আজ থেকে এক শতাব্দী আগে অ্যামেরিকার নিউআর্কে জন্মেছিলেন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ। কবি হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন টোটেমও বটে। বলা হয়ে থাকে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বিখ্যাত কবি তিনি। বব ডিলানের ‘সাবটেরেনিয়ান হোমসিক ব্লুজ-এর আদি-মিউজিক ভিডিওতে এক গলিতে ডিলানের পেছনে শামানদের মতো নেচেছেন গিন্সবার্গ। ‘গিভ পিস এ চান্স’ গানে জন ও ইয়োকোর সঙ্গে মন্ত্রোচ্চারণ করছেন। জনসাধারণের কল্পনায় তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের ‘কবি’ প্রতিমূর্তি, ‘বোহেমিয়ানবাদের সেরা রূপ’, যেমনটা জোনা রাসকিন তাঁর ‘আমেরিকান স্ক্রিম: অ্যালেন গিন্সবার্গ’স হাউল অ্যান্ড দ্য মেকিং অব দ্য বিট জেনারেশন’ গ্রন্থে লিখেছেন।
গিন্সবার্গ ১৯৫৫ সালে সান ফ্রান্সিসকোর সিক্স গ্যালারিতে ‘হাউল অ্যান্ড আদার পোয়েমস’-এর শিরোনাম-কবিতাটি প্রথম পাঠ করেন এবং এক বছর পর কবি লরেন্স ফার্লিংহেটি কাবিতাটি সংকলন করেন। সিটি লাইটস বুকস্টোর ইমপ্রিন্টের চতুর্থ প্রকাশনা হিসেবে প্রকাশিত হয়, যার স্বতন্ত্র সরু বাঁধাই এবং সাদা-কালো প্রচ্ছদ ছিল। গাঁজা ও বার্গান্ডি ওয়াইনের প্রভাবে উদ্দীপ্ত সেই পাঠ ছিল বিটদের ক্যামব্রিয়ান বিস্ফোরণ। এই গোষ্ঠীতে ছিলেন জ্যাক কেরুয়াক, উইলিয়াম এস. বারোজ, ডায়ান ডি প্রিমা এবং নিল ক্যাসাদির মতো কবিগণ, যাদের নামই ছিল বিবপের ছন্দ। এর বিপরীতে, নিউ ইয়র্ক স্কুল বা ব্ল্যাক মাউন্টেন পোয়েটসকে অ্যাকাডেমিক মনে হলেও, বিটরা, বিশেষ করে গিন্সবার্গ (কলাম্বিয়ার স্নাতক যিনি লায়োনেল ট্রিলিংয়ের কাছে শিক্ষালাভ করেছিলেন), উচ্ছ্বসিত দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন যা সাধারণের মধ্যে দারুণভাবে অনুরণিত হয়েছিল।
এই সাক্ষাৎকারটি ১৯৯৩ সালে অসলোতে রেকর্ড করা হয়েছিল। সাক্ষাৎকারগ্রহীতা ছিলেন অডুন এং। গিন্সবার্গ সম্পর্কে অডুনের মন্তব্য ছিল অ্যালেন, সর্বদা তথ্যবহুল, স্পষ্ট এবং দূরদর্শী।
অ্যালেন গিন্সবার্গের সাক্ষাৎকার
মনে হচ্ছে ক্যামেরা আমাদের দিকে ঘুরছে। চলুন শুরু করা যাক... প্রশ্ন হচ্ছে ষাটের দশকের স্থায়ী থিম, মেমরিস্টোন, অথবা অর্জনগুলি কী কী?
হ্যাঁ, এই যে চশমায় ঝলকানি হলো। সবকিছু নিয়ে রেডি আছো তো? … এসো, শুরু করা যাক। তোমার প্রশ্ন হচ্ছে ষাটের দশকের স্থায়ী থিম, মেমরিস্টোন, অথবা অর্জনগুলি কী কী? – এর উত্তরে আমি বলবো - মনের প্রকৃতি আর চেতনার গঠনের প্রতি আগ্রহ আমাদেরকে সাইকেডেলিক পদার্থ, জাদু মাশরুম এবং পিয়োট আর এলএসডি অন্বেষণের দিকে পরিচালিত করে, আর তারপর সেখান থেকে আমরা চালিত হই পরিবেশগত চেতনার দিকে, অথবা বলতে পারি বিশ্বের সাথে সম্পর্কিত এবং পরিবেশগত চেতনার সাথে সম্পর্কিত মনের প্রতি আগ্রহ জন্মায় আমাদের ভেতর (খুব তাড়াতাড়ি চালু হয়েছিল আমাদের মধ্যে)। আমরা উপলব্ধি করতে পারছিলাম যে গ্রহ নিজেই ধ্বংসের হুমকির সম্মুখীন। মানব ভাইরাস দ্বারা, (যেন) গ্রহ নিজেই এইডস আক্রান্ত, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে পড়ার সাথে সাথে পৃথিবী, বাতাস, আগুন এবং জল সবই এই মুহুর্তে দূষিত হয়ে পড়েছে, যাতে আমাদের একটি গুরুতর বিপদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, ধীরে ধীরে মানুষ বুঝতে শুরু করেছে যে, এমনকি সরকারগুলিও; (এছাড়াও) প্রাচ্য চিন্তাধারার প্রতি আগ্রহ, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিলন, যা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক, কিন্তু অবশ্যই অনেক সাংস্কৃতিক ভৌতিকতা দূর করে - অতীতে মানুষ ভাবত যে প্রাচ্য দুর্বোধ্য, কারণ “পূর্ব হলো পূর্ব এবং পশ্চিম হলো পশ্চিম এবং কখনও এই প্রান্তগুলোর মিলন হবে না”। এখন প্রাচ্যের মন উন্মুক্ত। যে-কোনও পশ্চিমা ব্যক্তির জন্য উপলব্ধ। যদি কেউ আগ্রহী হয় দেখতে পারে যে সেখানে কতটা শূন্যতা বিরাজ করছে। মূলত এগুলোই ছিল।
অ্যালেন গিন্সবার্গ চার দশকের বিদ্রোহের প্রতীক, আমেরিকান সমাজে চার দশকের বিকল্প সংস্কৃতির প্রতীক - যা পশ্চিমা বিশ্বে এবং অবশেষে প্রাচ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই চল্লিশের দশকে আপনি জ্যাক কেরোয়াক এবং উইলিয়াম বারোজের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন এবং কবিতা আর নিজেদের অন্বেষণ শুরু করেছিলেন। আপনারা পূর্ব ধর্মের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন, তারপর আগ্রহী হন তৃতীয় বিশ্বের বাস্তুশাস্ত্রে এবং অবশেষে আমেরিকান ব্যবস্থার রাজনৈতিক বিরোধিতাও শুরু করেন। অ্যালেন গিন্সবার্গ সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সমস্ত উন্মাদনা থেকে উৎরে গেছেন, দারুণভাবে সারভাইব করেছেন এবং অসলোতে এখানে আসার জন্য সময় করেছেন।
অ্যালেন গিন্সবার্গ, আমি চল্লিশের দশকের শুরুতে ফিরে যেতে চাই। আপনার কৌতূহলের উৎপত্তি কোথায়? কিভাবে সাহিত্যিক কার্যকলাপ এবং পূর্ব[Eastern] দর্শনের প্রতি আপনার কৌতূহল জাগে?
আচ্ছা, আমার ক্ষেত্রে কবিতা একটি পারিবারিক উত্তরাধিকার। আমার বাবা একজন কবি ছিলেন। আমার ভাই কবি। তাই আমি ভেবেছিলাম যে আমিও কবিতা লিখব। যখন আমার বয়স প্রায় সাত বা আট বছর, তখন এডগার অ্যালান পো পাঠ, আমার মনে হয়, আমাকে উৎসাহিত করেছিল (প্রাগ থেকে বেইজিং পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে বয়ঃসন্ধিকালীন তরুণদের উপর প্রভাব ফেলেছিলেন পো)। কিন্তু আমার... আমার সমকামী হওয়া.. আমি একজন তরুণ... এক তরুণ ছাত্রের প্রেমে পড়েছিলাম যে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিল, তাই আমিও সেখানে যেতে চেয়েছিলাম। সেটা ছিল আমার জন্য একটা অভিযানের মতো। প্রাদেশিক কলেজে যাওয়ার পরিবর্তে, আমার বয়স যখন সতেরো ছিল তখন জ্যাক কেরোয়াকের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। উইলিয়াম বারোজ খেয়াল করলেন যে তারা লেখালেখির প্রতি সিরিয়াস। বিশেষ করে কেরোয়াক একজন লেখক হিসেবে তার ভূমিকাকে পবিত্র পেশা হিসেবে দেখতেন। তাই, আমি একে আমার মডেল হিসেবে নিয়েছিলাম, অথবা সেই ধারণাটি সংক্রামক ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল আমার মধ্যে। ১৯৪৫/১৯৪৬ সালের দিকে, তখন বুঝতে পেরেছিলাম যে নিজের জন্য লেখালেখিকেই আমি এক ধরনের পেশা হিসেবে চাইছি।
আপনি কয়েকজন ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে সেখান থেকে শুরু করেছেন, কিন্তু কোনো না কোনো এক সময় নিশ্চয়ই আপনি এটা ফিল করতে পেরেছিলেন যে আপনারা সবাই একই মানসিকতা আর উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন একটা গ্রুপের মতো?
না, আমরা ছিলাম সাধারণ বন্ধুত্বের একটি দল। একই উদ্দেশ্যের এই ধারণাটি সমাজবিজ্ঞানী বা সাংবাদিকদের কিছুটা আদর্শিক অর্থগত সমস্যা বলব আমি। কিন্তু বন্ধুদের একটি তরুণ দল মানে হচ্ছে তারা বন্ধুরা মিলে তরুণ একটা দল, এবং তা সে ফুটবল ক্লাব হোক, অথবা... যারা শুক্রবার রাতে বাইরে গিয়ে বিয়ার পান করে, অথবা যারা একসঙ্গে কবিতা লিখতে বা একে অপরের লেখা পড়তে পছন্দ করে... তাই আমি মনে করি কবিতার প্রতি ধর্মীয় নিষ্ঠার অনুভূতি অবশ্যই আমার এবং কেরোয়াকের মধ্যে কমন ছিল, এবং কেরোয়াক উইলিয়াম বারোজের উপর জোরালো প্রভাব ফেলেছিলেন যাতে উইলিয়াম বারোজ ১৯৪৫, ৪৬, ৪৭ সালে লিখতে পারেন (কারণ বারোজ নিজেকে লেখক হিসেবে ভাবতেন না তখন)। কিন্তু আমরা দুজনেই বারোজকে অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও বিচক্ষন মানুষ হিসেবে প্রশংসা করতাম...। তাকে আমরা আমাদের পরামর্শদাতা ভাবতাম... তাই.. তিনি সম্ভবত লেখালেখির সঙ্গে নিজেকে নিবেদিত করতে খুব লজ্জা পেতেন বলতে গেলে। এইজন্য কেরোয়াক তাকে উপন্যাসের বিকল্প অধ্যায়গুলিতে সহযোগিতা করে গদ্য লেখার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন (১৯৪৫ সালের দিকে হবে)।
এখন আপনাদের জীবন ভিন্ন পথে চলে গেছে – আপনাদের তিনজনের জীবন। আপনারা কি শুরু থেকেই এই পার্থক্যটি দেখতে পাচ্ছিলেন?
আচ্ছা, আমরা শুরু থেকেই আলাদা ছিলাম, “ভিন্ন পথ ধরেছি” বলতে তুমি কী বোঝাতে চাও? আমরা একই দেহে বাস করছি না! আমাদের কী করার কথা ছিল - একত্রিত হয়ে এক ক্লোন হয়ে যাওয়া? - কেরোয়াক ছিলেন একজন ফরাসি-কানাডিয়ান, যিনি তার পরিবারের সঙ্গে থাকতেন, আমি ষোল বছর বয়সে আমার পরিবার ছেড়ে কলেজে গিয়েছিলাম, বারোজ ছিলেন তার দরিদ্র পরিবারের জন্য একটা রেমিট্যান্সম্যান। তিনি পরিবারের ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে মাসে দুইশ ডলার পাঠাতেন (যা ১৯৪০-এর দশকে অনেক টাকা ছিল) - এবং আমরা এই পুরো সময় ধরে বন্ধুত্ব বজায় রেখেছিলাম। (অতটা) বিচ্ছিন্ন কখনো হইনি। তারপর একসময় কেরোয়াক মারা যান। বারোজ এবং আমি একে অপরের সঙ্গে প্রায়ই সাক্ষাৎ করি, যোগাযোগ রাখি (আচ্ছা, আমি বলতে চাইছি, প্রতি মাসেই একবার বা তারও বেশি যোগাযোগ হয় আমাদের)... তেমনি আরও অনেক কবির সঙ্গেই হয়। ১৯৫০ সাল থেকে, গ্রেগরি করসো, যিনি একজন মহান কাব্যিক প্রতিভা, যাকে আমি নিউ ইয়র্কে সবসময় দেখি, তার সঙ্গে কাজ করি, নিজেদের লেখা পাঠ করি – আরও আছেন পিটার অরলভস্কি, যার সঙ্গে আমি বহু বছর ধরে ছিলাম - এবং গ্যারি স্নাইডার, ফিলিপ হোয়েলেন। আর মাইকেল ম্যাকক্লুর, যিনি ১৯৫৫ সাল থেকে..., এবং এইরকম আরও কিছু বন্ধুর রয়েছেন আমার। যদি আমি আরও নির্দিষ্ট করে বলি..
যদি তুমি আগ্রহী হও, তাহলে আমি কবিদের মধ্যে সাধারণ বিষয়বস্তু বা সাধারণ আগ্রহগুলিকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করব - স্বতঃস্ফূর্ততা, উদ্ভাবনীতা এবং (সেই সময়ের একাডেমিক কবিদের দ্বারা ব্যবহৃত একটি বদ্ধ ফর্মের বিপরীতে) উন্মুক্ত ফর্মের উপর নির্ভরতা, এবং ... ওহ, ধরা যাক মনের প্রকৃতির সঙ্গে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যমূলক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, (যেমন টি.এস. এলিয়টের বিকাশ থেকে আলাদা, (কী ছিল সেটা? – “রাজনীতিতে রাজকীয়, ধর্মে অ্যাংলিকান, মেজাজে রক্ষণশীল” - [সম্পাদকীয় নোট – “সাহিত্যে ধ্রুপদী, রাজনীতিতে রাজকীয়, এবং ধর্মে অ্যাংলো-ক্যাথলিক (sic)” – “ফর ল্যান্সলট অ্যান্ড্রুজ - স্টাইল অ্যান্ড অর্ডারের উপর প্রবন্ধ (১৯২৯)” এর ভূমিকা থেকে উদ্ধৃত] অবশ্যই টি.এস. এলিয়টের একই শহর থেকে আসা এবং একই রকম কণ্ঠস্বর এবং পটভূমি থাকা বারোজ একজন নিরীক্ষাপ্রবণ লেখক। কিন্তু পরীক্ষামূলক মানুষ হিসেবে এলিয়টের চেয়ে আমূল আলাদা (তবে তারা সংবেদনশীলতার বিচ্ছিন্নতার ক্ষেত্রে কিছুটা একই রকম) এবং তার কাজের কাঠামো ছিল - দ্য এলিয়ট অব দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড)। তাই আমার মনে হয় ১৯৪৫ সালের শুরু থেকেই, কেরোয়াক এবং আমি আলোচনা করেছি.. আচ্ছা, আমি জানি না এর অর্থ কী ছিল কিন্তু - একটি “নতুন দৃষ্টিভঙ্গি”, বা নতুন চেতনা - এবং হতে পারে, সম্ভবত, নতুনভাবে উত্থিত পুরনো চেতনা - তবে, অবশ্যই, একটি ভিন্ন চেতনা, আমার কলেজের দিনগুলির “ঠিক আছে - নিক”, আমার অধ্যাপকদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও যৌন সচেতনতা থেকে আলাদা একটি সচেতনতা। তাই আমরা চেতনার গঠনে আগ্রহী ছিলাম, (বিশেষ করে বারোজ), এবং এ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর অন্বেষণে সময় দিচ্ছিলাম। সাইকোথেরাপির মাধ্যমে, অথবা মনোবিশ্লেষণ, অথবা হিপনো-বিশ্লেষণের মাধ্যমে (যা বারোজ ১৯৪৫ সালে পার করছিলেন), অথবা শিল্পের মাধ্যমে, (অথবা সেই সময়ে গাঁজা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে - এবং, বারোজ হেরোইন বা মরফিন নিয়ে, এবং কেরোয়াক অ্যাম্ফিটামিন নিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন, যেখানে তারা শারীরিকভাবে খুব বেশি ভালো করেন নি) - এবং প্রায় ১৯৫০ সাল থেকে, বিশেষ করে কেরোয়াকের পূর্ব চিন্তাধারার[Eastern thoughts] প্রতি আগ্রহ, বিশেষ করে বৌদ্ধধর্ম, এবং ১৯৫৫ সাল থেকে, গ্যারি স্নাইডার এবং ফিলিপ হোয়ালেনের জেন এবং বৌদ্ধ ধ্যান অনুশীলনের প্রতি সরাসরি আগ্রহ তৈরি হয় (এবং আজও স্নাইডার এবং হোয়ালেন উভয়ই ধ্যানমগ্ন বৌদ্ধ এবং... ফিলিপ হোয়ালেন ছিলেন সান ফ্রান্সিসকান রেনেসাঁর কবিদের একজন এবং কেরোয়াকের বন্ধু। এই মুহুর্তে (১৯৯৩) ফিলিপ হোয়ালেন সান ফ্রান্সিসকোর একটি জেন সেন্টারের অ্যাবট, তাই এটি আমাদের প্রথম, অর্থাৎ, বিট, অথবা সান ফ্রান্সিসকো রেনেসাঁর কবি জেন মাস্টার)। তাই এখানে একটা আকর্ষণীয়... মানসিক গঠন আছে, ধরা যাক সেটা আধ্যাত্মিক মুক্তি, এবং সেটা সাহিত্যিক ফর্মে মুক্তির দিকে পরিচালিত করে – অবমুক্ত খোলা সাহিত্যিক রূপ - যা স্থানীয় ভাষাগত বাগ্মীতা এবং ছন্দের দিকে পরিচালিত করে, যা আফ্রিকান-আমেরিকান বক্তৃতা এবং কবিতা ও গদ্যে জ্যাজ দ্বারা প্রভাবিত। বিষয়বস্তুতে স্পষ্টতা, বা খোলামেলা ভাব এনে দেয় যা আমরা লিখেছিলাম (বারোজের এবং আমার লেখায়, অন্যতম বিষয় ছিল সমকামিতা) - শব্দের মুক্তির দিকে পরিচালিত করে - সেন্সরশিপ নিয়ে রাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় - যাতে সামাজিক স্তরে শব্দের মুক্তি, বইয়ের মাধ্যমে মুক্তি এর পরেই শুরু হয় সেই ষাটের দশকের গোড়ার দিকে (আইনি লড়াই চলছিল ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত)। তুমি বলতে পারো চল্লিশের দশকে আধ্যাত্মিক মুক্তি, ১৯৫০-১৯৫৭ সালে মুক্ত শিল্পকর্ম বা লেখালেখি বা কবিতা, ১৯৫৭-১৯৬২ সালে সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই - তারপর হয়তো সেন্সরশিপ থেকে চলচ্চিত্রে সেই মুক্তির বিস্তার (রবার্ট ফ্রাঙ্ক এবং জোনাস মেকাস, ভূগর্ভস্থ চলচ্চিত্র সংরক্ষণাগার এবং সমবায়, অ্যান্ডি ওয়ারহল, হ্যারি স্মিথ এবং স্ট্যান ব্রাখাজ আর অন্যান্যদের কার্যকলাপ, জ্যাক স্মিথের ফ্লেমিং ক্রিয়েচার্স - যাতে করে ১৯৬৫ সালের মধ্যে চলচ্চিত্র স্বাধীনতা পায়, যাতে আপনি চলচ্চিত্রে মানুষকে নগ্ন করে যৌনতা নিয়ে কথা বলতে পারেন)। তাই.. এবং আমার মনে হয় সমকামীতার মুক্তি এবং আধ্যাত্মিক মুক্তি নারী মুক্তি এবং কৃষ্ণাঙ্গ মুক্তির ক্ষেত্রে কিছুটা অনুঘটক হতে পারে। আমার মনে আছে অ্যাবি হফম্যান, যিনি একজন সমাজকর্মী, বামপন্থী ছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে তিনি তার নিজ শহর ম্যাসাচুসেটস ছেড়ে ১৯৬৩ সালে দক্ষিণে চলে গিয়েছিলেন আলাবামার কৃষ্ণাঙ্গদের ভোট পেতে সাহায্য করার জন্য। বার্মিংহামে গেলেন, পকেটে ‘অন দ্য রোড’ বইটি নিয়ে।
তাই ... পরবর্তী কয়েকটি প্রজন্ম বারোজের লেখার পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, “কাট-আপ” পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজেকে আবেশ থেকে মুক্ত করেছে। নিজস্ব স্টেরিওটাইপ লেখা থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, জন কেজ যেমন চান্স মেথড ব্যবহার করে তার নিজস্ব আবেশ এবং স্টেরিওটাইপ থেকে নিজেকে মুক্ত করেছেন - এবং এই ব্যাপারটা ষাট, সত্তর, আশি এবং নব্বইয়ের দশকের পরবর্তী প্রজন্মের উপরও বেশ প্রভাব ফেলেছে, আপনার উপরও। তাই বলা যায় ... মৌলিক থিম হচ্ছে আমাদের নিজস্ব ইন্দ্রিয় পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব, আমাদের নিজস্ব মনটাকে বোঝা, পূর্ব চিন্তার সঙ্গে পশ্চিমা মনের মিলন - এবং এটি গ্যারি স্নাইডার, মাইকেল ম্যাকক্লুর এবং আরেকজন কবি (এবং কিছুটা কেরোয়াকও) এর সঙ্গে পরিচালিত হয়েছিলেন। থিম, পরিবেশগত চিন্তাভাবনা নিয়ে ব্যস্ততা এইসব স্নাইডার ১৯৫৫ সালে আমেরিকার কবিতায় প্রবর্তন করেছিলেন। তাই, আমি বলব যে এগুলি হলো মূল থিম যা বছরের পর বছর ধরে বিকশিত হয়েছিল - বিকশিত হয়েছিল কথ্য কবিতার প্রতি আগ্রহ (কবিতার বাকপটু প্রকৃতির প্রতি) অথবা এমনকি কবিতাকে গান হিসেবে লেখার চল। (এটার অনুপ্রেরণা কেরোয়াক আফ্রিকান-আমেরিকান ছন্দ এবং বক্তৃতা-প্যাটার্ন থেকে পেয়েছিলেন, চল্লিশের দশকের বেবপ সঙ্গীতের মাধ্যমে - পরে জ্যাজের প্রতি আগ্রহের জন্ম দিয়েছিল। কবিতাকে সঙ্গীতের মাধ্যমে পরিবেশন করতে শুরু করেছিলেন কেরোয়াক। আমি নিজেও সঙ্গীত লিখতে শুরু করেছিলাম)। বব ডিলানের মতে, কেরোয়াকের মেক্সিকো সিটি ব্লুজই ছিল সেই বই যা তাকে কবিতার প্রতিও অনুপ্রাণিত করেছিল। তাই আমরা যে সূচনা এবং মুক্তির পথে এসেছিলাম তার থেকে অনেক বিপর্যয় যে ঘটেছিল তা বলা যায় নির্দ্বিধায়।
চল্লিশের দশকে যখন আপনি এই ক্ষেত্রগুলি খুঁজতে শুরু করেছিলেন, তখন কি আপনার মনে হয়েছিল যে আপনি বিদ্রোহী এবং মুক্তমনাদের পূর্ববর্তী ঐতিহ্যে কাজ করছেন, নাকি আপনার মনে হয়েছিল যে আপনি নিজেই নতুন পৃথিবী আবিষ্কার করছেন?
দুটোই - কারণ যখন আমি প্রথম ঘাস সেবন শুরু করি, উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি পিয়োট, সাইকেডেলিক্স, তখন আমার কাছে তা নতুন পৃথিবী এক্সপ্লোর করার মতোই ছিল। আমার মনে হয় আমিই কলম্বিয়ার একমাত্র ছাত্র ছিলাম যে সেই সময়ে, সেই ১৯৪৫ সালে, গাঁজা সেবন করতাম, (কিন্তু আমি শুনেছিলাম যে হার্ভার্ডেও একজন ছিল, সেবন করতো - রবার্ট ক্রিলি! - আমি ১৯৪৮ সালের দিকে প্রথমবারের মতো রবার্ট ক্রিলির সঙ্গে দেখা করি - কিন্তু, এরও দশ বছর পরে, আমাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সাহিত্যিক সম্পর্ক তৈরি হয়) - কিন্তু, অন্যদিকে, বোহেমিয়ান কবিদের খুব পুরানো একটা ট্রেডিশান ছিল এটা, (আমি বিদ্রোহীদের সম্পর্কে জানি না, হয়তো সেটা আরও আধুনিক স্টেরিওটাইপ) তবে হ্যাঁ পুরানো বোহেমিয়ান ট্রেডিশান ছিল, মনে রাখবেন বোদল্যের হ্যাশিশ নিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন, যেমন র্যাঁবো করেছিলেন, হ্যাভলক এলিস, আরেকজন ইংরেজ, পরীক্ষা করেছিলেন ... অথবা উইলিয়াম জেমস.. নাইট্রাস অক্সাইড এবং (লাফিং গ্যাস থেকে) উদ্ভূত (কিছু) “অবেদনপূর্ণ প্রকাশ” এর সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, হ্যাভলক এলিস ১৮৯০ এর দশকে পিয়োট এক্সপ্লোর করেছিলেন। ফ্রান্সে একটা পুরনো ট্রেডিশান ছিল - লে ক্লাব ডি হাশিচিন্স - যা বোদল্যের, দেলাক্রোইক্স এবং ১৮৪০, ১৮৫০ সালে জন্মগ্রহণকারী লেখকদের, থেওফিল গোত্যিয়ের এবং অন্যান্যদের থেকে শুরু করে, যারা লাউডানামের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, আমার মনে হয় (ডি কুইন্সি এবং কোলরিজ লাউডানাম নিয়েছিলেন, আফিমের একটি রূপ - বারোজ এই বিষয়ে কোলরিজ এবং ডি কুইন্সির উদ্ধৃতি প্রায়শই দিয়েছেন)। ক্যাটুলাস, সাফো, এমনকি হোমার - অথবা প্লেটোদের পুরানো সমকামী কবিতা রয়েছে – এমন কি ওয়াল্ট হুইটম্যান পর্যন্ত, তাই, সমকামী সাহিত্য এবং যৌন মুক্তির রয়েছে অনেক পুরানো ঐতিহ্য। যে ঐতিহ্য ক্রমাগত চাপা পড়ে যাচ্ছে, কিন্তু... আমার মনে আছে ১৯৪৫ সালে আমেরিকান সংস্করণে ক্যাটুলাসের যে অনুবাদ পড়েছিলাম তা আরও কামুক, বা সেক্সি, অনুচ্ছেদগুলি কেবল ল্যাটিন ভাষায় মুদ্রিত ছিল – তখন সেগুলি ইংরেজিতে মুদ্রণ করা অবৈধ ছিল!। পেট্রোনিয়াস আর্বিটারের স্যাটিরিকনের ক্ষেত্রেও একই কথা। মডার্ন লাইব্রেরি সংস্করণে র্যান্ডম হাউসের মডার্ন লাইব্রেরি থেকে নিয়মিত স্ট্যান্ডার্ড নিউ ইয়র্ক সংস্করণে সমকামী অনুচ্ছেদগুলি ল্যাটিন ভাষায় মুদ্রিত হয়েছিল। (তাহলে দেখুন এই ধরনের একটা পুরনো ঐতিহ্য তো আছেই, বাইবেল, ডেভিড এবং জোনাথনের, গিলগামেশের মহাকাব্য, এন্ডিকু এবং গিলগামেশের প্রেমের কথা তো দূরের কথা)। যৌন উদারতা, সততা, ঐতিহ্যবাহী সমকামী আচরণ, অনুভূতি এবং রোমান্স, সাহিত্যের দিক থেকে এটা অনেক পুরনো ট্রাডিশান। তাই যৌন বিষয়, মাদক, এবং রাষ্ট্রের প্রতি মনোভাব (সর্বব্যাপী বিগ ব্রাদারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা, যা সবসময় রাষ্ট্র নয় কিন্তু), উভয় ক্ষেত্রেই নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আমার মনে হয় আমরা...
যতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত মুক্তির অনুভূতি, বিস্তৃতি এবং উন্মুক্ততার অনুভূতি, বন্ধুত্ব এবং সংযোগ যা আমার মনে হয় আমাদের সম্পর্কের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল, ছিল পুরুষদের মধ্যে আন্তরিক স্নেহ – বারোজ, কেরোয়াক, আমি, করসো এবং অন্যান্যরা, একসঙ্গে কাজ করছি - প্রাচীনকাল থেকেই আপনার এমন অনেকগুলি গ্রুপ রয়েছে, তবে ওয়াল্ট হুইটম্যানের উদাহরণ এবং তার উপদেশ ছিল, ভবিষ্যতের কবি এবং শিল্পীরা আপনারা পরস্পর কমরেড হন, এবং আমি মনে করি এ ক্ষেত্রে সেই স্নেহ আর সংযোগই একমাত্র গুণ যা গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে পারে - যদি নাগরিকরা একে অপরকে সত্যিই পছন্দ করে, ফিল করতে পারে ... তখন তারা একে অপরের গলা টেপে না। তাই বিংশ শতাব্দীতে লেখকদের মধ্যে স্নেহের এক পুরনো ট্রেডিশান উঠে আসে এজরা পাউন্ডের মাধ্যমে, যখন তিনি রবার্ট ফ্রস্ট, উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, জেমস জয়েস, টি.এস. এলিয়টকে সমর্থন করেছিলেন, আপনি জানেন, তাদের কাজ প্রকাশ করতে সাহায্য করেছিলেন - এবং সরাসরি আমাদের নিজস্ব জীবনে প্রবেশ করেছিলেন উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামসের সঙ্গে, যার সাথে কেরোয়াক দেখা করেছিলেন এবং আমিও দেখা করেছি (তিনি আমার প্রথম বইয়ের ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন - এবং দ্বিতীয় বইটিতেও), যিনি ১৯৫২ সালে উত্তর-পশ্চিম আমেরিকার ওরেগনের পোর্টল্যান্ডের রিড কলেজে উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামসের একটি জাতীয় পাঠ সফরে গ্যারি স্নাইডার, ফিলিপ হোয়েলেন এবং কবি লিউ ওয়েলচের সাঙ্গেও দেখা করেছিলেন। তার পাঠ ছিল শব্দের উন্মোচন, স্তবকের উন্মোচন, কবিতার উন্মুক্ত রূপ এবং স্বতঃস্ফূর্ত মনের প্রকাশ। তারপর, পরবর্তীতে আর একটি পুরনো ঐতিহ্য রয়েছে যার জন্য আমরা ১৯৫০ সাল থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত তিব্বতি বৌদ্ধ লামা এবং জেন গুরুদের সঙ্গে সেটা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় যোগ দিয়েছিলেম। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত মন, স্বতঃস্ফূর্ত বক্তৃতা, স্বতঃস্ফূর্ত কবিতার পুরানো অনুশীলন, তিব্বতি কবিতা, চীনা এবং জাপানি ভাষার ঐতিহ্য। আমি যে শিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করেছি, তিনি তিব্বতি লামা, চোগ্যুম ত্রুংপা - পঞ্চাশের দশক থেকেই আমি “তিব্বতি বুক অব দ্য ডেড” বা এই ধরনের লেখার প্রতি আগ্রহী ছিলাম, কিন্তু অবশেষে চোগ্যুম ত্রুংপার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, সংক্ষেপে, বৌদ্ধ পবিত্র স্থানগুলিতে যাওয়ার জন্য গ্যারি স্নাইডারের সঙ্গে ভারত জুড়ে এক তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলাম আমরা, কিন্তু সত্যিই তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, বলতে গেলে, সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে এবং তখন তিনি আমার শিক্ষক হয়ে ওঠেন। আর তিনি “ক্রেজি উইজডম” নামক বংশের লোক ছিলেন যার বিট হাস্যরসের ধরনটির সঙ্গে খুব মিল ছিল, অর্থাৎ বন্য জ্ঞান, প্রচলিত জ্ঞান দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়, তবে এর ভিত্তি প্রচলিত জ্ঞান এবং শৃঙ্খলার উপর নিহিত, কিন্তু একবার আপনি শৃঙ্খলা অর্জন করলে আপনাকে স্বতঃস্ফূর্ত হতে হবে। যাতে সেই বংশে, সমস্ত শিক্ষক কবি হয়ে ওঠেন। আর আছেন দশম শতাব্দীর, একাদশ শতাব্দীর মহান বিখ্যাত কবি, মিলারেপা, সুতি পোশাক পরা, নিরক্ষর, গুরু, কাগ্যু সেকশান, তিব্বতি বৌদ্ধ ধ্যান অনুশীলনের কাগ্যু সম্প্রদায়। ট্রুংপা সরাসরি সেই বংশের অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি আমি পরে দেখা করেছি এমন অনেক শিক্ষকের সঙ্গে। তারা তাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে মিলারেপাকে গ্রহণ করেন। কেরোয়াক যা করতেন মিলারেপা তেমনই করতেন, শূন্যে কথা বলতেন, মুখে মুখে রচনা করতেন, মানুষেরা সেসব লিখে রাখতো। কেরোয়াক যেমন অনুশীলন করেছিলেন তেমন সংশোধন করতেন না। আমার মনে আছে ১৯৭২ সালে চোগিয়াম ট্রুংপার সঙ্গে দেখা করে, বলেছিলাম ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে আর কবিতা পাঠ করতে করতে আমি একটু ক্লান্ত। তিনি বলেছিলেন, “সম্ভবত তুমি তোমার কবিতা পছন্দ করো না”। জিজ্ঞেস করলাম “তুমি কী বোঝাতে চাইছো?” সে বলল, “আচ্ছা, তুমি প্রাচীন কবিদের মতো করো না কেন, প্রাচীনকালের মহান সেইসব কবি, মিলারেপা। কেন তোমার একটা কাগজ দরকার হয়, কেন তুমি মঞ্চে উঠে সরাসরি কবিতা তৈরি করো না?” – হ্যাঁ, কেরোয়াকও ঠিক এটাই বলতেন। তাই (ট্রুংপা যেটা ঘোষণা করেছিলেন এবং কেরোয়াক যা অনুশীলন করেছিলেন) তার সারসংক্ষিপ্ত স্লোগান হলো “প্রথম চিন্তা সেরা চিন্তা”। সেই ভিত্তিতে আমরা বিশ বছর আগে, কলোরাডোর বোল্ডারে নারোপা ইনস্টিটিউট [পরে, নারোপা বিশ্ববিদ্যালয়] প্রতিষ্ঠা করেছি, এবং তার অধীনে, জ্যাক কেরোয়াক স্কুল অব ডিসেম্বোডিড পোয়েটিক্স। (“ডিসেম্বোডিড”, কারণ কেরোয়াক ততক্ষণে মারা গিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা পূর্ব[Eastern] চিন্তাভাবনা এবং পশ্চিমা[Western] চিন্তাভাবনা, পশ্চিমা বোহেমিয়ান চিন্তাভাবনা এবং পূর্বের পাগলাটে জ্ঞানকে একসঙ্গে যুক্ত করার জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম – এর বড় সাধারণ ভিত্তি হলো স্বতঃস্ফূর্ত মন, অর্থাৎ এর বৈশিষ্ট্য হবে, যেমন, ট্রুংপার শাম্ভালা শিক্ষা অনুসারে - নম্রতা (যা আপনি আসলে জানেন না কী করছেন), চঞ্চলতা, অথবা স্পার্কিনেস, অথবা প্রাণবন্ততা (কারণ সবকিছু এখনই, তাৎক্ষণিকভাবে আসছে), অস্পষ্টতা (কারণ আপনি জানেন না যে আপনি পরবর্তীতে কী ভাববেন বা বলবেন, যাতে কেউ আগে থেকে তা বের করতে না পারে, এমনকি আপনি নিজেও) এবং হিংস্রতা (কারণ মন নিজেই তার কল্পনার সমস্ত সীমা অতিক্রম করে যায়)।
(বিটের ইতিহাস)
বিট জেনারেশনের প্রথম দিকে যদি ফিরে তাকাতে চাই--এই শব্দটি যখন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
আচ্ছা, এটা অনেক পরে, আগের কথা নয়। আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমি এতক্ষণ যে গর্ভকালীন সময়ের কথা বলছিলাম তা ছিল ১৯৪৪, '৪৫, '৪৬ থেকে '৪৮। “বিট” শব্দটি সম্ভবত এরও আট, নয় বছর পরে, একটি ছোটখাটো স্তরে, এক ধরনের সাহিত্যিক শব্দ হিসেবে প্রচলিত হয়েছিল, কিন্তু ১৯৫৮-৫৯ সাল পর্যন্ত জনসাধারণের কাছে জনপ্রিয়তা পায়নি - অর্থাৎ আমাদের সকলের দেখা হওয়ার দশ, পনেরো বছর পরে। তাই আমরা ইতিমধ্যেই... একরকম দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করে ফেলেছিলাম। প্রকৃত লেখালেখিতে একটি ভিত্তি তৈরি হয়ে গেছে ততদিনে। যখন বিট জেনারেশন একটি মিডিয়া স্টেরিওটাইপ হয়ে উঠল, তখন কেরোয়াক ইতিমধ্যেই পনেরো, ষোলটি বই লিখে ফেলেছিলেন (যা তখন পূর্ববর্তীভাবে “বিট” হিসাবে লেবেল এবং স্টেরিওটাইপ করা যেতে পারতো, কিন্তু সেগুলি কোনও বিট রুব্রিকের অধীনে লেখা হয়নি)। আর আমি বেশ কিছু কবিতার বই শেষ করেছিলাম যেগুলোকে অতীতের ‘বিট’ বলা হতো। এই শব্দটির প্রয়োগ শুরু হওয়ার আগেই বারোজ ‘জাঙ্কি’, ‘কুইয়ার’, ‘ইয়েজ লেটারস’ এবং ‘নেকেড লাঞ্চ’-এর বেশিরভাগ বই লিখে শেষ করেছিলেন। আসলে এটি ছিল কমবেশি একজন প্রচারকের মিডিয়া স্টেরিওটাইপ যার মাধ্যমে মানুষকে লেবেল করা এবং তাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরিয়ে দেওয়া যেত, যা তারা উপস্থাপন করতে পারত, বাক্সে ভরে দিত এবং এর চারপাশে লাল মোড়ক লাগিয়ে দিত যাতে এটি একটি সাউন্ড-বাইট তৈরি করতে পারে। তাই তখন প্রশ্ন দাঁড়িয়ে ছিল আমরা কি একে প্রতিরোধ করবো (অন্যদের খারাপ কবিতায় সময় নষ্ট করবো), নাকি “বিট” নামে পরিচিত এমন সব লেখা তৈরি করে শব্দটিকে সম্মান করবো?
আমার মনে হয় আপাতদৃষ্টিতে আপনার, বারোজ আর কেরুয়াকের মধ্যে পার্থক্য আছে...
ওহ হ্যাঁ। একেবারেই আলাদা, আমরা সবাই আলাদা।
…বিশেষ করে বারোজের লেখায়, আত্ম-ধ্বংসাত্মক উপাদান।
আচ্ছা, আমি জানি না। কিছু বলার আগে, মনে রাখবেন, বারোজের বয়স আশি বছর (১৯৯৩ এ - তাই)। তাই আপনি হয়তো সেইভাবে কী বলছেন তা লক্ষ রাখতে পারেন। আমি আশা করি আমিও আশি বছর বেঁচে থাকব!
আমি জ্যাক কেরোয়াকের অন দ্য রোডের কথা ভাবছি, হতাশার উপন্যাস, যা মরিয়া হয়ে জীবন ছেড়ে চলে যাচ্ছে প্রায়...
আমার মনে হয় না.. আমার মনে হয় এটা একটা.. আমি সত্যিই একমত নই যে অন দ্য রোডে হতাশার কোনো উপাদান আছে। আমার মনে হয় আনন্দ এবং উৎসাহ আছে, কিন্তু হতাশা হলো... সবাই এক সময় মরিয়া হয়ে ওঠে, বিশেষ করে যদি আপনার স্ত্রী বা বান্ধবীর সঙ্গে ঝগড়া হয়, অথবা টাকা ফুরিয়ে যায়, এখানে আমি মরণ সম্পর্কিত হতাশার কথা ভাবছি না। আমার মনে হয় অন দ্য রোডে আছে কেবল শক্তি আর আনন্দের প্রশ্ন। হতাশা হিসেবে ভুলভাবে পড়া হয়েছে কিন্তু হয়তো আপনি এমন একটি অংশ উল্লেখ করতে পারেন যা পড়ে মরিয়া বলে মনে হয়, আমি বলব উচ্ছ্বাস, এবং উচ্ছ্বাস আর হতাশার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। হয়তো নব্য রক্ষণশীলরা বলতে চাইবে উচ্ছ্বাসই হতাশা।
কিন্তু আমি বলব যে এক ধরনের নীরবতা, কার্যকলাপ এবং ওপেননেসের ভয় হতাশার বৈশিষ্ট্য। আসলে, ওই যে, মিঃ থোরো বলেছিলেন ‘বেশিরভাগ পুরুষ নীরব হতাশার জীবনযাপন করে’ - [সঠিক উদ্ধৃতি ছিল- “মানুষের একটি বিশাল অংশ নীরব হতাশার জীবনযাপন করে” (থোরোর ওয়াল্ডেনের প্রথম পৃষ্ঠায় আছে)]
তাহলে আপনি বলছেন বিট সাহিত্যে অবশ্যই জীবনের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।
হ্যাঁ
কিন্তু তারপরও..
আমার মনে হয় কামনার চেয়ে বেশি আছে কৌতূহল। অনুসন্ধিৎসা এবং উৎসাহ। কামনা আবার সেই আবেশী মরিয়া জিনিস যা আপনি প্রকাশ করছেন। আপনি জানেন “লাস্ট ফর লাইফ” আসলে ভ্যান গগের আত্মহত্যার উপর আরভিং স্টোনের একটি বইয়ের শিরোনাম। তাহলে আমাদের কি ক্রমাগত এক ধারা থেকে অন্য ধারার উপর স্টেরিওটাইপ ব্যবহার করতে হবে? এটা আমার প্রশ্ন। এবং আমি, একজন কবি হিসেবে, আমাকে আবিষ্কার করতে হয় এবং “নতুন করে তৈরি করতে হয়”, তাজা থাকতে হয় এবং আবিষ্কারগুলিকে সোজা রাখার চেষ্টা করতে হয়। আমি ক্রমাগত মিডিয়ার সঙ্গে নিজেকে একরকম তরবারির মতো দেখতে পাই। ভাষা স্পষ্ট করার চেষ্টা করি। পুরানো স্টেরিওটাইপের ভাষার পরিবর্তে কবিতার ভাষা ব্যবহার করি। এবং আমি বলব “লাস্ট ফর লাইফ” হলো তেমনই একটি কাজ। ত্রিশ বছর আগে ভ্যান গগকে নিয়ে লেখা আরভিং স্টোনের একটি বইয়ের শিরোনাম।
(রাগ ও আগ্রাসন)
১৯৬০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী কার্যকলাপের একটি গণআন্দোলন শুরু হয়েছিল, তথাকথিত সাংস্কৃতিক-বিরোধী কার্যকলাপ, আপনি কি এটিকে এর আগের বিশ বছর ধরে ছোট ছোট দলে যা করে আসছিলেন তার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখেছেন, নাকি অনেক মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করেন?
এর কয়েকটি দিক হচ্ছে, আপনি হয়তো জানেন, যুদ্ধবিরোধী শান্তিবাদ (কেরোয়াক ভেবেছিলেন এই ধরনের গণআন্দোলন ফ্যাসিবাদ বা বোকামি বা পুনরাবৃত্তিমূলক আবেগপ্রবণতার দিকে ঠেলে দেয়, যদিও তিনি নিজেই যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ), সাইকেডেলিক্স এবং মারিজুয়ানা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আমার মনে হয়, এসব একই লাইনে ছিল, কিন্তু আমরা বোদল্যের আর র্যাঁবোর লাইনে ফিরে যাচ্ছিলাম, যেমনটা আমি বলেছিলাম আগে, এবং, আমার কাছে মনে হয়েছিল প্রকৃত মৃত্যু ড্রাগ, তামাক এবং অ্যালকোহলের বাইরে যেতে মানুষকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করার ক্ষেত্রে এবং মনের গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু তথ্য বা সূক্ষ্মতা সম্পন্ন বিকল্প খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা ছিল, যা শিক্ষামূলক। অ্যাসিডের অত্যধিক ব্যবহার (যেমন হাই স্কুলে বা পার্টিতে একশবার অ্যাসিড ফেলা) আমাদের প্রোগ্রাম ছিল না - আমি পিয়োট, অ্যাসিড বা অন্য কিছু .. গাঁজায় মেতে উঠতাম এবং আধুনিক শিল্প জাদুঘরে যেতাম। সেজানের জলরঙগুলি দেখতাম। সঙ্গীত থেকে রক এন রোল-এ ডেভেলপমেন্ট – সঙ্গীতের প্রতি আর সঙ্গীত থেকে বিকশিত কবিতার প্রতি আমাদের একান্ত আগ্রহের ফলাফল ছিল। যেমন ডিলান বলেছেন, তিনি কেরোয়াকের কবিতার বই মেক্সিকো সিটি ব্লুজ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। আমরা যখন কেরোয়াকের সমাধিতে, রেনালদো এবং ক্লারা শুটিং করছিলাম, ডিলানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তিনি কেরোয়াকের মেক্সিকো সিটি ব্লুজ সম্পর্কে কী জানেন। তিনি বইটি খুলে কেরোয়াকের সমাধিফলকের উপর পড়তে শুরু করলেন। বলেছিলেন, বইটি তিনি ভালভাবেই পড়েছেন, তার কাছে ওটাই ছিল প্রথম কবিতার বই যা সত্যিই তার মনের মতো। ১৯৫৮ বা ’৫৯ সালে কেউ তাকে সেন্ট পলে একটি কপি দিয়েছিল। আমি বলেছিলাম, “কেন এত ভালো লাগল বইটা?” তিনি বললেন, “কারণ, বইটা আমার সঙ্গে আমারই ভাষায় কথা বলে”। তাই তিনি সব সময় তাঁর অনুপ্রেরণা বলতে কেরোয়াকের কথা বলতেন, আমি মনে করি রক ‘এন রোলের কবিতা, বইয়ের পরীক্ষা আর ব্যাখ্যাকারী ব্যক্তিরা (বিটলস বা ডিলান, বা পরবর্তী যারা আছেন) আমাদের নিজস্ব আগ্রহেরই স্বাভাবিক বিকাশ। ভারতে যাওয়ার ট্রেডিশান, অথবা ধ্যান, অথবা পূর্ব[Eastern] চিন্তাভাবনা শেখা, আমার মনে হয়, ১৯৫৭ সালে কেরোয়াকের ধর্ম বামস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ঘটেছিল। আমেরিকায় বৌদ্ধধর্মের বিকাশের মানক ইতিহাসে, গ্যারি স্নাইডার এবং কেরোয়াক, এমনকি আমাকে এবং ফিলিপ হোয়েলেনকে বৌদ্ধ ধারণার আমদানি এবং আমেরিকান রীতিতে অভিযোজিত হওয়ার পূর্বসূরী বা উদ্ভাবক এবং উৎসাহক হিসাবে ধরা হয়। তাই এই দিকগুলি, হ্যাঁ। স্টুডেন্টস ফর এ ডেমোক্রেটিক সোসাইটি, রেড ব্রিগেডের রাজনৈতিক চরমপন্থা, হিংসাত্মক দিক, আমার মনে হয় কেরোয়াকের নিরীহ মেজাজের উল্টো ছিল। যা তাকে ভীত করেছিল, কারণ আমি মনে করি তিনি খুব তাড়াতাড়ি বুঝতে পেরেছিলেন যে প্যারানয়েয়াতে নেওয়া যে-কোনো অঙ্গভঙ্গি আরও প্যারানয়েয়া তৈরি করে, রাগে নেওয়া যে-কোনো অঙ্গভঙ্গি, তৈরি করে আরও রাগ, এবং ক্রোধ ছড়িয়ে দেয়, বিরক্তিতে নেওয়া যে-কোনো অঙ্গভঙ্গি আরও বিরক্তি তৈরি করে, শান্তিতে নেওয়া যে-কোনো অঙ্গভঙ্গি আরও শান্তি তৈরি করে, ভারসাম্যে তৈরি যে-কোনো অঙ্গভঙ্গি স্পষ্টতা এবং সাম্য তৈরি করে।
কয়েক সপ্তাহ আগে অসলোতে ডেনমার্কের একজন বর্ণবাদী রাজনীতিবিদ, যিনি এখানে একটি জাতীয়তাবাদী সম্মেলনে এসেছিলেন, তার বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ হয়েছিল এবং ওই বিক্ষোভকারীরা, (যারা) সম্ভবত পাঙ্ক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছিল, তারা তার উপর থুথু ফেলছিল, টিভিতে দেখানো হয়েছিল, তারা ওই বৃদ্ধের মুখে থুথু ফেলছিল...
থুতু ফেলার যে-কোনো অঙ্গভঙ্গি আরও থুতু ফেলার সৃষ্টি করে। অবশ্যই বর্ণবাদী সমস্যাটি (যেমনটি চল্লিশ এবং পঞ্চাশের দশকের বর্ণবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত) পুলিশ রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত, গোপন পুলিশের সঙ্গে সম্পর্কিত, “জাতিগত নির্মূল” এর সঙ্গে সম্পর্কিত, অতি-সমালোচনামূলক খ্রিস্টধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত, খ্রিস্টান বা মুসলিম মৌলবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত, আদর্শিক মৌলবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত - যেমন তিব্বতের উপর মাওবাদী এবং জনগণের বর্ণগত শ্রেষ্ঠত্ব, অথবা ইহুদিদের উপর রাশিয়ান বর্ণবাদী শ্রেষ্ঠত্ব, অথবা জিপসি, সমকামী এবং ইহুদিদের উপর নাৎসি বর্ণবাদী শ্রেষ্ঠত্ব। সমগ্র ইউরোপ জুড়ে খুনী জাতীয়তাবাদের এই পুনরুত্থান ঘটেছে যার ফলে এখন সার্বিয়া [১৯৯৩] এবং অন্যত্র - অথবা বসনিয়ায় - সমগ্র রাশিয়া এবং এশিয়ায় হলোকাস্ট এবং জাতিগত নির্মূলের ঘটনা ঘটেছে। তাই সহিংসতা একটি বড় সমস্যা এবং তরুণ পাঙ্কদের সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখানোটা এখানে বোধগম্য, তবে এটি অবশ্যই মোকাবেলা করার একটা ভুল উপায়।
তাই আমি তরুণ মোহক পাঙ্কদের সুপারিশ করব মৌলিক বৌদ্ধ ধ্যানের অনুশীলন শেখা এবং এর থেকে প্রোটেস্টের আরও কার্যকর উপায় বের হবে (মনে রাখবেন যে “প্রতিবাদ” শব্দের অর্থ “পক্ষে” - এর পক্ষে, “-পরীক্ষা” - একটি সাক্ষ্য, একটি সাক্ষী। নেতিবাচক বিষয়গুলিকে আক্রমণ করার পরিবর্তে, বা কেবল আক্রমণ করার পরিবর্তে আপনি যা চান, তার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে হবে, মানে, বলতে হবে)।
ন্যায্য রাগ এবং আগ্রাসনের মধ্যে কি কোন সূক্ষ্ম রেখা আছে?
আমার মনে হয় না ন্যায্য রাগ এবং আগ্রাসনের মধ্যে খুব একটা সূক্ষ্ম রেখাটেখা আছে, না। আমার মনে হয় কাজটি আসলে আমাদের নিজস্ব রাগ পরীক্ষা করা, আমাদের নিজস্ব আগ্রাসন পরীক্ষা করা। এটি করার একটি খুব সহজ উপায় হচ্ছে, যেমন কেরোয়াক তার "রাগ আক্ষেপের কথা মনে করিয়ে দিতে পছন্দ করে না" বাক্যাংশে বর্ণনা করেছেন (কারণ ওরা টেলিভিশনে নিজেদের থুতু ফেলতে দেখতে পছন্দ করে না – নয়তো যখন মাথা ঠান্ডা হলে বুঝতে পারে যে নিজস্ব কারণের ক্ষতি করছে তখন তারা আর পাঁচ বছরের মধ্যে তা করবে না)। কিন্তু, রাগ মোকাবেলা করার জন্য, মজার বিষয় হল আপনাকে আপনার রাগ থামাতে হবে না, আপনাকে আপনার রাগকে নিন্দা করতে হবে না, বা এটিকে দূরে ঠেলে দিতে হবে না, আপনাকে কেবল একে লক্ষ করতে হবে। কৌশলটি হল আপনি কখন রাগ করেন তখনকার ব্যাপারগুলো লক্ষ করা, যখন রাগ ওঠে তখন তাকে সনাক্ত করা, কখন ফুলে ওঠে এবং কখন কমে যায় তা সনাক্ত করা, আপনার রাগের প্রবণতা লক্ষ করার লজ্জা সহ্য করা (কারণ একবার আপনি রাগ লক্ষ করলে তা আস্তে আস্তে দ্রবীভূত হয়ে যায়, আপনি তখন রাগ ব্যাপারটা কী তা সম্পর্কে স্পষ্ট হয়ে যান)। রাগ মূলত প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থের উত্তপ্ততা এবং তা অ্যাড্রেনালিন যা বিষয়টিকে বিভ্রান্ত করে - মার্শাল আর্ট, প্রাচ্যের মার্শাল আর্টসের মতো, যে ব্যক্তি রেগে যায় সে অন্ধ হয়ে যায়, সে দেখতে পায় না যে সে কোথায় আঘাত করছে, সে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সেই ব্যক্তি যুদ্ধে জয়ী হন, যিনি শান্ত এবং কেন্দ্রীভূত থাকেন এবং তার চারপাশে কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণ করেন এবং যখন রাগের তীব্রতা আসে তখন কেবল বাম দিকে সরে যান।
(মাদক ও ধ্যান)
কর্তৃপক্ষের মতে, গাঁজা এবং সাইকেডেলিক ওষুধ স্থায়ীভাবে ব্যক্তিত্ব পরিবর্তন করে।
কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বিপরীত কথা বলে। যারা ড্রাগস গ্রহণ করেন তারা এমন পরিবর্তন অনুভব করেন যা তারা হয়তো উপলব্ধি করেন না কিন্তু যখন এর প্রভাব কমে যায় তখন তারা তাদের পুরনো স্বভাবে ফিরে আসেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনার মন স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করার উপায় হিসেবে আপনি কি ধ্যানের পরামর্শ দেবেন?
আচ্ছা, এখানে আপনি যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছেন, সেগুলো একটু ভিন্ন। এই বিষয়ে, আমার মনে হয় গাঁজা এবং এলএসডি মানুষের ব্যক্তিত্বে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনে (যেমন যে-কোনো গভীর অভিজ্ঞতা যেমন ধ্যান, ব্যবসায় উন্নতি, বিয়ে করা, অথবা নতুন রাসায়নিক আবিষ্কারে সফল হওয়া। অবশ্যই যে-কোনো গভীর অভিজ্ঞতা আপনার ব্যক্তিত্বকে কিছুটা পরিবর্তন করবে, সাধারণত ভালো করার জন্য যদি এটি গভীর অভিজ্ঞতা হয়, তাই এটা “ব্যক্তিত্ব পরিবর্তন করে” বলতে আপনি কী বোঝাতে চাইছেন তার উপর নির্ভর করে)। এই ক্ষেত্রে এটাকে অস্পষ্ট হুমকি বলে মনে হচ্ছে - কিন্তু ব্যক্তিত্বের আসল পরিবর্তন আসে অবৈধ মাদকের ক্ষেত্রে - যদি কেউ একজন মদ্যপকে চেনেন, তাহলে দেখবেন মদ্যপানের সঙ্গে তার ব্যক্তিত্বের বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে, বিশেষ করে রাতারাতি, অথবা পাঁচ মিনিটের মধ্যে, সংযত অবস্থা থেকে মাতাল হওয়ার মাধ্যমে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের জরিপ অনুসারে, আসল বিপজ্জনক ড্রাগসগুলি (অন্তত আমেরিকায়, এবং আমি নিশ্চিত নরওয়ের পরিসংখ্যানও আপনার কাছে আছে) হচ্ছে - প্রতি বছর বিশ থেকে ত্রিশ হাজার মানুষ অবৈধ ড্রাগসের কারণে মারা যায় (সাধারণত স্পিড বা হেরোইন, বিষাক্ত স্পিড বা অবিশ্বস্ত হেরোইন, যা রাস্তায় পাওয়া যায়, কারণ নেশাগ্রস্তরা কেবল যে-কোনও উপায়ে ওগুলো হাতে পাওয়ার চেষ্টা করে, ডাক্তারের চিকিৎসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়)। তাই অবৈধ ড্রাগ্সের কারণে বিশ থেকে ত্রিশ হাজার মানুষ মারা যায়। কিন্তু অন্যদিকে আমেরিকায় প্রতি বছর এক লক্ষ মানুষ অ্যালকোহলে মারা যায় (যা ড্রাগ্সের চার বা পাঁচ গুণ বেশি) এবং বছরে চার লক্ষ ত্রিশ হাজার মানুষ তামাক বা ধূমপানের খারাপ প্রভাবে মারা যায় - ক্যান্সার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং তামাকের ধোঁয়ার সাথে জড়িত সমস্ত অসুস্থতা। তাহলে দেখা যাচ্ছে এগুলিই প্রকৃত বিপজ্জনক ড্রাগস - সরকার অনুমোদিত। আর মজার ব্যাপার হলো, গাঁজা, যা কাউকে হত্যা করে না, আমেরিকায় উন্মত্ত কুকুর এবং হেলিকপ্টার দিয়ে খুঁজে বের করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, অন্যদিকে তামাক চাষে সরকার ভর্তুকি দেয়, এবং তামাক... (আরও একটি আকর্ষণীয় পাদটীকা হচ্ছে যে তামাক চাষ এবং তামাক ব্যবসায়ীরা (এবং বিয়ার ব্যবসায়ীরাও) অনেক রক্ষণশীল, নব্য-রক্ষণশীল, ডানপন্থী নীতিবাদী সেন্সরশিপ গোষ্ঠীকে অর্থায়ন করে, যারা নিজেদেরকে নীতিগত পরামর্শদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে (হয়তো সেটা করে তারা আইনত কফিনের পেরেক এবং মৃত্যু-কারক ওষুধ বিক্রি করার কারণে গণহত্যাকারী হওয়ার অপরাধবোধের ক্ষতিপূরণ দিতে)।
ধ্যানের ক্ষেত্রে, আমি মনে করি ধ্যান হচ্ছে চেতনা পরিবর্তন এবং চেতনা প্রসারিত করার একটি প্রশস্ত ও নির্ভরযোগ্য উপায়। খুব সহজ উপায়ে, আপনার মনের ভেতরে এবং ঘরের বাইরে আপনার ধারণাগুলিকে তীক্ষ্ণ করে আপনার চারপাশে কী ঘটছে সে সম্পর্কে নিজেকে আরও সচেতন করে তোলে। কিছু ক্ষেত্রে এটি গাঁজা এবং অ্যাসিডের মতো হলেও আরও সূক্ষ্ম এবং দীর্ঘ পরিসরের। তাই পরে আমি ভাবলাম, আমার মনে হয়, সত্তরের দশকে, আমি ভাবতে শুরু করেছি, সম্ভবত, যদি লোকেরা LSD-এর মতো শক্তিশালী জিনিস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে যায়, তাহলে ধ্যানের ক্ষেত্রে একটি ভিত্তি ও কেন্দ্রীভূত অনুশীলন থাকলে ভালো হবে, কিছু অ-ঈশ্বরবাদী (অর্থাৎ ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই মনে করে যারা), অ-ঈশ্বরবাদী সচেতনতার অনুশীলন যার প্রয়োজন হয়.. যার মধ্যে নিজেকে শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর কেন্দ্রীভূত করা জড়িত, অথবা যে-কোনও কিছু, যাতে LSDতে চেষ্টা করার সময় আপনার একটি স্থিতিশীল ভিত্তি থাকে।
আমার মনে হয় না ঘাস বা গাঁজা কোনও বিশেষ সমস্যা তৈরি করে, কেবল সেইসব লোকদের ক্ষেত্রে খুব কম কাজ করে যারা ইতিমধ্যেই খুব স্নায়বিক কিংবা স্নায়বিক হতে আগ্রহী, প্রচুর ধূমপান করে এবং এতেই ডুবে যায় কিন্তু... আপনি জানেন, যারা সেই বিশেষ জীবনযাপন করে, কাজ কম করে আর প্রচুর ধূমপান করে, সেই লোকদের ক্ষেত্রে গাঁজা সেবন না করাই ভালো, কারণ এটি তাদের ব্যক্তিত্বকে সত্যিই পরিবর্তন করবে, তাদের হিংস্র করে তুলবে।
মনকে অনুসন্ধান করার, মনকে প্রসারিত করার অনেক উপায় অনুসন্ধান করার পর, কেন আপনি আপনার অনুশীলন হিসাবে জেন বৌদ্ধধর্মের ধ্যানকে বেছে নিলেন?
আমি তিব্বতি স্টাইল বেছে নিয়েছিলাম। কারণ, আমি এমন একজন শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করেছিলাম যাকে আমি খুব পছন্দ করতাম - চোগিয়াম ত্রুংপা রিনপোচে – “রিনপোচে” শব্দটির অর্থ, যেমন শ্রদ্ধেয় চোগিয়াম ত্রুংপা রিনপোচে - একজন তিব্বতি লামা যার সঙ্গে আমি ভারতে যাওয়ার সময় সংক্ষিপ্তভাবে দেখা করেছিলাম কিন্তু নিউ ইয়র্কেও দেখা হয়েছিল, এবং যিনি একজন কবি, ক্যালিগ্রাফার এবং শিল্পী, সেইসাথে একজন ধ্যান শিক্ষক, এবং আমি তার ধ্যানের ধরনটি পছন্দ করেছিলাম। অত্যন্ত সহজ এবং স্পষ্ট এবং প্রায় অনিবার্য বলে মনে হয়েছিল। মূলত, ধ্যান করার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে, আপনাকে সোজা হয়ে বসতে হবে, মেরুদণ্ড সোজা করতে হবে এবং তিব্বতি স্টাইলে, আপনার কোলে হাত রেখে (পুরাতন শতাব্দীতে থাংকার চিত্রগুলিতে দেখানো হয়েছে - কিছু শিক্ষক এইভাবে বসে আছেন - হাত বিশ্রামে) - এবং আপনার নাকের ডগা থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিন - নাকের ডগা থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে - যতক্ষণ না শ্বাস গলে যায়। তারপর, শ্বাস-প্রশ্বাসের সময়, আপনাকে আর কিছু করতে হবে না, কেবল নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার মেরুদণ্ড সোজা আছে, আপনি জাগ্রত আছেন, (দেখুন (যে) আপনি জাগ্রত অবস্থায় আছেন কিনা)। এই ধরনের শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়াটি যেভাবেই হোক চলমান সচেতনতার সাথে স্বয়ংক্রিয় শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যবস্থাকে একত্রিত করে। সুতরাং আপনি আপনার সচেতনতা ছাড়া আর কিছুই যোগ করছেন না। তারপর আপনি দেখতে পাবেন যে আপনি অধৈর্য হয়ে পড়েছেন এবং মন ঘুরে বেড়াচ্ছে, দিবাস্বপ্ন দেখছে, চিন্তা করছে, পিছনে ফিরে দেখছে, স্মৃতিচারণ করছে, পরিকল্পনা করছে এবং প্রশ্ন করছে, তাই যখন আপনি আপনার মন ঘুরে বেড়াচ্ছে (যেমনটি আমি আগে বর্ণনা করেছিলাম রাগের উত্থান লক্ষ করার কথা), যদি আপনি আপনার মন ঘুরে বেড়াচ্ছে তা লক্ষ করেন তখন চিন্তাভাবনাটি ভেঙে যায় এবং আপনি আপনার মনোযোগ আপনার পরবর্তী শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে ফিরিয়ে আনতে পারেন।
সুতরাং এটি শ্বাস-প্রশ্বাস এবং আপনার মনের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে সচেতনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রশ্ন, এবং তারপরে সবসময় শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকেই ফিরে আসা। আর শ্বাস-প্রশ্বাসের পর আপনার মন পরিচালিত হবে, যদিও এটি শ্বাস-প্রশ্বাসকে স্থানের সঙ্গে মেলানোর মতো (যেমনটি ট্রুংপা একবার বর্ণনা করেছিলেন, “শ্বাস-প্রশ্বাসকে স্থানের সঙ্গে একীভূত করা” - আপনার মনকে আপনার শ্বাসের সঙ্গে মেলানো, আপনার মনকে স্থানের সঙ্গে একীভূত করা। আপনি যদি গাঁজার উপর আসক্ত হন, তাহলে আপনি দেখতে পাবেন যে আপনি মনকে স্থানের সাথেও মেলাতে পেরেছেন। তাই এই কাজটি করার চমৎকার ঘরোয়া উপায় হচ্ছে গাঁজা, এবং খুব সহজ। এর জন্য কোনও খরচ হয় না, এটি তিব্বতী-শৈলীর ধ্যান।
তবে আমি সম্ভবত ট্রুংপা এবং তার শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম তার মৌলিক বুদ্ধিমত্তা এবং রসবোধের কারণে। তিনি কেরোয়াকের কবিতা সত্যিই পছন্দ করতেন বলেও। তাই নারোপা ইনস্টিটিউটে তিনি আমাদের কবিতার স্কুলকে “দ্য জ্যাক কেরোয়াক স্কুল অব ডিসেম্বোডিড পোয়েটিক্স” নামকরণের অনুমোদন দেন (কারণ কেরোয়াকের কবিতা ট্রুংপার লেখার ধরনকেও বদলে দেয় - তিনি ধ্রুপদী সাত-অক্ষরযুক্ত চীনা-তিব্বতি শৈলীর পরিবর্তে একটি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত ফর্মের বাগ্ধারায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন)।
১৯৬৮ সালে শিকাগোর বিক্ষোভে আপনি “ওম” ধ্বনিতে জনতার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এর উদ্দেশ্য কী ছিল?
পুলিশের আক্রমণের সম্ভাব্য উত্তেজনা এবং পুলিশকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করা ক্ষুব্ধ ইপ্পিদের মধ্যে কিছুটা শান্ত এবং স্পষ্টতার পরিবেশ তৈরি করা, যাতে মানুষ শান্ত থাকে, উস্কানিমূলক না হয়, কেবল শান্তভাবে সেখানে তাদের উপস্থিতি বজায় রাখে। তবে আমার মনে হয় “ওম” হয়তো ভুল মন্ত্র ছিল। যদি ওটা... কয়েক বছর পরে ‘৭২ সালে হতো। আমি ট্রুংপার সাথে কথা বলছিলাম, তিনি “আহ” ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, তাই আমরা ১৯৭২ সালে মিয়ামিতে রাষ্ট্রপতি সম্মেলনে “আহ” ধ্বনি ব্যবহার করেছিলাম – “আহ” অনেকটা আমেরিকান “আহ!” এর মতো, একই সাথে স্থানের উপলব্ধি – “আহা!” – উন্মুক্ত ধ্বনি “আহ”, শ্বাস বেরিয়ে যাচ্ছে, তাই এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের একটি পরিমাপ এবং একই সাথে, এটি স্বীকৃতও, এটি কোনও প্রাচ্যের বদ্ধ ঘর নয় (যেখানে আপনি নিজের মধ্যে ফিরে আবদ্ধ), তাই এটা... “আহ!” “ওম!” এর চেয়ে কম রহস্যময় এবং উত্তেজক।
(রাজনীতি এবং রাগ)
১৯৬৮ সালে শিকাগোর পরিস্থিতি আমার কাছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে এক অনন্য মিলন বলে মনে হয়।
কর্মীরা।
এবং আধ্যাত্মিক বোধগম্যতার জন্য প্রতি-সাংস্কৃতিক অনুসন্ধান।
দুর্ভাগ্যবশত, আমার মনে হয় রাজনৈতিক নব্য-মার্কসবাদী ক্রোধ আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার কারণেই তা দখল করে নেয়। এটি ছিল বিরাট ভুল যা ভিয়েতনাম যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করেছিল। তাই আমি মনে করি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনাম যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য চরম বামপন্থীদের হাতে ততটাই রক্ত লেগেছে যতটা ... (হয়তো ততটা রক্ত নয়, তবে প্রচুর রক্ত) ঠিক যেমন ডানপন্থীদের। কারণ এর ফলে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অবমাননা হয়েছিল এবং (হুবার্ট) হামফ্রেকে পরাজিত করা হয়েছিল কারণ বামপন্থীরা ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। রাজনৈতিক বামপন্থীরা হামফ্রেকে ভোট দেয়নি। তারা ভোট দেয় নিক্সনকে। তার উদ্দেশ্য ছিল উত্তর ভিয়েতনামে পারমাণবিক বোমা হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শেষ করা। হয়তো রাস্তার সেই বিক্ষোভই তা রোধ করেছিল। কিন্তু যাই হোক না কেন, বামপন্থীরা ওই বিক্ষোভ খুব বেশি ঘৃণা করত তাদের আইডিয়া ছিল যুদ্ধকে ঘরে ফিরিয়ে আনার, যা ছিল বিরাট ভুল, কারণ ভিয়েতকং ভিয়েতনামের পতাকা উড়িয়ে মধ্যবিত্তদের ভয়ের কারণ হয়েছিল, যা একটি কৌশলগত ভুলও ছিল। তারা তাদের পিতামাতার উপর ক্ষুব্ধ ছিল। আর তখন কেরোয়াক তার আঙুল তুলে ধরেন সেদিকে এবং সেই কৌশলগুলির সমালোচনা করার জন্য প্রতিক্রিয়াশীল বলে অভিযুক্ত হন। তিনি বলেন, “ওরা ঘৃণার জন্য নতুন কারণ খুঁজছে”। এর ফলে, হামফ্রে এতে অংশ নেননি, তিনি ভিয়েতকংয়ের বাহিনীকে, আমাদের তথাকথিত মিত্র রাষ্ট্রপতি থিউকে শান্তি আলোচনার জন্য ভিয়েতকংকে সম্মেলনের টেবিলে অনুমতি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু নিক্সন এবং তার লোকেরা তা প্রতিরোধ করেন। ভেবেছিলেন তারা বল প্রয়োগের মাধ্যমে যুদ্ধে জয়লাভ করবেন। এবং তাই যখন (রিচার্ড) নিক্সন মাত্র পাঁচ লক্ষ ভোট পান, যখন সমগ্র বামপন্থীরা ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানায়, কয়েক লক্ষ মানুষ, নিক্সন জনসন বা কেনেডির অধীনে যা কিছু ঘটেছে তার চেয়েও বেশি, যুদ্ধকে আরও বাড়িয়ে তোলেন এবং যুদ্ধ তখন গণহত্যায় পরিণত হয়। বামপন্থীদের ক্রোধই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য দায়ী। কারণ গ্যালাপ জরিপে বলা হয়েছে, ১৯৬৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৫২% আমেরিকান জনগণ ভেবেছিল যে যুদ্ধ সব সময় একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তাই বামপন্থীরা মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে যুদ্ধ থেকে বের করে আনতে ব্যর্থ হয়েছিল। কারণ তাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রতি ক্ষোভ ছিল। কারণ তারা ক্ষুব্ধ ছিল এবং সেই ক্ষোভ যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করেছিল। এটিই আমার চূড়ান্ত অতীত পর্যালোচনা। আমি মনে করি না যে এটি আধ্যাত্মিক বিট ঐতিহ্য, স্টুডেন্টস ফর ডেমোক্রেটিক সোসাইটি এবং নব্য-মার্কসবাদী বামপন্থীদের মিলনের একটি খুব গৌরবময় উপলক্ষ ছিল। এবং এখন সেই নব্য-মার্কসবাদী বামপন্থীরা তাদের ... আনুষ্ঠানিক মূর্তিগুলির পতনের সাথে সম্পূর্ণরূপে দেউলিয়া হয়ে গেছে (মনে রাখবেন, সেই দিনগুলিতে তারা কাস্ত্রোর ছবি বহন করছিল (যিনি একজন স্বৈরশাসক ছিলেন, যিনি আমাকে তিন বছর আগে, ১৯৬৫ সালে, কিউবা থেকে বের করে দিয়েছিলেন), অথবা মাও সেতুংয়ের ছবি (যিনি তখনকার সময়ে চীনের সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নামে সমস্ত বুদ্ধিজীবী যারা ফরাসি বা ইংরেজি পড়তে পারত বা চশমা পরত এমন যে কাউকে হত্যা করেছিলেন, কিংবা নির্বাসিত করেছিলেন)।
তাকে “বুর্জোয়া চিন্তাবিদ” বলা হত। তাই বামপন্থীরা যে নায়কদের নিজেদের আইডল হিসেবে গড়ে তুলছিল তারা ছিল প্রতারক.. হ্যাঁ, প্রতারক। আমার অবজারভেশান, এই সবই ঘটেছে স্ব-ধার্মিক ক্রোধের ভিত্তিতেই।
মনে হচ্ছে নৈরাজ্যবাদী ঐতিহ্যই একমাত্র ইউটোপিয়ান মডেল যা এখনও অবশিষ্ট আছে।
আচ্ছা, আমি জানি না নৈরাজ্যবাদ কী। এটা নির্ভর করে আপনি ‘নৈরাজ্যবাদ’ কে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেন, তার উপর, কিন্তু আছে.. অবশ্যই বিকেন্দ্রীকরণের নীতি গুরুত্বপূর্ণ - শ্রেণিবদ্ধকরণ থেকে বিকেন্দ্রীকরণ, ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ। আমি বৌদ্ধধর্ম পছন্দ করি কারণ এখানে কোনো ঈশ্বর নেই, কোনো কেন্দ্রীয় রেফারেন্স বিন্দু নেই, সেই অর্থে কোনো শ্রেণিবিন্যাস নেই (গুরুদের একটি শ্রেণিবিন্যাস থাকতে পারে, এবং লোকেরা জানে যে কোনো ঈশ্বর নেই কিন্তু একটি ঐশ্বরিক নীতি থেকে উদ্ভূত কোনো শ্রেণিবিন্যাস নেই, এবং অবশ্যই আদর্শ থেকে উদ্ভূত কোনো শ্রেণিবিন্যাসও খুব বেশি নেই)। বৌদ্ধধর্মে (আসলে শিক্ষকদের) কম শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। তাই.. গ্যারি স্নাইডার সব সময় সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বৌদ্ধ নৈরাজ্যবাদে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু, আপনি জানেন, নৈরাজ্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে এই অর্থে যে আমরা ইতিমধ্যেই অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত, প্রযুক্তিগত, অতি-প্রযুক্তিগত, অতি-বৈজ্ঞানিক এক সমাজে বাস করছি, যেখানে এই তথ্য-নেটওয়ার্কগুলি রয়েছে যা নৈরাজ্যবাদী নয় কিন্তু সম্পূর্ণরূপে সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, অথবা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে, এবং, যতটা না একঘেয়ে হয়ে ওঠে, নৈরাজ্য ক্রমশ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আবার এখানে কম্পিউটার পাইওনিয়াররাও আছে, যারা বলে, না, তথ্যের নতুন ফর্মগুলি যে কারও জন্য তথ্য রাখা সম্ভব করে তোলে, কিন্তু, আমি জানি না সেভাবে কাজ করবে কিনা, কারণ এটি এখনও একটি একক নেটওয়ার্ক। তাই যখন আপনার কাছে এই ধরনের বিশাল ডাইনোসরের কাঠামো আছে, তখন শক্তির কেন্দ্রগুলিকে বিকেন্দ্রীকরণ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে যেহেতু কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলিকে সচল রাখতে প্রচুর কেন্দ্রীভূত-শক্তি, পারমাণবিক বা জীবাশ্ম জ্বালানি প্রয়োজন হয়। তাই যদি না তারা এমন কোনও পরিষ্কার শক্তির উৎস খুঁজে পায় যা বিকেন্দ্রীকরণযোগ্য, (যা) গ্রহটিকে পুড়িয়ে ফেলে না, আপনি প্লাগ ইন এবং আউট করতে পারেন। আমি জানি না কম্পিউটার-তথ্য বিকেন্দ্রীকরণ সফল হতে পারবে কিনা। অন্য যে বিষয়টি কিছু জার্মান দার্শনিক উল্লেখ করেছেন - পরমাণু বিভক্ত করা এবং বোমা তৈরির প্রযুক্তি গ্রহের জন্য হুমকি। তবে এটি প্যারিস, লন্ডন, টোকিও, বার্লিন - বা অসলো - উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাকারী কোনও নৈরাজ্যবাদী বা অ-নৈরাজ্যবাদী ফ্যাসিবাদী চক্র, বা বামপন্থী, বা মধ্যবিত্ত চক্রকে নজরদারিতে রাখার জন্য রাষ্ট্রের একটি ধ্রুবক এবং অবিচ্ছিন্ন ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। কারণ বোমার এবসলিউট নেচার পরম নজরদারি জোরদার করে। ব্যাপারটা খুবই জটিল যে - গণতন্ত্রী, নৈরাজ্যবাদী, ফ্যাসিবাদীদের জন্য, সকলকেই এটা ফেস করতে হবে – বিজ্ঞানীদেরও ফেস করতে হবে, কবিদেরও ফেস করতে হবে - আমরা কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করব? আমার মনে হয় না কারোরই কোনও নীলনকশা আছে। “উপযুক্ত প্রযুক্তি” বা “সুইট সাইন্স” এই বাক্যাংশটি আমার পছন্দের, (যেমন (উইলিয়াম) ব্লেইক এটিকে ডাইনোসর বা দানবীয় শ্রেণির প্রযুক্তি থেকে আলাদা বলে অভিহিত করেন, (অথবা যেই “অতি-প্রযুক্তি” শব্দটি আমি ব্যবহার করি)।
ষাটের দশকে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন এবং পাল্টা সংস্কৃতির দর্শনীয় কার্যকলাপ - আপনার কি মনে হয় এটি আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্মৃতি, নাকি এটি সমাজের একটি উপাদান, একটি স্থায়ী উপাদান হয়ে উঠেছে?
আচ্ছা, আমি আমেরিকার যুদ্ধবিরোধী সংস্কৃতি আন্দোলনের নিজস্ব ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে বিরাট ব্যর্থতার কথা বর্ণনা করেছি। হ্যাঁ, শান্তির পক্ষে সাম্প্রদায়িক আন্দোলন, যেখানে উপায়গুলি লক্ষ্যকে ন্যায্যতা দেয় (অর্থাৎ শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যের জন্য শান্তিপূর্ণ উপায় দরকার), দুর্দান্ত অবদান হবে রক এন রোলের কিছু দিক - অথবা “বি-ইন”, অথবা কিছু ছাত্র-আন্দোলন যা এখনও আছে - (যেমন ১৯৯৩ সালে নরওয়েতে তুলনামূলক নিষ্ক্রিয় এক ছাত্র-আন্দোলন) – সেখানে সেই জ্ঞানের কিছু উপাদান আছে - তবে এর জন্য আপনার পরিষ্কার একটা মন প্রয়োজন। তাই গণআন্দোলনের ভিত্তিতে কোনও দুর্দান্ত সামাজিক পরিবর্তন করতে হলে আপনার এমন একটি আন্দোলনের প্রয়োজন হবে যা জ্বালানী হিসাবে রাগের উপর নির্ভর করে না।
আপনি কি আশাবাদী যে সমাজের সকল নেতিবাচক প্রবণতা সত্ত্বেও মানুষ...
এটা “সমাজের নেতিবাচক প্রবণতা” নয়, এটা আমাদের, আমার এবং আপনার মধ্যে নেতিবাচক প্রবণতা! যে কেউ.. আপনি এভাবে বাইরের উপর দোষ চাপাতে পারেন না! কতটা রেগে যান আপনি? আমি কতটা রেগে যাই? কোন ইউটোপিয়ান সমাজতান্ত্রিক নৈরাজ্যবাদী কতটা রেগে যায় এবং জোর করে তার ইচ্ছাকে কতোটা চাপিয়ে দেয়? - এটাই সমস্যা। ব্যবসায়ীরা কতটা রেগে যায়? - অথবা যে কেউ, কূটনীতিকরা, রাগে?
আমার নিজের চিন্তাভাবনা নরওয়ের যে-কোনো বৃদ্ধা দাদীর মতোই, আপনি হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারেন – আচ্ছা, এটা গ্রহ হিসেবে খুব একটা ভালো মনে হচ্ছে না। আমরা এর আগে কখনও এরকম কিছু দেখিনি এবং এই মানব ধ্বংসযজ্ঞের কারণে আরও কয়েকশ বছর গ্রহটির টিকে থাকার সম্ভাবনাও কম। হয়তো আশা এবং ভয়ের প্রশ্নটি অপ্রাসঙ্গিক এই অর্থে যে আশা হলো আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি এই জ্ঞানকে সুগার-কোটিং দেওয়ার ভালো উপায় এবং ভয় কেবল আমরা খারাপ অবস্থায় আছি এই উপলব্ধির একটি হিস্টিরিয়াস প্রতিক্রিয়া নয়। হয়তো কিছু সরল বাস্তবিক স্পষ্টতা এবং পরিস্থিতির প্রতি শান্ত সহানুভূতি আশার চেয়ে ভালো হতে পারে। আমি আশার চেয়ে সহানুভূতি বেশি পছন্দ করি।
হতে পারে আমরা এই গ্রহটি হারাবো। আমি একজন তিব্বতী লামার সঙ্গে কথা বলছিলাম যাকে আমি পছন্দ করি, গেলেক রিম্পোচে, যার সঙ্গে আমি ইউরোপ এবং আমেরিকায় সময় কাটিয়েছি। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে কী হতে পারে এবং সে বলল, “হয়তো আমাদের আরও কয়েকশ বছর সময় আছে এবং তারপর আমরা এই গ্রহটি হারাবো”। আমি বললাম “কিভাবে?” সে বলল, “কোন ব্যাং না, বরং আরও একটা... বড় কোনো বিস্ফোরণও নয়, হতে পারে সেটা কেবল জটলা” - অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং আরও কিছু - তাই আমি বললাম “যদি কোনো গ্রহ, অর্থাৎ ভবিষ্যতে কোনও পৃথিবী না থাকে তাহলে কবিতার উদ্দেশ্য কী?” সে বলল, যে-কোনো মানুষের কার্যকলাপের মতো একই উদ্দেশ্য, জীবনের যন্ত্রণা লাঘব করা, মানুষের যন্ত্রণার পরিমাণ দূর করা, জন্মগ্রহণ এবং মৃত্যুবরণের পর থেকে সকলেই যে বিশাল যন্ত্রণা সহ্য করছে তা লাঘব করা, পুরো গ্রহ সম্পর্কে চিন্তা করার দরকার নেই। হয়তো, যদি মানুষের নিজেদের এবং অন্যদের প্রতি কিছুটা স্বাভাবিক সহানুভূতির অনুভূতি থাকে তবে তারা উদ্ভিদের জীবন দীর্ঘায়িত করতে পারে, এমনকি বাঁচাতেও পারে। (তবে আমরা ইতিমধ্যেই যে ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে এনেছি এবং আমরা এখনও যে জীবাশ্ম জ্বালানি আর পারমাণবিক শক্তির উপর নির্ভরশীল, তা বিবেচনা করে, এখন আর খুব একটা সম্ভব নয়। তবে যে-কোনো কার্যকলাপের উদ্দেশ্য, তা সে চিকিৎসা, টেলিভিশন, কবিতা, পিতামাতা, যাই হোক না কেন, যতটা সম্ভব কষ্ট দূর করা। তরুণ আর বয়স্কদের জন্য এটা হতে পারে ভালো নির্দেশিকা। প্রচুর কাজ করার জন্য দারুণ এক প্রেরণা। কোনও আশা নেই, কোনও ভয় নেই, কেবল সহানুভূতি)।
গত রবিবার আপনার পাঠ শুনে, লিখেছিলাম...
ওহ, তুমি কি ছিলে ওখানে?
...আপনার কবিতার একটি লাইন - (“উইচিটা ভর্টেক্স সূত্র” থেকে) – “রাষ্ট্রপতিকে তার নিজের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে দিন”
“...কংগ্রেসকে আনন্দের সঙ্গে আইন প্রণয়ন করতে দিন, রাষ্ট্রপতিকে তার ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে দিন...” - আমি বলছিলাম.. কংগ্রেসকে যুদ্ধে আনন্দিত বলে (এটি তাদের ইচ্ছা ছিল) এবং রাষ্ট্রপতির যুদ্ধকে তার নিজস্ব ইচ্ছা বলে উপহাস করছি কারণ ওটা ছিল তার ব্যক্তিগত পছন্দ, শেষ পর্যন্ত যেমনটি বোঝা গেছে। যুদ্ধের কোনও প্রয়োজন ছিল না।
তাহলে আপনার কি মনে হয়, একজন ভালো রাষ্ট্রপতি হতে পারতেন যদি তিনি কেবল নিজের ইচ্ছাকে সম্মান করতে পারতেন?
না, না, আমার মনে হয় না.. আমি নিশ্চিত নই যে তুমি এর বিদ্রূপটুকু বুঝতে পেরেছ কিনা। আমি বলছি।
আমার মনে হয় ক্লিনটন (১৯৯৩-) অবশ্যই আগের দুই (নিও-কনজারভেটিভ) রাষ্ট্রপতির চেয়ে অনেক বেশি হাসিখুশি – তার গাল আপেলের মতো টসটসে। গাঁজা টানতে ভয় পাননি তিনি। ভাইস-প্রেসিডেন্ট গোর ধূমপান করতেন, এবং আমি ভাবতে পারিনি যে বুশ তা এলাউ করবেন (যদিও আমি জানি যে বুশ যখন সিআইএ-র প্রধান ছিলেন তখন তিনি নোরিয়েগার সাথে কিছু কোকেন শেয়ার করে নোরিয়েগাকে টাকা দিয়েছিলেন)।
কিন্তু.. আমার মনে হয় অনেক কিছু নির্ভর করে জিনিসের সুরের উপর, মনস্তাত্ত্বিক সুরের উপর। ক্লিনটনের উচ্ছ্বাস এবং সহানুভূতির শক্তি বুশের চেয়ে ভালো, বুশ আমার কাছে মূলত একজন বিরক্তিকর এবং ক্ষুব্ধ লোক। তিনি সকলকে হতাশ করছিলেন, (অবশ্য.. রিগানও শেষ পর্যন্ত এক ধরনের ক্ষুব্ধ লোকই ছিলেন)।
(উপসংহার)
আপনি এশিয়ায় বৌদ্ধধর্ম খুঁজে পেয়েছেন এবং সম্প্রতি আপনার কবিতা এশিয়ায়, বিশেষ করে চীনে পাঠ হচ্ছে খুব। পূর্বের সমাজে আপনার কবিতার কী প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করেন?
আচ্ছা, এর প্রভাব ইতিমধ্যেই বেশ কিছুটা পড়েছে, অদ্ভুতভাবে, আমার কবিতা নয় বরং বৌদ্ধ আমেরিকান বিটনিক কবিতার সমগ্র জগতে। আমার ইন্ডিয়ান জার্নালগুলির কপি শেষ হয়ে যায় (আমি ভারতে যে জার্নালগুলি লিখেছিলাম), ১৯৮০ বা তারও আগে সব কপি বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু পরে হঠাৎ করে ভাইকিং আবার তা ভারতে পুনর্মুদ্রণ করে এবং খুব ভাল বিক্রি হয়েছে, (আমেরিকা বা ইংল্যান্ডের চেয়ে অনেক বেশি)। এখন চীনে আমার একটি বই আছে, আমার মনে হয় আমিই প্রথম আমেরিকান, সমসাময়িক আমেরিকান কবিদের একজন যার একটি সম্পূর্ণ বই রয়েছে চীনে। কিন্তু আপনি জানেন চীনের সমসাময়িক কাব্যনায়ক - শু টিং (এমন এক সময়ে রোমান্টিক প্রেমের কবিতা লিখেছিলেন যখন মাওয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে ওগুলো ব্লাস্ফেমি বলে মনে করা হতো) – আর আছেন বেই দাও (একজন আধুনিক বুদ্ধিজীবী কবি) - এবং সাংহাইয়ের অনেক কবি তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের ছাত্র আন্দোলনে খুব প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছিলেন। তারা পঞ্চাশের দশক থেকে ষাটের দশকের শেষের দিকে আমেরিকান আন্দোলনে কী ঘটছে তা নিয়ে প্রভাবিত ছিলেন এবং সেখান থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। আর ছাত্র নেতারা আমাকে জানিয়েছিলেন যে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের দেয়ালে বোর্ডে আমার কিছু কবিতার লাইন লেখা হয়েছিল। কিছু বক্তব্য নেয়া হয়েছিল অ্যাবি হফম্যান থেকে। তাই ব্যক্তিবাদ এবং স্বাধীনতাবাদী, নৈরাজ্যবাদী-উদারনৈতিক হাস্যরসের সেই চেতনা মস্কো এবং চীনেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
আমেরিকার সামরিক বাহিনীর চেষ্টার চেয়ে বরং রাশিয়ায় সাংস্কৃতিক বিপ্লব তাদের সরকারকে সত্যিই বদলে দিয়েছিল। আমার মনে হয় জিন্স, রক এন রোল এবং আধুনিক কম্পিউটারই বড় পরিবর্তন এনেছিল। কমিউনিস্ট আমলাতন্ত্র, স্ট্যালিনবাদী আমলাতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছিল। কেবল আমেরিকান কবিতারই নয়, বব ডিলান, রক এন রোল, দ্য বিটলস, দ্য সফট মেশিন, দ্য ফাগস, কেরুয়াক, বারোয এবং চার্টার ৭৭ এবং চেকোস্লোভাকিয়ার ভেলভেট বিপ্লবেরও বিশাল প্রভাব ছিল সেখানে (এবং আমি মনে করি এটিই সবচেয়ে আকর্ষণীয় মডেল ছিল)।
তাহলে এখন হয়তো আমাদের ইসলামী দেশগুলোর তরুণদের প্রতি এই মনোভাব মোকাবেলা করার জন্য একটি কৌশলের প্রয়োজন?
হ্যাঁ, এটাই আদর্শ হবে। বিশেষ করে.. খুবই আকর্ষণীয় বিষয়.. একজন অ-ঈশ্বরবাদী আর অত্যন্ত তীব্র আস্তিক অধিবিদ্যার মধ্যে পার্থক্য। এক অর্থে অধিবিদ্যাগত প্রশ্ন - জিনিসের উৎপত্তির প্রশ্ন। কিছু বৌদ্ধ শিক্ষক বলেছেন, আসল আর্মাগেডন, অর্থাৎ চূড়ান্ত যুদ্ধ হবে আস্তিক এবং অ-ঈশ্বরবাদীদের মধ্যে আধ্যাত্মিক যুদ্ধ, (যার অর্থ হতে পারে পুঁজিবাদী বনাম কমিউনিস্ট)। যারা জোর দিয়ে বলে সবাই তাদের ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে এবং যারা মনে করে যে ঈশ্বর মনের উপর চাপিয়ে দেওয়া একটা আদর্শ মাত্র, মনের উপর ছাদ স্থাপন করার মতো— তাদের মধ্যে যা ঘটতে পারে সেটাই আসল।
কিন্তু ঈশ্বরের ধারণা সম্বলিত ধর্মগুলির মধ্যেও রহস্যবাদের ঐতিহ্য রয়েছে, যেমন ইসলামের মধ্যে সুফিরা, যারা রাজনীতিক ধর্মীয় ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
হ্যাঁ, দাওবাদ অ-ঈশ্বরবাদী, কনফুসিয়ানিজম অ-ঈশ্বরবাদী, বৌদ্ধধর্ম অ-ঈশ্বরবাদী, শেষ পর্যন্ত হিন্দুধর্ম হওয়া উচিত (যদি তা না হয় - এই মুহূর্তে ধর্মান্ধ হিন্দুরা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মুসলিম মসজিদ পুড়িয়ে দিচ্ছে - কিন্তু, সাধারণত, রাজনীতিবিদরা সেই ধর্মীয় প্ররোচনাকে লুফে নেয় এবং জনতাবাদী ক্ষমতার জন্য কাজে লাগানোর চেষ্টা করে, কারণ মূলত আয়াতুল্লাহ এটাই করছেন... করেছেন.. আমি বলতে চাইছি সালমান রুশদির বিরুদ্ধে তার পুরো জিহাদটি মূলত একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত ছিল, এটিকে পশ্চিমা হস্তক্ষেপের প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করার এবং (উইলিয়াম) বারোজের হাসান ইবনে সাব্বাহকে অনুকরণ করে আদর্শিকভাবে লড়াই করার জন্য - তিনি তার ক্ষমতার শত্রুদের (আয়াতুল্লাহর ক্ষমতা) বা তার ক্ষমতার উত্তরাধিকারীদের পেতে খুনিদের পাঠাচ্ছেন। যদিও এটি কঠিন, কারণ সারা বিশ্বে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, জার্মানিতে, সর্বত্র, এই ধর্ম-রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহ, টেলিভিশন-ইভ্যাঞ্জেলিস্টিক ক্ষমতা-ক্ষুধার্ত জনতাবাদী প্রবণতা রয়েছে, (সেটা সার্বিয়ার প্রধানই হোক, মোসলেমের বহু-সাংস্কৃতিক সহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী এবং গোঁড়া সার্বিয়ান আদর্শের জন্য লড়াই হোক, অথবা নিউ ইয়র্কে ক্যাথলিক ধর্ম লেসবিয়ান এবং সমকামীদের উপর নির্যাতন চালানোর চেষ্টাই হোক, বিশেষ করে আইরিশ সেন্ট প্যাট্রিক দিবসের কুচকাওয়াজে, এমনকি আয়ারল্যান্ড ষোল বছর বয়স থেকে সমকামিতাকে বৈধতা দেওয়ার পরেও, অথবা আমেরিকার ধর্ম-রাজনৈতিক মৌলবাদী টেলিভিশন ধর্মপ্রচারকরা যারা টেলিভিশন এবং স্কুলে সেন্সরশিপের উপর জোর দেওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন এবং বাইবেল অনুসারে পৃথিবী ৪০৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তৈরি হয়েছিল তা শেখানোর জন্য জোর দিচ্ছেন - এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন যে আমাদের সমস্ত লেসবিয়ান এবং সমকামীদের হত্যা করা উচিত কারণ বাইবেলে তাই বলা আছে)। সুতরাং একটি সম্পূর্ণ শক্তিশালী গ্রুপ রয়েছে এবং তারা রিগ্যান এবং বুশের মিত্র ছিল, তারা ছিল ক্ষমতাধর, এবং তারা টেলিভিশনকে প্রভাবিত করেছে - (যেমন, আমার কবিতা রাত 8 টা পর্যন্ত আমেরিকান টেলিভিশনে আবৃত্তি করা যায় না। সেন্সরশিপ থেকে নতুন নিয়ম এসেছে)। সুতরাং আমেরিকাতেও একটি শক্তিশালী গ্রুপ রয়েছে - এবং জার্মানিতে আপনার জাতীয়তাবাদ এবং ধর্ম-ক্রেটিক মনোবলের পাশাপাশি ইসলামী বিশ্বেরও একই রকম অবস্থা।
আর তারপর চীনে “আধ্যাত্মিক দুর্নীতি” (যেমন রক এন রোল এবং পশ্চিমা কবিতা ইত্যাদি) এর বিরুদ্ধে প্রচারণার সমতুল্য জাতীয়তাবাদী আদর্শিক স্বৈরাচার রয়েছে। আমি যখন চীনে ছিলাম, দেখেছি, আমি যে চীনা ছাত্রদের বক্তৃতা দিয়েছিলাম তারা ধ্যান সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ছিল। তাই আমি একটু... সাধারণত গ্যারি স্নাইডারের কবিতার পাদটীকা হিসেবে, ধ্যান অনুশীলনের উপর নির্দেশনা দিয়েছিলাম, যেমনটি আমি এখানেও করেছিলাম। তারপর আমরা সম্ভবত পাঁচ মিনিট বসে অনুশীলন করেছি। আমি তাদের গ্যারি স্নাইডার এবং ফিলিপ হোয়েলেনের কবিতা পড়ে শোনালাম। তারা ভেতর থেকে বুঝতে পেরেছিল যে কী ঘটছে। আমার মনে হয়।
আপনি হয়তো শীঘ্রই U2 এবং Sonic Youth-এর সাথে MTV-তে আসবেন, আমি বুঝতে পারছি।
আচ্ছা, এটা নির্ভর করে এরা কীভাবে কাজ করে তার উপর। আমি ডাবলিনে ছিলাম এবং U2-এর বোনো আমার কবিতা পাঠে এসেছিলেন (প্রচুর দর্শক উপস্থিতি নিয়ে) এবং তারপর কয়েকদিন পরে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি তার ইউটিউব টেলিভিশন স্টুডিওতে দুটি কবিতা – “হাম বম!” এবং “ডোন্ট স্মোক” - রেকর্ড করতে যাব কিনা? আমাকে সময়মতো নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তারা তাদের গানের সঙ্গে একে সিঙ্ক করতে পারেন। তিন চ্যানেলের ব্লকবাস্টার টিভি প্রযোজনার জন্য ছিল ওই আয়োজন, যা তারা আমেরিকা এবং ইউরোপে কয়েক মাস ধরে প্রচার করবেন। তবে আমি জানি না তারা এটি ব্যবহার করবেন কিনা।
এমটিভি, ম্যাকডোনাল্ডস, কোকা-কোলা এবং নাইকির উপস্থাপিত বাণিজ্যিক যুব সংস্কৃতিকে কি সারা বিশ্বের মানুষকে জীবন উপভোগ করতে এবং মৌলবাদীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বলার একটি উপায় হিসেবে দেখেন?
আচ্ছা, আমার মনে হয় ম্যাকডোনাল্ডসের হ্যামবার্গার বিক্রি করবে এমন যে-কোনো জিনিস.. (যা পরিবেশগতভাবে ধ্বংসাত্মক - তাই আমার সেখানে আপত্তি আছে) - যতদূর বুঝতে পারি.. তারা মাংস সংস্কৃতির উপর নির্ভর করে (যা একটা বিপর্যয় - কৃষিগত বিপর্যয়, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং খাদ্যতালিকাগত বিপর্যয় - পুরো মাংস সংক্রান্ত ব্যাপারটাই, মাংস খাওয়ার সংস্কৃতি)। তাই আমি জানি না কিভাবে, হয়তো জানো... গ্রেগরি করসো বলেছেন “খারাপ খবরের উপর কোনও ভালো খবর লেখা যায় না” (খবরের কথা বলতে গিয়ে, নিউ ইয়র্ক টাইমস ছাপানোর জন্য আপনাকে পুরো একটি বন কেটে ফেলতে হবে, তাই তিনি বলেছিলেন “খারাপ খবরের উপর কোনও ভালো খবর লেখা যায় না”)
হ্যাঁ এবং না - ব্যান্ডগুলি নিজেরাই মুক্ত বুদ্ধিজীবী, তারা জানে তারা কী করছে, যেমন সনিক ইয়ুথ। তারা খুব বুদ্ধিমান এবং সরাসরি সিস্টেমের সঙ্গে মোকাবিলা করার চেষ্টা করে। তাদের নিজস্ব প্রেরণা অনুপ্রবেশ করতে, এমনকি আধিপত্য বিস্তার করতে, এমনকি প্রয়োগ করতে চেষ্টা করে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে যেতে হলে আপনার অর্থনৈতিক শক্তি থাকতে হবে, হয় আপনার নিজস্ব একটি স্টেশনের মালিক হতে হবে, অথবা যথেষ্ট শক্তিশালী কারো সঙ্গে কাজ করতে হবে, যেমন বেন অ্যান্ড জেরির মতো, আইসক্রিম-প্রেমীরা, যারা আপনার কার্যকলাপে ভর্তুকি দিতে উদার, উন্মুক্ত এবং পরিবেশগতভাবে সচেতন। আমার মনে হয় U2 যথেষ্ট বড় যাতে তারা তাদের নিজস্ব কার্যকলাপে ভর্তুকি দিতে পারে। আমার মনে হয় (বব) ডিলান এটাই করতে চেয়েছিলেন। বিটলস মূলত এটাই করতে চেয়েছিল, চেয়েছিল যথেষ্ট টাকা বানাতে, যাতে তারা বৃহৎ কর্পোরেট জগতের উপর, অন্য কর্পোরেট জগতের উপর নির্ভরশীল না হয়ে তাদের নিজস্ব বিতরণ এবং নিজস্ব মূলধন ব্যবস্থার মালিক হতে পারে। কিন্তু ওই যে, খারাপ খবরের উপর কীভাবে ভালো খবর লেখা যেতে পারে তা আমি জানি না।
অ্যালেন গিন্সবার্গের সাক্ষাৎকার
সাক্ষাৎকার গ্রহীতা অডুন এং
ভাষান্তর ঋতো আহমেদ
সাক্ষাৎকার গ্রহীতা অডুন এং
ভাষান্তর ঋতো আহমেদ




মন্তব্য