তুমি কি মাঠে নামতে চাও?
মূল কবিতা: do you want to enter the arena?
যদি এটা তোমার ভেতর থেকে ছুটে
না বেরিয়ে আসে,
করো না এটা।
যতক্ষণ না এটা তোমার কান এবং তোমার মাথা
এবং তোমার পেছন এবং নাভি ফেটে বেরিয়ে আসে,
করো না এটা।
যদি তোমাকে এক ঘণ্টা ধরে কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে তাকিয়ে থাকতে হয়
অথবা টাইপরাইটারে ঝুঁকে থাকতে হয়,
করো না এটা।
যদি তুমি এটা অর্থ বা যশ-এর জন্য করছো
করো না এটা।
যদি তুমি এটা করছো কারণ তুমি বিছানায় নারীসঙ্গ লাভ লাভ করতে চাও,
করো না এটা।
যদি তোমাকে সেখানে বসে থাকতে হয় এবং বারবার এটা লিখতে হয় নতুনভাবে,
করো না এটা।
যদি এটা করার ভাবনাটা খুব কঠোর পরিশ্রমের মনে হয়, করোনা এটা।
যদি তুমি কারুর মতো লেখার চেষ্টা করতে চাও,
এটা বরং ভুলে যাও।
যদি এটার জন্য তোমাকে অপেক্ষা করতে হয় যাতে তোমার ভেতর থেকে গর্জন টা বেরিয়ে আসে,
তাহলে ধৈর্যশীল হয়ে অপেক্ষা করো।
যদি এটা কখনোই তোমার ভেতর থেকে গর্জন হয়ে বেড়িয়ে না আসে,
তাহলে অন্য কিছু করো।
যদি এটাকে তোমার স্ত্রীর কাছে অথবা বান্ধবী বা বন্ধু বা বাবা-মার কাছে
বা অন্য কারুর কাছে প্রথমে পড়তে হয়,
তাহলে তুমি প্রস্তুত নও।
অগণিত লেখক দের মতো হয়ো না,
হয়ো না অসংখ্য হাজার হাজার লোকেদের মতো যারা নিজেদের লেখক ভাবে,
হয়ো না নিষ্প্রভ, একঘেঁয়ে এবং মিথ্যাচারী, আত্মপ্রেমে ডুবে যেও না।
তোমার আজেবাজে লেখা দিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত কাগজগুলো ভরিও না।
পৃথিবীর গ্রন্থাগার গুলি তোমার মতোদের নিয়ে হাই তোলে ঘুমোবার জন্য।
তাদের সংখ্যা বাড়িও না,
কোরো না এটা।
যতক্ষণ না এটা তোমার আত্মার ভেতর থেকে রকেটের মতো উৎক্ষেপিত না হয়,
যতক্ষণ না চুপ করে থাকাটা তোমাকে পাগলামি,
আত্মহত্যা বা হত্যায় লিপ্ত করছে, এটা করো না।
যতক্ষণ না তোমার ভেতরের সূর্যটা তোমার সাহসকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে,
করো না এটা।
যখন সত্যি সময় হবে
এটা স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে হবে
এবং এটা হতেই থাকবে
যতক্ষণ না তুমি মরে যাচ্ছ বা
এটা তোমার ভেতর মরে যাচ্ছে।
আর কোনো রাস্তা নেই।
এবং ছিল না কোনোদিন।
একটি সংক্ষিপ্ত ভালোবাসার পরিসমাপ্তি
মূল কবিতা: the end of a short affair
এবার আমি এটাকে
খাড়া করার চেষ্টা করলাম।
সাধারণত সেটা হয় না
এবার মনে হয় সেটা হলো...
মেয়েটি বলতে লাগলো,
“ওহ্ ঈশ্বর, তোমার পা গুলো কী সুন্দর!”
সব ঠিকই ছিলো
যতক্ষণ না সে মেঝে থেকে
তার পা দুটো তুলে দিলো
এবং জড়িয়ে ধরলো আমার মধ্যাঞ্চল।
“ওহ্ ঈশ্বর, তোমার পা গুলো কী সুন্দর!”
তার ওজন প্রায় ১৩৮ পাউন্ড
এবং সেখানে ঝুলে থাকলো
যতক্ষণ আমি সচল থাকলাম।
আমার চূড়ান্ত পর্যায়ে যখন পৌঁছোলাম,
যন্ত্রণাটা অনুভব করলাম
আমার মেরুদন্ড বেয়ে ওপরে উড়তে।
আমি ওকে সোফায় ফেলে দিলাম
এবং ঘরের মধ্যে ঘুরতে থাকলাম
যন্ত্রণাটা থেকেই গেলো।
“শোনো” মেয়েটিকে বল্লাম
“তোমার চলে যাওয়া ভাল,
আমাকে ডার্করুমে কয়েকটা
ছবি ডেভলপ্ করতে হবে”।
ও পোশাক পরে নিলো
এবং চলে গেলো, আর আমি
কিচেনে গেলাম এক গ্লাস জল এর জন্যে।
আমার বাঁ হাতে এক গ্লাস জল ধরলাম।
যন্ত্রণাটা আমার কানের পেছনে উঠে এলো
আমি গ্লাসটা ফেলে দিলাম,
মেঝেতে ভেঙে পড়ল সেটা।
আমি গরম জল ও এপসম্ সল্টের
চৌবাচ্চায় নিজেকে সঁপে দিলাম।
শরীরটাকে যখন একটু লম্বা করছি
এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো।
যেই আমি পিঠ সোজা করতে গেলাম
যন্ত্রণাটা আমার কাঁধ আর হাতে ছড়িয়ে গেলো।
আমি ব্যর্থ হলাম এবং কোনমতে চৌবাচ্চার কিনারা ধরে
মাথার ভেতর সবুজ, হলুদ, লাল আলোর ঝলকানি নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম।
ফোনটা বাজতে থাকলো।
আমি তুললাম।
“হ্যালো”
“আই লাভ ইউ” মেয়েটি বল্ল।
“ধন্যবাদ” আমি বল্লাম।
“এটাই কি শুধু তোমার বলার ছিল?”
“হ্যাঁ”
“জাহান্নামে যাও’ মেয়েটি বল্ল
এবং ফোন ছেড়ে দিলো।
ভালোবাসা শুকিয়ে যায়,
বাথরুমে যেতে যেতে ভাবলাম,
বীর্যের চেয়েও দ্রুততায়।
তুমি ছাড়া কেউ না
মূল কবিতা: nobody but you
কেউ তোমাকে বাঁচাতে পারে না
তুমি নিজে ছাড়া।
তোমাকে বারে বারে প্রায় অসম্ভব
পরিস্থিতিতে ফেলা হবে, ওরা বারবার চেষ্টা করবে ঠকিয়ে, ছদ্মবেশে
এবং বলপ্রয়োগে তোমাকে আত্মসমর্পণ করাতে,
প্রস্থান করাতে এবং/অথবা
ভেতরে ভেতরে নিঃশব্দে মরে যেতে।
কেউ তোমাকে রক্ষা করতে পারবে না
তুমি নিজে ছাড়া।
ব্যর্থ হওয়াটা খুব সহজ হবে।
খুবই সহজ ভাবে।
কিন্তু হয়ো না, হয়ো না, হয়ো না।
শুধু ওদের খেয়াল করো।
ওদের শোনো।
তুমি কি ওদের মতো হতে চাও?
একটা মুখহীন, মনহীন, হৃদয়হীন অস্তিত্ব?
তুমি কি মৃত্যুর আগে
মৃত্যুর অভিজ্ঞতা চাও?
কেউ তোমাকে বাঁচাতে পারবে না
তুমি নিজে ছাড়া।
এবং তুমি নিজেই নিজেকে বাঁচানোর যোগ্য।
এটা একটা যুদ্ধ যা সহজে জেতার নয়
কিন্তু সত্যি যদি কিছু জেতার উপযুক্ত হয়
তবে এটা সেটাই।
ভাবো এটা।
ভাবো নিজেকে বাঁচানোর কথা।
তোমার আত্মিক সত্তা।
তোমার সাহসী সত্তা।
তোমার জাদুসঙ্গীতময় সত্তা এবং
তোমার সুন্দর সত্তা।
রক্ষা করো তাকে।
আত্মিক মৃতদের দলে যোগ দিও না।
নিজের সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখ
রসিকতায় এবং সম্মানে
আর শেষপর্যন্ত যদি প্রয়োজন হয়
নিজেকে বাজি রাখো তোমার যুদ্ধে
সব বিরুদ্ধতাকে তুচ্ছ করে
তুচ্ছ করে তার মূল্যকে।
কেবল তুমিই নিজেকে বাঁচাতে পারো।
সেটা করো! সেটাই করো!
চার্লস বুকাওস্কির তিনটি কবিতা
অনুবাদ: অভিজিৎ পালচৌধুরী
অনুবাদ: অভিজিৎ পালচৌধুরী




মন্তব্য