ইচক দুয়েন্দে— আমি এখনো তাকে পুরোপুরি চিনি না। মানে, আমি তাকে চিনতাম শামসুল কবীর হিসেবে। প্রথম তার যে বইটি পড়েছিলাম, সেটি ছিল ‘সখা’। বইটা উড়কি করছিল। তখনই আহমেদ নকীব ভাইয়ের মাধ্যমে শামসুল কবীর আমার কাছে হয়ে ওঠেন ইচক দুয়েন্দে।
ঘুম থেকে উঠে ফেসবুকে প্রথম যে পোস্টটি দেখলাম, সেটি হলো— তিনি আর বেঁচে নেই। প্রথমত, আমি তাকে কখনো দেখিনি। তবে লোকের মুখে শুনে তার ‘কচি সমগ্র’ পড়ে মোটামুটি ভক্ত হয়ে গিয়েছি। তাই মৃত্যুর খবর শুনে মর্মাহত হয়েছি।
দুনিয়াটা আসলে আমার কাছে সময়হীন মনে হয়। সবকিছুই যেন নাই নাই লাগে। সবচেয়ে প্রিয় মুখ, সবচেয়ে প্রিয় নাম— আর মানুষের মানসিক জগতে যা কিছু আছে, সবই এক ধরনের আতঙ্কের মতো লাগে।
তবে...
শামসুল কবীরকে যখন পড়েছিলাম, আমার ভেতরে একটা কিশোর ছিল। সেই প্রথম যখন ‘সখা’ পড়লাম, এই লেখক আমার ভেতরে এক ধরনের ঘোর তৈরি করতে পেরেছিলেন। কয়েক বছর পর ‘কচি সমগ্র’ পড়লাম— তখন মনে হলো, আমি বড় হয়েছি, কিন্তু পরিপক্ব হইনি। অনেক সত্য তখন আমার কাছে মিথ্যার রূপ নিতে শুরু করেছে। মানে যা একসময় পরম ভেবেছিলাম, গিয়ে দেখি তা পরম নয়— বরং আমার নিজের সাধনার মধ্য দিয়েই তা উন্নত হয়ে ওঠে।
আচ্ছা, যাক সে কথা... পৃথিবীটা আসলে কেমন যেন— ‘কী আনন্দ, কী আনন্দ…’ গানের মতো।
ইচক দুয়েন্দে বা শামসুল কবীর— ভিন্ন দুই নামের এই লেখক আমার ভেতরে সেই ‘সখা’ হয়েই বেঁচে থাকবেন। মানে, সবকিছু না থাকলেও এমন কিছু অধ্যায় থেকে যায়, যা মানুষের দৃশ্যমান মুখ নয়— অদৃশ্য, তবুও মনে হয় সেটিই প্রকৃত মানুষ।
ইচক দুয়েন্দে অথবা শামসুল কবীর কচি প্রসঙ্গে
জুবায়ের দুখু
জুবায়ের দুখু




মন্তব্য