খাদক
জন্ম আর মৃত্যুর মাঝে একটিই পথ
যেখানে আমরা বসে আছি শিকারের আশায়
এই যে তোমাকে দেখে ফ্যাকাশে হচ্ছে দেহ
এই যে তোমাকে দেখে লুকোচ্ছি পারাবারে
এই যে যেতে যেতে খুলে যাচ্ছে জুতো
আর সেফটিপিনে আঁটছি রঙিন ফিতে
এই যে আমাকে দেখে কাঁপছে তোমার বুক
এই যে ভয় পেয়েছে শিশুরা তোমার, ডাকছে—
পিতা... পিতা...
এই যে ওষ্ঠ আমার রক্ত-লালারসে
সিক্ত হতেই উঠল জ্বলে চিতা
সেই চিতার আগুন তোমার চোখে
শরীর জুড়ে ময়ূর ময়ূর সাজ
আমিও সেই শিকারি অসুখে
শীতের আগে হারতে নারাজ
ভয় পেয়েছ? ভয় দেখাবে? মুক্ত বেণি কেশ
চেরা জিভে আমিও দোলাই ফণা
দু'চোখে আজ কাঁচা মাংসের হাট
ব্যথা ভুলে যাও; ব্যথা তো নিছক প্রবঞ্চনা।
এপিটাফ
আকণ্ঠ অন্ধকার ভেঙে আমাদের দেখা হল
জল ও জীবনের পাশে আমাকে রেখে—
পিতা গেয়ে গেল শোকগাথা
মোহ ও মায়ার সঙ্গম ছেড়ে, তুমি
বাজালে বেদনা-বাঁশরি হিরণ্যগর্ভে ...
তারপর আয়ু ভেঙে —শার্দূল চাঁদ —
সমুদ্র সফর নাবিকের মতো—
দেখে রোহিনী, দেখে সোনার সংসার
কলমির ঘ্রাণ নিয়ে মিশে যায় বাদাবনের ভিতর—
মুঠো ভরে নেয় আলো
শোনায় প্রহর শেষের গান
নিরুক্ত সিম্ফনি
এলিজি
ফুরায় শুধু চোখে
শীত বড়ো ছোঁয়াচে
দেনার দায়ে মাঠে
ফসল ফলাচ্ছে বাবা
মা দুঃখের আগুনে একটানা জ্বাল ঠেলছে
আমি ক্রমশ ঢুকে যাচ্ছি উনুনের ভিতর
তবু শীত ফুরায় না, শীত বড়ো ছোঁয়াচে
একটানা আগুনের ধোঁয়ায় নেমে আসছে
ইষ্টদেবতা
একটা বিরল রোগ ঘুরছে সাড়া শহর জুড়ে
আর আমরা লুকোচ্ছি সরীসৃপ খোলকে
এ শীত ফুরায় না, ফুরায় চোখের আলোকে
এপিটাফ ও অন্যান্য কবিতা
পিন্টু ঘোষ
পিন্টু ঘোষ




মন্তব্য