বেহুলা
দংশনের পর
কালরাত্রি ঢুকে গেলো স্বপ্নের ভিতর
জলছবি হয়ে।
লখিন্দরের কীই বা আসে যায়!
বেহুলাকেই নাচতে হবে
বেহুদা যেমতি নাচে স্বর্গীয় বেশ্যায়।
ধর্ম ও প্রেম
এতো আমি ধর্ম বিদ্বেষী
সমাহিত সান্ধ্য চেরাগে
স্নিগ্ধ স্থির তোমার ছায়ায়
আমি কেন এমন উদাসী!
এভাবেই কি প্রেম
ধর্ম হয়ে ওঠে?
বলে যেও, পরদেশি!
যৌথ খামার
দুনিয়া কেবলই পোড়ে মস্তিষ্কের কোষে
শব্দের খনিজ ধাতু আরও গলে যায়
ম্যাগাজিন ফেঁপে ওঠে ফাঁকা কার্তুজে
অন্ধতা বধিরতা মান্যতা পায়।
সব রাষ্ট্রেরই রঙ ঘন জলপাই
যেমন রক্তের রঙ রয়ে গেছে লাল
লাল ক্ষেতে কালো ধান মেঘ হয়ে নামে
পাখিদের ঠোঁটে বীজ-ধান্য ছড়াই ।
মানচিত্রে এর বেশি উর্বরতা নেই
যৌথ খামার হোক, যৌথ লড়াই।
বাস্তার
অন্ধকার চূড়ামণি যোগে
জঙ্গল নিস্প্রদীপ আজ
ছেলে ছিল বনে
অস্থি গলানো আগুনে
তার মুখখানি
ধোকড়া অক্ষরে লিখে রাখে মা।
এ বধ্যভূমি পাহারায় লক্ষ কোটি পুত্রহারা
হাজার হাজারো সাল
সব রক্ত শুষে নাও
তবু ব্যাধ জঙ্গলের দখল পাবে না।
লালন অক্ষর
মানুষই তো একমাত্র প্রাণী
একই সাথে জানে ও জানে না
দুটিকেই সহজ দক্ষতায়
আয়ত্ত করে।
জেনেও জানেনা একথা জেনেই কাটাতে পারে সারাটা জীবন
কেবল মানুষই পারে
আত্মছলনার শৈল্পিক মেহনে
বানাতে বসত ঘরবাড়ি
অথচ সে নিয়ত গৃহহীন;
মস্তিস্কের ভাঁজে ভাঁজে দখলি স্বত্বের নেশা ।
অবশ্য এসবই বাহ্য
যখন সে ভালবাসতে পারে।
যাবতীয় দখল চিহ্ন মুছে
তখন সে পাখি হয়
ডানায় সুগন্ধি নিয়ে ওড়ে।
ইতিহাস লেখা থাকে লালন অক্ষরে।
বেহুলা ও অন্যান্য কবিতা
মণিপদ্ম দত্ত
মণিপদ্ম দত্ত




চমৎকার ৫টি কবিতা পড়লাম।
উত্তরমুছুন