“কোন মানুষের কষ্ট প্রকৃতির কল্পনার চেয়ে বড় নয়।” -বাজে খেলায় শোনা কথা
১.
নবম রেস ছিল এবং ঘোড়ার নাম ছিল গ্রিন চিজ। সে ৬ পয়েন্টে জিতে গেল এবং আমি ৫ ডলারের বিনিময়ে ৫২ ডলার ফিরে পেলাম এবং যেহেতু আমি অনেক এগিয়ে ছিলাম, তাই আরও একটি পানীয়ের জন্য ডাক দিলাম। “একটি ছোট সবুজ পনির দাও,” আমি বারকিপকে বললাম। সে বিভ্রান্ত হয়নি। সে জানত আমি কী পান করছিলাম। আমি সারা বিকেল ওখানেই ঝুঁকে ছিলাম। আমি আগে সারা রাত মাতাল ছিলাম এবং যখন আমি বাড়ি ফিরলাম, অবশ্যই, আমাকে আরও কিছু পান করতে হয়েছিল। আমি প্রস্তুত ছিলাম। আমি স্কচ, ভদকা, ওয়াইন এবং বিয়ার খেয়েছিলাম। রাত ৮টার দিকে একজন দাফনকর্মী অথবা কেউ ফোন করে বললো যে সে আমার সাথে দেখা করতে চায়। “ঠিক আছে,” আমি বললাম, “পানীয় নিয়ে আসুন।” “আমি যদি বন্ধুদের নিয়ে আসি তাহলে কি তোমার আপত্তি আছে?” “আমার কোন বন্ধু নেই।” “আমি বলতে চাইছি আমার বন্ধুরা।” “আমি কিছু মনে করি না,” আমি তাকে বললাম। আমি রান্নাঘরে ঢুকে এক পানির গ্লাস স্কচ ঢেলে ভরতি করলাম। আমি পুরানো দিনের মতো সরাসরি এটি পান করলাম। দেড় ঘন্টা, দুই ঘন্টার মধ্যে সাধারণত একটা ফিফথ [৭৫০ মিলির এক বোতল- অনুবাদক] শেষ করা আমার অভ্যাস। “সবুজ পনির,” আমি রান্নাঘরের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বললাম। আমি হিমায়িত বিয়ারের একটি লম্বা ক্যান খুললাম।
২.
দাফনকর্মীটা এসে ফোনে কথা বলল এবং খুব শীঘ্রই অনেক অচেনা লোক ভেতরে ঢুকে পড়ল, তারা সকলেই পানীয় নিয়ে আসছিল। অনেক মহিলা ছিল এবং আমার মনে হচ্ছিল তাদের সবাইকে ধর্ষণ করি। আমি কার্পেটের উপর বসে ছিলাম, বৈদ্যুতিক আলো অনুভব করছিলাম, পানীয়গুলি আমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল যেন একটি কুচকাওয়াজ, যেন ব্লুজের উপর আক্রমণ, যেন পাগলামির উপর আক্রমণ।
“আমাকে আর কখনও কাজ করতে হবে না!” আমি তাদের বললাম। “ঘোড়াগুলো আমার যতœ নেবে যেমনটা কোনও বেশ্যা কখনও করেনি!”
“ওহ, আমরা ওটা জানি জনাব চিনাস্কি! আমরা জানি যে আপনি একজন মহান মানুষ!”
সোফায় থাকা ছোট ধূসর চুলের একটা চুদনা, হাত ঘষছে, ভেজা ঠোঁটে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সে এটাই চাইছিল। সে আমাকে অসুস্থ করে তুলেছিল। আমি হাতের পানীয়টা শেষ করে অন্য কোথাও খুঁজ করে সেটাও পান করে ফেললাম। আমি মহিলাদের সাথে কথা বলতে শুরু করলাম। আমি তাদের আমার শক্তিশালী বাঁড়ার সমস্ত ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিলাম। তারা হেসে ফেলল। আমি এটাই চাইছিলাম। ঠিক তখনই। সেখানে। আমি নারীদের দিকে এগিয়ে গেলাম। পুরুষরা আমাকে টেনে বের করে দিল। একজন সাংসারিক পুরুষের জন্য আমি ছিলাম হাই স্কুলের ছেলে। যদি আমি মহান মিস্টার চিনাস্কি না হতাম, তাহলে কেউ আমাকে মেরে ফেলত। যাই হোক, আমি আমার শার্ট ছিঁড়ে ফেললাম এবং কারো সাথে লনে যেতে চাইলাম। আমি ভাগ্যবান। কেউ আমার জুতার ফিতা চেপে ধরে আমাকে ধাক্কা মারার কথা ভাবে নি।
আমার মন যখন পরিষ্কার হল তখন ভোর ৪টা। সব আলো জ্বলে উঠল এবং সবাই চলে গেল। আমি এখনও সেখানে বসে ছিলাম। আমি একটি গরম বিয়ার খুঁজে পেয়ে তা পান করলাম। তারপর আমি এই অনুভূতি নিয়ে ঘুমাতে গেলাম যে সমস্ত মাতালই জানে: আমি বোকা হয়ে ছিলাম কিন্তু এর সঙ্গে জাহান্নামে যেতেও রাজি।
৩.
আমি ১৫-২০ বছর ধরে অর্শ রোগে ভুগছিলাম; এছাড়াও ঘা-ছিদ্র যুক্ত আলসার, খারাপ যকৃত, ফোঁড়া, উদ্বেগ-স্নায়ুবিক রোগ, বিভিন্ন ধরনের পাগলামি, কিন্তু তুমি সবকিছু নিয়েই থাকো এবং আশা করো যে সবকিছু একবারে ভেঙে পড়বে না।
মনে হচ্ছিল মাতালটা প্রায় সব ঠিক করে ফেলেছে। আমার মাথা ঘুরছিল এবং দুর্বল অনুভব করছিলাম, কিন্তু এটা স্বাভাবিক ছিল। এটা অর্শের সমস্যা ছিল। তারা কোনও কিছুতেই সাড়া দেবে না - গরম স্নান, মলম, কিছুই কাজে লাগেনি। আমার অন্ত্র কুকুরের লেজের মতো প্রায় পাছা থেকে বেরিয়ে এসেছিল। আমি একজন ডাক্তারের কাছে গেলাম। তিনি কেবল তাকালেন। “অপারেশন,” তিনি বললেন। “ঠিক আছে,” আমি বললাম, “আমি শুধু এক কাপুরুষ।”
“ভালো, হ্যাঁ, ছোট্ট এই জায়গাটা একে আরও কঠিন করে তোলে।”
তুমি একটা খারাপ নাজি জারজ, আমি ভেবেছিলাম।
“আমি তোমাকে মঙ্গলবার রাতে এই ল্যাক্সেটিভ নিতে বলছি। সকাল ৭ টায় তুমি উঠে পড়ো, হ্যাঁ? আর তুমি নিজেকে মলদ্বারের ভেতর এনিমা [পায়ু পথে পানি প্রবেশ করানোর যন্ত্র- অনুবাদক] দিয়ে পানি দেবে, যতক্ষণ না তা পানিতে পরিষ্কার হয়, হ্যাঁ? তারপর আমি বেস্পতিবার সকাল ১০ টায় তোমার নিচটায় একবার চোখ বুলিয়ে নেবো।”
“হ্যাঁ, আপনার কথা পুরো বুঝতে পেরেছি,” আমি বললাম।
৪.
এনিমা টিউবটা বারবার বেরিয়ে আসছিল এবং পুরো বাথরুম ভিজে যাচ্ছিল এবং ঠা-া লাগছিল এবং আমার পেট ব্যাথা করছিল এবং আমি থকথকে আঠালো পদার্থ আর গুয়ে ডুবে যাচ্ছিলাম। এভাবেই পৃথিবী শেষ হয়ে গিয়েছিল, পারমাণবিক বোমাতে নয়, বরং গুয়ে গুয়ে গুয়ে। আমি যে সেটটি কিনেছিলাম তাতে জলের প্রবাহ আটকানোর মতো কিছুই ছিল না এবং আমার আঙুলগুলি কাজ করত না তাই জল পুরো দমে ভেতরে ঢুকছিল আর পুরোদমেই বেরিয়ে আসছিল। আমার দেড় ঘন্টা সময় লেগেছিল এবং ততক্ষণে আমার অর্শকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিল পৃথিবী। বেশ কয়েকবারই আমি হাল ছেড়ে দিয়ে মারা যাওয়ার কথা ভেবেছিলাম। আমি আমার আলমারিতে বিশুদ্ধ স্পিরিট গাম টারপেনটিনের একটি ক্যান পেয়েছিলাম। এটা ছিল একটা সুন্দর লাল এবং সবুজ রঙের ক্যান। “বিপদ!” তাতে লেখা ছিল, “গিলে ফেলা ক্ষতিকর অথবা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।” আমি একটা কাপুরুষ ছিলাম: ক্যানটি আবার রেখে দিলাম।
৫.
ডাক্তার আমাকে টেবিলের উপর নিলেন। “এখন, শুধু বিশ্রাম নিন পিঠের উপর, কেমন? বিশ্রাম, বিশ্রাম...।”
হঠাৎ সে আমার পাছায় কীলক আকৃতির একটা বাক্স ঢুকিয়ে দিল এবং তার সাপটি খুলতে শুরু করল, যা আমার অন্ত্রে ঢুকে ব্লকের খোঁজ, ক্যান্সারের খোঁজ নিতে লাগলো।
“হ্যাঁ! এখন যদি একটু ব্যথা হয়, সহ্য করবেন, কেমন? কুকুরের মতো হাঁপান, হাঁপাতে থাকেন, হাহাহা-হাহা!”
“তুমি নোংরা মাদারচোদ!”
“ভোট?”
“ধুর, ধুর, ধুর! তুমি একটা কুত্তা-চুদানি! তুমি একটা শুয়োর, ধর্ষকামী... তুমি জোয়ানকে পুড়িয়ে মেরেছিলে, তুমি খ্রিস্টের হাতে পেরেক ঢুকিয়েছিলে, তুমি যুদ্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছিলে, তুমি গোল্ডওয়াটারকে ভোট দিয়েছিলে, তুমি “নিক্সন... বেজন্মাকে!” ভোট দিয়েছিলে। তুমি আমার সাথে কি করছো?”
“এটা এখনই শেষ হয়ে যাবে। তুমি এটা ঢেকে রাখো। তুমি বেশ ধৈর্য লাগবে।”
সে সাপটিকে আবার ভেতরে ঢুকিয়ে দিল এবং তারপর তাকে পেরিস্কোপের মতো দেখতে কিছু একটা দিয়ে তাকাতে দেখলাম। সে আমার রক্তাক্ত পাছায় কিছু গজ লাগিয়ে দিল এবং আমি উঠে আমার পোশাক পরলাম। “আর অপারেশন কিসের জন্য হবে?”
সে বুঝতে পারল আমি কী বলতে চাইছি। “শুধু অর্শরোগের জন্য।”
আমি বেরিয়ে আসার সময় তার নার্সের পায়ের দিকে তাকালাম। সে মিষ্টি করে হাসল।
৬.
হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে একটি ছোট মেয়ে আমাদের ধূসর মুখ, আমাদের সাদা মুখ, আমাদের হলুদ মুখের দিকে তাকাল... “সবাই মারা যাচ্ছে!” সে ঘোষণা করল। কেউ তার উত্তর দিল না। আমি একটি পুরনো টাইম ম্যাগাজিনের পাতা উল্টে দেখলাম।
নিয়মিত কাগজপত্র পুরণ করার পর ... প্রস্রাবের নমুনা ... রক্ত নমুনা দেওয়ার পর, আমাকে অষ্টম তলায় চার শয্যা বিশিষ্ট ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ধর্মের প্রশ্নটি এলে আমি “ক্যাথলিক” বলেছিলাম, মূলত ধর্মহীনতার ঘোষণার পরে যে দৃষ্টি এবং প্রশ্নগুলি সাধারণত আসে তা থেকে নিজেকে বাঁচাতে। আমি সমস্ত তর্ক এবং লাল ফিতায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। এটি একটি ক্যাথলিক হাসপাতাল ছিল - সম্ভবত আমি পোপের কাছ থেকে আরও ভালো পরিষেবা বা আশীর্বাদ পেতে পারতাম।
তো, আমি আরও তিনজনের সাথে বন্দি ছিলাম। আমি, সন্ন্যাসী, একা-জন, জুয়াড়ি, প্লেবয়, বোকা। সবকিছু শেষ হয়ে গেল। প্রিয় নির্জনতা, বিয়ার ভর্তি রেফ্রিজারেটর, ড্রেসারে সিগার, বড় পায়ের, মোটা-মোটা মহিলাদের ফোন নম্বর।
হলুদ মুখের একজন ছিল। সে দেখতে অনেকটা প্রস্রাবে ডুবে থাকা এবং রোদে শুকানো একটা বড় মোটা পাখির মতো। সে বারবার বোতাম টিপে চলতো। সে ঘ্যানঘ্যান করতো, কান্না করতো, মিউ মিউ শব্দ করতো। “নার্স, নার্স, ডক্টর থমাস কোথায়? ডক্টর থমাস গতকাল আমাকে কিছু কোডিন দিয়েছিলেন। ডক্টর থমাস কোথায়?”
“আমি জানি না ডক্টর থমাস কোথায়।”
“আমি কি কাশির ড্রপ খেতে পারি?”
“ওগুলো তোমার টেবিলেই আছে।”
“ওরা আমার কাশি থামাচ্ছে না, আর সেই কাশির ওষুধও ভালো নয়।”
“নার্স!” উত্তর-পূর্বের বিছানা থেকে একজন সাদা চুলঅলা লোক চিৎকার করে বলল, “আমি কি আরও কিছু কফি খেতে পারি? আমি আরও কিছু কফি চাই।”
“আমি দেখব,” সে বলল এবং চলে গেল।
আমার জানালায় পাহাড় দেখা যাচ্ছিল, পাহাড় ঢাল বেয়ে উঠে যাচ্ছে। আমি পাহাড়ের ঢালের দিকে তাকালাম। অন্ধকার হয়ে আসছিল। পাহাড়ের ঢালে ঘর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। পুরনো বাড়িঘর। আমার অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল যে তারা ফাঁকা পড়ে আছে, যে সবাই মারা গেছে, যে সবাই হাল ছেড়ে দিয়েছে। খাবার, ওয়ার্ডের দাম, ডাক্তার এবং নার্সদের সম্পর্কে তিনজন লোক অভিযোগ করছে আমি শুনতে পেলাম। যখন একজন কথা বলত তখন মনে হচ্ছিল অন্য দুজন শুনছে না, তারা কোনও উত্তর দিচ্ছিল না। তারপর আরেকজন শুরু করত। তারা পালাক্রমে কথা বলত। আর কিছুই করার ছিল না। তারা অস্পষ্টভাবে কথা বলত, বিষয় পরিবর্তন করত। আমি একজন ওকি, একজন সিনেমার ক্যামেরাম্যান এবং শুকোনো হলুদ মুতের-পাখিটার সঙ্গে ছিলাম। আমার জানালার বাইরে একটি ক্রুশ আকাশে ঘুরছিল- প্রথমে ছিলো নীল, তারপর লাল হয়ে ছিল। রাত হয়ে গিয়েছিল এবং তারা আমাদের বিছানার চারপাশে পর্দা টেনেছিল এবং আমি ভালো বোধ করছিলাম, কিন্তু অদ্ভুতভাবে বুঝতে পারলাম যে ব্যথা বা সম্ভাব্য মৃত্যু আমাকে মানবতার কাছাকাছি নিয়ে আসেনি। দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করলেন। আমার কোনও দর্শনার্থী ছিল না। আমি একজন সাধুর মতো অনুভব করছিলাম। আমি আমার জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আকাশে লাল এবং নীল ক্রুশের কাছে একটি চিহ্ন দেখতে পেলাম। মোটেল, এতে লেখা ছিল। দেহগুলো সেখানে ছিল আরও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে। চুদাক গিয়ে।
৭.
সবুজ পোশাক পরা এক দরিদ্র বদমাশ এসে আমার পাছা কামিয়ে দিল। পৃথিবীতে এত খারাপ চাকরি! একটা কাজই ছিল যা আমি মিস করেছিলাম।
তারা আমার মাথার উপর একটি শাওয়ারক্যাপ রেখে আমাকে একটি রোলারে ঠেলে দিল। এ ছিল তাই। অস্ত্রোপচার। কাপুরুষটি হলঘর দিয়ে মুমূর্ষূদের রুম পেরিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে নেমে আসছিল। সেখানে একজন পুরুষ এবং একজন নারী ছিল। তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে হাসল, তারা খুব আরামে ছিল। তারা আমাকে একটি লিফটে তুলে দিল। লিফটে চারজন নারী ছিল।
“আমি অস্ত্রোপচারে যাচ্ছি। তোমাদের মধ্যে কোন নারী কি আমার সাথে জায়গা পরিবর্তন করতে আগ্রহী?”
তারা দেয়ালের সাথে দাঁড়িয়ে ছিল এবং কোন উত্তর দেয়নি।
অস্ত্রোপচার কক্ষে আমরা ঈশ্বরের আগমনের অপেক্ষায় ছিলাম। ঈশ্বর অবশেষে প্রবেশ করলেন: “পর্দা, পর্দা, পর্দা, আমার বন্ধুরা আছেন!”
আমি এমন মিথ্যার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করিনি।
“দয়া করে পেট খুলে দাও।”
“আচ্ছা,” আমি বললাম, “আমার মনে হয় এখন আমার মন পরিবর্তনের জন্য অনেক দেরি হয়ে গেছে।”
“হ্যাঁ,” ঈশ্বর বললেন, “তুমি এখন আমাদের ক্ষমতায়!”
আমি অনুভব করলাম যে আমার পিঠের উপর দিয়ে স্ট্র্যাপটি চলে গেছে। তারা আমার পা ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রথমটি মেরুদ- দিয়ে ঢুকে গেছে। মনে হচ্ছিল সে আমার পাছা এবং আমার পিঠের উপর তোয়ালে ছড়িয়ে দিচ্ছে। মেরুদ- দিয়ে আরেকটি। তৃতীয়টি। আমি বারবার তাদের ঠোঁট চেপে ধরছি। কাপুরুষ, শোম্যান, অন্ধকারে শিস দিচ্ছে।
“ওকে ঘুম পাড়িয়ে দাও, হ্যাঁ,” সে বলল। আমি কনুইতে আঘাত পেলাম, দংশন হচ্ছিল। ভালো না। আমার পিছনে অনেক মাতাল।
“কারো হাতে সিগারেট আছে?” আমি জিজ্ঞাসা করলাম।
কেউ কেউ হেসে উঠল। আমি বিরক্ত হয়ে উঠছিলাম। খারাপ হলো মেজাজ। আমি চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম।
ছুরিটা আমার পাছায় টানা হচ্ছে টের পাচ্ছিলাম। কোনও ব্যথা হচ্ছিল না।
“এখন এটা,” আমি তাকে বলতে শুনলাম, “এটাই মূল বাধা, দেখছো? আর এখানে...”
৮.
রিকভারি রুমটা ছিল নিস্তেজ। কিছু সুন্দরী মহিলা ঘুরে বেড়াচ্ছিল কিন্তু তারা আমাকে উপেক্ষা করছিল। আমি কনুইয়ে উঠে চারপাশে তাকালাম। সবখানেই শরীর। খুব সাদা আর স্থির। সত্যিকারের অস্ত্রোপচার। রক্তকাশি। হৃদরোগী। সবকিছু। আমি কিছুটা অপেশাদার এবং কিছুটা লজ্জিত বোধ করছিলাম। যখন তারা আমাকে সেখান থেকে বের করে আনলো তখন আমি খুশি হয়েছিলাম। আমার তিন রুমমেট যখন আমাকে গুটিয়ে আনলো তখন সত্যিই তাকিয়ে রইল। খারাপ অবস্থা। আমি জিনিসটা বিছানায় গুটিয়ে দিলাম। আমি দেখতে পেলাম যে আমার পা এখনও অসাড় এবং আমার তাদের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। আমি ঘুমাতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। পুরো জায়গাটা হতাশাজনক ছিল। যখন আমি জেগে উঠলাম তখন আমার পাছা সত্যিই ব্যথা করছিল। কিন্তু পা তখনও নিস্তেজ। আমি আমার লিঙ্গের জন্য হাত বাড়ালাম এবং মনে হচ্ছিল যেন তা সেখানে নেই। মানে, কোনও অনুভূতি ছিল না। আমি মুততে চেয়েছিলাম এবং তা পারছিলাম না। এটা ভয়াবহ ছিল এবং আমি এটি ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম।
আমার এক প্রাক্তন প্রেমিকা এসে আমার দিকে তাকিয়ে বসে রইল। আমি তাকে বলেছিলাম যে আমি ভিতরে যাচ্ছি। ঠিক কী কারণে, আমি জানি না।
“হাই! কেমন আছো?”
“ভালো, কেবল মুততে পারছি না।”
সে হেসেছিল।
আমরা কিছু একটা নিয়ে একটু কথা বলেছিলাম এবং তারপর সে চলে গেল।
৯.
এটা সিনেমার মতো ছিল: সব পুরুষ নার্সদের সমকামী বলে মনে হচ্ছিল। একজনকে অন্যদের চেয়ে বেশি পুরুষালি মনে হচ্ছিল।
“আরে, বন্ধু!”
সে এসেছিল। “আমি মুততে পারছি না। আমি মুততে চাই কিন্তু পারছি না।”
“আমি এখনই ফিরে আসছি। তোমাকে ঠিক করে দেব।”
আমি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর সে ফিরে এসে আমার বিছানার চারপাশে পর্দা টেনে বসল।
যীশু, আমি ভাবলাম, সে কী করতে চায়? সে কি আমাকে মুখ-মৈথুন করে দেবে?
কিন্তু আমি তাকিয়ে দেখলাম তার সাথে মনে হলো কোন যন্ত্র আছে। আমি দেখলাম সে একটি ফাঁপা সুচ নিয়ে আমার ধোনে মুতের থলিতে ঢুকিয়ে দিলো। যে অনুভূতিটা আমি ভেবেছিলাম আমার ধোন থেকে চলে গেছে তা হঠাৎ ফিরে এলো।
“ধুর, বাল!” আমি ফিসফিস করে বললাম।
“পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দদায়ক জিনিস নয়, তাই কি?”
“সত্যিই, সত্যিই। আমি একমত হতে চাইলাম। শিস শি-স-স! হাগু! ছিঃ!”
“দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে।”
সে আমার মূত্রাশয়ের উপর চাপ দিল। দেখতে পেলাম মাছের ছোট্ট চৌকো বাটিটি মুতে ভরে যাচ্ছে। এটি ছিল সিনেমার ফেলে রাখা অংশগুলির মধ্যে একটি।
“হে ঈশ্বর, বন্ধু, করুণাময়! আসুন একে শুভ রাত্রির কাজ বলি।”
“এক মুহূর্ত। এখন।”
সে সূঁচটি বের করল। জানালা দিয়ে আমার নীল এবং লাল ক্রসটি ঘুরে গেলো ঘুরে গেলো। খ্রিস্ট তার পায়ের কাছে এক টুকরো শুকনো তালু দিয়ে দেয়ালে ঝুলছিলেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে মানুষ দেবতাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে। একে সোজা করে দেখা বেশ কঠিন ছিল।
“ধন্যবাদ,” আমি নার্সকে বললাম।
“যেকোনো সময়, যেকোনো সময়।” সে পর্দাটি পিছনে টেনে তার যন্ত্রটি নিয়ে চলে গেল।
আমার হলুদ মুতের-পাখিটি তার বোতামে চাপ দিল।
“কোথায় ওই নার্স? ওহ কেন ওহ কেন ওই নার্স আসে না?”
সে আবার জোরে বলল।
“আমার বোতামটা কি কাজ করছে? আমার বোতামে কি কোন সমস্যা আছে?”
নার্স ভেতরে এলো।
“আমার পিঠে ব্যথা করছে! ওহ, আমার পিঠে ব্যথা করছে, ভীষণ! কেউ আমার সাথে দেখা করতে আসেনি! আমার মনে হয় তোমরা তা লক্ষ্য করেছো! কেউ আমাকে দেখতে আসেনি! এমনকি আমার স্ত্রীও না! আমার স্ত্রী কোথায়? নার্স, আমার বিছানাটা তুলে দাও, আমার পিঠে ব্যথা লাগছে! ওখানে! আরও উপরে! না, না, আমার ঈশ্বর, তুমি এটা অনেক ভয়াবহ করে ফেলেছো! নীচে, নীচে! ওখানে। থামো! আমার রাতের খাবার কোথায়? আমি রাতের খাবার খাইনি! তাকাও...।”
নার্স বেরিয়ে গেল।
আমি ছোট্ট মুতের মেশিনটা নিয়ে ভাবছি। আমাকে সম্ভবত একটা কিনতে হবে, সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে। সরু-গলির ভেতর, গাছের আড়ালে, আমার গাড়ির পিছনের সিটে লুকিয়ে রাখতে হবে।
এক নম্বর বিছানায় শুয়ে থাকা ওয়াকি [ মহামন্দায় ওকলাহামা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় আসা শ্রমিক-অনুবাদক] খুব বেশি কিছু বলেনি। “এটা আমার পা,” হঠাৎ সে দেয়ালগুলোকে বলল, “আমি এটা বুঝতে পারছি না, আমার পা রাতারাতি ফুলে গেল এবং এটি আর নিচে নামে না। ব্যথা আর ব্যথা।”
কোণার সাদা চুলওয়ালা লোকটি তার বোতাম টিপল।
“নার্স,” সে বলল, “নার্স, আমাকে এক কাপ কফি দিলে কেমন হয়?”
সত্যি বলতে, ভাবলাম আমি, আমার প্রধান সমস্যাই হলো পাগল না হওয়া।
১০.
পরের দিন বুড়ো সাদা চুলওয়ালা (সিনেমার ক্যামেরাম্যান) তার
কফি নিয়ে আমার বিছানার পাশে একটা চেয়ারে বসল। “আমি ওই কুত্তার বাচ্চাটারে সইতে পারি না।” সে হলুদ মুতের-পাখিটির কথা বলছিল। আচ্ছা, সাদা চুলের লোকটার সাথে কথা বলা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না আমার। আমি তাকে বলেছিলাম যে পানীয় আমাকে জীবনের বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছে। আমি তাকে আমার কিছু মাতাল-পাগলামি এবং ঘটে যাওয়া কিছু ক্ষ্যাপাটে ঘটনার কথা বলেছিলাম। তার নিজেরও কিছু মজার ঘটনা ছিল।
“পুরানাকালে,” সে আমাকে বলল, “গ্লেনডেল এবং লং বিচের মধ্যে বড় লাল গাড়ি চলত, আমার বিশ্বাস, তাই ছিল। তারা সারাদিন এবং রাতের বেশির ভাগ সময় চলত, দেড় ঘণ্টার বিরতি ছাড়া, আমার মনে হয় ভোর ৩:৩০ থেকে ৫:৩০ এর মধ্যে। আচ্ছা, একদিন রাতে আমি মদপান করতে গিয়েছিলাম এবং বারে আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছিল এবং বার বন্ধ হওয়ার পরে আমরা তার বাড়িতে গিয়েছিলাম এবং সেখানে তার অবশিষ্ট যা পড়ে ছিল খেয়ে নিয়েছিলাম। আমি তার জায়গা ছেড়ে গেলাম, বলা যায় পথ হারিয়ে ফেললাম। একটি অচল রাস্তায় আমি ঘুরছিলাম কিন্তু জানতাম না যে এটি অচল। আমি গাড়ি চালাতে থাকলাম এবং বেশ দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছিলাম। আমি রেললাইনে না পৌঁছানো পর্যন্ত চলতে থাকি। যখন আমি ট্র্যাকে ধাক্কা মারি, তখন আমার স্টিয়ারিং হুইল উঠে এসে আমার থুতনিতে আঘাত করে এবং আমাকে ছিটকে ফেলে দেয়। সেখানে সেসব ট্র্যাকের ওপারে ছিটকে যাওয়া গাড়িটিতে আমি ছিলাম। আমার ভাগ্যটা কেবল ভালো ছিল, কারণ এটা সেই দেড় ঘণ্টা ছিল যখন কোনও ট্রেন চলছিল না। আমি জানি না কতক্ষণ সেখানে বসেছিলাম। কিন্তু ট্রেনের হর্ন আমাকে জাগিয়ে তুলল। আমি ঘুম থেকে উঠে দেখলাম যে এই ট্রেনটি ট্র্যাক ধরে নেমে আসছে আমার দিকে। আমার হাতে শুধু গাড়ি স্টার্ট করে ফিরে যাওয়ার সময় ছিল। ট্রেনটি ছিটকে গেল। আমি গাড়িটি বাড়ি নিয়ে গেলাম, সামনের চাকাগুলো সব বাঁকানো এবং টলমল করছিল।”
“ওটা ছিলো বেশ বিপজ্জনক।”
“আরেকবার আমি বারে বসে আছি। ঠিক রাস্তার ওপারে একটা জায়গা যেখানে রেলের কর্মীরা খাচ্ছিল। ট্রেন থামল এবং লোকগুলো খেতে বের হলো। আমি এই বারের এক লোকের পাশে বসে আছি। সে আমার দিকে ফিরে বলল, ‘আমি আগে ওইগুলার একটা চালাতাম এবং আমি আবারও একটা চালাতে পারি। এসো, দেখো আমি এটা চালু করি।’ আমি তার সাথে বের হলাম এবং আমরা ইঞ্জিনে উঠলাম। অবশ্যই, সে জিনিসটা চালু করল। আমরা বেশ গতিতে চলতে লাগলাম। তারপর ভাবতে লাগলাম, আমি কী করছি? আমি লোকটিকে বললাম, ‘তোমার কথা জানি না কিন্তু আমি নামছি!’ ট্রেন সম্পর্কে এতটুকু জানতাম যে ব্রেক কোথায় আছে তা আমি বুঝতে পারছিলাম। আমি ব্রেক চাপলাম এবং এমনকি ট্রেন থামার আগেই আমি পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেলাম। সে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল এবং আমি তাকে আর দেখতে পেলাম না। কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেনের চারপাশে বিশাল ভিড়, পুলিশ, ট্রেন তদন্তকারী, চত্বরের আবাল, সাংবাদিক, দর্শক। আমি একপাশে দাঁড়িয়ে বাকিদের সাথে দাঁড়িয়ে আছি, দেখছি। ‘চলো, উপরে গিয়ে দেখি কি হচ্ছে!’ আমার পাশের কেউ বলল। ‘না, জাহান্নাম,’ আমি বললাম, ‘এটা তো একটা ট্রেন।’ আমি ভয় পেয়েছিলাম যে হয়তো কেউ আমাকে দেখেছে। পরের দিন খবরের কাগজে একটা গল্প ছিল। শিরোনামে বলা হলো, ট্রেন নিজেই পাকোইমায় যায়। আমি গল্পটি কেটে সংরক্ষণ করেছিলাম। আমি দশ বছর ধরে সেই ক্লিপিংটি সংরক্ষণ করেছিলাম। আমার স্ত্রী সাধারণত এটি দেখতো। ‘তুমি এই গল্পটি কেন সংরক্ষণ করছো? - ট্রেন নিজেই পাকোইমায় যায়।’ আমি তাকে কখনও বলিনি। আমি তখনও ভয় পাচ্ছিলাম। তুমিই প্রথম যাকে আমি গল্পটা বললাম।’
“চিন্তা করো না,” আমি তাকে বললাম, “আর কখনও কেউ এই গল্প শুনতে পাবে না।”
তারপর আমার গুয়া সত্যিই লাফাতে শুরু করল এবং সাদাচুল আমাকে একটি শট নিতে পরামর্শ দিল। আমি বললাম। নার্স আমাকে একটা শট দিলো। সে যখন চলে গেল তখন পর্দাটা টেনে দিয়েছিল কিন্তু সাদাচুল সেখানে বসেই রইল। আসলে, তার একজন অতিথি এসেছিল। গলারস্বরসহ একজন অতিথি আমার চুদনা পেটের মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে তলিয়ে গেল। সে একে সত্যিই বাইরে পাঠিয়ে দিল।
“আমি উপসাগরের ঘাড়ের চারপাশে সমস্ত জাহাজ সরিয়ে নেব। আমরা ঠিক সেখানে শিকার-ভূমি বানাবো। আমরা সেই নৌকাগুলির একটির ক্যাপ্টেনকে মাসে ৮৯০ ডলার দিচ্ছি এবং তার অধীনে দুটি ছেলে আছে। আমাদের এই নৌবহরটি ঠিক সেখানেই পৌছে গেছে। একে কাজে লাগানো হোক, আমি মনে করি। জনসাধারণ তৈরি হয়ে রয়েছে সাগরের একটি ভাল গল্পের জন্য। এরল ফ্লিনের পর থেকে তাদের কাছে সাগরের কোন ভালো গল্প নেই।”
“হ্যাঁ,” সাদাচুল বলল, “ওই জিনিসগুলি চক্রাকারে চলে। জনসাধারণ এখন প্রস্তুত।” তাদের সাগরের একটা ভালো গল্পের প্রয়োজন।”
“অবশ্যই, অনেক বাচ্চা আছে যারা কখনও সাগরের গল্প দেখেনি। আর বাচ্চাদের কথা বলতে গেলে, আমি শুধু এটুকুই ব্যবহার করব। আমি সমস্ত নৌকাতেই ছুটোছুটি করবো। আমরা কেবল বয়স্কদের ব্যবহার করব যারা নেতৃত্ব দেবে। আমরা কেবল এই জাহাজগুলিকে উপসাগরে নিয়ে যাই এবং ঠিক সেখানেই শিকার-ভুমি বানাই। দুটি জাহাজের মাস্তুলের প্রয়োজন, তাদের কাছে এটাই শুধু সমস্যা। আমরা তাদের মাস্তুল দেব এবং তারপরই শুরু করবো।”
“জনসাধারণ নিশ্চিত একটি সমুদ্র গল্পের জন্য প্রস্তুত। এটি একটি চক্কর এবং চক্করটি বাকি আছে।”“তারা বাজেট নিয়ে চিন্তিত। জাহান্নামে যাক, এর কোনও খরচ হবে না। কেন-”
আমি পর্দাটি সরিয়ে সাদাচুলকে বললাম। “দেখো, তুমি হয়তো আমাকে একটা জারজ ভাবতে পারো, কিন্তু তোমরা সবাই তো ঠিক আমার বিছানার বিপরীতে। তুমি কি তোমার বন্ধুকে তোমার বিছানায় নিয়ে যেতে পারো না?”
“অবশ্যই, অবশ্যই!”
নির্মাতা উঠে দাঁড়ালেন। “ওফ, আমি দুঃখিত। আমি জানতাম না . . ’’
তিনি মোটা এবং নোংরা ছিলেন; সন্তুষ্ট, খুশি, বিরক্তিকর।
“ঠিক আছে,” আমি বললাম।
তারা সাদাচুলের বিছানায় গিয়ে বসলো এবং সাগরের গল্প নিয়ে কথা বলতে লাগল। কুইন অফ অ্যাঞ্জেলস হসপিটালের অষ্টম তলায় থাকা সমস্ত মুমূর্ষু ব্যক্তি সাগরের গল্প শুনতে পেল। নির্মাতা অবশেষে চলে গেলেন।
সাদাচুল আমার দিকে তাকাল। “ওই তো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ নির্মাতা। জীবিত যেকোনো মানুষের চেয়েও তিনি অনেক ভালো ছবি তৈরি করেছেন। তিনি ছিলেন জন এফ।”
“জন এফ,” মুতের-পাখিটি বলল, “হ্যাঁ, তিনি কিছু দারুণ ছবি তৈরি করেছেন, দারুণ ছবি!”
আমি ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। রাতে ঘুমানো কঠিন ছিল কারণ সবাই নাক ডাকত। একসাথে। সাদাচুল সবচেয়ে জোরে নাক ডাকতো। সকালে সে সবসময় আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে অভিযোগ করত যে সে ঘুমায়নি। সেই রাতে হলুদ মুতের-পাখিটি রাতভর চিৎকার করলো। প্রথমত কারণ সে কিছুতেই কিছু করতে পারত না। আমাকে খুলে ফেলো, আমার ঈশ্বর, আমার হাগু পেয়েছে! অথবা তার ব্যথা লাগত। অথবা তার ডাক্তার কোথায় ছিল? সে বিভিন্ন ডাক্তার দেখাতে লাগল। একজন তাকে সামলাতে পারত না এবং আরও একজন তার দায়িত্ব নিত। তারা তার মধ্যে কোনও ত্রুটি খুঁজে পেত না। কিছুই ছিল না: সে তার মাকে চাইত কিন্তু তার মা-তো মারা গিয়েছিল।
১১.
অবশেষে একটি আধা-বেসরকারি ওয়ার্ডে আমাকে স্থানান্তরের জন্য তাদেরকে অনুরোধ করলাম। কিন্তু এ ছিল আরও খারাপ পদক্ষেপ। তার নাম ছিল হার্ব এবং পুরুষ নার্সের মতোই আমাকে বলেছিলেন, “সে অসুস্থ নয়। তার কোনও সমস্যা নেই।” সে সিল্কের পোশাক পরেছিল, দিনে দুবার দাড়ি কামাত, তার একটি টিভি সেট ছিল যা সে কখনও বন্ধ করতো না, এবং সবসময় ভিজিটর থাকত। সে বেশ বড় একটি ব্যবসার প্রধান ছিল আর তারুণ্য, দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা এবং নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিতে তার ধূসর চুল ছোট রাখার রীতি মেনে চলত।
টিভিটা আমার কল্পনার চেয়েও খারাপ হয়ে উঠল। আমার কখনও টিভি ছিল না এবং তাই এর ব্যয়ের সাথে পরিচয় ছিল না। অটো রেসগুলো ঠিকঠাকই ছিল, আমি অটো রেসগুলো সহ্য করতে পারছিলাম, যদিও সেগুলো খুবই বিরক্তিকর ছিল। কিন্তু কোনো না কোনো কারণে ম্যারাথন ধরনের প্রতিযোগিতা চলছিল এবং তারা টাকা সংগ্রহ করছিল। সেসব খুব ভোরে শুরু হয়েছিল এবং ঠিকই চলেছিল। কত টাকা জড়ো হয়েছে তার ছোট ছোট সংখ্যা পোস্ট করা হয়েছিল। রাঁধুনির টুপি পরা কেউ একজন ছিল। আমি জানি না সে কী বোঝাতে চাইছিল। আর সেখানে ছিল একজন ভয়ংকর বুড়ি, যার মুখ ব্যাঙের মতো। সে ভীষণ কুৎসিত। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে এই লোকেরা জানত না যে কতটা কুৎসিত, নগ্ন, মাংসল এবং জঘন্য দেখাচ্ছে তাদের মুখগুলি- যা কিছু শোভন যেনো সবই ধর্ষিত। তবুও তারা কেবল এগিয়ে গেল এবং শান্তভাবে পর্দায় মুখ রাখল এবং একে অপরের সাথে কথা বলল এবং কোনও একটা বিষয় নিয়ে হেসে ওঠেছিল। রসিকতাগুলো ছিল খুব শক্ত তা নিয়ে হাসাহাসি করা খুব কঠিন ছিল কিন্তু তাদের কোনও সমস্যা হয় না বলে মনে হচ্ছিল। ঐসব মুখ, ঐসব মুখ! হার্ব এ ব্যাপারে কিছুই বলল না। সে কেবল এমনভাবে তাকিয়ে রইল যেন সে আগ্রহী। আমি লোকগুলোর নাম জানতাম না কিন্তু তারা সবাই একরকম তারকা ছিল। তারা নাম ঘোষণা করত এবং তারপর সবাই উত্তেজিত হয়ে উঠত- আমি ছাড়া। আমি বুঝতে পারছিলাম না। আমি একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। আমি যদি অন্য ঘরে ফিরে যেতে পারতাম। এরইমধ্যে, আমি প্রথম হাগার চেষ্টা করছিলাম। কিছুই হয়নি। কেবল ফোঁটা ফোঁটা রক্তের দলা। শনিবারের রাত ছিল। পুরোহিত এসেছিলেন। “আগামীকাল কি তুমি কমিউনিয়নের কথা ভাববে?” তিনি জিজ্ঞেস করলেন। “না, ধন্যবাদ বাবা, আমি খুব ভালো ক্যাথলিক নই। আমি ২০ বছর ধরে গির্জায় যাইনি।” “তুমি কি ক্যাথলিক বাপ্তিস্ম নিয়েছিলে?” “হ্যাঁ।” “তাহলে তুমি এখনও একজন ক্যাথলিক। তুমি কেবল একজন বোকা ক্যাথলিক।” ঠিক সিনেমায় যেমন- তিনি তুর্কি ভাষায় কথা বলেন, ঠিক ক্যাগনির মতো, নাকি প্যাট ও’ব্রায়েনের মতো, যে সাদা কলার পোশাক পরেছিলেন? আমার সব সিনেমাই পুরনো ছিল: শেষ যে সিনেমাটি দেখেছিলাম তা ছিল দ্য লস্ট উইকেন্ড। তিনি আমাকে একটি ছোট পুস্তিকা দিয়েছিলেন। “এটি পড়ো।” তিনি চলে গেলেন।
প্রার্থনা বই, এটা বললো। হাসপাতাল এবং প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য সংকলিত।
আমি পড়লাম।
হে চিরন্তন এবং চির-ধন্য ত্রিত্ব, পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা, সমস্ত ফেরেশতা এবং সাধুগণের সাথে, আমি তোমার উপাসনা করি।
আমার রানী এবং আমার মা, আমি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে তোমার কাছে সমর্পণ করি; আর তোমার প্রতি আমার ভক্তি প্রদর্শনের জন্য, আমি আজ আমার চোখ, কান, মুখ, হৃদয়, আমার সম্পূর্ণ অস্তিত্ব তোমার কাছে উৎসর্গ করছি।
যীশুর যন্ত্রণাদায়ক হৃদয়, মৃতদের প্রতি করুণা করো। হে আমার ঈশ্বর, আমার হাঁটু গেড়ে প্রণাম করি, আমি তোমার উপাসনা করি...
আমার সাথে যোগ দাও, হে ধন্য আত্মারা, করুণার ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে, যিনি এত অযোগ্য প্রাণীর প্রতি এত উদার।
প্রিয় যীশু, আমার পাপই তোমার তিক্ত যন্ত্রণার কারণ হয়েছে... আমার পাপই তোমাকে চাবুক মেরেছে, কাঁটার মুকুট পরিয়েছে, এবং তোমাকে ক্রুশে পেরেক দিয়ে আঘাত করেছে। আমি স্বীকার করছি যে আমি কেবল শাস্তির যোগ্য।
আমি উঠে হাগু করার চেষ্টা করলাম। তিন দিন হয়ে গেল। কিছুই না।
আবারও ফোঁটা ফোঁটা শুধু রক্তের দলা এবং আমার মলদ্বারের কাটা অংশ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসছে। হার্ব একটি কমেডি শোতে ছিল।
“আজ রাতে ব্যাটম্যান প্রোগ্রামে আসছে। আমি ব্যাটম্যানকে দেখতে চাই!”
“হ্যাঁ?” আমি আবার বিছানায় হামাগুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম।
আমার অধৈর্য ও রাগের পাপ, নিরুৎসাহ এবং বিদ্রোহের পাপের জন্য আমি বিশেষভাবে দুঃখিত।
ব্যাটম্যান এসে হাজির। অনুষ্ঠানের সকলেই উত্তেজিত দেখাচ্ছিল। “এটা ব্যাটম্যান!” হার্ব বলল।
“ভালো,” আমি বললাম, “ব্যাটম্যান।” দয়ালু হৃদয় মেরি, আমার ত্রাণকর্তা হও।
“সে গান গাইতে পারে! দেখো, সে গান গাইতে পারে!”
ব্যাটম্যান তার ব্যাটস্যুট খুলে স্ট্রিট-স্যুট পরেছিল। খুবই সাধারণ দেখতে সে ছিল একজন যুবক, যার মুখ কিছুটা ফাঁকা। সে গেয়েছিল। গানটি টিকে ছিল এবং ব্যাটম্যান তার গান গাওয়ার জন্য খুব গর্বিত বলে মনে হয়েছিল, কোনও কারণে।
“সে গান গাইতে পারে!” হার্ব বলল।
প্রিয় প্রভু, আমি কে আর তুমি কে, যে তোমার কাছে আসার সাহস করা আমার উচিত?
আমি কেবল একজন দরিদ্র, হতভাগ্য, পাপী প্রাণী, তোমার সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য।
আমি টিভি সেট থেকে মুখ ফিরিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। হার্ব এটা খুব জোরে বাজাচ্ছিল। আমার কানে কিছু তুলা ছিল যা দিয়ে আমি আটকে দিয়েছিলাম কিন্তু খুব কমই কাজে দিল। আর কখনও হাগু করব না, আমি ভেবেছিলাম, ফের কখনও হাগু করব না, ঐ জিনিসটা দিয়ে না। এটা আমার নাড়িভুড়ি শক্ত করে চেপে ধরেছে, শক্ত করে... এবার আমি অবশ্যই পাগল হয়ে যাব!
হে প্রভু, আমার ঈশ্বর, আজ থেকে আমি তোমার হাত থেকে স্বেচ্ছায় এবং আত্মসমর্পণের সাথে গ্রহণ করছি, যে ধরণের মৃত্যু তুমি আমাকে পাঠিয়ে খুশি করবে, তার সমস্ত দুঃখ, যন্ত্রণা এবং সন্তাপ সহ। (স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতিদিন একবার পূর্ণাঙ্গ ভোগ।)
অবশেষে, রাত ১:৩০ টায় আমি আর নিজেকে সমর্পণ করতে পারছিলাম না। আমি সকাল ৭টা থেকে শুনছিলাম। আমার হাগু অনন্তকালের জন্য বন্ধ ছিল। সেই সাড়ে আঠারো ঘণ্টার মধ্যে আমার মনে হয়েছিল যে ক্রুশের জন্য কষ্টভোগ করেছি। আমি ঘুরে দাঁড়াতে পারলাম।
“হার্ব! তোর খ্রীষ্টের দোহাই! আমি এটা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবো! আমার নাটবল্টু খুলে গেছে প্রায়! হার্ব! মাফ চাই! টিভি আর সহ্য করতে পারছি না! মানবজাতি আর সহ্য করতে পারছি না! হার্ব! হার্ব!”
সে ঘুমিয়ে, বসে ছিল।
“তুমি নোংরা, যোনী-চোষা” আমি বললাম।
“কি? কি???”
“তুমি ওটা কেন বন্ধ করো না?”
“বন্ধ .. . করা? আহ, অবশ্যই, অবশ্যই... তুমি কেন এটা বলো না, বৎস্য?”
১২.
হার্বও নাক ডাকছিল। ঘুমে সেও কথা বলছিল। আমি ভোর ৩:৩০ মিনিটের দিকে ঘুমাতে গেলাম। যেন একটা টেবিল টেনে হলের ভেতর দিয়ে নামানো হচ্ছে এমন একটা শব্দে ভোর ৪:১৫ মিনিটে আমার ঘুম ভেঙে গেল। হঠাৎ আলো জ্বলে উঠল এবং আমার সামনে মোটা কালো এক মহিলা একটা ক্লিপবোর্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আহ যীশু, সে ছিল কুৎসিত এবং মূর্খ, দেখতে বালিকা, মার্টিন লুথার কিং এবং জাতিগত সমতা চুলোয় যাক! সে সহজেই আমার ভেতর থেকে হাগু বের করে দিতে পারত। হয়তো তা একটা দারুণ ভাবনা হতো? হয়তো এটা শেষ কৃত্য ছিল? হয়তো আমি শেষ হয়ে গিয়েছিলাম?
“দেখো সোনা,” আমি বললাম, “কী হচ্ছে তুমি কি তা আমাকে বলতে চাও না? এটাই কি শেষ পরিণতি?”
“তুমি কি হেনরি চিনাস্কি?”
“আমি অনেক ভয় পাচ্ছি।”
“তুমি কমিউনিয়নের জন্য প্রস্তুত।”
“না, অপেক্ষা করো! তিনি তার সিগনাল অতিক্রম করে ফেলেছেন। আমি তাকে বলেছিলাম। কমিউনিয়ন নেই।”
“ওহ,” শে বললো। পর্দা টেনে সে আলো নিভিয়ে দিল। টেবিল বা অন্য কিছুর শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম, হলের আরও নিচে যাচ্ছিল। পোপ আমার উপর খুব অসন্তুষ্ট হতে যাচ্ছিলেন। টেবিলটা কোলাহলের নরক বানিয়ে ফেলল। অসুস্থ এবং মুমূর্ষুদের জেগে ওঠা, কাশি দেওয়া, বাতাসে প্রশ্ন ছুড়ে মারা, নার্সদের জন্য ডাকাডাকি আমি শুনতে পাচ্ছিলাম ।
“ওটা কী ছিল, বৎস্য?” হার্ব জিজ্ঞাসা করল।
“কোনটা কী ছিল?”
“ওই সব কোলাহল আর আলো?”
“ওটা ব্যাটম্যানের অন্ধকার কঠোর দেবদূত যিনি খ্রিস্টের দেহ প্রস্তুত করছিলেন।”
“কী?”
“ঘুমাতে যাও।”
১৩.
পরের দিন সকালে ডাক্তার এসে ঝুঁকে আমার পাছাটা দেখে বললেন, আমি বাড়ি যেতে পারি। “কিন্তু, বৎস্য আমার, ঘোড়ায় চড়তে যেয়ো না, ঠিক আছে?”
“হ্যাঁ। কিন্তু আকর্ষণীয় কোন যোনী কেমন হবে?”
“ভোট?”
“যৌন মিলন।”
“ওহ, না, না! স্বাভাবিকভাবে কোনকিছু শুরু করতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ লাগবে।”
সে বেরিয়ে গেল এবং আমি পোশাক পরতে শুরু করলাম। টিভি আমাকে বিরক্ত করল না। স্ক্রিনে কেউ বলল, “আমি ভাবছি আমার স্প্যাগেটি শেষ হয়ে গেছে?” সে পাত্রের মধ্যে মুখ ঢুকিয়ে দিল এবং যখন সে উপরের দিকে তাকাল, তখন সমস্ত স্প্যাগেটি তার মুখের সাথে লেগে গেল। হার্ব হেসে উঠল। আমি তার সাথে করমর্দন করলাম। “এতক্ষণ বৎস্য,” আমি বললাম। “ভালো হয়েছে,” সে বলল। “হ্যাঁ,” আমি বললাম। যখন তা ঘটেছিল তখন আমি চলে যেতে প্রস্তুত। আমি হাগুপাত্রের কাছে দৌড়ে গেলাম। রক্ত আর গু। গু আর রক্ত। এটা এতটাই যন্ত্রণাদায়ক ছিল যে আমি দেয়ালের সাথে কথা বলতে বাধ্য হলাম। “ওহ, মা, তুই একটা নোংরা জারজ, ওহ হাগু, হাগু, ওহ আয় তুই,-পাগলাচুদা ক্ষ্যাপা, ওহ জঘন্য লিঙ্গ-চোষার স্বর্গ, সর! হাগু, হাগু, হাগু, ওফ!
অবশেষে এটা থামল। নিজেকে পরিষ্কার করলাম, গজ ব্যান্ডেজ পরলাম, প্যান্ট খুলে বিছানায় গেলাম, আমার ভ্রমণ ব্যাগটা তুলে নিলাম।
“অনেকক্ষণ লাগল। হার্ব, বৎস্য।”
“অনেকক্ষণ, বৎস্য।”
বুঝতে পারলে তুমি। আমি আবার সেখানে দৌড়ে গেলাম।
“তুই নোংরা চুৎমারানি, বিড়াল-চোদা, ওওওওওও, হাগুহাগুহাগু- হাগু!”
আমি বেরিয়ে এলাম এবং কিছুক্ষণ বসে রইলাম। কমই নড়াচড়া করলাম এবং তারপর মনে হলো আমি প্রস্তুত। নীচে গেলাম এবং বিলগুলিতে অদৃষ্টকে স্বাক্ষর করলাম। কিছুই পড়তে পারছিলাম না আমি। তারা আমাকে ট্যাক্সি ডেকে পাঠাল এবং আমি অ্যাম্বুলেন্সের প্রবেশপথের বাইরে অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম। আমার সঙ্গে ছিল ছোট্ট সিটজ বাথ। একটা হাগুপাত্র গরম জল দিয়ে ভরার পর এতে আপনি হাগু করতে পারেন। বাইরে তিনজন ওকি [মহামন্দার কারণে ওকলাহোমা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় আসা শ্রমিক-অনুবাদক] দাঁড়িয়ে ছিল, দুজন পুরুষ এবং একজন নারী। তাদের কণ্ঠস্বর উঁচু এবং দক্ষিণী টান ছিল এবং তাদের চোখেমুখে এমন ভাব ছিল যেন তাদের কখনও কিছুই হয়নি-এমনকি দাঁতের ব্যথাও না। আমার পাছা লাফাতে শুরু করল এবং টনটনে ব্যথা শুরু হলো। আমি বসতে চেষ্টা করলাম কিন্তু তা ছিল ভুল। তাদের সাথে একটি ছোট ছেলে ছিল। সে দৌড়ে এসে আমার হাগুপাত্রটি ধরার চেষ্টা করল। সে টান দিল। “না, হে জারজ, না,” আমি তাকে ফিসফিস করে বললাম। সে প্রায় বুঝতে পেরেছিল। সে আমার চেয়ে শক্তিশালী ছিল কিন্তু ধরে রেখেছিলাম।
হে যীশু, তোমার কাছে আমার বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, হিতৈষী, শিক্ষক এবং বন্ধুদের প্রশংসা করছি। তাদের যে যতœ পেয়েছি আমি এবং যে দুঃখ দিয়েছি তার জন্য তাদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করুন।
“ওরে ক্ষুদে ইতর! আমার বাজে হাগুপাত্র থেকে হাত ছেড়ে দাও!” আমি তাকে বললাম।
“ডনি! ওই লোকটিকে একা ছেড়ে দাও!” মহিলাটি তাকে চিৎকার করে বলল।
ডনি দৌড়ে গেল। মানুষজনের লোক আমার দিকে তাকাল। “হাই!” সে বলল। “হাই,” আমি উত্তর দিলাম।
ওই ক্যাবটি দেখতে ভালোই লাগছিল। “চিনাস্কি?”
“হ্যাঁ। চলো যাই।” আমি আমার হাগুপাত্র নিয়ে সামনে ঢুকলাম। আমি এক গালে হাত রেখে বসে পড়লাম। তাকে দিকনির্দেশনা দিলাম। তারপর, “শোনো, যদি আমি সাইনবোর্ড, পেট্রোল পাম্প, কোথাও পেছন থেকে চিৎকার করে বলি। গাড়ি চালানো কিন্তু বন্ধ করো। আমাকে হয়তো হাগুপাত্রে হাগা করতে হবে।”
“ঠিক আছে।”
আমরা গাড়ি চালিয়ে গেলাম। রাস্তাগুলি ভালো দেখাচ্ছিল। দুপুর হয়ে গেছে। আমি তখনও বেঁচে ছিলাম। “শোনো,” আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “ভালো বেশ্যাখানা কোথায়? আমি কোথায় পরিষ্কার ও সস্তা একটা গুয়া কিনতে পারি?”
“আমি ওই জিনিস সম্পর্কে কিছুই জানি না।”
“এসো! এসো!” আমি তাকে চিৎকার করে বললাম। “আমি কি দেখতে পুলিশের মতো? আমি কি পুলিশের টিকটিকির মতো দেখতে? তুমি আমার সাথে সমান হতে পারো। চমৎকার!”
“না, আমি মজা করছি না। আমি ওসব জিনিস সম্পর্কে জানি না। আমি দিনের আলোতে গাড়ি চালাই। হয়তো রাতের ক্যাবচালক তোমাকে সঠিক পথে নিতে পারে।”
“ঠিক আছে, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। এখানে মোড় নাও।”
সমস্ত উঁচু অ্যাপার্টমেন্টের মাঝখানে বসে থাকা পুরনো কুঁড়েঘরটি দেখতে ভালো লাগছিল। আমার ‘৫৭ প্লাইমাউথটি পাখির গুয়ে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল এবং টায়ারগুলি ছিল অর্ধেক চ্যাপ্টা। আমি শুধু চাইছিলাম গরম পানির স্নান। গরম পানির স্নান। আমি বেচারা গুয়ায় গরম পানি দিতে চেয়েছিলাম। শান্ত-চুপচাপ। ঘোড়দৌড়ের পুরানো ফর্ম। গ্যাস এবং আলোর বিল। চুদার পক্ষে অতিদূরে থাকা একাকী নারীদের কাছ থেকে আসা চিঠিগুলি। পানি। গরম পানি। শান্ত। আর আমিও দেয়াল ভেদ করে ছড়িয়ে পড়লাম, আমার অভিশপ্ত আত্মার ম্যানহোলে ফিরে এলাম। আমি তাকে একটা ভালো টিপ দিলাম এবং ধীরে ধীরে ড্রাইভওয়ে ধরে উপরে উঠলাম। দরজা খোলা ছিল। প্রশস্ত। কেউ কিছু একটার উপর হাতুড়ি মারছিল। বিছানা থেকে চাদর পড়ে ছিল। ঈশ্বর আমার, আমার উপরে তল্লাশি চালানো হয়েছিল! আমাকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল!
আমি ভেতরে ঢুকলাম। “এই!” চিৎকার করে উঠলাম।
বাড়িওয়ালা সামনের ঘরে ঢুকে পড়ল। বাড়িওয়ালা সামনের ঘরে ঢুকলেন। “ওহ, আমরা আশা করিনি তুমি এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে! গরম পানির ট্যাঙ্কটি লিক করছিল এবং আমাদের এটি কেটে ফেলতে হয়েছিল। আমরা নতুন একটা লাগাবো।”
“তুমি বলতে চাচ্ছ, গরম পানি নেই?”
“না, গরম পানি নেই।”
হে সদয় যীশু, তুমি আমার উপর যে বিচার চাপিয়েছ, আমি স্বেচ্ছায় তা গ্রহণ করছি।
তার স্ত্রী ভেতরে ঢুকে পড়ল।
“ওহ, আমি তোমার বিছানা ঠিক করে দিতে যাচ্ছিলাম।”
“ঠিক আছে। চমৎকার।”
“তার আজ পানির ট্যাঙ্কের সংযোগ স্থাপন করা উচিত। যন্ত্রাংশের অভাব হতে পারে। রবিবার যন্ত্রাংশ পাওয়া কঠিন।”
“ঠিক আছে, আমি বিছানা ঠিক করে নেব,” আমি বললাম।
“আমি তোমার জন্য এটি তৈরি করে দেব।”
“না, প্লিজ, আমি এটি তৈরি করে নেব।”
আমি শোবার ঘরে গিয়ে বিছানা গোছাতে শুরু করলাম। তারপর তা এলো। টয়লেটে কোনরকম ছুটে গেলাম। বসার সাথে সাথে তাকে পানির ট্যাঙ্কে হাতুড়ি মারতে শুনতে পেলাম। আমি খুশি হয়েছিলাম যে সে হাতুড়ি মারছে। আমি শান্ত গলায় একটা বক্তৃতা ঝাড়লাম। তারপর আমি বিছানায় গেলাম। পাশের অঙ্গনে সেই দম্পতির কথা শুনতে পেলাম। সে মাতাল ছিল। তারা তর্ক করছিল। “তোমার সমস্যা হলো তোমার কোন ধারণাই নেই! তুমি কিছুই জানো না! তুমি বোকা! আর তার উপর, তুমি একটা বেশ্যা!”
আমি আবার ঘরে ফিরে এলাম। দারুণ লাগলো। আমি পেটের উপর ভর দিয়ে গড়িয়ে পড়লাম। ভিয়েতনামে সেনাবাহিনীর আক্রমণ করছিল। গলিতে গলিতে বোকারা মদের বোতল চুষছিল। সূর্য তখনও উঠেছিল। পর্দা ভেদ করে সূর্যের আলো এসে পড়ল। জানালার ধারে একটা মাকড়সা হামাগুঁড়ি দিয়ে হাঁটছিল। মেঝেতে একটা পুরনো খবরের কাগজ দেখলাম। বেড়া লাফিয়ে পার হওয়া তিন তরুণীর ছবি ছিল, তারা পায়ের অনেকটাই দেখাচ্ছিল। পুরো জায়গাটা আমার মতো দেখতে লাগছিল এবং আমার মতোই গন্ধ ছড়াচ্ছিল। ওয়ালপেপারটা আমাকে চিনত। এটা নিখুঁত ছিল। “আমি আমার পা, কনুই এবং চুল সম্পর্কে সচেতন ছিলাম। আমার বয়স ৪৫ বছর বলে মনে হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল আমি যেন একজন অভিশপ্ত সন্ন্যাসীর মতো, যার সবেমাত্র একটা আত্মদীপ্তি হলো। আমার মনে হচ্ছিল যেন আমি খুব ভালো কিছুর প্রেমে পড়েছি কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে এটি কী, কেবল ওখানেই এটি ছিল। আমি সব শব্দ শুনতে পেলাম, মোটরসাইকেল আর গাড়ির আওয়াজ। কুকুরের ঘেউ ঘেউ, মানুষ আর হাসির শব্দ শুনতে পেলাম। তারপর ঘুমালাম। ঘুমালাম আর ঘুমালাম। আমার জানালা দিয়ে যখন তাকাল একটি গাছ, যখন তাকাল একটি গাছ আমার দিকে। সূর্য কাজ করতে লাগল আর মাকড়সাটা হামাগুড়ি দিয়ে বেড়াতে লাগলো।
পৃথিবীতে আর আমার মাঝে যত গুয়া মারা
চার্লস বুকাওস্কি
অনুবাদ: রথো রাফি
চার্লস বুকাওস্কি
অনুবাদ: রথো রাফি
আরও পড়ুন: [বুকাওস্কি সংখ্যা]




মন্তব্য