[মাহমুদ দারবিশ (১৯৪১–২০০৮)— ফিলিস্তিনের আলবিরওয়ায় জন্ম। মাত্র ছয় বছর বয়সেই জন্মভূমি ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে এবং তারপর থেকেই শুরু হয়েছে তাঁর উন্মূল উদ্বাস্তু জীবন। কোথাও থিতু হতে পারেননি। বাইরে-বাইরে জীবন কাটালেও ফিলিস্তিন ছিল তাঁর অন্তরে এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য তিনি আজীবন লড়াই করে গেছেন। তাই তাঁকে ফিলিস্তিনের জাতীয় কবিও বলা হয়ে থাকে। তাঁর কবিতায় উঠে আসে স্বদেশের জন্য তীব্র ভালবাসা, নির্বাসনের যন্ত্রণা, রাজনৈতিক প্রতিরোধ এবং সার্বজনীন মানবতা। নীচের কবিতাগুলি ফেদি জাওদা এবং অন্যান্য কবির ইংরেজি অনুবাদ থেকে বাঙলায় তর্জমা করা হয়েছে।]
রিটা ও রাইফেল
রিটা আর আমার চোখের মাঝখানে
একটা রাইফেল
এবং যারাই রিটাকে চেনে
নতজানু হয়ে প্রার্থনা করে
ওই দু'টি চোখের মধু-রঙা দিব্যতার কাছে।
এবং আমি রিটাকে চুমু খেয়েছিলুম
যখন সে কমবয়সি ছিল
এবং আমার মনে আছে কেমন করে সে এগিয়ে আসত
এবং কীভাবে আমার বাহু তার সুদৃশ্য খোঁপায় ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।
এবং আমি স্মরণ করি রিটাকে
যেভাবে একটি চড়ুই মনে রাখে তার নিজস্ব জলাধারকে।
আহ্ রিটা
আমাদের মাঝখানে লক্ষ লক্ষ চড়ুই
এবং দৃশ্যকল্প
এবং নির্দিষ্ট মিলনস্থল
সব ছাই হয়ে গেল রাইফেলের আগুনে।
রিটার নাম আমার কাছে উৎসবের আবহ তৈরি করত
রিটার শরীর আমার রক্তে বাসর রাতের অনুভূতি নিয়ে আসত
এবং দু'টো বছর আমি রিটার মধ্যে হারিয়ে যাই
এবং দু'টো বছর সে আমার বাহুপাশে ঘুমিয়ে ছিল
এবং উৎকৃষ্ট পেয়ালায় ঠোঁট রেখে
আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলুম
এবং আমরা আমাদের ওষ্ঠের মদিরায় পুড়ে যাব
এবং আমরা আবার জন্ম নেব।
আহ্, রিটা!
এই রাইফেলের আগে কে পেরেছে তোমার চোখ থেকে আমার চোখ সরাতে
সামান্য দিবানিদ্রা ও মধু-বর্ণ মেঘ ছাড়া
কোনও এক সময়
ওহ, গোধূলির নৈঃশব্দ্য
একদিন সকালে আমার চাঁদ বহুদূর এক দেশে চলে গেল
ওই মধু-রঙা চোখের টানে
এবং শহর ভাসিয়ে নিয়ে গেল সমস্ত গায়কদের
এবং রিটা।
রিটা আর আমার চোখের মাঝখানে
একটা রাইফেল।
কিত্আ
১
আবার কবে আমাদের দেখা হবে?
যে বছর যুদ্ধ শেষ হবে।
যুদ্ধ কবে শেষ হবে?
যখন আমাদের দেখা হবে।
২
যদি তুমি প্রশ্ন করো,
কতবার তুমি আমার মনের ভিতরে এসেছ,
আমি বলব একবারই—
তারপর আর তুমি ফিরে যাওনি।
৩
আমাদের চিরস্থায়ী অসুখ
আমাদের আশা।
৪
আমি ইজরায়েলকে ভালবাসি না
ভালবাসার মতো কোনও কারণও নেই
কিন্তু ইহুদীদের প্রতি আমার কোনও ঘৃণাও নেই
৫
তারপর আমি নিজেকে বোঝালাম:
আমার ভিতরে যে অন্ধকার
সেখান থেকেই একটা চাঁদ উঠবে।
৬
সমস্ত রাস্তাই এখন তোমার দিকে ধাবমান,
তোমাকে ভোলার জন্য যেটা বেছেছিলাম
সেই রাস্তাটাও।
৭
মানচিত্র দিয়ে নির্বাসন ধরা যায় না
তুমি আপন ভূখণ্ডেই
নির্বাসিত হতে পারো
তোমার নিজের বাড়িতেই,
এমনকি তোমার নিজের ঘরেই।
৮
অন্তিম সীমানার পর আমরা কোথায় যাব?
অন্তিম আকাশের পর কোথায় উড়ে যাবে চড়ুই পাখিরা?
বাতাস যখন অন্তিম শ্বাসটি নেয়,
গাছেরা ঘুমোবে কোথায় তারপর?
৯
তার চোখজোড়া ফিলিস্তিন
তার নাম ফিলিস্তিন
তার পোশাক আর তার দুঃখগুলো ফিলিস্তিন
তার মাথায় বাঁধা রুমাল, তার পা জোড়া আর তার শরীর ফিলিস্তিন
তার কথা, তার নীরবতা ফিলিস্তিন
তার কণ্ঠ ফিলিস্তিন
তার জন্ম এবং মৃত্যু ফিলিস্তিন
মাহমুদ দারবিশের কবিতা
▮ অনুবাদ: অর্হণ জানা
▮ অনুবাদ: অর্হণ জানা




মন্তব্য