarments হয়, শ্যাম্পেনের বোতলের ছবিও তো হয়!

কিন্তু তাতে কী হলো? কী এলো-গেলো?
ডি-ক্লাসড বিষয়টা ওরকম সারফেস লেবেলের শো-অফ কিছু না।
ব্যাপারটা অন্তর্গত...


সচেতনতাবোধ ও ডি-ন্যারেটিভ ফর্ম

হয়তো ফর্মের প্রয়োজনেই লেখক তাঁর শিল্পকর্মে উপস্থিত থাকেন। আর এটা করতে গিয়ে ঐতিহাসিক উপাদান-নির্ভর বহু সুবিশাল উপন্যাসপাঠ একটা ব্যাপক তন্দ্রাচ্ছন্নতা এনে দিয়েছে। নিজেকে জারি রাখতে গিয়ে উপন্যাসের সময়কালের মানুষ, তার সংলাপ ও চিন্তন প্রক্রিয়াসহ লেখকের আজ্ঞাবহ আলোকপ্রাপ্ত মেকি চরিত্রে পরিণত হয়েছে। এমন উদাহরণ বিস্তর। তবে অনেকদিন বাদে শওকত আলীর ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’-এর পর ৯৩ পৃষ্ঠার একটি কৃশকায় উপন্যাস: মাসউদুল হকের ‘পূবের পূর্বপুরুষেরা’ পাঠ এই ক্লিশে তন্দ্রাচ্ছন্ন অভিজ্ঞতার ব্যতিক্রম ঘটালো।

মধ্যযুগের শেষ দিকে, বাংলার ১২ ভূঁইয়াদের একজন মুসা খাঁ-র শাসনকালে ঢাকামুখী মুঘল শাসকের প্রতিনিধি সুবেদার ইসলাম খাঁ-র যুদ্ধংদেহি প্রস্তুতির মধ্যে আমজনতার অংশ সুবর্ণগ্রাম (অধুনা সোনারগাঁ)-এর মসলিন বয়নশিল্পী, পর্তুগিজ জলদস্যুদের দাসবাজার, মগ-দোষে-দুষ্ট ও সহমরণ থেকে পালিয়ে বাঁচা নারী, আর এদের সাথে সম্পর্কের জটিলতায় নৌপথে ফেরারি একজন পুরুষের মনোজগতের পথ ধরে ইতিহাসের কালখ-। বাস্তবতার হাত ধরে কল্পনা, ডি-ন্যারেটিভ টেক্সট ঐতিহাসিক উপন্যাস সম্বন্ধে পাঠকের/ লেখকের অভ্যস্ত মানসিকতার পরিপন্থী।

কিন্তু জাকির তালুকদারের ‘পিতৃগণ’ কিংবা পাপড়ি রহমানের ‘বয়ন’ এসব থান-ইট-উপন্যাসের পাশে (ইদানীং এরকম কব্জির জোর দেখানো গতরজব্দ উপন্যাসের চল দেখা যাচ্ছে বেশ) ক্ষুদ্রায়তনিক ‘পুবের পূর্বপুরুষেরা’ এবং অমিয়ভূষণ মজুমদারের ‘মধু সাধু খাঁ’-র কথাও একসঙ্গে মনে পড়ে গেলো অনেকদিন পরে।

আর সাম্প্রতিক কালে ইতিহাস-আশ্রয়ী আমাদের ঔপন্যাসিকগণ একেকজন বর্ণনাকারী মাত্র। তাঁরা নিঃসন্দেহে ইতিহাসের ভালো পাঠক। এসব রচনায় কোনো প্রকার সাহিত্যিক-চিন্তাধারা নেই, নিজের উপলব্ধি বিশ্লেষণ নেই। পুরস্কার-খচিত হবার প্রত্যাশা নিয়ে এ সময়কার উপন্যাসগুলো কেবল বিবরণদাতার প্রকৃষ্ট নিদর্শন।


অনুবাদের রকমফের

উইলিয়াম ফকনারের রচনাশৈলীর সঙ্গে পাঠককে একরকম মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। জটিল বাক্যবিন্যাস তায় ধীরগতির রচনারীতি পাঠককে একরকম নাজেহাল করে ছাড়ে। তবু এই রচনার বলিষ্ঠতার একটা আকর্ষণ আছে, যেমনটা রয়েছে কমলকুমারে।
কিন্তু কোন অন্ধত্ববাদী চেতনার এমন পক্ষপাত থাকবে যে, ফকনারের As I lay dying-এর ভাষান্তরিত মেড-ইজি স্টাইল আনবাড়ির চে' মামাবাড়িরটাই ভালো(?)
আর হুয়ান রুলফো-র 'Pedro Paramo' অথবা মার্কেজের 'One hundred year's of solitude’ এমন না যে মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বা জি এইচ হাবিব করেছে বলে ওতে হাত-ই দেয়া যাবে না?! 
এইটা অবশ্য একদম বলা অনুচিত, এটা তখন ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারা।


কসরত

সারাউন্ডিং নিয়ে গদ্য ভিন্ন আর কী-বা লেখা যায়?!
অথচ ভাবনামূলক প্রতিক্রিয়াটা মাঝেমধ্যে চতুষ্পার্শ্ব থেকে আসে, সে হোক মি. চৌধুরী, দেবী চৌধুরাণী অথবা 'বস' বা 'ওস্তাদ' এনাদের হাত ধরে; সহমত-ভিন্নমত আলাপ সাপেক্ষে এটা আসতে পারে... কিন্তু যাই হোক, সহ-সম্বন্ধ আবিষ্কারের তাড়নায় লেখার কমননেসটা তখন লেজ গুটিয়ে পালায়...

আচ্ছা, একমাত্র কবিতা বোধ হয় (শ্লোগান-টাইপ বক্তব্যধর্মিতা ব্যতীত) এসব থেকে দূরস্থান, অপ্রত্যক্ষ ও ইশারাবাহী!?
কিন্তু মহাত্মন, চাইলেই তো আর 'কবিতা' লেখা যায় না।


ম্যুভমেন্ট ২২ পয়েন্ট বোল্ড

২২ পয়েন্ট বোল্ড কিছু লেখক আছেন, প্রথাবিরোধিতার নামে যত্রতত্র ২২ পয়েন্ট রচনা করেন।
অন্তর্গত নিরীক্ষা এঁদের রাডারে ধরে না।
অন্ধ অনুগমন আর কাকে বলে! 

সাহিত্যের বাজার

আপনি তো আবার বেশ ইতিহাস-পুরাণ সচেতন,আর যখন গদ্যও আপনার হাতে রয়েছে, এবং যখন আপনি রীতিমতো সচেতন যে, সুধীমহলে কী চলিবে আর কী চলিবে না-সেই টনটনে নাড়িজ্ঞান-ভাষাজ্ঞান নিয়ে ন্যারেটিভ-এর লাইনে পক্ষবিস্তার করলে শেষকালে যে থানইট বা নিদেনপক্ষে যে আধলাখানা আপনি নামাতে পারবেন, তাতে সাহিত্যের বাজারে কেল্লা ফতে! আলব্যের কামু, মার্কেজের অধিকাংশ রচনা, ওয়ালীউল্লাহ্, মাহমুদুল হক, উদয়ন ঘোষ, সন্দীপনের অ্যান্টি-ন্যারেশন সমৃদ্ধ ক্ষীণতনু রচনা সম্বন্ধে আপনার সম্যক জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, ওস্তাদ!
কিন্তু আপনি বিচক্ষণ যে, বাজারের গ্রহণযোগ্যটাই হলো আসল।


প্রবন্ধ-ভীতু পাঠক

প্রবন্ধ/নিবন্ধ পড়তে গিয়ে, যেহেতু একটা ভারি বিষয়ের অবতারণা থাকে, কেমন যেন আগে থেকেই একটু শ্রান্তিবোধ হয়। আর কী যে, সুপ্রচুর রেফারেন্স থাকে, আর নিজের কোনো উপলব্ধিও পাওয়া যায় না। আসলে তত্ত¦জিজ্ঞাসু মন শুধু না, উদ্দীপ্ত কল্পনায় মুখের ভাষার কাছাকাছি নিজস্ব একটা টেকস্ট ধরে ধরে মানবসম্পর্কের বিচিত্র চলন বা সমাজ-রাজনীতির বয়ানের ভেতর দিয়ে লঘুচালে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা আলগোছে বলতে পারা বেশ দুরূহ (ব্যতিক্রম দুই-একজন হয়তো আছে)। 
এবং তাই, সমসময়ের আলোচ্য ও বিবিধ প্রতিক্রিয়ার সহজ প্রকাশ জারি থাকলে, প্রবন্ধ-ভীতু (যদি থাকে) মানুষদের জন্য একটু স্বস্তির কারণও হয়। 

[ ‘কথাপরিধি: ২২ পয়েন্ট বোল্ড ও অন্যান্য’ বই থেকে প্রকাশ করা হলো। ]

মন্তব্য

BLOGGER
নাম

অনুবাদ,13,আত্মজীবনী,12,আলোকচিত্র,1,ই-বুক,7,উৎপলকুমার বসু,23,কবিতা,159,কবিতায় কুড়িগ্রাম,7,কর্মকাণ্ড,10,কার্ল মার্ক্স,1,গল্প,30,ছড়া,1,জার্নাল,1,জীবনী,3,দশকথা,22,পুনঃপ্রকাশ,8,পোয়েটিক ফিকশন,1,প্রতিবাদ,1,প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা,1,প্রবন্ধ,56,বর্ষা সংখ্যা,1,বিক্রয়বিভাগ,23,বিবৃতি,1,বিশেষ,11,বুলেটিন,4,বৈশাখ,1,ভিডিও,1,মাসুমুল আলম,35,মুক্তগদ্য,20,মে দিবস,1,যুগপূর্তি,6,রিভিউ,5,লকডাউন,2,সম্পাদকীয়,7,সাক্ষাৎকার,11,স্মৃতিকথা,2,হেমন্ত,1,
ltr
item
বিন্দু | লিটল ম্যাগাজিন: মাসুমুল আলমের নির্বাচিত ছোটগদ্য
মাসুমুল আলমের নির্বাচিত ছোটগদ্য
https://1.bp.blogspot.com/-zW4dXCg40sg/X3oQPg9myCI/AAAAAAAABGk/rfbLwAeihRANlT3ca--9pBDSesFU1VZYwCPcBGAYYCw/s320/%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25B8%25E0%25A7%2581%25E0%25A6%25AE%25E0%25A7%2581%25E0%25A6%25B2-%25E0%25A6%2586%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%25AE.png
https://1.bp.blogspot.com/-zW4dXCg40sg/X3oQPg9myCI/AAAAAAAABGk/rfbLwAeihRANlT3ca--9pBDSesFU1VZYwCPcBGAYYCw/s72-c/%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25B8%25E0%25A7%2581%25E0%25A6%25AE%25E0%25A7%2581%25E0%25A6%25B2-%25E0%25A6%2586%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%25AE.png
বিন্দু | লিটল ম্যাগাজিন
https://www.bindumag.com/2021/01/Masumul-Alam-Article.html
https://www.bindumag.com/
https://www.bindumag.com/
https://www.bindumag.com/2021/01/Masumul-Alam-Article.html
true
121332834233322352
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts আরো Readmore উত্তর Cancel reply মুছুন By নী PAGES POSTS আরো এই লেখাগুলিও পড়ুন... বিষয় ARCHIVE SEARCH সব লেখা কোন রচনায় খুঁজে পাওয়া গেল না নীড় Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy