রোদে ফেলা ছায়া
আজও সম্পর্কের কাচে রোদ থেমে থাকে,
তোমার নামটাও যেন সেই কাচের ভেতর।
ধুলোর মনোমালিন্য ভেঙে
পারস্পরিক যোগাযোগে হালকা হই,
তবু কোনো বিকেলেই উড়ে যাই না।
শহরের হৃৎপিণ্ড
এই শহরটা বেজে চলে গাড়ির শব্দে,
মানুষ হাঁটে যেন ব্যাটারিচালিত স্বপ্নে।
কেউ কাউকে চেনে না—
তবু সিগন্যাল লাল হলে, সবাই থেমে যায় একসাথে।
বৃষ্টির স্কেচ
ছাতার ভেতর মুখটা লুকিয়ে হাঁটো,
বৃষ্টির রেখায় ভিজে যায় চুল।
জানি না, কাকে ভুলতে চাও—
কিন্তু আজ বৃষ্টি আমারই পক্ষে বোঝাপড়া করে।
বাইরে
প্রায়শই ঘরে আলো আসে পাশের বিল্ডিং ছুঁয়ে,
তোমার ঘরেও নিশ্চয় একই রোদ।
তবু আমাদের মাঝে এক ইঞ্চি দেয়াল,
যেখানে প্রতিদিন জন্ম নেয় দূরত্ব।
একাকিত্বের ফাইল
ল্যাপটপে খোলা থাকে পরম্পরা চ্যাট,
তুমি অফলাইন, অথচ কথা চলতে থাকে।
যেভাবে মরা নদীতে জোয়ারের অপেক্ষা—
তেমনই তোমার অনুভূতির পারস্পরিক বিসর্গে
আমার নিরবিচ্ছিন্ন ডিপ্রেশন ছুঁয়ে চলে।
গ্রীষ্মের ডাকবাক্স
পোস্টম্যান আসে না আর,
চিঠিগুলো এখন আবেগীয় শূন্যতায় হারিয়ে গেছে।
তবু পুরোনো বাক্সে মাঝে মাঝে খুঁজে পাই—
একটা হলুদ পাতা, যেখানে তোমার নাম দৃশ্যমান ভাসে।
সময়ের লিফট
উঠানামা করি প্রতিদিন,
কখনও প্রথম তলা, কখনও একদম শূন্যে।
মাঝে মাঝে নির্জন আটকে যাই—
যখন তোমার নাম ভুলে যাই ইচ্ছাকৃতভাবে।
ফ্ল্যাটের অনুরাগ
বাইরে মেঘ জমেছে,
ভেতরে শুধুই আলো নিভে যায় ধীরে ধীরে।
এই নীরবতাই এখন ঘরের নিরিবিলি আসবাব,
যা কেউ সরাতে পারে না।
শেষ পিক্সেল
তোমার ছবিটা ঘোলা,
তবু সেই অস্পষ্ট মুখে এখনো ধরা পড়ে রোদ।
প্রেম বোধহয় প্রায়শই ঠিক এমনই—
কম রেজুলেশনেরও তবু সবচেয়ে স্পষ্ট।
বৃষ্টির স্কেচ ও অন্যান্য কবিতা
চঞ্চল নাঈম
চঞ্চল নাঈম




মন্তব্য