
১.
পাহাড়ের একেবারে চূড়ার কাছে ছিল হোটেলটি, ওই পাহাড়ের ঢাল ছিল যথেষ্ট ঢালু যাতে আপনি মদের দোকানে দৌড়ে যেতে পারেন, এবং বোতলটি নিয়ে ফিরে আসতে পারেন, কেবল আপনার প্রচেষ্টাকে সার্থক করতে যথেষ্ট পরিমাণে ওঠানামা করতে পারেন। হোটেলটি একসময় ময়ূর সবুজ রঙ করা হয়েছিল, প্রচুর গনগনে শিখাও ছিল, কিন্তু এখন বৃষ্টির পরে, লস অ্যাঞ্জেলেসের অদ্ভুত বৃষ্টি যা সবকিছু পরিষ্কার এবং মলিন করে দেয়, প্রখর সবুজ কেবল দাঁতে ঝুলছিল - ভিতরে থাকা লোকজনের মতো।
আমি কীভাবে সেখানে এসেছিলাম, বা কেন আমি আগের জায়গাটা ছেড়ে দিয়েছিলাম, তা আমার খুব কমই মনে করতে পারি। আমার মদ্যপান এবং খুব বেশি কাজ না করা, এবং রাস্তার নারীদের সাথে সকালের মাঝামাঝি তীব্র বাকবিতণ্ডা ছিল সম্ভবত এর কারণ। এবং সকালের মাঝামাঝিতে বাকবিতণ্ডা বলতে আমি সকাল ১০:৩০ বলছি না, আমি ভোররাত ৩:৩০ বলছি। সাধারণত যদি পুলিশকে না ডাকা হত তাহলে দরজার নীচে একটি ছোট্ট চিরকুট থাকত, সর্বদা ছেঁড়া কাগজে পেন্সিল দিয়ে লেখা: ‘প্রিয় মহাশয়, আমাদের আপনাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরে যেতে বলতে হবে।’ একবার বিকেলের মাঝামাঝি এমনটা ঘটেছিল। ঝগড়া শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমরা ভাঙা কাঁচটাচ ঝাড়লাম, সব বোতল কাগজের বস্তায় ভরে নিলাম, অ্যাশট্রে খালি করলাম, ঘুমিয়ে পড়লাম, ঘুম থেকে উঠলাম, আর আমি কাজ করছিলাম মগ্ন হয়ে, ঠিক তখনই দরজায় একটা চাবির শব্দ শুনতে পেলাম। আমি এতটাই অবাক হয়েছিলাম যে একে ঘুরিয়ে কেবল বন্ধ করে দিলাম। আর সেখানে সে দাঁড়িয়ে রইলো, ছোট্ট ম্যানেজার, প্রায় ৪৫ বছর বয়সী, তার কান কিংবা তার বিঁচির আশপাশে ছাড়া হয়তো কোথাও কোন চুলই ছিল না, এবং তার নীচের দিকে তাকিয়ে সে এগিয়ে গেল এবং ইশারা করল, ‘তুমি - তুমি এখান থেকে বেরিয়ে যাও!’ আমি হাত নাড়ানো বন্ধ করে সোজা শুয়ে পড়লাম, পাশে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর সে আমার দিকে ইশারা করল। ‘আর তুমিও এখান থেকে বের হও!’ সে ঘুরে দাঁড়ালো, দরজার কাছে গেল, চুপচাপ দরজাটা বন্ধ করে হলের দিকে হেঁটে গেল। আমি আবার মেশিনটা চালু করলাম এবং আমরা ভালোভাবেই একে বিদায় জানালাম। যাই হোক, সেখানে ছিলাম আমি, সবুজ হোটেল, বিবর্ণ সবুজ হোটেল, এবং আমি আমার স্যুটকেস ভর্তি ছেঁড়ামলিন কাপড় নিয়ে সেখানে ছিলাম, সেময়ে একা, কিন্তু আমার ভাড়ার টাকা ছিল, শান্ত ছিলাম, এবং আমি রাস্তার মুখোমুখি একটি রুম পেয়েছিলাম, তৃতীয় তলায়, আমার দরজার বাইরে হলে ফোন, জানালায় হটপ্লেট, বড় সিঙ্ক, দেয়ালে ছোট রেফ্রিজারেটর, একজোড়া চেয়ার, একটি টেবিল, বিছানা এবং হলের নীচে বাথরুম। যদিও ভবনটি অনেক পুরানো ছিল, তাদের একটি লিফটও ছিল - এর একসময় ক্লাস-জয়েন্ট ছিল। সেখানে এখন আমি ছিলাম। আমি প্রথমে যা করেছিলাম তা হলো একটি বোতল নিয়ে আসা এবং পান করা এবং দুটি তেলাপোকা মারার পরে আমার মনে হলো যে আমি আমার যোগ্য। তারপর আমি ফোনের কাছে গিয়ে এক নারীকে ফোন করার চেষ্টা করি যাকে আমার মনে হয়েছিল আমাকে সাহায্য করতে পারেন কিন্তু তিনি তখন স্পষ্টতই অন্য কাউকে সাহায্য করতে বেরিয়েছিলেন।
২.
ভোররাতে প্রায় ৩টার দিকে কেউ একজন নক করল। আমি আমার ছেঁড়া বাথরোব পরে দরজা খুললাম। একজন নারী তার বাথরোব পরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
‘হ্যাঁ?’ আমি বললাম। ‘হ্যাঁ?’
‘আমি তোমার প্রতিবেশী। আমি মিৎজি। আমি হলের নীচে থাকি। আজ তোমাকে টেলিফোনে দেখেছিলাম।’
‘হ্যাঁ?’ আমি বললাম।
তারপর শে তার পিছন থেকে এসে আমাকে দেখাল। এটা এক পিন্ট ভালো হুইস্কি ছিল।
‘ভেতরে এসো,’ আমি বললাম।
আমি দুটি গ্লাস পরিষ্কার করে পিন্ট খুললাম। ‘সরাসরি নাকি মিশেল?’
‘প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পানি।’
সিঙ্কের উপরে একটি ছোট আয়না ছিল এবং শে সেখানে দাঁড়িয়ে তার চুল কার্লারে গুঁজে দিচ্ছিল। আমি তাকে একটা গ্লাস দিয়ে বিছানায় বসলাম।
‘আমি হলের মধ্যে তোমাকে দেখেছি। তোমার দিকে তাকিয়েই আমি বুঝতে পারছিলাম যে তুমি সুন্দর। আমি তাদের বলতে পারতাম। এখানে তাদের কেউ কেউ এতটা সুন্দর নয়।’
‘ওরা আমাকে বলে আমি একটা জারজ।’
‘আমি এটা বিশ্বাস করি না।’
‘আমিও না।’
আমি আমার গ্লাস শেষ করলাম। শে শুধু তারটায় চুমুক দিল, তাই আমি নিজের জন্য আরেকটা গ্লাস মিশিয়ে নিলাম। আমরা সহজ-সাধারণ কথাবার্তা বললাম। আমি তৃতীয়বার গ্লাস শেষ করলাম। তারপর আমি উঠে তার পিছনে দাঁড়ালাম।
‘ওওওওওওও! পুংটা ছেলে!’
আমি তাকে থাপ্পড় দিলাম।
‘ওওওওওওও!! তুমি একটা জারজ!’
তার এক হাতে কার্লার ছিল। আমি তাকে টেনে তুললাম এবং ওই জীর্ণশীর্ণ একটু বুড়ো মুখে চুমু খেলাম। মুখটা নরম এবং খোলা ছিল। শে প্রস্তুত ছিল। আমি তার হাতে একটা গ্লাস ধরিয়ে দিলাম, বিছানায় নিয়ে গেলাম, তাকে বসিয়ে দিলাম। ‘পান করো।’ শে তা করল। আমি এগিয়ে গেলাম এবং আরেকটি গ্লাস তার হাতে দিলাম। আমার পোশাকের নিচে কিছুই ছিল না। পোশাকটা খুলে পড়ে গেল এবং জিনিসটা বেরিয়ে পড়লো। ঈশ্বর, আমি নোংরা, আমি ভাবলাম। আমি অতি অভিনয় করছি। আমি সিনেমায় আছি। ভবিষ্যতের পারিবারিক সিনেমা। ২৪৯০ খ্রিস্টাব্দ। নিজের উপর না হেসে থাকতে আমার কষ্ট হচ্ছিল, সেই বোকা আংটায় আটকে থেকে হেঁটে বেড়াতে। এটা আসলে সেই হুইস্কি যা আমি চেয়েছিলাম। পাহাড়ের মধ্যে একটা দুর্গ যা আমি চেয়েছিলাম। একটা স্টিম বাথ। এটা ছাড়া আর কিছু না। আমরা দুজনেই আমাদের পানীয় নিয়ে বসেছিলাম। আমি আবার তাকে চুমু খেলাম, আমার সিগারেট-কাতর জিভ তার গলায় ঠেসে দিলাম। আমি বাতাসের জন্য উঠে এলাম। আমি তার পোশাকটি খুললাম এবং সেখানে তার স্তন ছিল। খুব বেশি কিছু না, করুণ বেচারা। আমি আমার মুখ নীচে নামালাম এবং হাত দিয়ে একটি নিলাম। এটি প্রসারিত ছিল এবং বাসি বাতাসে অর্ধেক-ভরা বেলুনের মতো ঝুলে পড়েছিল। যেই শে কাঁটাটি তার হাতে নিয়ে তার পিঠে বাঁকা করলো তখনই আমি সাহস করে স্তনের বোঁটা চুষতে লাগলাম। আমরা সস্তা বিছানার ওপর পিছন দিকে পড়ে গেলাম, এবং আমাদের পোশাক গায়ে নিয়ে, আমি তাকে সেখানে নিলাম।
৩.
তার নাম ছিল লু, সে একজন প্রাক্তন কনস্যুলেট এবং প্রাক্তন হার্ড রক মাইনার ছিল। সে হোটেলের নীচের তলায় থাকত। তার শেষ কাজ ছিল ক্যান্ডি তৈরির জায়গায় হাঁড়ি পরিষ্কার করা। তাকেও অন্যদের মতো তার মদ্যপানের অভ্যাস ছাড়তে হয়েছিল। বেকার-বীমা শেষ হয়ে পড়ে এবং আমরা সেখানে ইঁদুর-ইঁদুরের মতো, লুকানোর জায়গা নেই এমন ইঁদুর, ভাড়া দিতে হয় এমন ইঁদুর, পেট ক্ষুধার্ত থাকে, ধোন যা শক্ত হয়, আত্মা যা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, এবং কোনও শিক্ষা, কোনও ব্যবসা নেই। কঠিন হাগু, যেমন তারা বলে, এটি আমেরিকা। আমরা খুব বেশি কিছু চাইনি এবং আমরা তা পেতে পারিনি। কঠিন হাগু।
আমি মদ্যপান করার সময় লু-এর সাথে দেখা করেছিলাম, লোকেরা ভেতরে-বাইরে আসছিল। আমার ঘরটি ছিল পার্টি রুম। সবাই আসত। ডিক নামে একজন ভারতীয় ছিল, যে দোকান থেকে হাফপিন্ট চুরি করতো আর তার ড্রেসারে রেখে দিত। বলেছিল যে এটি তাকে নিরাপত্তার অনুভূতি দিত। যখন আমরা কোথাও পানীয় পেতাম না - আমরা সবসময় শেষ উপায় হিসাবে ভারতীয়দের ব্যবহার করতাম।
আমি দোকানপাটে চুরিতে খুব একটা ভালো ছিলাম না কিন্তু আলাবামের কাছ থেকে একটা কৌশল শিখেছিলাম, একজন পাতলা গোঁফওয়ালা চোর, যে একসময় হাসপাতালের জন্য আর্দালি হিসেবে কাজ করত। তুমি তোমার মাংস এবং মূল্যবান পণ্য একটা বড় বস্তায় ভরে তারপর আলু দিয়ে ঢেকে রাখো। মুদি দোকানদার বস্তা ওজন করে তোমার কাছ থেকে আলুর দামই নেবে। কিন্তু ডিকের কাছ থেকে কৃতিত্ব আদায়ে আমি সবচেয়ে ভালো ছিলাম। ওই পাড়ায় অনেক অনেক ডিক ছিল এবং মদের দোকানের লোকটিও একজন ডিক।
আমরা বসে থাকতাম এবং শেষ গ্লাশটি শেষ হয়ে যেত। আমার প্রথম পদক্ষেপ হত কাউকে বাইরে পাঠানো। ‘আমার নাম হ্যাঙ্ক,’ আমি লোকটিকে বলতাম। ‘ডিককে বলো, হ্যাঙ্ক তোমাকে কাফের উপর এক পিন্টের জন্য পাঠিয়েছে, আর যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে যেনো আমাকে ফোন করে।’ ‘ওকে ওকে,’ এবং লোকটি চলে যেত। আমরা অপেক্ষা থাকতাম, ততক্ষণে পানীয়ের স্বাদ নিয়ে, ধূমপানের গতি খেপাটে হয়ে যেতো। তারপর লোকটি ফিরে আসত। ‘ডিক বলল ‘না!’ ডিক বলল, ‘তোমার কৃতিত্ব আর ভালো না!’
‘ধুর!’ আমি চিৎকার করে উঠতাম।
আর আমি পুরোপুরি লাল চোখ নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম, না কামানো দাড়ির ক্রোধ নিয়ে। ‘ধুর শালা, বাল, মাদারচোদ একটা!’
আমি সত্যিই রেগে যেতাম, এ ছিল সত্যিকার রাগ, আমি জানি না এ কোথা থেকে আসত। আমি দরজায় ধাক্কা মারতাম, লিফটে চেপে পাহাড়ের নিচে নেমে যেতাম... হারামি মাদারচোদ, ওই হারামি মাদারচোদ! . . . আর আমি মদের দোকানে ঢুকে যেতাম।
‘ঠিক আছে, ডিক।’
‘হ্যাঁ, হ্যাঙ্ক।’
‘আমি দুইটা বোতল চাই!’ (এবং আমি খুব ভালো ব্র্যান্ডের নাম বলব।) ‘দুই পুটলা সিগারেট, দুটা সেই সিগার, আর দেখা যাক... এক ক্যান বাদাম, হ্যাঁ।’
ডিক আমার সামনে জিনিসগুলো সারি করে রাখত এবং তারপর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকত।
‘আচ্ছা, তুমি আমাকে টাকা দেবে?’
ডিক, আমি বিলে এটা চাই।’
‘তুমি ইতিমধ্যেই ২৩.৫০ ডলার দেনা আছো। তুমি আগে আমাকে দিতে, প্রতি সপ্তাহে একটু একটু করে দিতে, আমার মনে আছে প্রতি শুক্রবার রাতে। তিন সপ্তাহ ধরে তুমি আমাকে কিছুই দিলে না। তুমি অন্য বোকাদের মতো নও। তুমি তো রুচিশীলতা আর শোভনতা অর্জন করেছিলে। আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। তুমি কি মাঝে মাঝে আমাকে এক ডলার করে দিতে পারো না?’
‘দেখো, ডিক, আমার ঝগড়া করতে ইচ্ছে করছে না। তুমি এই জিনিসগুলো ব্যাগে রাখবে নাকি তুমি তা ফেরত নিতে চাও?’
তারপর আমি বোতল এবং জিনিসপত্র তার দিকে ঠেলে দিতাম এবং অপেক্ষা করতাম, সিগারেট টানতে টানতে যেন আমি ছিলাম পৃথিবীর মালিক। ফড়িংয়ের চেয়ে বেশি কোনও রুচি বা শোভনতা আমার ছিল না। আমি কেবল ভয় পেতাম যে সে বুদ্ধিমান কোন কাজ করে ফেলবে এবং বোতলগুলো আবার তাকের উপর রেখে দেবে এবং আমাকে দোজখে গিয়ে মরতে বলবে। কিন্তু তার মুখ সবসময় ঝুলে থাকত এবং সে জিনিসপত্র ব্যাগে রাখত, আর তারপর আমি অপেক্ষা করতাম যতক্ষণ না সে নতুন বিলের টাকা যোগ করে। সে আমাকে হিসাব করে দিত; আমি মাথা নাড়িয়ে বেরিয়ে যেতাম। ঐসব পরিস্থিতিতে পানীয়গুলোর স্বাদ সবসময়ই অনেক ভালো হত। আর যখন আমি ছেলে-মেয়েদের জন্য জিনিসগুলো নিয়ে ভেতরে যেতাম, তখন সত্যিই আমি রাজা।
এক রাতে আমি লুর সাথে তার ঘরে বসে ছিলাম। সে তার ভাড়া দেওয়া এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিলো এবং আমারটা বাকি ছিল। আমরা পোর্ট ওয়াইন পান করছিলাম। এমনকি আমরা সিগারেটও রোল করছিলাম। লুর কাছে এর জন্য একটা মেশিন ছিল এবং সেগুলো বেশ ভালোই রোল হয়ে বের হচ্ছিল। ব্যাপারটা ছিল চার দেয়ালে ঘিরে রাখা। যদি তোমার চার দেয়াল থাকতো, তাহলে সুযোগ ছিল। একবার তুমি রাস্তায় বের হলে তোমার সুযোগ শেষ হয়ে যেতো, তারা পেয়ে বসতো তোমাকে, তারা আসলে তোমার ছিল। কেন তুমি কোনকিছু চুরি করবে যদি তুমি তা রান্না করতে না পারো? যদি তুমি একটা গলিতে থাকো তাহলে তুমি কীভাবে কোন একটা কিছুকে লাগাবে বলে ভাবো? কিভাবে তুমি ঘুমাতে যাবে বলে ভাবো যখন ইউনিয়ন রেসকিউ মিশনের সবাই ঘুমে নাক ডাকে? আর তোমার জুতা চুরি করে? আর দুর্গন্ধ ছড়ায়? আর পাগল? তুমি তো লাফালাফিও করতে পারো না। তোমার চার দেয়াল দরকার। একজনকে যথেষ্ট লম্বা চারটা দেয়াল দাও এবং তার পক্ষে পৃথিবীর মালিক হওয়া সম্ভব। তাই আমরা একটু চিন্তিত ছিলাম। প্রতিটি পদক্ষেপই বাড়িঅলির মতো শোনাচ্ছিল। আর সে ছিল খুবই রহস্যময় এক বাড়িঅলি। স্বর্ণকেশী যুবতীকে কেউই লাগাতে পারত না। সে আমার কাছে আসবে ভেবে আমি তার সাথে খুব ঠান্ডাভাবে খেলতাম। সে আসতো এবং ঠিকঠাক কড়া নাড়তো, কিন্তু তা কেবল ভাড়ার জন্য। কোথাও তার স্বামী ছিল কিন্তু আমরা তাকে কখনও দেখিনি। তারা সেখানে থাকত এবং থাকত না। আমরা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম যদি বাড়িঅলিকে চুদতে পারি তাহলে আমাদের ঝামেলা শেষ হয়ে যাবে। এটি এমন একটি ভবন যেখানে তুমি অবশ্যই প্রতিটি নারীকেই চুদেছিলে, একটা ব্যপার হিসেবে, প্রায় বাধ্যবাধকতার ব্যাপার হিসেবে। কিন্তু আমি এই এটার সাথে পারিনি এবং এটি আমাকে নিরাপত্তাহীন করে তুলতো। তাই আমরা সেখানে বসে আমাদের রোল করা সিগারেট টানতাম, আমাদের পোর্ট ওয়াইন পান করতাম এবং চার দেয়াল ভেঙে যেত, হাওয়া হয়ে যেতো। ওইরকম সময়ে কথা বলাই ভালো। তুমি এলোপাথারি বকরবকর করো, তোমার মদ পান করো। আমরা তো কাপুরুষ ছিলাম কারণ বাঁচতে চেয়েছিলাম আমরা। আমরা খুব খারাপভাবে বাঁচতে চাইনি কিন্তু আমরা তখনও বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম।
‘আচ্ছা,’ লু বলল, ‘আমি মনে হয় বুঝতে পেরেছি।’
‘তাই?’
‘হ্যাঁ।’
আমি আরেকটি গ্লাসে মদ ঢেলে দিলাম।
‘আমরা একসাথে কাজ করি।’
‘অবশ্যই।’
‘এখন তুমি ভালোই কথা বলতে পারো, তুমি অনেক মজার গল্প বলো, সেগুলো সত্য হোক বা না হোক তাতে কিছু যায় আসে না-’
‘এগুলো সত্য।’
‘মানে, তা কোন ব্যাপারই না। তোমার মুখের ভাষা ভালো। আমরা যা করি তা এখন এখানে। রাস্তার পাশে একটা রুচিশীল বার আছে, তুমি জানো, মোলিনো এর মালিক। তুমি সেখানে যাও। তোমার শুধু প্রথম পানীয়ের জন্য টাকা দরকার। আমরা এর জন্য বাজি খেলবো। তুমি বসো, তোমার পানীয়ের যতœ নাও এবং চারপাশে তাকিয়ে একজনকে খুজো যে লোক রোল ফ্লাশ করছে। তারা কিছু মোটা লোক সেখানে পায়। তুমি সেই লোকটিকে দেখো এবং তার কাছে যাও। তুমি তার পাশে বসে পানীয়ের মুখ খুলো, তুমি বকরবকর শুরু করো। সে এটা পছন্দ করবে। এমনকি তোমার ভা-ারে শব্দেরও অভাব নেই। ঠিক আছে। তাই সে সারা রাত তোমাকে পানীয় কিনে দেবে, সে সারা রাত পান করবে। তাকে পান করতে দাও। বন্ধের সময় হলে, তুমি তাকে আলভারাডো স্ট্রিটের দিকে নিয়ে যাও, গলির পার হয়ে তাকে পশ্চিমে নিয়ে যাও। তাকে বলো তুমি তাকে কিছু সুন্দর কচি যোনী এনে দেবে, তাকে যা খুশি বল, কিন্তু তাকে পশ্চিমেই নিয়ে যাও। আর গলিতে আমি এটা নিয়ে অপেক্ষা করব।’
লু দরজার পেছনে গেল এবং হাত বাড়িয়ে একটা বেস-বল ব্যাট নিয়ে বেরিয়ে এলো, ওটা ছিল খুব বড় একটা বেসবল ব্যাট, আমার মনে হয় অন্তত ৪২ আউন্স।
‘আহারে যীশু, লু, তুমি ওকে মেরে ফেলবে!’
‘না, না, তুমি একজন মাতালকে মেরে ফেলতে পারো না, তুমি তা জানো। হয়তো সে যদি সুস্থ থাকত তাহলে এ তাকে মেরে ফেলত, কিন্তু মাতাল হলে এ তাকে কেবল ছিটকে ফেলবে। আমরা মানিব্যাগটা নিয়ে নিই, দুই ভাগে ভাগ করে ফেলি।’
‘শোনো, লু, আমি খুব ভালো লোক, আমি ওরকম নই।’
‘তুমি ভালো লোক নও; তুমি আমার দেখা সবচেয়ে বাজে একটা কুত্তার বাচ্ছা। এজন্যই আমি তোমাকে পছন্দ করি।’
৪.
আমি একজনকে খুঁজে পেয়েছি। বিশাল মোটা একজনকে। আমি তার মতো মোটা মূর্খতার কারণে সারাজীবন বহিষ্কৃত ছিলাম। মূল্যহীন, কম বেতনের, একঘেয়ে কঠিন চাকরি থেকে। এ ভালোই হতে যাচ্ছিল। কথায় পেয়ে বসলো আমায়। কী নিয়ে বকরবকর করছি তা আমি জানতাম না। সে শুনছিল এবং হাসছিল এবং মাথা নাড়ছিল এবং পানীয় কিনছিল। তার হাতে একটি হাতঘড়ি, আংটি ভরা আঙ্গুল, একটি সম্পূর্ণ নির্বোধ মানিব্যাগ ছিল। এটা কঠিন কাজ ছিল। আমি তাকে কারাগার, রেলপথের গ্যাং, বেশ্যাখানা সম্পর্কে গল্প বলতাম। বেশ্যাখানার গল্পগাঁথাই তার পছন্দ ছিল।
আমি তাকে সেই লোকটির কথা বললাম যে প্রতি দুই সপ্তাহে একবার আসত এবং ভালো টাকা দিত। সে কেবল চাইত এক ঘরে তার সাথে একটা বেশ্যা থাক। তারা দুজনেই তাদের পোশাক খুলে ফেলতো এবং তাস খেলত এবং কথা বলত। শুধু সেখানে বসে থাকত। তারপর প্রায় দুই ঘন্টা পর সে উঠে পড়ত, পোশাক পরত, বিদায় জানাত এবং বেরিয়ে যেত। কখনও বেশ্যাটিকে স্পর্শ করতো না।
‘ধোঁকা,’ সে বলল।
‘হ্যাঁ।’
আমি ঠিক করেছিলাম যে বাড়ি ফেরার পথে কাউকে তার ওই মোটা খুলিতে লু’র কঠিন ব্যাটটা মারতে আপত্তি করবো না। কী অদ্ভুত ঘটনা! কী অপ্রয়োজনীয় গুয়ের দল একটাা।
‘তুমি কি ছোট মেয়েদের পছন্দ করো?’ আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম।
‘ওহ, হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ।’
‘প্রায় সাড়ে চৌদ্দ?’
‘ওহ যীশু, হ্যাঁ।’
‘শিকাগো থেকে রাত ১:৩০ টার ট্রেনে একজন আসছে। সে রাত ২:১০ নাগাদ আমার বাড়িতে আসবে। সে পরিষ্কার, তপ্ত, বুদ্ধিমান। এখন আমি একটা বড় সুযোগ নিচ্ছি, তাই আমি দশ ডলার চাইছি। এটা অনেক বেশি?’
‘না, ঠিক আছে।’
‘ঠিক আছে, যখন এই জায়গাটি বন্ধ হয়ে যাবে তখন তুমি আমার সাথে এসো।’
অবশেষে রাত ২টায় এটা ঘটলো, এবং আমি তাকে সেখান থেকে বের করলাম এবং গলির দিকে নিয়ে গেলাম। হয়তো লু সেখানে থাকবে না। হয়তো মদটা তার কাছে পৌঁছে যেত, নয়তো সে আবার বেরিয়ে যেত। এরকম আঘাত একজন মানুষকে মেরে ফেলতে পারে, অথবা সারা জীবনের জন্য হতবুদ্ধি করে দিতে পারে। আমরা চাঁদের আলোয় টলমল করে এগিয়ে গেলাম। আশেপাশে আর কেউ ছিল না, রাস্তায় কেউ ছিল না। এটা সহজ হয়ে আসছিলো।
আমরা গলিতে ঢুকে পড়লাম। লু সেখানে ছিল। কিন্তু ফ্যাটসো তাকে দেখতে পেল। সে একটি হাত উপরে তুললো এবং হেলে পড়ল লু তার হাত দোলানোর সাথে সাথে। বাদুড়টি আমার কানের ঠিক পিছনে এসে লাগল।
৫.
লু তার পুরনো চাকরি ফিরে পেয়েছে, যে চাকরি সে মদপান করে হারিয়েছিল, আর সে শপথ করেছিল যে সে কেবল সপ্তাহে ছুটির দিনে মদপান করবে।
‘ঠিক আছে বন্ধু,’ আমি তাকে বলেছিলাম, ‘আমার কাছ থেকে দূরে থাকো, আমি মাতাল এবং সবসময় মদপান করি।’
‘আমি জানি। হ্যাঙ্ক, আর আমি তোমাকে পছন্দ করি, আমার দেখা যেকোনো পুরুষের চেয়ে বেশি পছন্দ করি তোমাকে, শুধু সপ্তাহ শেষের ছুটির দিনেই মদপান আটকা রাখতে হবে, শুধু শুক্রবার এবং শনিবার রাতে এবং রবিবারে কিছুই না। পুরনো দিনে সোমবার সকালকে আমি মিস করতে থাকতাম এবং এর মূল্য চুকাতে গিয়ে আমার চাকরি হারাই। আমি দূরে থাকব কিন্তু আমি চাই তুমি জানো যে এর সাথে তোমার কোনও সম্পর্ক নেই।’
‘কারণ আমি শুধু এক ঘরহারা মাতাল।’
‘হ্যাঁ, আচ্ছা, সেটাই।’
‘ঠিক আছে, লু, শুধু শুক্রবার এবং শনিবার রাত ছাড়া আমার দরজায় কড়া নাড়তে এসো না। তুমি হয়তো সতেরো বছরের সুন্দরী মেয়েদের গান এবং হাসি শুনতে পাবে তবু আমার দরজায় কড়া নাড়তে এসো না।’
‘ভাই, তুমি ব্যাগ ছাড়া অন্য কিছুই চুদো না।’
‘আঙ্গুরের চোখ দিয়ে ওদের দেখতে সতেরো বছর বয়সী মনে হয়।’
সে তার কাজের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে লাগলো, ক্যান্ডি মেশিনের ভেতরটা পরিষ্কার করার মতো কিছু করা। এটা ছিল একটা আঠালো থকথকে নোংরা কাজ। বস শুধু সাবেক অপরাধীদেরই ঠিকা খাটাতেন এবং তাদের প্রাণপন কাজ করাতেন। তিনি শুধু সাবেক অপরাধীদের সারাদিন ধরে কঠোর গালাগাল করতেন এবং তারা এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারতো না।
সে তাদের চেক কমিয়ে দিত এবং তারা এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারতো না। বাধা দিলে তাদের চাকরি হারাতে হতো। তাদের অনেকেই প্যারোলে ছিল। বস তাদের বিচি চেপে ধরতো। ‘মনে হচ্ছে এমন এক লোক যাকে হত্যা করা উচিত,’ আমি লুকে বললাম। ‘আচ্ছা, সে আমাকে পছন্দ করে, সে বলে আমি তার জীবনে সবচেয়ে ভালো কর্মী, কিন্তু আমার মদের নেশা ছেড়ে দিতে হয়েছিল, তার এমন একজনের প্রয়োজন ছিল যার উপর সে নির্ভর করতে পারে। এমনকি সে একবার আমাকে তার বাসায় নিয়ে গিয়েছিল তার জন্য কিছু রঙ করার জন্য, আমি তার বাথরুম রঙ করেছিলাম, খুব ভালো কাজও করেছিলাম।
তার পাহাড়ে একটা জায়গা আছে, একটা বড় জায়গা, আর তার স্ত্রীকে দেখা উচিত তোমার। আমি কখনো জানতাম না যে তারা নারীদের সেভাবে তৈরি করতো, এত সুন্দর - তার চোখ, তার পা, তার শরীর, সে যেভাবে হাঁটাচলা করতো, কথা বলতো, ওহ যীশু।’
৬.
যাইহোক, লু তার কথায় সত্যই ছিল। বেশ কিছুদিন ধরে আমি তাকে দেখিনি, এমনকি সাপ্তাহিক ছুটিতেও না, আর এরই মধ্যে আমি এক ধরনের ব্যক্তিগত নরকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি খুব অস্থির ছিলাম, স্নায়ুচ্যুত ছিলাম - একটু শব্দ হলেই আমি চামড়া ফুড়ে লাফিয়ে উঠতাম। আমি ঘুমাতে ভয় পেতাম: দুঃস্বপ্নের পর দুঃস্বপ্ন, প্রতিটিই আগের দুঃস্বপ্নের চেয়ে আরও ভয়ঙ্কর। তুমি যদি পুরোপুরি মাতাল হয়ে ঘুমাতে যাও, তাহলে ঠিকই ছিল, কিন্তু যদি তুমি আধা মাতাল অবস্থায় ঘুমাতে যাও, অথবা আরও খারাপ, নিশ্চুপ হয়ে, তাহলে স্বপ্ন শুরু হয়ে যেত, শুধু তুমি কখনই নিশ্চিত হতে পারতে না যে তুমি ঘুমাচ্ছিলে নাকি ঘটনাটি ঘরেই ঘটছে, কারণ যখন তুমি ঘুমাতে যাও, তখন তুমি পুরো ঘরটি স্বপ্নে দেখতে পেতে, নোংরা থালা-বাসন, ইঁদুর, ভাঁজ করা দেয়াল, মেঝেতে কোন বেশ্যার ফেলে যাওয়া নোংরা প্যান্ট, ফোঁটা ফোঁটা কল, বাইরে বুলেটের মতো চাঁদ, শান্ত এবং পুরোপুরি সাড়িয়ে তোলা গাড়ি, তোমার জানালায় জ্বলছে হেডলাইট, সবকিছু, সবকিছু, তুমি এক ধরনের অন্ধকার কোণে পড়ে থাকতে, অন্ধকার অন্ধকার, কোন সাহায্য নেই, কোন যুক্তি নেই, না, না, কোন যুক্তি নেই আদৌ, অন্ধকার ঘামতে থাকা কোণ, অন্ধকার আর নোংরা, বাস্তবতার দুর্গন্ধ, সবকিছুর দুর্গন্ধ: মাকড়সা, চোখ, বাড়িওয়ালা, ফুটপাত, বার, ভবন, ঘাস, ঘাসহীনতা, আলো, আলোহীনতা, নিজস্ব কিছুই নেই তোমার। গোলাপী হাতিরা কখনোই আসেনি, কিন্তু বর্বর সব কৌশল নিয়ে ছুটে আসতো অনেক ছোট ছোট লোক, অথবা কোন বিশাল লোক তোমাকে গলা চেপে ধরতো, অথবা তোমার ঘাড়ের পেছনের তার দাঁত ডুবিয়ে দিত, তোমার পিঠের উপর শুয়ে থাকতো এবং তুমি ঘামতে থাকতে, নড়াচড়া করতে পারতে না, এই কালো দুর্গন্ধযুক্ত লোমশ জিনিসটি শুয়ে থাকতো শুধু তোমার উপরে, তোমার উপরে, তোমার উপরেই। যদি এ দিনের বেলায় বসে না থাকতো, অবর্ণনীয় ভয় না থাকতো ঘন্টার পর ঘন্টা, ভয় তোমার মাঝখানে একটা বিশাল ফুলের মতো ফুটে না উঠতো, তাহলে তুমি এটা বিশ্লেষণ করতে পারতে না, বুঝতে পারতে না কেন এটা ছিল, আর সেটাই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতো। ঘরের মাঝখানে চেয়ারে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকা, দৌড়াদৌড়ি করা এবং হতাশ হয়ে পড়া। বড় কোন উদ্যোগকে হঠাৎ পরিবর্তন কিংবা মুতে ভাসিয়ে দেওয়া, অর্থহীনতা, এবং তোমার চুল আঁচড়ানো বা তোমার দাঁত ব্রাশ করা - হাস্যকর এবং অ-যৌক্তিক যতো কাজ। আগুনের সমুদ্রের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়া। অথবা মদের গ্লাসে জল ঢালা - মনে হতো মদের গ্লাসে জল ঢালার কোনও অধিকার তোমার নেই। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমি পাগল, অযোগ্য, এবং এত আমাকে নোংরা বোধ হতো। লাইব্রেরিতে গেলাম এবং আমি যেমনটা অনুভব করছিলাম তা অনুভবে করতে মানুষকে কী বাধ্য করতো, সে সম্পর্কিত বই খুঁজে বের করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু তেমন বই সেখানে ছিল না অথবা যদি থাকেও, আমি সেগুলো বুঝতে পারতাম না। লাইব্রেরিতে যাওয়া খুব একটা সহজ ছিল না – প্রত্যেকে খুব আরামে রয়েছে মনে হচ্ছিল, লাইব্রেরিয়ানরা, পাঠকরা, সবাই, শুধু আমি ছাড়া। আমার এমনকি লাইব্রেরির হাগুখানা ব্যবহার করতেও সমস্যা হতো- ভেতরে থাকতো পাছা ছড়িয়ে থাকা বোকারা, আমাকে প্রস্রাব করতে দেখতো সমকামীরা, মনে হতো তারা সবাই আমার চেয়ে শক্তিশালী- নিরুদ্বিগ্ন ও অবিচল।
আমি বাইরে বের হতামই এবং রাস্তার ওপারে হেঁটে যেতাম, সিমেন্টের তৈরি ভবনের একটি বাঁকানো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতাম যেখানে হাজার হাজার বাক্স কমলা রাখা ছিল। অন্য একটি ভবনের ছাদে একটি সাইনবোর্ডে লেখা ছিল যীশু রক্ষা করে কিন্তু সেই বাঁকানো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে সেই সিমেন্টের তৈরি ভবনে যাওয়ার জন্য না যীশু না কমলা কিছুই আমাকে অভিশাপ দেওয়ার যোগ্য নয়। আমি সবসময় ভাবতাম, এটাই সে জায়গা যেখানে আমি আছি, এই সিমেন্টের সমাধির ভেতরেই।
আত্মহত্যার চিন্তা সবসময়ই ছিল, তীব্র, কব্জির নীচে পিঁপড়ার মতো ছুটে বেড়াচ্ছে। আত্মহত্যাই ছিল একমাত্র ইতিবাচক জিনিস। বাকি সবকিছুই ছিলো নেতিবাচক। আর লু ছিল, বেঁচে থাকার জন্য ক্যান্ডি মেশিনের ভেতরটা পরিষ্কার করতে পেরে খুশি। সে আমার চেয়ে বুদ্ধিমান ছিল।
৭.
এই সময় এক বারে এক নারীর সাথে আমার দেখা হয়, আমার থেকে একটু বড়, খুব বিচক্ষণ। তার পা দুটো তখনও ভালো ছিল, তার মাঝে হাস্যরসের একটা বেমানান অনুভুতি ছিল, আর তার পোশাক ছিল খুব দামি। সে কোন ধনী ব্যক্তির সিঁড়ি বেয়ে নেমে এসেছিল। আমরা আমার বাড়িতে যেতাম এবং একসাথে থাকতাম। তার খুব ভালো পাছা ছিল কিন্তু তাকে সবসময় মদ পান করতে হতো। তার নাম ছিল ভিকি। আমরা লাগালাগি করতাম, মদ খেতাম, মদ খেতাম এবং লাগালাগি করতাম। আমার একটা লাইব্রেরি কার্ড ছিল এবং প্রতিদিন লাইব্রেরিতে যেতাম। আমি তাকে আত্মহত্যার কথা বলিনি। সবসময়ই এ এক বড় রসিকতা ছিল- লাইব্রেরি থেকে আমার বাড়ি ফিরে আসা। আমি দরজা খুলতাম আর শে আমার দিকে তাকাতো।
‘কি বই নেই?’
‘ভিকি, লাইব্রেরিতে কোন বই নেই।’
আমি ভেতরে এসে ব্যাগ থেকে মদের বোতল (অথবা বোতলগুলো) বের করতাম এবং আমরা শুরু করতাম। এক সপ্তাহ মদপানের পর একবার আমি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি তাকে বলিনি। আমি ভেবেছিলাম যখন শে বারে ‘জীবন্ত কাউকে’ খুঁজছে, তখন আমি এটা করব। ওইসব মোটা জোকার তাকে লাগাচ্ছে এটা আমার পছন্দ হতো না কিন্তু শে আমার জন্য টাকা, হুইস্কি এবং সিগার আনতো। শে আমাকে নিয়ে একটু বলেছিল যে আমিই ছিলাম তার একমাত্র ভালোবাসার মানুষ।
শে আমাকে ‘মিস্টার ভ্যান বিল্ডেরাস’ বলে ডাকত, কারণ আমি বুঝতে পারিনি। শে মাতাল হয়ে যেত এবং বলতে থাকত, ‘তুমি মনে করো তুমি একটা গরম মাল, তুমি মনে করো তুমি মিস্টার ভ্যান বিল্ডেরাস!’ সারাক্ষণই আমি আত্মহত্যা করার ধারণা নিয়ে কাজ করতাম। একদিন আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আমি এটা করব। এক সপ্তাহ ধরে মদপান করার পর, পোর্ট ওয়াইন, আমরা বিশাল জগ কিনে মেঝেতে সারিবদ্ধ করলাম এবং বিশাল জগের পিছনে আমরা সাধারণ আকারের ওয়াইনের বোতল, ৮ বা ৯টি, এবং সাধারণ আকারের বোতলের পিছনে আমরা ৪ বা ৫টি ছোট বোতল সারিবদ্ধ করলাম। হারিয়ে গেল রাত আর দিন। এ শুধুই ছিল লাগালাগি আর বকরবকর আর মদপান, বকরবকর আর মদপান আর লাগালাগি। হিংস্র তর্ক-বিতর্ক যা চুদাচুদিতে শেষ হতো। সে ছিল চোদচিুদির এক মিষ্টি ছোট্ট শুকোরনি, আঁটোসাটো এবং আকুলিবিকুলি করা। ২০০ নারীর মাঝে একজন। বাকি অধিকাংশের সাথে এটি এক ধরনের অভিনয়, রসিকতা। যাই হোক, হয়তোবা সবকিছুর কারণেই, মদপান এবং বিশাল মোটা একঘেয়ে ষাঁড়গুলি ভিকিকে লাগানোর কারণে, আমি খুব অসুস্থ এবং বিষণ্ন হয়ে পড়েছিলাম, তবুও আমি কী এমন করতে পারি? টারেট-লেথ মেশিন চালানো ছাড়া?
যখন ওয়াইন ফুরিয়ে গেল, তখন হতাশা, ভয়, আর কাজ করার অপ্রয়োজনীয়তা অনেক প্রবল হয়ে উঠলো এবং আমি জানতাম যে আমি এটা করতে যাচ্ছি। প্রথমবার যখন শে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল, তখন আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেল।
কিভাবে, আমি ঠিক নিশ্চিত ছিলাম না কিন্তু শত শত উপায় ছিল। আমাদের কাছে একটা ছোট গ্যাস জেট স্টোভ ছিল। গ্যাস মনোহর। গ্যাস এক ধরনের চুম্বন। এটি পুরো শরীর ছেড়ে দেয়। ওয়াইন শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি বলতে গেলে হাঁটতেও পারছিলাম না। এক রাশ ভয় আর ঘাম ভেসে বেড়াচ্ছিল আমার শরীরে। ব্যাপারটা বেশ সাদামাটা হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো কখনও ফুটপাতে অন্য কোন মানুষের পাশ দিয়ে যেতে না হওয়া, তাদের মোটা দেহ নিয়ে কখনও হাঁটতে না দেখা, তাদের ছোট ইঁদুরের চোখ কখনও না দেখা, তাদের নিঠুর লাগাম লাগানো মুখ কখনও না দেখা, তাদের পশু-ফুল ফুটতে কখনও না দেখা। কী যে মধুর স্বপ্ন: অন্য কোন মানুষের মুখের দিকে কখনও তাকাতে বাধ্য না হওয়া।
‘আমি খবরের কাগজ দেখতে বাইরে যাচ্ছি, দেখতে যে কোন দিন, ঠিক আছে?’
‘অবশ্যই,’ শে বলল, ‘অবশ্যই।’
আমি দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলাম। হলঘরে কেউ নেই। কোনো মানুষ নেই। রাত প্রায় ১০টা বেজে গেল। আমি প্রস্রাবের গন্ধ ভরা লিফটে নেমে পড়েছিলাম। সেই লিফট আমাকে গিলে ফেলতে অনেক শক্তি প্রয়োজন হলো। আমি পাহাড়ের নিচে হেঁটে গেলাম। যখন ফিরে আসতাম, তখন শে চলে যেত। পানীয় শেষ হয়ে গেলে শে দ্রুত সরে যেত। তারপর আমি এটা করতে পারতাম। কিন্তু প্রথমে আমি জানতে চাইতাম কোন দিন ছিলো আজ। আমি পাহাড়ের নিচে হেঁটে গেলাম এবং ওষুধের দোকানের কাছে খবরের কাগজের র্যাক ছিল। আমি খবরের কাগজে তারিখটি দেখলাম। এ ছিলো শুক্রবার। খুব ভালো, শুক্রবার। যেকোনো দিনের মতোই এ ভালো ছিল। এর অর্থ কিছু ছিল। তারপর আমি হেডলাইনটি পড়লাম:
মিল্টন বার্লের চাচতো ভাইয়ের মাথায় পড়ন্ত পাথরের আঘাত
আমি ঠিক বুঝতে পারিনি। আমি আরও কাছে ঝুঁকে আবার পড়লাম। এ একই ছিল:
মিল্টন বার্লের চাচতো ভাইয়ের মাথায় পড়ন্ত পাথরের আঘাত
এটি কালো টাইপে, বড় টাইপে, ব্যানার হেডলাইন ছিল। পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যে, এটি ছিল তাদের হেডলাইন।
মিল্টন বার্লের চাচতো ভাইয়ের মাথায় পাথরের আঘাত
আমি রাস্তা পার হলাম এবং অনেক ভালো বোধ করলাম, এবং মদের দোকানে ঢুকলাম। আমি বাকিতে কিনলাম দুই বোতল পোর্ট মদ এবং এক প্যাকেট সিগারেট। যখন আমি আমার জায়গায় ফিরে এলাম তখনও ভিকি সেখানেই ছিল।
‘আজ কোন দিন?’ শে জিজ্ঞাসা করল।
‘শুক্রবার।’
‘ঠিক আছে,’ শে বলল।
আমি দুই গ্লাস ভরে মদ ঢেলে নিলাম। দেয়ালের ছোট রেফ্রিজারেটরে একটু বরফ অবশিষ্ট ছিল। বরফের টুকরোগুলো মসৃণভাবে ভাসছিলো।
‘আমি তোমাকে অসুখী করতে চাই না,’ ভিকি বলল।
‘আমি জানি তুমি তা করো না।’
‘আগে এক চুমুক খাও।’
‘অবশ্যই।’
‘তুমি যখন বাইরে ছিলে তখন দরজার নিচে একটা চিরকুট এসেছিল।’
‘হ্যাঁ।’
আমি এক চুমুক খেলাম, মুখ বন্ধ করে সিগারেট জ্বালালাম, আরেক চুমুক খেলাম, তারপর শে আমাকে চিরকুটটি দিল। এ লস অ্যাঞ্জেলেসের উষ্ণ একটা রাত ছিল। শুক্রবার। আমি চিরকুটটি পড়লাম:
প্রিয় মি. চিনাস্কি: তোমার হাতে আগামী বুধবার পর্যন্ত ভাড়া দেওয়ার সময় আছে। যদি না দাও, তাহলে তুমি চলে যাবে। তোমার রুমে থাকা ওই মহিলাদের সম্পর্কে আমি জানি। আর তুমি খুব বেশি কোলাহল করো। আর তুমি তোমার জানালা ভেঙেছো। তুমি তোমার সুযোগ-সুবিধার জন্যই টাকা দিচ্ছ। কিংবা তাই হওয়ার কথা। আমি তোমার সাথে খুব সদয় ব্যবহার করেছি। এখন বলছি আগামী বুধবার, না হলে তুমি চলে যাবে। ভাড়াটেরা রাতদিন, দিনরাত সব কোলাহল, বকবকানি আর গানে ক্লান্ত, আর আমিও। তুমি এখানে ভাড়া ছাড়া থাকতে পারো না। বলো না যে আমি তোমাকে সতর্ক করিনি।
আমি বাকি মদটা গলায় ঢেলে দিলাম, প্রায় হারিয়ে ফেললাম। এ লস অ্যাঞ্জেলেসের গরম একটা রাত ছিল।
‘আমি ওই বোকাদের চুদতে চুদতে ক্লান্ত,’ শে বলল।
‘আমি টাকাটা পাবো,’ আমি তাকে বললাম।
‘কিভাবে? তুমি কিছুই করতে জানো না।’
‘আমি তা জানি।’
‘তাহলে আমরা কীভাবে পারবো?’
‘কোনও একভাবে।’
‘শেষ লোকটা আমাকে তিনবার চুদলো। আমার যোনি কাঁচা ছিল।’
‘চিন্তা করো না, প্রিয়া, আমি একজন প্রতিভাবান। একমাত্র সমস্যা হলো, কেউ তা জানে না।’
‘কিসে প্রতিভাবান?’
‘আমি জানি না।’
‘মি. ভ্যান বিল্ডেরাস!’
‘সেইতো আমি। যাক, তুমি কি জানো মিল্টন বার্লের চাচাতো ভাইয়ের মাথায় পাথর পড়ে আঘাত পেয়েছিল?’
‘কখন?’
‘আজ না গতকাল।’
‘কি ধরণের পাথর?’
‘আমি জানি না। আমি কল্পনা করি মাখনের মতো বড় হলুদ পাথর।’
‘কে নিন্দা করে?’
‘আমি না। অবশ্যই আমি না। ছাড়া-’
‘কি ছাড়া?’
‘আমি মনে করি সেই পাথর আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।’
‘তুমি একটা মূর্খের মতো কথা বলছো।’
‘আমি একটা মূর্খ।’
আমি হেসে চারপাশে মদ ঢেলে দিলাম।
মৃতরা যেভাবে ভালোবাসে
চার্লস বুকাওস্কি
ভাষান্তর: রথো রাফি
চার্লস বুকাওস্কি
ভাষান্তর: রথো রাফি
আরও পড়ুন: [বুকাওস্কি সংখ্যা]



মন্তব্য