বয়রার এই বাজারে পনের দিন পরপর আসা হয় বাজারের বাতিগুলো জ্বলে উঠলে সূর্যের আলোর সাথে কেমন যেন লুকোচুরি খেলা চলে। মাছের বাজারের আঁষটে গন্ধ মেয়েদের শরীরের গন্ধের মতো মনে হয়। বেশিরভাগই বরফে ঢাকা মাছ। জ্যান্ত মাছ মাঝে মাঝে রাস্তায় একটা দুটো নেমে আসে। আর অন্য পাশে তরকারি তার থেকে হাত পাঁচেক দূরে মাংসের দোকান। রান, মাথা, পাঁজর শিকে গেঁথে গেঁথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মুরগি, রাজহাঁস আর ডিম নিয়ে দরকষাকষি চলে ক্রেতা আর বিক্রেতার মধ্যে। রাস্তায় ইজি বাইক আর ভ্যানের জটলা লেগে থাকে।
ঠিক পনের দিন পরপর আসা হয়।
কী কারণে?
প্রতি পনের দিন পর জলজ্যান্ত নারীর সাথে দেখা হয়। আমায় দেখলে সে তার আঙুলগুলো এমন মোহনীয় করে তোলে যেন কিছু বলতে চায়।
আচ্ছা কী বলতে চায়?
হঠাৎই ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ সোমবার প্রশ্ন করে বসে, গল্প করতে পারেন?
মাথা নাড়াই। পূজাখোলা মন্দিরে আগে দুই একদিন দেখেছি। কিন্তু আজ কেমন যেন একটা ভালো লাগা কাজ করছে। বিনয় মজুমদার মাথার ভেতর ঘুরছে।
“কেন লিখি নিজেও জানি না। না লিখলে সাহিত্যের ক্ষতি হতো না। আমার ক্ষতি হতো। লিখতে লিখতে বুঝেছি আমি কবিতা লিখতে জানি না। লিখতে লিখতে বুঝেছি কবিতা লিখলে দুঃখ ভোলা সম্ভব।কিন্তু দুঃখ ভুলে গেলে কবিতা লেখা যায় না।” বিনয় মজুমদার আচ্ছন্ন করে তবে তার আগে বলি তুমি খুব সুন্দরী।
অবিশ্বাসের হাসি হেসে বলে, আমার নাম তাম্রলিপি। একদিন এই শহরে একসাথে হাঁটবো আপনার সাথে।
শহরে চাঁদ নেমেছে। পূর্ণিমার ভরাট যুবতীর চাঁদ।নীরবতারও একটা ভাষা আছে।
তাম্রলিপি বলে, একটা গল্প চাই আমার। যা শুনলে হেলে যাবে আমার বিকেল বেলা।
কিন্তু আমার তাতে কী লাভ?
লাভ!
এক লাইনের গল্প।
এক লাইনের গল্প হয় নাকি?
পৃথিবীটা ছোট হতে হতে বোকা মোবাইলের ভেতর ঢুকে যদি যেতে পারে, তাহলে কেনো এক লাইনের গল্প হবে না। কিন্তু একটা ছোটখাটো শর্ত আছে।
কী?
না আগে গল্পটা বলি। বোকা মানুষ সামনে নিয়ে বসে আছে অল্প নুন, দুটো মাংসের টুকরো, ৫টা পোস্টকার্ড, একটা জ্যান্ত কৈ মাছ।
তারপর?
তারপর আর কিছু নেই। তার আগেও কিছু নেই।তাহলে আরেকটা শোন। এক পাগল বাতাসের বুকে ক্ষত ছিল মৌসুমি ভৌমিকের গান আছে না তাতে ঘুষি মেরে মেরে চিৎকার করছে: ঘুমুতে চাই না, প্লিজ আমাকে ঘুম পাড়িয়ো না।
তাম্রলিপি শুধু বলে, আচ্ছা ওই মেঘের ওপারে কী আছে?
এবার বলি ঠিক পনের দিন পর নীল সুতো দিয়ে বানানো একটা রুমাল চাই আমার।
আর সত্যি সত্যি দুরন্ত সুন্দর তোমার আঙুলের মুভমেন্ট অনেকটা রামধনুর রঙয়ের মতো। ঠিক গুনে গুনে পনের দিন পর জানতে পারবে মেঘের ওপারে কী আছে? আর সেদিন একসাথে হাঁটবো এই শহরে তোমার সাথে।
তাম্রলিপির ঠোঁটে শীতল হাসি যাতে ক্লান্তির কোনো চিহ্ন নেই।
রামধনুর রঙ
অভিজিৎ বসু
অভিজিৎ বসু




মন্তব্য