.header-button .inner > span { font-size: 18px !important; } .header-button .inner i.fa { font-size: 40px !important; } .comment-form-message { background-color: #f4f4f4 !important; font-size: 14px !important; }

ইচক দুয়েন্দে: সমকালীন বাঙলা সাহিত্যে নিঃসঙ্গ পরিব্রাজক

ইচক দুয়েন্দে: সমকালীন বাঙলা সাহিত্যে নিঃসঙ্গ পরিব্রাজক
সাম্প্রতিক বাঙলা কথাসাহিত্যে ইচক দুয়েন্দে এমন একজন লেখক, যিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেও প্রচলিত খ্যাতির অলংকার গ্রহণ করেননি। তাঁর লেখালেখি পাঠকের সামনে উপস্থিত হয় খুব সাধারণ মানুষের জীবন, অভাব, কামনা, হাহাকার ও সামাজিক ক্লান্তিকে ঘিরে। তিনি নিজের সাহিত্যিক জগৎ নির্মাণ করেছেন ছোট শহর, মফস্বল, ক্ষয়িষ্ণু মধ্যবিত্ত পরিবার, ব্যর্থ প্রেমিক, হতাশ তরুণ, আর হারিয়ে যাওয়া মানুষের ভেতর দিয়ে। বাঙলা ভাষায় বহু লেখক বাস্তবতার কথা লিখেছেন, বহু লেখক প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করেছেন, তবে ইচক দুয়েন্দের গদ্যে বাস্তবতা এমনভাবে প্রবেশ করে যে পাঠকের সামনে সাহিত্য ও জীবন প্রায় একই মুদ্রার দুই পিঠ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর রচনার চরিত্ররা কোনো মহান আদর্শের প্রতিনিধি নয়; তারা ভাঙাচোরা, ক্ষতবিক্ষত, পরাজিত, লজ্জিত হয়ে বেঁচে থাকে। সেই বেঁচে থাকার মধ্যেই তৈরি হয় তাঁর সাহিত্যের গভীরতা।

ইচক দুয়েন্দের সাহিত্যে প্রথমেই নজর কাড়ে ভাষার ব্যবহার। তিনি ‘প্রচলিত ধরনের অলংকারপ্রিয়’ লেখক ছিলেন না অথবা বলা যায়, এটাই তাঁর নিজস্ব অলংকার! যেখানে বাক্য অনেক সময় সংক্ষিপ্ত হয়, হঠাৎ থেমে যায় কিংবা ভাঙা ছন্দে নির্মিত হয়। সেই ভাঙাচোরা বাক্যের ভেতরেই জমা থাকে জীবনের প্রচণ্ড চাপ। তাঁর ভাষা পাঠককে মুগ্ধ করার উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয় না; ভাষা সেখানে আহত মানুষের মতো। কথোপকথনের ঢঙ, আঞ্চলিক উচ্চারণ, অসমাপ্ত বাক্য কিংবা হঠাৎ বিষণ্ন রসিকতার মধ্য দিয়ে তাঁর গদ্য বিশেষ আবহ তৈরি করে। বাঙলা কথাসাহিত্যে অনেক লেখকই শহুরে পরিশীলনকে ভাষার প্রধান শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন, কিন্তু ইচক দুয়েন্দে মানুষের কথ্য জীবনের ঘাম, ধুলো ও ক্লান্তিকে ভাষার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। সেই ভাষাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় পাঠক যে অস্বস্তির মুখোমুখি হন, সে অস্বস্তিই তাঁর শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ইচক দুয়েন্দের উল্লেখযোগ্য ফিকশন ‘লাল ঘর’ আমি প্রথম পড়ি কলেজে পড়াকালীন; ষাট পৃষ্ঠার হাতে লেখা একটি কপি৷ এ আশ্চর্য বইটি মূলত মানুষের মানসিক বন্দিত্বের গল্প। এখানে যে ঘর বা কারাগারের গল্প করেছেন লেখক, তা স্মৃতি, আতঙ্ক, যৌনতা, দারিদ্র্য ও বিচ্ছিন্নতার সমষ্টি। যেখান থেকে চরিত্ররা পালাতে চায়, কিন্তু পারে না। মানুষের ভেতরে জমে থাকা ভয়, অপমান ও অক্ষমতা বইটির প্রতিটি স্তরে ফুটে উঠেছে। মানুষের ক্ষয়কে তিনি শরীরের ভেতর থেকেই দেখবার প্রয়াস পেয়েছেন। সেই কারণে ‘লাল ঘর’ পাঠের অভিজ্ঞতা আনন্দদায়ক নয়; পাঠককে এটি টেনে নেয় সংকটের গভীরে। বাঙলা সাহিত্যে বিষণ্নতার অনেক বয়ান রয়েছে, কিন্তু ইচক দুয়েন্দের বিষণ্নতা অনেক বেশি নিবিড়, অনেক বেশি দৈহিক। এখানে চরিত্ররা চিন্তার কারণে বিপন্ন হয় না; তারা বিপন্ন হয় জীবনযাপনের চাপে।

অন্যদিকে ‘টিয়াদুর’ গ্রন্থে দেখা যায় ভিন্ন স্বর। এখানে বাস্তবতা (না কি অবাস্তবতা?) আরও অস্থির, আরও ছিন্ন। মানুষের সম্পর্ক, স্মৃতি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, যৌন হতাশা, সামাজিক ক্ষয়—সবকিছু একসাথে মিশে গেছে। এই বইয়ের চরিত্ররা নিজেদের ভাষাও পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারে না। তাদের কথাবার্তায় বহু সময় ভেঙে পড়ে আত্মপরিচয়ের ধারণা। ইচক দুয়েন্দে মানুষের মনোজগতকে এমনভাবে ধরেছেন, যেখানে স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্ন সঙ্গমে লিপ্ত। ফলে তাঁর গদ্যে বাস্তবতা কখনো সরল রেখায় এগোয় না। এই জটিলতা মগ্নপাঠ দাবি করে। দ্রুত পাঠে তাঁকে বোঝা সম্ভব নয়।

ইচক দুয়েন্দের স্কেচ
বাঙলা সাহিত্যে প্রান্তিক মানুষের গল্প নিয়ে দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, শওকত ওসমান, হাসান আজিজুল হক—অনেকেই সমাজের নিচুতলার মানুষের জীবনকে সাহিত্যের কেন্দ্রে এনেছেন। ইচক দুয়েন্দে সেই ধারার উত্তরসূরি হলেও তাঁর অবস্থান আলাদা। তিনি সমাজব্যবস্থার বিশ্লেষণধর্মী কাঠামো তৈরির বদলে মানুষের ব্যক্তিগত ভাঙনকে সামনে আনেন। তাঁর চরিত্ররা অনেক সময় নিজেদের অবস্থার ব্যাখ্যাও দিতে পারে না। তারা দারিদ্র্যের শিকার, আবার নিজেদের প্রবৃত্তির কাছেও পরাজিত। এই দ্বৈত সংকট তাঁর সাহিত্যে বিশেষ মাত্রা তৈরি করেছে।

ইচক দুয়েন্দের লেখায় যৌনতার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই যৌনতা রোমান্টিক বা উত্তেজনামূলক আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয় না। তাঁর চরিত্রদের যৌন সম্পর্ক বহু সময় ক্ষমতাহীনতা, হতাশা, নিঃসঙ্গতা ও আত্মঘৃণার সঙ্গে জড়িত। সমাজের মুখোশের আড়ালে মানুষের যে দমিত ক্ষুধা, তা তিনি নির্মমভাবে প্রকাশ করেছেন। বাঙলা সাহিত্যে যৌনতা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক লেখক কৃত্রিম সাহসিকতার আশ্রয় নিয়েছেন। ইচক দুয়েন্দের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। তিনি মানুষের শরীরকে জীবনেরই অংশ হিসেবে দেখার ফলে সেখানে যৌনতা আলাদা প্রদর্শনীর বিষয় না হয়ে মানুষের দুঃখের সঙ্গে মিশে গেছে।

তাঁর কথাসাহিত্যের আরেকটি বিশেষ দিক হল, তিনি মধ্যবিত্ত জীবনের ভেতরকার পচন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। বেকারত্ব, আর্থিক অনিশ্চয়তা, ব্যর্থ প্রেম, সামাজিক লজ্জা, পারিবারিক ভাঙন—এসব বিষয় ঘুরে ফিরে এসেছে। তাঁর রাজনীতি ছিল মানুষের অভিজ্ঞতার ভেতরে। একজন ব্যর্থ তরুণের ক্ষুধা, একটি পরিবারের অব্যক্ত হাহাকার, অথবা একটি শহরের ক্লান্ত সন্ধ্যা—এসবের মধ্য দিয়েই তিনি সময়কে ধরতে চেয়েছেন। এই পদ্ধতি তাঁর সাহিত্যকে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি দিয়েছে। 

ইচক দুয়েন্দের সাহিত্যিক অবস্থান প্রসঙ্গে তাঁর নিঃসঙ্গতাবোধের কথাও বলতে হয়। তিনি সাহিত্যকে সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি। সাহিত্যিক আড্ডা, ক্ষমতার বলয়, পুরস্কারের রাজনীতি—এসবের বাইরে থেকে কাজ করেছেন। আর এই সাহিত্যিক অবস্থান তাঁর লেখাকে অধিকতর তীক্ষ্ণ করেছে, অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। কারণ আরামদায়ক ও লালায়িত জীবনের ভেতর থেকে যে ধরনের গদ্য তৈরি হয়, ইচক দুয়েন্দের লেখা তার বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। তাঁর গদ্যে নিরাপত্তা নেই; আছে টিকে থাকার লড়াই।

বাঙলাদেশের ছোট কাগজ ও বিকল্প সাহিত্যচর্চার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। তথাকথিত মূলধারার বাইরে থেকেই তিনি সত্যিকার পাঠকের মধ্যে আলোড়ন তৈরি করতে পেরেছিলেন। তাঁর লেখাকে ঘিরে তরুণ পাঠকের আগ্রহের একটি বড় কারণ ছিল সততা। এখানে সততা বলতে জীবনের কুৎসিত দিককে আড়াল না করার প্রবণতাকে বোঝাতে চাচ্ছি। তিনি মানুষকে মহিমান্বিত করেননি। মানুষের ভেতরের অন্ধকার, লোভ, হীনতা, কামনা—সবকিছুকেই তিনি সাহিত্যের উপাদান হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই সাহস বাঙলা কথাসাহিত্যে খুব বেশি দেখা যায় না। বহু লেখক পাঠকের গ্রহণযোগ্যতার কথা ভেবে চরিত্রকে সাজিয়ে তোলেন। ইচক দুয়েন্দে সেই পথে হাঁটেননি।

তাঁর রচনায় শহর নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এই শহর উন্নয়নের পোস্টারে দেখা চকচকে নগর নয়। এটি ক্লান্ত মানুষের শহর। ভাড়া বাসা, সস্তা হোটেল, চায়ের দোকান, অন্ধকার গলি, অস্থায়ী সম্পর্ক, হেরে যাওয়া মানুষের আড্ডার মতো পথচলতি উপাদান নিয়ে গড়ে ওঠে তাঁর শহরচিত্র। এই শহরে মানুষ একে অন্যের খুব কাছাকাছি থেকেও বিচ্ছিন্ন। ইচক দুয়েন্দে শহরের স্থাপত্যের চেয়ে মানুষের মানসিক অবস্থা নিয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন। ফলে তাঁর শহর বাস্তব মানচিত্রের অধিক স্মৃতি ও অনুভূতির মানচিত্র হয়ে ওঠে।

ইচক দুয়েন্দের সাহিত্য নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, তাঁর রচনায় হতাশা অতিরিক্ত মাত্রায় উপস্থিত। অনেক পাঠকের কাছে তাঁর চরিত্ররা আশাহীন মনে হতে পারে। কিন্তু এটি কি তার শক্তির পরিচয় নয়? তিনি জীবনের কঠিন অঞ্চলকে পাশ কাটিয়ে যাননি। সমাজের যে মানুষরা প্রতিদিন ব্যর্থতার সঙ্গে বসবাস করে, তাদের অভিজ্ঞতা তো সবসময় আলোকোজ্জ্বল নয়। সাহিত্য যদি মানুষের জটিল বাস্তবতাকে ধারণ করে, তাহলে সেখানে অন্ধকারও থাকবে। ইচক দুয়েন্দে সেই অন্ধকারকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন।

তাঁর সাহিত্য পাঠের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হাস্যরস। প্রথম দৃষ্টিতে অত্যন্ত বিষণ্ন মনে হলেও ওর গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায় তীব্র বিদ্রূপ ও কালো রসিকতা কাজ করছে। মানুষ যখন চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন বহু সময় হাসিই শেষ আশ্রয় হয়ে ওঠে। ইচক দুয়েন্দের চরিত্রদের মধ্যেও সেই প্রবণতা দেখা যায়। তারা নিজেদের দুর্দশা নিয়ে হাসে, অন্যকে ব্যঙ্গ করে, আবার নিজের ভেতরের শূন্যতাকেও উপহাস করে। এই কালো হাস্যরস তাঁর গদ্যকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত করেছে।

বাঙলা সাহিত্যের সাম্প্রতিক প্রবণতা দেখা যায়, বহু লেখক ভাষার চাকচিক্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রদর্শনের দিকে ঝুঁকেছেন। ইচক দুয়েন্দের অবস্থান এইসব প্রবণতার বাইরে। তিনি পাঠকের সামনে জীবনকে হাজির করেছেন তার ক্ষতচিহ্নসহ। তাঁর সাহিত্যপাঠ আরামের বদলে গভীর মানবিক অভিঘাত সৃষ্টি করে। জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে সাহিত্য বিচার করলে ইচক দুয়েন্দের গুরুত্ব বোঝা যাবে না। তাঁকে বুঝতে হলে মানুষের ব্যর্থতার ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে।

ইচক দুয়েন্দের বইপুস্তক

মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে স্মৃতিচারণ করছেন, পুরোনো ছবি প্রকাশ করছেন, তাঁর বইয়ের অংশ উদ্ধৃত করছেন। কিন্তু একজন লেখককে স্মরণ করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো তাঁর সাহিত্যকে নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ইচক দুয়েন্দের রচনাগুলো নতুন প্রজন্মের পাঠকের সামনে পৌঁছানো জরুরি। কারণ তিনি যে বাস্তবতার কথা লিখেছেন, সেই বাস্তবতা তীব্রভাবে আমাদের সমাজে উপস্থিত। অর্থনৈতিক বৈষম্য, মানসিক বিচ্ছিন্নতা, সম্পর্কের ভাঙন, শহুরে ক্লান্তির মতো সংকটগুলো দিনকে দিন তীব্রতর হচ্ছে। ফলে তাঁর সাহিত্যের প্রাসঙ্গিকতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইচক দুয়েন্দের সাহিত্যকে সহজে কোনো নির্দিষ্ট ঘরানায় ফেলা যায় না। তাঁর লেখায় বাস্তববাদ আছে, মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান আছে, সামাজিক পর্যবেক্ষণ আছে, আবার ভাঙাচোরা স্বপ্নেরও উপস্থিতি আছে। তিনি প্রচলিত আখ্যান কাঠামোর বাইরে গিয়ে মানুষের ভেতরের অস্থিরতাকে ধরতে চেয়েছেন। এই কারণেই তাঁর রচনা অনেক সময় অসমাপ্ত অনুভূতি তৈরি করে। পাঠ শেষ হওয়ার পরও চরিত্ররা পাঠকের ভেতরে থেকে যায়।

বাঙলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে হয়তো ইচক দুয়েন্দে বিপুল পাঠকপ্রিয় লেখক হিসেবে চিহ্নিত হবেন না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লেখক হিসেবে তাঁর নাম উচ্চারিত হবে বহুদিন। কারণ তিনি এমন মানুষের কথা লিখেছেন, যাদের কথা সমাজ সহজে মনে রাখতে চায় না। ব্যর্থ, ক্লান্ত, ভেঙে পড়া, দারিদ্র্যপীড়িত, যৌন হতাশায় আক্রান্ত মানুষদের তিনি সাহিত্যের কেন্দ্রে এনেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতাকে ভাষা দিয়েছেন। এই কাজ সহজ নয়। তথাকথিত মূলধারার সাহিত্য প্রধানত সফল মানুষের কাহিনি লিখতে ভালোবাসে; ইচক দুয়েন্দে লিখেছেন পরাজিত মানুষের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের মধ্যেই তাঁর সাহিত্যিক শক্তি নিহিত।

আজ যখন চারদিকে সাফল্যের প্রচার, আত্মপ্রদর্শন ও ভোগবাদী সংস্কৃতির বিস্তার, তখন ইচক দুয়েন্দের সাহিত্য আমাদের অন্য বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। তাঁর চরিত্ররা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সমাজের বড় অংশ এখনও বেঁচে আছে অনিশ্চয়তা, ক্ষুধা, অপমান ও ক্ষয়ে যাওয়া স্বপ্নের ভেতর দিয়ে। সাহিত্য যদি মানুষের গভীর অভিজ্ঞতাকে ধারণ করার শিল্প হয়, তাহলে ইচক দুয়েন্দের কাজ বাঙলা ভাষায় বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবিদার। তাঁর গদ্য পাঠককে আনন্দ দেওয়ার জন্য নয়; মানুষের অন্তর্গত ক্ষত স্পর্শ করার জন্য। সেই স্পর্শ অনেক সময় অস্বস্তিকর, কিন্তু স্মরণীয়।

বাঙলা সাহিত্যপত্রিকা জগতে বিকল্প চর্চার যে ধারা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়, সেখানে ইচক দুয়েন্দের নাম আলাদা গুরুত্ব নিয়ে উচ্চারিত হবে। কারণ তিনি সাহিত্যে জীবনের আবর্জনা, দুঃখ, কামনা, লজ্জা, ব্যর্থতা—সবকিছুকে উপাদান করে তুলেছেন। এই সাহসের কারনেই তিনি স্বতন্ত্র। ভবিষ্যতে তাঁর রচনা নিয়ে আরও গভীর গবেষণা হবে, নতুন পাঠ তৈরি হবে, নতুন মূল্যায়নও আসবে। কিন্তু এতটুকু এখনই বলা যায়, বাঙলা কথাসাহিত্যে ইচক দুয়েন্দে এমন এক লেখক, যিনি মানুষের অন্তর্লোকের ক্ষতকেও ভাষায় রূপ দেওয়ার বিরল ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন।

 ইচক দুয়েন্দে: নিঃসঙ্গ শব্দপরিব্রাজক 
সাম্য রাইয়ান



মন্তব্য

নাম

অনুবাদ,38,আত্মজীবনী,27,আর্ট-গ্যালারী,2,আলোকচিত্র,1,ই-বুক,7,ইচক দুয়েন্দে,23,উৎপলকুমার বসু,26,ঋত্বিক-ঘটক,4,কবিতা,345,কবিতায় কুড়িগ্রাম,7,কর্মকাণ্ড,16,কার্ল মার্ক্স,1,গল্প,80,ছড়া,1,জার্নাল,4,জীবনী,6,দশকথা,25,দিনলিপি,1,পাণ্ডুলিপি,11,পুনঃপ্রকাশ,21,পোয়েটিক ফিকশন,1,প্রতিবাদ,1,প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা,4,প্রবন্ধ,171,প্রিন্ট সংখ্যা,5,বই,4,বর্ষা সংখ্যা,1,বসন্ত,15,বিক্রয়বিভাগ,21,বিবিধ,2,বিবৃতি,1,বিশেষ,25,বুলেটিন,4,বৈশাখ,1,ভাষা-সিরিজ,5,ভিডিও,1,মাসুমুল আলম,35,মুক্তগদ্য,42,মে দিবস,1,যুগপূর্তি,6,রিভিউ,5,লকডাউন,2,শম্ভু রক্ষিত,2,শাহেদ শাফায়েত,25,শিশুতোষ,1,সন্দীপ দত্ত,14,সম্পাদকীয়,19,সাক্ষাৎকার,23,সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ,18,সৈয়দ রিয়াজুর রশীদ,55,সৈয়দ সাখাওয়াৎ,33,স্মৃতিকথা,15,হেমন্ত,1,
ltr
item
বিন্দু | লিটল ম্যাগাজিন: ইচক দুয়েন্দে: সমকালীন বাঙলা সাহিত্যে নিঃসঙ্গ পরিব্রাজক
ইচক দুয়েন্দে: সমকালীন বাঙলা সাহিত্যে নিঃসঙ্গ পরিব্রাজক
বাঙলা কথাসাহিত্যে ইচক দুয়েন্দে এমন এক লেখক, যিনি মানুষের অন্তর্লোকের ক্ষতকেও ভাষায় রূপ দেওয়ার বিরল ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন।
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh01ws4fPbj-lSVBHnJ_LoJ7Og7QGie4Sxbdd4Y1l6pqxC2A7CAOYwZUvgRfkGRPbiVj6lWc6CVpc3vyU3J1qBPFRnqkFh-EJRxSlqgqF3aPJ_1rHTCp-GBw2EgZJpwyaa_lczIG5twByuhVm9L30Wn3epYc1YmSX2DdLxfOF6OZSdIhEZiZccFi2ky0cE/s16000/%E0%A6%87%E0%A6%9A%E0%A6%95%20%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%20%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%9A%E0%A6%BE%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%81%20%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%B2%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%97.png
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEh01ws4fPbj-lSVBHnJ_LoJ7Og7QGie4Sxbdd4Y1l6pqxC2A7CAOYwZUvgRfkGRPbiVj6lWc6CVpc3vyU3J1qBPFRnqkFh-EJRxSlqgqF3aPJ_1rHTCp-GBw2EgZJpwyaa_lczIG5twByuhVm9L30Wn3epYc1YmSX2DdLxfOF6OZSdIhEZiZccFi2ky0cE/s72-c/%E0%A6%87%E0%A6%9A%E0%A6%95%20%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%20%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%98%E0%A6%B0%20%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%9A%E0%A6%BE%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%81%20%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%B2%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%97.png
বিন্দু | লিটল ম্যাগাজিন
https://www.bindumag.com/2026/05/ichok-duende-article.html
https://www.bindumag.com/
https://www.bindumag.com/
https://www.bindumag.com/2026/05/ichok-duende-article.html
true
121332834233322352
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts আরো Readmore উত্তর Cancel reply মুছুন By নী PAGES POSTS আরো এই লেখাগুলিও পড়ুন... বিষয় ARCHIVE SEARCH সব লেখা কোন রচনায় খুঁজে পাওয়া গেল না নীড় Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy