ক্ষমতা, বিস্ময়, ব্যবধান...
১.
রোদের ক্ষমতা বুঝে নিতে চলে আসো
ছায়াশূন্য পৃথিবীতে তারপর দেখো...
অষ্টক ষষ্ঠক নাই, নাই অন্তমিল;
শুধু তাপ আলো আর শুভ্র উজ্জ্বলতা
মহাঅন্ধকারে বহুকাল নিমজ্জিত
তুমি, তোমার পৃথিবী; আলো বলে, ভালো
বলে কিছু আছে বেমালুম গেছ ভুলে
সত্যে স্বপ্নে সর্বদাই সরল গরল
অনন্ত অনল: যেন মহাপাপী এক
ছাই ছায়ার নরক ছেড়ে একবার
আলোজ্জ্বল পৃথিবীতে রোদের হৃদয়ে
ঢুকে পড়ো, তারপর দেখাে ক্রীড়া—ক্রিয়া:
দুহাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে দাতা;
কী দারুণ সে যাপন, রঙিন জীবন
২.
একবার উড়ে গেলে অপার বিস্ময়!
এমন ঘটনা ঘটে না সবসময়
যদি ঘটে যায় তবে বেড়ে যায় আয়ু
সে খবর পৌঁছে দেয় মূল ঘরে স্নায়ু
সৌভাগ্যবশত থেকে থেকে থাকি একা
আপন তোমার সঙ্গে তাই হয় দেখা...
বর্ধিত সময়ে যেন জীবনে জীবন,
মহাপুলক যাপন স্বপ্নের মতন
কাগজে কলমে মত্ত, সৃষ্টিযজ্ঞ শেখা
মহাঝঞ্ঝার ছোবলে বিষাক্ত হৃদয়...
যদি না আসত এই বর্ধিত সময়...
হিংস্র পৃথিবী থেকে সরিয়ে বাঁচিয়ে
রাখে, না হলে কবেই যেতাম হারিয়ে;
বারবার উড়ে যেন আয়ু যোগ হয়
৩.
উচিত না, ভয়াবহ ব্যবধান তবু
কৌতূহল করে হট্টগোল; কী রহস্য!
চোখধনুকের ছোড়া শরে কী কোনও
অন্য ভিন্ন ধরনের বার্তা বর্তমান
কী এক ঘোরের মধ্যে ঘটে যাচ্ছে সব
আলোমায়া মেঘছায়া মিলে খেলে খেলা
মানুষ তো নয় মানুষের মায়া, ভ্রম...
বিগত জীবনে ছিল হয়তো অপূর্ণ
কোনও অধ্যায়, তাই এই নীল জন্ম
স্বেচ্ছাচারী গত ইচ্ছামতো বেদনায়
ডোবায় চোবায়, দম যায় যায় তবু
টিকে যায়, বেদনার স্বাদ গ্রহণ যে
এখনও বহু বাকি; এই জন্ম সত্যি
বলতে একটা নাটকের শেষ পর্ব
৪.
এমন কেনও ক্ষেত্র নাই বিশুদ্ধ শ্রদ্ধার! তবে
সত্যি তারা পৃথিবীতে এসেছিল, করেছিল চাষ...
সে ধারার বিপরীতে আজ মঙ্গলের অমঙ্গল;
বর্তমানও অতীত হয়, হবেই এ মহাসত্য
ভুলে বেক্কল সকলে মশগুল বাহুল্যে, বর্বর
বর্তমানের নকল সুবর্ন কলসে মগ্ন; আর
অন্যদিকে হৃদয়-শিকল বেঁধে উঠছে আবার
দুরাচার পৃথিবীতে আধুনিক অসুর নিধনে;
কত ধর্মযুদ্ধ হয়ে গেছে, কত ধর্মযুদ্ধ বাকি
কত কষ্ট রক্ত অশ্রু ব্যথা! সব মুখ বুজে তারা
সয়ে গেছে, করে গেছে নিরন্তর শুদ্ধতার চাষ;
তবু কেন এখনও মনে কারও কারও শুধু
চূড়ান্ত হতাশা, দীর্ঘশ্বাসে দীর্ঘশ্বাসে প্রকাশিত:
এমন কোনও ক্ষেত্র নাই আজ বিশুদ্ধ শ্রদ্ধার
জলের রাজত্ব
১.
অহেতুক এইসব অনুভূতি, কিছু করি কিছু করি ভাব!
মুছে যাবে সব রং রূপ, কিছুই থাকবে না, থাকে না কিছুই;
বুঝে শুনে ভুল করি, কষ্ট করি, কষ্ট দেই প্রিয়জনদের;
অনন্ত জলের তলে সবই তলিয়ে যাবে, সময় থমকে যাবে;
আধো-অন্ধকার, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ভালোবাসা-প্রিয়জন
কোনও কিছুই থাকবে না; থাকবে না অনুভূতি বিন্দুমাত্র
তবু কী এক মায়ায় মোহে ভুলে ভুল করে চলি প্রতিটি মুহূর্ত
২.
কে শুনবে সেইদিন এইসব গান যেইদিন থাকবে না
এই পৃথিবী সুন্দর, সত্যি বলতে কী এই পৃথিবীটাই তো
থাকবে না, কেউ থাকবে না, কিছুই থাকবে না, অতল জলে
তলিয়ে হারিয়ে যাবে সব সুর কথা; শুধু একটা শূন্যতা
সাক্ষ্য দেবে ব্যর্থতার আর অদৃশ্যে অদৃশ্য কেউ, না ঠিক
তা নয়, কেউ নয়; এই প্রকৃতি অর্থাৎ এই অনন্ত জলের
চুপিচুপি ফিকফিক হাসি সঙ্গে কষ্ট ও দীর্ঘশ্বাসের শব্দ
শুধু শোনা যাবে; তাদেরও তো ছিল প্রসবের সুখযন্ত্রণা
৩.
করেছ সদাই যাকে অবহেলা, দেখেছ নিচেই;
দেখাে সে-ই আজ নিচ ওপর ও চারপাশ জুড়ে
কখন যে কোন ভুলে দৃশ্যপট যায় উল্টে!
একদিন যাকে ইচ্ছামতো ফেলেছ গড়িয়ে
দিয়েছ চুইয়ে, করেছ ভেতর বাইর ওপর ও নিচ,
দেখো আজ সে-ই সব, সে-ই সত্য নিত্য;
তারই উদরে তোমার আমার
আমাদের সকলের সলিল সমাধি
৪.
এই সময়টা জলময়, অথই তাথই জল; দায়ভার ও
ব্যর্থতা নিয়ে অনন্ত কালের জন্য সলিল সমাধি সব
অপেক্ষারত, অথচ এ অপেক্ষা ফুরাবে না কোনওদিন;
সত্যি বলতে, কিছু পাপ থাকে যার শাস্তুি অন্তহীন
স্যাক্রিফাইস
অশান্তি ছড়িয়ে এই বাড়ির কোণায় কোণায়
ভেতরে ভেতরে সব বীভৎস ঘেন্না কিলবিল করে
কেউ কাউকে পারছে না মেনে নিতে
বিশ্বাস সম্মান ভালোবাসা সব মৃত তবু
এই বাড়ি এই সংসার দিব্যি আছে টিকে
কেননা সর্বংসহা একজন মা আজও আছেন বেঁচে
স্যাক্রিফাইস (রিভার্স)
এই যে এই ছেলেটা বারোটা বছর আগে
জেনেছে তার মায়ের সহিত তারই এক
আবাসিক শিক্ষকের অবৈধ সম্পর্ককথা...
তবু সে আজও তার মাকে মা বলেই ডাকে...
জলের রাজত্ব ও অন্যান্য কবিতা
সমতোষ রায়
সমতোষ রায়




খুব ভালো লেগেছে।
উত্তরমুছুনচমৎকার প্রতিটি লেখা।
উত্তরমুছুনখুব ভালো লিখেছেন কবি। শুভেচ্ছা রইল ❤️
উত্তরমুছুন