মা এবং মাছ উপাখ্যান
একটা মাছ দেখতে অবিকল তোমার মতন।
আব্বার বাজারের ব্যাগ থেকে মা সেই মাছ নিয়ে কেটে-কুটে একাকার। শেষ বেলায় যখন ঠোঁট দু’টো কাটতে যাবেন মা, তখনো সে ঠোঁটে নীলহাসি! আমি চিরকাল মায়ের আদরের দুলাল, অবাধ্য বাঁদর! মায়ের কাছে আবদার করে বসি- ঠোঁটটা আমার চাই। জানতাম না, মাছের ঠোঁট ফেলে দিতে হয়। মা মহা আনন্দে দিয়ে দিয়েছিলেন। আজও ঠোঁটটা আমার একযুগের সংসারে নীলহাসির আলোয় অন্ধকার নামিয়ে আনে। আবার কোনদিন মা'র সাথে এই নিয়ে কথা হলে, বলবো নিশ্চই- মা, তুমি জানো না! মাছেদের নীল হাসি থাকে অবিকল তার মতো!
দীর্ঘ বিভ্রমের কিশোরী নদীগুলো
রোজ অফিসে যাই, ধুয়ে-মুছে ঝকঝকে করে ফেলি কথার আয়না! খানিক বাদে ফোন আসে- তোমাকে মনে রাখা মানে বুকের ভিতর পুষে রাখা নয়! এমন অনেক প্রেমময়চোখ জমাট বেঁধে আলোড়িত! এমন আয়না-আমি ভালোবাসি; এমন চোখেই-আমি কাঁদি। নিত্যকার এ পথ ধরে মেঘলা পাহাড় গর্বিত হয়ে সন্ধ্যা আনে, ঘরে রো...জ ফিরি, কখনো চিত্রহীন; কখনো পাথর-বধির! তীব্র দহনের দীর্ঘ বিভ্রমের ভালোবাসার জ্বলে খানিক হাসি, খানিক ভাবি -এভাবেই ভালোবাসায় জ্বলে কিশোরী নদীগুলো ভেসে যায় দূরের মধ্যরাতে!
নির্বোধ দিনের স্বরলিপি
সবুজ পাতাদের সঙ্গম দেখে বুঁদ হয়ে থাকা মদ্যপ আমি, আগুনের বিষণ্নতার ধোঁয়ায় কেউ একজন ষ্টেশনে দেয়ালে এঁকেছিলো তোমার নীল টিপ রাঙ্গানো ছবি- সে ছবি খুঁজে ফিরি! বিপ্লবের আল্পনা হাতড়াতে হাতড়াতে মুঠোয় বন্দি সিঁদুর, সিঁথিতে লেগে গিয়ে উদ্যানে মানুষের কোলাহল! শহরে তখন ট্রেনের হুইসেল, খাকির হুইসেল, মদের বোতলের তুমুল হাঁকডাক... দূরে-অনেক... দূরে কেউ একজন ভোরের অপেক্ষায় থাকে, সে জানে- নীল টিপের গহীনে লুকিয়ে আছে প্রাকৃতস্বজন!
দীর্ঘ বিভ্রমের কিশোরী নদীগুলো ও অন্যান্য
মাহফুজুর রহমান লিংকন
মাহফুজুর রহমান লিংকন




মন্তব্য