হেড়েম্ব অথবা শীতলা
অধিক সময় সন্তাপে বাদল রেখা মাটি ছোঁয়
বিরতিহীন মশাল জ্বলে শীতার্ত বিছানায়
হাতে চিবুকে ওষ্ঠাগত প্রেম
ভেসে যায় মরা লাশের বহর কেনা গাড়িতে; বরফে!
হোক দাঁতাল
হোক কুম্ভক
এক রাত পট পটে ফোটা রক্ত চর্বি শ্মশানের মারণ চিতায়
ডাহুকের মর্মন্তুদ আওয়াজে
তিরতিরে কাঁপে বাঁশের পাতা
দাঁড়িয়ে ঠায় পথের ডগায়
বুকে এসো, চুমু খাও অথবা বেদনা জাগাও
সাদরে। আমি কিছু বলবো না প্রিয়া ঘন শ্বাসের অস্থিরতায়
কিন্তু বদলে গেল, সব পরিতাপ যেন বমির মতো বেরিয়ে আসে
তাহলে উত্তপ্ত বাতাস তুমি নিয়ে এসো বা ফিরিয়ে দাও
এই অস্তিত্ব বিলাসে।
একবার
একবারই ডেকেছিলে অরণ্যানী পথে
হারিয়ে, গভীরতায় ঝুম বৃষ্টি’র অধীনে
বারংবার একই কথা মনে পড়ে
সেসবের সূতিকাগৃহ থেকে যন্ত্রণা কিনে
চারপায়া জীবন ক্ষয়ে গেছে ঘুণ ধরা
সামাজিক বেষ্টনী’র প্রথা। না। শপথের
অক্ষরে মিথ, প্রপঞ্চ।
সে ছায়ায় আশ্রয় পেলাম জেনেও
শরীরের রন্ধ্রে ঘামের ঘ্রাণ, চিকচিকে
নক্ষত্র রাত্রির সহযোগে নিশাচর কাকাপো
ঘর বাঁধে মাটির ভেতর।
একবারই বলেছিলে, শোনো।
বুকের কাছে জমাট বরফ ভালবাসা আজ
আর্কটিক থেকে স্তুপাকৃত বিরল
উদ্ভূত অনুভূতি হাঁকে। কি জানি—
তৃষ্ণার্ত পারিজাতে আগলে রাখে
গাঢ় কুন্তল অভিষেকে
অবিমৃষ্য কতক ত্রস্ত উল্লাসে।
ঐ একবারই, তারপর—
নিভৃতে ছ্যাদাঅলা টিনের ফাঁক গলিয়ে
দূর জলাশয়ে দেখি সিতকণ্ঠ
একজোড়া মানুষ নেমেছে চোখে
বোগেনভিলিয়া-ক্রেমাটিস ঝোপের ভেতরে
এখনো প্রেম ফোটে দীর্ঘকায় স্বপ্নে।
আর কত কাছে—
মুখের কাছেই স্তম্ভিত আদর
ফিরে আসছে জোনাকি হয়ে
হাতের তালুতে মিশে যাওয়া রেখায় ক্রমেই
রূপালী জোছনা প্রতিবিম্বিত করে
একই দুটি পুরুষ্টু স্তন
একবারই বোধহয় ভালবেসেছিলে—
ভেজা পথের কাদারছিট ও পেলব মাটিতে
থোকা থোকা শাব্দিক বর্ণ
ভেঙে বিচূর্ণ; হাঁটুর কাছে মাথা রেখে
মর্ত্যের ধরাশায়ী ব্যবস্থায়
গত কোষের নতুন রূপান্তরে
এসেছিলে প্রেমিকা হয়ে।
সেই গোলাপি বিকেলে সূর্যাস্তের পর
নিজেকে খুঁজতে ভীষণ কষ্ট হয়
ঐ একবারই, একবারই প্রিয়।
ধূসর চোখে ও কীসের নেভা আলো
সন্ধ্যের তল্লাটে ছেঁয়ে আসে গোষ্ঠের ধুলো
সরু পথে চাতক পাখি ঊর্ধ্বমুখে
বাবলা গাছের তলার ধনুক ডালে
বোবা পেঁচা মুখভার চেহারায়
সংগমরত ইঁদুরের, ব্যাঙের শীতঘুম কালে
দরজায় কড়া নাড়ে বিষন্ন বিকেল
হিরণ্যগর্ভ থেকে অতিবেগুনী লেপ্টে স্মার্ত প্রেম
ঠোঁটের ডগায় বিশল্যকরণী’র রস মেখে
আঘাতজনিত ব্যথা যেন একপেশে হিংসের
সহস্র কণা আরো পাঁজরের বায়ু-পেশী টানে,
আজ মর্মাহত; নিবর্তন শুধু জীবনের প্রহর জানে
পরিণামদর্শী মানুষের নৈকট্যে
খাদির চাদরে আবৃত ক্লেশ-পীড়া
এই তল্লাটে প্রকোপ বাড়ে কুকুরের কান্নার
পরিযায়ী পাখির বিশুদ্ধ মিশ্রণে
সংশ্রবে নিপতিত যতক আঁধার
বগ গ্যাসের বুদবুদীয় শব্দে
কোথায় খুঁজিনা প্রেম-তোমার কাছে!
নিরুত্তর বোবা ভাষায় জানিও
গাছের হলদে পাতায় নাইট্রোজেন অভাব বুঝেছে
ঘোলাটে চোখের ভেতর তালিকাবদ্ধ
কখনো গাঢ়-গভীর তলে দৃষ্টি রাখ
জেলি পদার্থের নিয়মিত অনুসরণ করে
জানলার ধারে ল্যাংড়া শালিক।
খরা মুখ শুধু কস্মিনকালে
এক ফালি হাসে, একবার কথা বলে
বিবর্জিত শ্লাঘা, মনে হয়
কোন কালে ডুবে গেছিল এমন ধুলোর আস্তরণে
উত্থিত যৌনাঙ্গের নিভে যাবার মতো
প্রস্ফুটিত কাঁটা গোলাপ—মেনে নাও
তুমি ঝরে যাবে এই ক্ষণে, অথবা
প্রেমিকার হাতে তুলে দেবে, মৃত্যুদণ্ড!
যখন অসিতবরণ মেঘ, সূর্যাস্তের শেষ আলোয় দেখি
নির্বিকল্প সংযম
ভাঙা পায়ায় ঠেস দিয়ে আকার বিহীন বাতাস চিবোই শুধু।
ফুল কিন্তু রক্তজবা
ফুল হাতে দাঁড়িয়েছি ফুটপাতে অথবা রঙিন প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে লিখেছি; শান্তি চাই অন্তত মরার
যদি যুগ যুগ জুতো হাতে দাঁড়িয়ে পড়তাম তাহলে কদাপি সাহস পেতো না বেয়োনেট আঙ্গুল তুলে ধরতে ললাট প’রে
বোধয় ভুল হয়ে গেছে, অনেক বড় ভ্রমে কেটে গেছে আমার পূর্বপুরুষের সময়
ফুল আর জুতোর অর্থের যে বিশ্লেষণ বঙ্গ রাক্ষসপুরে অনিবার্য সত্য।
রক্ত, কালো পিচ, নুড়ি পাথর, ধূসর আসনে মরু তস্কর
আত্মহুতির বন-বনাঞ্চল, নদী ও ঝর্ণামুখ
কি কৈফিয়ত আশা করো?
অনেক কিছুই অবধারিত, বর্ণাঢ্য সকাল অথবা মসৃণ বিকাল এবং বিকাশ থমকে আছে গব্বুজ ইমারতে
অসুর করেছে অমৃত পান, বোঝো।
কোনো রেনেসাঁসের, দ্রষ্টা অভিমুখে স্রষ্টা
লুপ্তির পথে কান্না আর ডর
সুপ্তির ঘন অন্ধকারে মিশকালো অতীত প্রেতাত্মা, ভয় করছে?
ফুল ও জুতোর বদলে মশাল জ্বালানো কর্তব্য, আগুন ওরা খুব ভয় করে
ওরা লেলিহানে কখনো পুড়েনি বলে
পোড়ানোর স্বাদটুকু জানে
ওরা ভয় করে, বারুদের চেয়ে শক্তিশালী মগজ ভয়ংকর বিপদে ফেলতে পারে
শঙ্কায় ইনসোমনিয়া, রক্তচাপ, স্নায়ু উৎপীড়ন এভাবে বাড়লে
আর কতদিন কেটে খাবে মনুষ্য মাংসের অবশেষ?
তাই ফুল হাতে আমিও ভুল পথে
কিন্তু এবার পিছনে রেখেছি কঠোর কুঠারী ও রক্তজবা।
একবেলা
অরুন্ধতী এইখানে আমাদের বসা দরকার!
প্রাচীনকাল থেকেই ডাইনোসরগুলো এইভাবে রাজত্ব করেছিল
নির্ভয়ে নিঃসংশয়ে
আমরা এখন তার পাথরের মূর্তিকে দেখছি
আমি তার পিঠে উঠলেও ডাইনোসোর দাবী করবে না
অরুন্ধতী আমার—
আরো কাছে এসে দেখো, চোখগুলো কেমন জ্বলন্ত
দাউ দাউ লেলিয়ান শিখা
উতপ্ত আর লালচে
ধূর, চল বরং ওদিকটা দেখে আসি।
জলে নেমো না, সাঁতার জানো?
আহ! বাজ পাখিটার নখ দেখো, নখে করে পৃথিবীকে তুলে নিয়ে যেতে পারবে।
একবেলায় কিছু হয় না, আরো কতক বেলা যদি কাটাতে পারতাম!
একবার ও অন্যান্য কবিতা
ভীষ্মদেব সূত্রধর
ভীষ্মদেব সূত্রধর




মন্তব্য