ক্যাস ছিল পাঁচ বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট এবং সবচেয়ে সুন্দরী। ক্যাস ছিল শহরের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে। ১/২ ভারতীয়, যার ছিল নমনীয় আর অদ্ভুত শরীর, সাপের মতো এবং জ্বলন্ত শরীর, চোখও ছিল এর সাথে সমানতালে। ক্যাস ছিল তরল ও চলমান আগুন। সে এমন একটি আত্মার মতো একটা কাঠামোর সাথে আটকে ছিল যা তাকে ধরে রাখতে পারত না। তার চুল ছিল কালো আর লম্বা আর রেশমী এবং তার শরীর যেদিকে ঘুরত, ঘুরত সেদিকেই। তার আত্মা থাকত খুব উঁচু কিংবা খুব নিচু দশায়। ক্যাস কোনও দ্বিধায় ভুগত না। কেউ কেউ বলত শে পাগলাটে। নিস্তেজরা তো তাই বলত। নিস্তেজরা কখনই ক্যাসকে বুঝতে পারতো না। পুরুষদের কাছে শে কেবল একটি সেক্স মেশিন ছিল এবং তারা শে পাগলাটে কিনা তা পরোয়া করত না। আর ক্যাস নাচত, ফ্লার্ট করত, পুরুষদের চুম্বন করত, কিন্তু দু-একটি ঘটনা ছাড়া, যখন ক্যাসের সাথে সম্পর্ক তৈরির সময় আসত, ক্যাস কোনওভাবে পালিয়ে যেত, পুরুষদের এড়িয়ে যেত।
তার বোনেরা তাকে তার সৌন্দর্যের অপব্যবহার, তার মনকে যথেষ্ট ব্যবহার না করার অভিযোগ করেছিল, কিন্তু ক্যাসের মন এবং আত্মা দুই ছিল; শে ছবি আঁকত, নাচত, গান গাইত, মাটির জিনিস বানাত, আর যখন মানুষ আত্মায় না হয় দেহে আঘাত পেতো, তখন ক্যাস তাদের জন্য গভীর শোক অনুভব করত।
তার মন ছিল একেবারেই আলাদা; তার মন অদক্ষ ছিল একেবারেই। তার বোনেরা তাকে ঈর্ষা করত কারণ সে তাদের পুরুষদের আকর্ষণ করত, আর তারা রাগ করত কারণ তারা মনে করত যে শে তাদের সর্বোত্তমভাবে কাজে খাটায় না। তার অভ্যাস ছিল কুৎসিতদের প্রতি সদয় হওয়া; তথাকথিত সুদর্শন পুরুষরা তাকে প্রত্যাখ্যান করতো - ‘সাহস নেই,’ শে বলত, ‘আক্রমণের ক্ষমতা নেই। তারা তাদের নিখুঁত ছোট কানের লতি এবং সুচারু নাকের ডগায় চড়ে বেড়াচ্ছে... সবই উপরে-উপরে এবং ভেতরে নয়...’ তার একটা মেজাজ ছিলো, পাগলামির কাছাকাছি চলে যেতো, তার একটা মেজাজ ছিল যাকে পাগলামি বলে কেউ কেউ।
তার বাবা মদপানে মারা গিয়েছিলেন এবং তার মা মেয়েদের একা রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন। মেয়েরা এক আত্মীয়ের কাছে গিয়েছিল, যিনি তাদের একটি কনভেন্টে রেখেছিলেন। কনভেন্টটি ছিল একটি অসুখী জায়গা, বোনদের চেয়ে ক্যাসের কাছে আরও বেশি। ক্যাসের প্রতি ঈর্ষাকাতর ছিল মেয়েরা এবং ক্যাস তাদের বেশিরভাগের সাথেই লড়াই করেছিল। দুটি লড়াইয়ে নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে তার বাম বাহুতে ক্ষুরের দাগ হয়েছিল। বাম গালে একটি স্থায়ী ক্ষতও ছিল কিন্তু সেই ক্ষত তার সৌন্দর্যকে কমানো নয় বরং একে তুলে ধরেছিল।
কনভেন্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে ওয়েস্ট এন্ড বারে তার সাথে কয়েক রাত আমার দেখা হয়েছিল। সবচেয়ে ছোট হওয়ায়, বোনদের মধ্যে শে সবার শেষে মুক্তি পেয়েছিল। শে কেবল ভেতরে এসে আমার পাশে বসেছিল। আমি সম্ভবত শহরের সবচেয়ে কদাকার পুরুষ ছিলাম এবং এর সাথে এর কোন সম্পর্ক থাকতে পারে।
‘পান করো?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম।
‘হ্যাঁ, কেন নয়?’
আমি মনে করি না সেই রাতে আমাদের কথার মাঝে অস্বাভাবিক কিছু ছিল, এ কেবল ক্যাস যে অনুভূতি দিয়েছিল তা-ই। শে আমাকে বেছে নিয়েছিল এবং এ এতটাই সরল ছিল। কোনও চাপ ছিল না। শে তার পানীয় পছন্দ করেছিল এবং প্রচুর পরিমাণেই পান করেছিল। তাকে খুব বেশি বয়সী মনে হচ্ছিল না কিন্তু তারা তাকে পরিবেশন করেছিল। হয়তো বা শে জাল পরিচয়পত্র দেখিয়েছিল, মানে, আমি জানি না। যাই হোক, যতবার শে টয়লেট থেকে ফিরে আমার পাশে বসত, আমি কিছুটা গর্ব অনুভব করতাম। শে কেবল শহরের সবচেয়ে সুন্দরী নারীই ছিল না, বরং আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরীদেরও একজন ছিল। আমি তার কোমরে আমার হাত রাখলাম আর একবার তাকে চুমু খেলাম।
‘তুমি কি আমাকে সুন্দর মনে করো?’ সে জিজ্ঞেস করল।
‘হ্যাঁ, অবশ্যই, কিন্তু অন্য কিছু আছে... তোমার চেহারার চেয়েও বেশি কিছু...’
‘মানুষ সবসময় আমাকে সুন্দর বলে দোষ দেয়। তুমি কি সত্যিই আমাকে সুন্দর মনে করো?’
‘সুন্দর ঠিক কথা নয়, এটা বলতে গেলে তোমার প্রতি ন্যায়বিচার করে না।’
ক্যাস তার হ্যান্ডব্যাগে হাত দিল। আমি ভেবেছিলাম শে তার রুমাল খুজছে। শে আসলে লম্বা হ্যাটপিন বের করল। আমি তাকে থামানোর আগেই শে তার নাকের মধ্য দিয়ে, পাশে, নাসারন্দ্রের ঠিক উপরে এই লম্বা হ্যাটপিনটি ঢুকিয়ে দিল। আমি ঘিনঘিন ও ভীতি অনুভব করলাম। শে আমার দিকে তাকাল এবং হেসে বলল, ‘এখন তুমি কি আমাকে সুন্দর মনে করো? এখন তোমার কী মনে হয়, দোস্ত?’ আমি হ্যাটপিনটি বের করে রক্তপাতের উপর আমার রুমালটি চেপে ধরলাম। বারটেন্ডার সহ বেশ কয়েকজন লোক দেখেছিল এই ঘটনাটি। বারটেন্ডার নেমে এলো: ‘দেখো,’ শে ক্যাসকে বলল, ‘আবার নাটক করলে তোমাকে বের করে দেওয়া হবে। এখানে তোমার নাটকীয়তার কোন দরকার নেই।’
‘ধুর যা!’ শে বলল।
‘ওকে সোজা-অকপট রাখাই ভালো,’ বারটেন্ডার আমাকে বলল।
‘শে ঠিক হয়ে যাবে,’ আমি বললাম।
‘এটা আমার নাক, আমি আমার নাক দিয়ে যা ইচ্ছা করতে পারি।’
‘না,’ আমি বললাম, ‘এ আমাকে ব্যাথা দেয়।’
‘তুমি বলতে চাচ্ছো যে আমি যখন আমার নাকে পিন লাগাই তখন তোমার ব্যাথা লাগে?’
‘হ্যাঁ, তাই, তাই বলতে চাইছি।’
‘ঠিক আছে, আমি আর এটা করব না। হাসো।’
শে আমাকে চুমু খেল, বরং চুম্বনের মধ্য দিয়ে হেসে রুমালটি তার নাকে ধরে রাখল। বন্ধের সময় হলে আমার জায়গায় আমরা চলে গেলাম। আমি কিছু বিয়ার খেয়েছিলাম এবং সেখানে বসে গল্প করছিলাম। তখনই আমি তাকে সহৃদয় এবং যত্নশীল একজন হিসেবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম। শে নিজের অজান্তেই নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিল। একইসঙ্গে শে আবার বন্যতা আর অসঙ্গতির অঞ্চলেও ঝাঁপিয়ে পড়তো। স্কিৎজি। একজন সুন্দর এবং আধ্যাত্মিক স্কিৎজি। সম্ভবত কোন মানুষ, কোনোকিছু, তাকে চিরতরে ধ্বংস করে দেবে। আমি আশা করতাম যে আমি তা নই। আমরা ঘুমাতে গেলাম এবং আমি আলো নিভিয়ে দেওয়ার পর ক্যাস আমাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি কখন চাও? এখন নাকি সকালে?’
‘সকালে,’ আমি বললাম এবং মুখ ঘুরিয়ে নিলাম।
সকালে আমি উঠে একজোড়া কফি বানালাম, বিছানায় তার জন্য একটা কফি আনলাম। শে হেসে উঠল।
‘তুমিই প্রথমজন যে রাতে কফি বন্ধ করে দিয়েছে।’
‘ঠিক আছে,’ আমি বললাম, ‘আমাদের এটা মোটেও করতে হবে না।’
‘না, অপেক্ষা করো, আমি এখনই চাই। আমাকে একটু তাজা হতে দাও।’
ক্যাস বাথরুমে ঢুকল। শে কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে আসলো, দেখতে বেশ সুন্দর লাগছিল, তার লম্বা কালো চুল ঝলমল করছিল, তার চোখ আর ঠোঁট ঝলমল করছিল, তার চকচকে ভাব... শে শান্তভাবে তার শরীরটা দেখালো, যেন একটা ভালো জিনিস। শে চাদরের নিচে ঢুকে পড়লো।
‘আসুন, প্রেমের মানুষ।”
আমি ভেতরে ঢুকলাম। শে অবাধ-উচ্ছ্বাসে চুমু খেলো কিন্তু তাড়াহুড়ো করেনি। আমি আমার হাত তার শরীরের উপর দিয়ে, তার চুলের মধ্য দিয়ে চলতে দিলাম। আমি উপরে চরে বসলাম। এ ছিল উষ্ণ এবং টানটান। আমি ধীরে ধীরে হাত বোলাতে লাগলাম, টিকে থাক চেয়ে। তার চোখ সরাসরি আমার দিকে তাকাল।
‘তোমার নাম কি?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম।
‘এতে কী বালের পার্থক্য?’ শে জিজ্ঞাসা করল।
আমি হেসে এগিয়ে গেলাম। পরে শে পোশাক পরে আর আমি তাকে বারে ফিরিয়ে নিয়ে গেলাম কিন্তু কঠিন ছিল তাকে ভুলে যাওয়া। আমি কোন কাজ করছিলাম না এবং দুপুর ২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিলাম। তারপর উঠলাম আর কাগজ পড়লাম। আমি বাথটাবে যখন ছিলাম শে ভেতরে এলো একটি বড়সরো পাতা নিয়ে- একটি কঁচু পাতা।
‘আমি জানতাম তুমি বাথটাবে থাকবে,’ শে বলল, ‘তাই আমি তোমার জন্য কিছু একটা এনেছি তা দিয়ে ওই জিনিসটা ঢাকতে, প্রকৃতির ছেলে।’
শে বাথটাবে কঁচু পাতাটা আমার উপর ছুঁড়ে মারল।
‘তুমি কিভাবে জানলে আমি বাথটাবে থাকব?’
‘আমি জানতাম।’
প্রায় প্রতিদিনই যখন আমি বাথটাবে থাকতাম তখন ক্যাস আসত। আলাদারকম ছিল সময়টা কিন্তু শে খুব কমই মিস করত, আর কঁচু পাতাটাও আসত। আর তারপর আমরা প্রেম করতাম। এক বা দুই রাত শে ফোন করত এবং মাতালতা আর মারামারির জন্য আমাকে জেল থেকে জামিনে মুক্ত করতে হয়েছিল তাকে।
‘এই কুত্তার বাচ্চারা,’ শে বলল, ‘কেবলমাত্র তোমাকে কিছু পানীয় কিনে দেওয়ার কারণে তারা মনে করে যে তারা তোমার প্যান্টের ভেতরে ঢুকতে পারে।’
‘একবার তুমি একটা পানীয় গ্রহণ করলে তো তুমি নিজের সমস্যা তৈরি করলে।’
‘আমি ভেবেছিলাম তারা শুধু আমার শরীরের প্রতি নয়, আমার প্রতিও আগ্রহী।’
‘আমি তোমার প্রতি এবং তোমার শরীরের প্রতিও আগ্রহী। যদিও আমার সন্দেহ আছে যে বেশিরভাগ পুরুষ তোমার শরীর ছাড়া আর কিছু দেখতে পায়।’
আমি ৬ মাস ধরে শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম, বিরক্ত হয়ে ফিরে এসেছিলাম। আমি ক্যাসকে কখনো ভুলিনি, কিন্তু আমাদের মধ্যে কিছু তর্ক হয়েছিল এবং আমি যেভাবেই হোক ঘুরে দাঁড়ানো দরকার বলে অনুভব করছিলাম, এবং যখন আমি ফিরে আসলাম তখন আমি ভেবেছিলাম শে চলে যাবে, কিন্তু আমি ওয়েস্ট এন্ড বারে প্রায় ৩০ মিনিট বসে ছিলাম যখন শে ভিতরে ঢুকে আমার পাশে বসল।
‘ওরে জাওরা, তুমি ফিরে এসেছো দেখছি।’
আমি তার জন্য একটা পানীয় অর্ডার করলাম। তারপর আমি তার দিকে তাকালাম। শে উঁচু গলার একটি পোশাক পরেছিল। আমি তাকে কখনও ওসব পোশাকে দেখিনি। এবং প্রতি চোখের নীচে, ভেতরে ঢুকানো, কাচের মাথা সহ দুটি পিন ছিল। তুমি কেবল পিনের মাথা দেখতে পাচ্ছিলাম, কিন্তু পিনগুলি তার মুখের ভেতরে ঢুকানো ছিল।
‘ধিক ঈশ্বর, এখনও তোমার সৌন্দর্য নষ্ট করার চেষ্টা করছো, অ্যাহ?’
‘না, এটা সেই খেপামো, বোকা ছেলে।’
‘তুমি একটা পাগল।’
‘আমি তোমাকে মিস করছি,’ শে বলল।
‘আর কেউ আছে কি?’
‘না, আর কেউ নেই। শুধু তুমি। কিন্তু আমি তাড়াহুড়ো করছি। এর দাম দশ ডলার। কিন্তু তুমি এটা বিনামূল্যেই পাবে।’
‘পিনগুলো বের করো।’
‘না, এটা সেই খেপামো।’
‘এটা আমাকে খুব অসুখী করছে।’
‘তুমি কি নিশ্চিত?’
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত।’
ক্যাস ধীরে ধীরে পিনগুলো বের করে তার পার্সে ফের রেখে দিল।
‘তুমি কেন তোমার সৌন্দর্য নিয়ে দরাদরি করছো?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম। ‘তুমি কেন এটা নিয়েই বাঁচো না?’
‘কারণ মানুষ মনে করে এ-ই সবকিছু যা আছে আমার। সৌন্দর্য কিছুই নয়, সৌন্দর্য টিকে থাকবে না। তুমি জানো না যে তুমি কুৎসিত হওয়ায় কতটা ভাগ্যবান, কারণ যদি মানুষ তোমাকে পছন্দ করে তবে তুমি জানো যে এটা অন্য কিছুর জন্য।’
‘ঠিক আছে,’ আমি বললাম, ‘আমি ভাগ্যবান।’
‘আমি বলতে চাচ্ছি না যে তুমি কুৎসিত। মানুষ শুধু তোমাকে কুৎসিত মনে করে। তোমার একটা আকর্ষণীয় মুখ আছে।’
‘ধন্যবাদ।’
আমরা আরেকটা পানীয় নিয়েছিলাম।
‘তুমি কি করছো?’ শে জিজ্ঞেস করল।
‘কিছু না। আমি কোনকিছুতেই যেতে পারছি না। আগ্রহ নেই।’
‘আমিও না। তুমি যদি একজন মহিলা হতে তাহলে তুমি প্রতারণা করতে পারতে।’
‘আমি মনে করি না আমি কখনো অপরিচিত এতো লোকের সাথে যোগাযোগ করতে পারতাম, এটা হতো ক্লান্তিকর।’
‘তুমি ঠিক বলেছ, এটা ক্লান্তিকর, সবকিছুই ক্লান্তিকর।’
আমরা একসাথে চলে গেলাম। রাস্তায় লোকেরা তখনও ক্যাসের দিকে তাকিয়ে ছিল। শে একজন সুন্দরী নারী, সম্ভবত আগের চেয়েও বেশি সুন্দরী। আমার ঘরে পৌঁছে গেলাম আমরা এবং আমি এক বোতল ওয়াইন খুললাম এবং কথা বললাম। ক্যাস আর আমার সাথে, এ সবসময়ই সহজ হয়ে আসতো। শে কিছুক্ষণ কথা বলত আর আমি শুনতাম আর তারপর কথা বলতাম। আমাদের কথাবার্তা কোনও চাপ ছাড়াই এগিয়ে চলত। মনে হতো আমরা একসাথে গোপন রহস্য আবিষ্কার করছি। যখন আমরা একটা ভালো জিনিস আবিষ্কার করতাম, তখন ক্যাস সেই হাসিটা হাসত - ঠিক যেমনটা শে পারত। এটা আগুন থেকে বেরিয়ে আসা আনন্দের মতো ছিল। কথা বলার মধ্য দিয়ে আমরা চুমু খেলাম এবং একে অপরের কাছাকাছি চলে এলাম। আমরা বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলাম এবং বিছানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তখনই ক্যাস তার উঁচু গলার পোশাকটি খুলে ফেলল এবং আমি দেখতে পেলাম - তার গলার উপর কুৎসিত ক্ষতের দাগ। এটি ছিল বিশাল এবং পুরো।
‘ধিক্ ধিক্ তোমাকে, নারী,’ আমি বিছানা থেকে বললাম, ‘ধিক্ ধিক্ তোমাকে, তুমি কী করেছ?’
‘এক রাতে আমি ভাঙা বোতল দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম। তুমি কি আমাকে আর পছন্দ করো না? আমি কি এখনও সুন্দর?’
আমি তাকে বিছানায় টেনে নামালাম এবং চুমু খেলাম। শে দূরে ঠেলে দিলো এবং হেসে বলল, ‘কিছু লোক আমাকে দশ টাকা দেয় আর আমি পোশাক খুলে ফেলি আর তারা এটা করতে চায় না। আমি দশ টাকা রাখি। এটা খুবই মজার।’
‘হ্যাঁ,’ আমি বললাম, ‘আমি হাসি থামাতে পারছি না... ক্যাস, কুত্তা, আমি তোমাকে ভালোবাসি... নিজেকে ধ্বংস করা বন্ধ করো; তুমি আমার দেখা সবচেয়ে জীবন্ত নারী।’
আমরা আবার চুমু খেলাম। ক্যাস শব্দহীনভাবে কাঁদছিল। আমিও চোখে জল অনুভব করতে পারছিলাম। লম্বা কালো চুল মৃত্যুর পতাকার মতো আমার পাশে পড়ে ছিল। আমরা তাড়না অনুভব করলাম এবং ধীর, বিষণ্ণ এবং অসাধারণ ভালোবাসাবাসি করলাম। সকালে ক্যাস নাস্তা বানাতে উঠল। তাকে বেশ শান্ত এবং খুশি দেখাচ্ছিল। শে গান গাইছিল। আমি বিছানায় শুয়ে রইলাম এবং তার সুখ উপভোগ করলাম। অবশেষে শে এসে আমাকে ঝাঁকি দিল আর বলল, ‘ওঠো, জাওরা একটা! মুখে ঠান্ডা পানির ছিটা দাও আর পেকার নিয়ে সানন্দে গিলে যাও!’
আমি সেদিন তাকে সৈকতে নিয়ে গেলাম। এটা ছিল সপ্তাহের কাজের একটা দিন এবং তখনও গ্রীষ্মকাল আসেনি তাই সবকিছুই চমৎকারভাবে নির্জন ছিল। স্বল্প কাপড় পরা সৈকতের পাগলরা বালির উপরে লনে ঘুমাচ্ছিল। অন্যরা পাথরের বেঞ্চে বসে একটা বোতল ভাগাভাগি করছিল। গাঙচিলগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছিল, নির্বোধ হলেও বিক্ষিপ্ত। ৭০ এবং ৮০ বছরের বুড়িরা বেঞ্চে বসে ছিলো এবং বেঁচে থাকার গতিবিধি এবং বোকামির কারণে অনেক আগেই নিহত স্বামীদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি বিক্রির বিষয়ে তারা আলোচনা করছিল। সবকিছুর জন্য, বাতাসে শান্তি ছিল এবং আমরা হেঁটে বেড়ালাম এবং লনের উপর হাতপা ছড়িয়ে শুয়ে-বসে ছিলাম এবং বেশি কথা বলিনি। এককথায় একসাথে থাকাটাই ভালো লাগছিল। আমি কয়েকটি স্যান্ডউইচ, কিছু চিপস এবং পানীয় কিনেছিলাম এবং আমরা বালির উপর বসে খাচ্ছিলাম। তারপর আমি ক্যাসকে জড়িয়ে ধরেছিলাম এবং প্রায় ঘন্টাখানেক একসাথে ঘুমিয়েছিলাম। এটা প্রেম করার চেয়ে ভালো ছিল। চিন্তাহীনভাবে একসাথে ভেসে চলছিলাম। যখন আমরা জেগে উঠলাম আমরা আমার জায়গায় ফিরে এলাম এবং রাতের খাবার রান্না করলাম।
রাতের খাবারের পর আমি ক্যাসকে একসাথে কুড়েঘরে থাকার কথা বললাম। আমার দিকে তাকিয়ে থেকে শে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করল, তারপর শে ধীরে ধীরে বলল, ‘না।’ আমি তাকে বারে ফিরিয়ে নিয়ে গেলাম, তাকে একটি পানীয় কিনে দিলাম এবং বেরিয়ে গেলাম। পরের দিন একটা কারখানায় পার্কারের চাকরি পেলাম এবং সপ্তাহের বাকি সময়টা কাজে কেটে গেল। খুব ক্লান্ত ছিলাম যে বেশিক্ষণ ঘুরতেও পারলাম না, কিন্তু সেই শুক্রবার রাতে আমি ওয়েস্ট এন্ড বারে গিয়েছিলাম। বসে বসে ক্যাসের জন্য অপেক্ষা করলাম। ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে গেল। আমি বেশ মাতাল হয়ে যাওয়ার পর বারটেন্ডার আমাকে বলল, ‘তোমার বান্ধবীর জন্য আমি দুঃখিত।’
‘কি হল?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম।
‘আমি দুঃখিত, তুমি কি জানো না?’
‘না।’
‘আত্মহত্যা। গতকাল তাকে কবর দেওয়া হয়েছে।’
‘কবর দেওয়া হয়েছে?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম। মনে হচ্ছিল যেন শে যেকোনো মুহূর্তে দরজা দিয়ে হেঁটে যাবে। শে কীভাবে চলে যেতে পারে?
‘তার বোনেরা তাকে কবর দিয়েছে।’
‘আত্মহত্যা? মন আমাকে বলছে কীভাবে?’
‘শে তার গলা কেটেছে।’
‘বুঝলাম। আমাকে আরও একটি পানীয় দাও।’
বন্ধ হওয়া অবধি আমি পান করলাম। ক্যাস ছিল ৫ বোনের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী, শহরের মধ্যেও সবচেয়ে সুন্দরী। আমি গাড়ি চালিয়ে কোনরকমে আমার বাড়ি যেতে পারলাম এবং ভাবতে থাকলাম, ওই ‘না’ মেনে নেওয়ার পরিবর্তে আমার উচিত ছিল তাকে আমার সাথে থাকার জন্য জোরাজুরি করা। তার সবকিছু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে শে বেশ আগ্রহী ছিল। আমি কেবল এ ব্যাপারে খুব বেশি উদাসীন, অলস, খুব বেশি হাত গুটিয়ে ছিলাম।আমার প্রাপ্য ছিল আমার মৃত্যু এবং তারও। আমি ছিলাম একটা কুত্তা। না, কুত্তাদের দোষ দেওয়া কেন? আমি উঠে দাড়ালাম আর এক বোতল মদ দেখতে পেলাম এবং তা থেকে প্রচুর পরিমাণে পান করলাম। শহরের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে ক্যাস মাত্র ২০ বছর বয়সে মারা গেল। বাইরে কেউ তাদের গাড়ির হর্ন বাজালো। তারা খুব জোরে বাজাতেই থাকলো। আমি বোতলটি রেখে চিৎকার করে বললাম: ‘ঈশ্বর ধিক, কুত্তার বাচ্চা, চুপ যা!’ রাত নেমে আসতে লাগলো আর কিছুই করার ছিলো না আমার।
শহরের সবচেয়ে সুন্দরী নারী
চার্লস বুকাওস্কি
ভাষান্তর: রথো রাফি
চার্লস বুকাওস্কি
ভাষান্তর: রথো রাফি
আরও পড়ুন: [বুকাওস্কি সংখ্যা]




মন্তব্য