ভোমরা
মূল: The Bee
মনে হয় আর সব পোলাপাইনের মত
মহল্লায় আমারও একটা জানের দোস্ত আছিল।
অর নাম ছিল ইউজিন আর আমার চেয়ে গাট্টাগোট্টা
এক বছরের বড় ছিল বয়সে।
ইউজিন আমারে ভালোই প্যাদানি দিত।
সারাদিনই দুইজনে মাইরপিট করতাম।
আমিও পাল্লা দিবার চাইতাম কিন্তু লাভ
হইত না।
একবার আমরা এক গ্যারেজের ছাদ থিকা একলগে লাফ দিলাম
নিজেগো হ্যাডম দেখাইতে।
আমার পা মচকায়া গেসিল আর অয়
প্যাকেট করা মাখনের মত
চ্যালচ্যালায়া নাইমা গ্যালো।
আমার ধারণা একমাত্র একটা ভালো কাজ করসিলো অয় আমার লাইগা।
খালিপায়ে হাঁটার সময় ভোমরাটা যেদিন হুল ফুটাইল
আর আমি বইসা হুলটা বাইর করতেসিলাম
অয় বলতেসিলো,
“ কুত্তার বাচ্চারে আমি খাইছি।”
অয় কইলাম সেইটাই করসিল
একটা টেনিস র্যাকেট
আর রাবারের হাতুড়ি দিয়া।
বিশাল কোন ঘটনা ছিল না সেইটা
মাইনষে কয় অরা এমনেও মইরা যায়।
আমার পা ফুইলা ঢোল হইয়া গেসিলো
তাই বিছানায় শুইয়া শুইয়া মরার লাইগা দোয়া করতেসিলাম।
পরে ইউজিন বড় হইয়া
এডমিরাল নাইলে কমান্ডার
কিংবা মার্কিন নৌবাহিনির বিশাল হ্যাডা হইয়া উঠলো।
আবার বেশ কয়ডা যুদ্ধও কইরা আইল
কোনরকম জখম ছাড়াই।
কল্পনায় দেখি বুড়া হইসে অয়
একটা দোল খাওয়া চেয়ারে বইসা আছে।
মুখে বাধাইন্না দাঁত আর
হাতে এক গ্লাশ মাঠা।
টাল হইয়া আমি
উনিশ বছরের ভক্ত মাইয়ারে নিয়া
বিছানায় আঙ্গুলচোদা চুদি।
কিন্তু সবচেয়ে ফাউল ঘটনা হইল
(গ্যারেজের ছাদ থিকা লাফ দেওনের মতই)
ইউজিন এইবারও জিত্তা যায়
কারণ অয় কিন্তু আমার কথা ভাবতাসে না।
স্মরণীয় হাসিমুখ
মূল: A Smile to Remember
আমাদের কিছু গোল্ডফিশ ছিল, ওরা গোল হয়ে ঘুরপাক খেত
ছবির ফ্রেমের মত জানালাটা ঢেকে রাখা
ভারী পর্দার পাশের টেবিলে রাখা একটা গামলায়, আর
আমার মা, সবসময় হাসিমুখে, চাইত আমরা সবাইও
যেন আনন্দে থাকি, আমাকে বলত, "হেনরি, হাসিখুশি থাক।"
ঠিকই বলত মা, সম্ভব হলে আসলে হাসিখুশি থাকাই তো ভালো।
অথচ আমার বাবা সপ্তাহে বেশ ক'বার তাকে আর আমাকে মারধোর করেই যেতেন
ছ'ফুট দু'ইঞ্চির শরীরে উথলে ওঠা রাগে, কেননা তিনি বুঝতে পারতেন না
আসলে ঠিক কী তাকে ভেতর থেকে এসে গ্রাস করত।
মা আমার, নিরীহ মাছ,
খুশি থাকতে চাইত, মার খেত দু তিনবার
সপ্তাহে, আমাকে বলত হাসিখুশি থাকতেঃ " হেনরি, একটু হাস!
কেন হাসিস না তুই কখনো?"
বলে হাসত সে, আমাকে দেখাত কিভাবে হাসতে হয়, আর তা ছিল
আমার দ্যাখা সবচেয়ে দুঃখ মাখা হাসি
একদিন গোল্ডফিশগুলো মরে গেলো, পাঁচটাই,
ভেসে রইল পানিতে, উলটো হয়ে, তাদের
চোখগুলো তখনো খোলা,
আর যখন বাবা বাড়ি ফিরলেন, ওগুলোকে তিনি বেড়ালটার দিকে ছুঁড়ে দিলেন
রান্নাঘরের মেঝেতে আর আমরা দেখলাম মা
হাসছে।
নিকুচি করি এলার্ম ঘড়ির
মূল: Throwing Away the Alarm Clock
আমার বাপ সবসময় বলতেন, “তাড়াতাড়ি ঘুম এবং
সকাল সকাল ওঠা একজন মানুষকে করে তোলে স্বাস্থ্যবান, ধনী
এবং জ্ঞানী।”
সব আলো নিভে যেত রাত আটটায় আমাদের বাড়িতে
আর খুব ভোরে ঘুম ভাংত কফি,
বেকন আর ডিমভাজির ঘ্রাণে।
আমার বাপ প্রতিদিনকার এই রুটিন
গোটা জীবন মেনে চলেছেন আর মরেছেন কম বয়সে নিঃস্ব অবস্থায়
এবং মনে হয় না খুব একটা
জ্ঞানীও হতে পেরেছিলেন।
সব দেখেশুনে, সেই উপদেশ উড়িয়ে দিলাম, তাই আমার জন্য
বিষয়টা দাঁড়ালো দেরিতে ঘুম, দেরিতে
ওঠা।
এখন, আমি বলছিনা আমি দুনিয়া উদ্ধার
করে ফেলেছি, কিন্তু এড়াতে পেরেছি
অসংখ্যবার সাত সকালের যানজট, পাশ কাটিয়েছি
খুব সাধারণ কিছু ভুলের
আর দেখা পেয়েছি কিছু অদ্ভুত অথচ চমৎকার
মানুষের।
এদের মাঝে তেমন একজন ছিল
এই আমি - এমন একজন
যাকে আমার বাপ
কোনদিন
চিনতে পারেননি।
নিরাপদ জীবন
মূল: Safe
পাশের বাড়িটা আমার মন খারাপ করে দ্যায়।
লোকটা আর তার বউ রোজ সকালে ওঠে আর
কাজে যায়।
সন্ধ্যার আগে ঘরে ফেরে।
ওদের একটা ছেলে আর মেয়ে আছে।
রাত ন'টা বাজতে না বাজতে বাড়ির সব আলো
নিভে যায়।
পরদিন আবার লোকটা আর তার বউ সকাল সকাল ওঠে আর
কাজে যায়।
সন্ধ্যার আগে আগে ফিরে আসে।
রাত ন'টা বাজতে না বাজতে বাড়ির সব আলো
নিভে যায়।
পাশের বাড়িটা আমার মন খারাপ করে দ্যায়।
মানুষগুলো কিন্তু চমৎকার, ওদের পছন্দই করি।
কিন্তু অনুভব করি ওরা ডুবে যাচ্ছে।
আর আমি ওদের বাঁচাতে পারছি না।
কোনমতে টিকে আছে ওরা।
ওরা গৃহহীন নয়।
কিন্তু তার মূল্য কী ভয়াবহ।
হয়তো কখনো দিনের বেলায়
বাড়িটার দিকে তাকালে
বাড়িটাও আমার দিকে চেয়ে থাকবে
আর কাঁদবে,
হ্যাঁ, ওটা কাঁদে, আমি
ঠিকঠিক টের পাই।
নীলকান্তপাখি
মূল: Bluebird
আমার বুকের মাঝে একটা নীলকান্ত পাখি থাকে যেটা
বেরিয়ে আসতে চায়
কিন্তু আমি ওর প্রতি কঠিন হয়ে রই,
বলি, ওখানেই থাকো, তোমাকে
কেউ দেখে ফেলুক সেটা
হ'তে দিচ্ছি না।
আমার বুকের মাঝে একটা নীলকান্ত পাখি থাকে যেটা
বেরিয়ে আসতে চায়
কিন্তু আমি ওর উপরে হুইস্কি ঢেলে যাই আর টানি
সিগারেটের ধোঁয়া
ফলে বেশ্যা কিংবা বারটেন্ডার
অথবা মুদির দোকানি
কেউই টের পায় না
ও যে ওখানে আছে।
আমার বুকের মাঝে একটা নীলকান্ত পাখি থাকে যেটা
বেরিয়ে আসতে চায়
কিন্তু আমি ওর প্রতি কঠিন হয়ে রই,
বলি,
চুপচাপ থাকো, আমাকে কি তছনছ
করে দিতে চাও?
এলোমেলো করে দিতে চাও আমার সব
কীর্তি? ইউরোপে আমার বইয়ের বিক্রিতে
ধ্বস নামাতে চাও?
আমার বুকের মাঝে একটা নীলকান্ত পাখি থাকে যেটা
বেরিয়ে আসতে চায়
কিন্তু আমিও দারুণ চালাক, শুধু রাতের বেলা
মাঝেসাঝে ছেড়ে দেই ওকে
যখন সকলে ঘুমায়।
বলি, আমি তো জানি তুমি ভিতরে আছো,
বলি দুঃখ পেও না।
তারপর ওকে ভেতরে ঢুকিয়ে রাখি,
অথচ ভিতরে বসেও ও অল্পসল্প
গান গাইছে, আমি ওকে একেবারে মরে
যেতেও দেইনি
আর আমরা দু'জনে শুয়ে থাকি
ওভাবেই
সাথে নিয়ে আমাদের
গোপন চুক্তি।
আর এই তো বেশ
একটা পুরুষকে নীরবে
কাঁদানো, কিন্তু আমি তো
কাঁদি না,
তুমি কি কাঁদো?
The Last Night of the Earth Poems - circa 1992
ওরা আর আমরা
মূল: Them and Us
ওরা সবাই তখন সামনের বারান্দায়
আলাপে মশগুল।
হেমিংওয়ে, ফকনার, টি এস এলিয়ট,
এজরা পাউন্ড, হ্যামসুন, ওয়ালি স্টিভেন্স,
ই ই কামিংস এবং অন্য আরো ক'জন।
"শোন," আমার মা বলল " ওদেরকে একটু
চুপচাপ থাকতে বলতে পারিস না?"
"না।" আমি বললাম।
"সবক'টা ফালতু আলাপ করছে।" আমার বাবা
বলল, "ওদের আসলে কাজকর্ম দরকার।"
"ওদের কাজ আছে," আমি বললাম।
"কতই না কাজ!" আমার বাবা বলল।
"অবশ্যই," আমি বললাম
ঠিক তখনি ফকনার এলো
টলতে টলতে ।
আলমারি থেকে হুইস্কির বোতলটা
খুঁজে পেতে সেটা নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
"ভয়ানক লোক তো ,"
আমার মা বলল।
তারপর উঠে গিয়ে উঁকি দিল
বারান্দায়।
"একটা মেয়েলোক আছে ওদের সাথে,"
বলল মা, "শুধু দেখতে ব্যাটাছেলের মত।"
"ওটা গার্ট্রুড," আমি বললাম।
"আরেক ব্যাটাকে দেখছি শরীরের
পেশী ফোলাচ্ছে," সে বলল, "বলছে নাকি
যে কোন তিনজনকে একসাথে চাবকাতে পারে সে।"
"ওটা আর্নি," আমি বললাম।
"আর ও কিনা " বাবা আমার দিকে আঙ্গুল তুলে বলল,
"এদের মত হতে চায়!"
"সত্যি নাকি?" আমার মা প্রশ্ন করল।
"ওদের মত নয়," আমি বললাম, "ওদেরই
একজন।"
"তারচে একটা বালের চাকরি জুটিয়ে নাও।" আমার বাবা বলল।
"চুপ কর, " আমি বললাম।
"কী?"
"বলেছি 'চুপ কর,' আমি লোকগুলোর
কথা শুনছি।"
আমার বাবা তার স্ত্রীর দিকে তাকালোঃ
"ও আমার ছেলে
হতেই পারে না।"
"আমিও সে আশা করি না।"
ফকনার আবারো টলতে টলতে ঘরে
ঢুকল।
"টেলিফোন কোথায়?" জিজ্ঞেস করল সে।
"কিসের জন্য হে?" আমার বাবার জিজ্ঞাসা।
"আর্নি গুলি করে নিজের ঘিলু উড়িয়ে
দিয়েছে," সে বলে।
"দেখেছো এসব লোকের পরিণতি
কেমন?" আমার বাবা চিৎকার করে বলল।
আমি উঠে দাঁড়াই
ধীরেসুস্থে
আর বিলকে সাহায্য করি
টেলিফোন খুঁজে পেতে।
চার্লস বুকাওস্কির একগুচ্ছ কবিতা
অনুবাদ: আহসানুল করিম
অনুবাদ: আহসানুল করিম




মন্তব্য