আশ্চর্যবোধক চিহ্ন
আশ্চর্যবোধক চিহ্নের নিচে ফুটে আছে ফুল-স্টপ
অর্থাৎ, আশ্চর্যেরও সীমা আছে
আর এই সীমা হলো ০
কেননা, ফুলস্টপ মূলত বিন্দু
০ হলো বৃত্তের সহোদর
আর যেকোনো বিন্দুই বৃত্তের চেয়ে ছোট
এভাবে শূন্যকে মহিমান্বিত করে, আমরাও শূন্য হয়ে যাবার পর,
আমাদের সকল আশ্চর্য
ফুটে থাকা বিন্দুতে মিশে যায়
প্রশ্নবোধক চিহ্ন
প্রশ্নবোধক চিহ্নের নিচে একটা পাখি ডিম দিয়ে উড়ে যাওয়ার পর
পাখিটার নাম জিগ্যেস করতে আমরা তার ডিমসহ চিহ্নটিকে বসিয়ে দিয়েছি
বাসা ও ডিম হারানোর পর— আর কিছু কী বলার আছে তার?
হাইফেন (সম্পর্কবোধক চিহ্ন)
দুইটি নামের মাঝে সেতুর মতো জুড়ে বসেছে হাইফেন
প্রথম নামটি নদীর এক পাড়
দ্বিতীয় নামটি নদীর অন্য পাড়
হাইফেন জুড়ে বসার পর
এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে সেতু হয়ে যাতায়াত
তারপর থেকে—
মানুষের ভেতর মানুষের সাঁতার ভুলে যাওয়া
কমা
কমে যাচ্ছে জাদুবিদ্যার চর্চা
গোলাপ ও শাদা রুমালের দাম পড়ে গেলে
মনে করো, গাণিতিক মানুষ ধারণাটি সত্য
কেননা, জাদুকরের কাছে—
মানুষ দুই দ্বারা ভাগ হয়ে যায়
গোলাপ পাঁচগুণ বেড়ে যায়
রুমাল হয়ে ওঠে খরখোশ
অডিয়েন্সের কাছে—
তখন ঘর হয়ে ওঠে এস্কেলেটর
খোলা প্রান্তর ও দরজা কেবলই যুদ্ধের আমন্ত্রণ
তুমি এসবের কোথাও নেই
কারণ, তোমার বিশ্বাস সঙ্গমে
সঙ্গম থেকে দুইজন মানুষ গাণিতিকভাবে তিনজন শিশু হয়ে ওঠে।
উদ্ধৃতি চিহ্ন
বাঘবন্দির মতো কখনোকখনো অসহায় মুখ
তোমাকে ত্রিভুজে কল্পনা করি : কোণ বেঁকে যায়
অন্ধকার পড়া আয়নার মসৃণ দুঃখের মতো
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে শীর্ষবিন্দু
রাস্তার আকৃতিও এতটা ঢিলেঢালা নয়
দুদিকের গাছের অপরিশোধিত ছায়ার বাহুর নিচ দিয়ে
মানুষগুলো ঠিকঠাক বেরিয়ে যেতে পারছে
আমি কেবল অন্ধকারকে তোমার হাতের বিকল্প ভাবছি
ব্রাকেট
ব্রাকেটের ভেতর হাঁসফাঁস করছে ছায়ার ব্যাখ্যা
(ছায়া কি আমার?) তাকে বিকল্প দাও
রোদের কোটর থেকে চোখ তুলে নিয়ে
একটা আদিসাপ রেখে গেছে তার মণি
সাপের জিহ্বার মতো ছায়া দুদিকে বেঁকে গেছে
যার একটি পথসদৃশ
অন্যটি মুছে যাওয়া ইশারা
দৃশ্যপটের পুঁটলি থেকে নিজেকে খুলে নিয়ে
ছুটছি আদিসাপের পিছুপিছু
লোপচিহ্ন
জানালা > জানলা
চতুর্ভুজাকৃতির একটি কাচের বয়ামে আকাশটাকে ঢুকিয়ে
রেখে দিয়েছি তোমার টেবিলে
আমার টেবিলে জুতা পরিহিত কৃত্রিম ছায়া
তোমার সাথে বেড শেয়ারের টাইম হলেই—
ছায়া নড়ে ওঠে, চোখ টিপ দেয়
আমরা তবুও মিলিত হই— তবুও
দীর্ঘদিন আমার অর্গাজম হয় না
ড্যাশ
দাঁড়িয়ে থাকা দাড়ি ক্লান্তিতে শুয়ে পড়লে ড্যাশ হয়ে ওঠে
ভেতরে নদী গুঁজে দিলে ক্লান্তি লাগে
জগতের নিয়ম বুঝে নিয়ে
আমাকে সৌন্দর্যের জলজ ও সাংখ্য উভয় পিঠ দেখাচ্ছো
ঠেস দেয়া নগ্ন পিঠ ব্যতীত দেয়ালটি একা ফিল করছে
যদিও তার গায়ে ঝুলছে বৃত্তাকার ঘড়ি
ঘড়ির প্লাস্টিকের বুকে একটা কাগজের দেয়াল কেটে বসানো
সেমিকোলন
একটি বিন্দু ও কমার মাঝখানে যে শূন্যস্থান— সেখানে
হত্যার আগেই ছুটিতে হারিয়ে গেছে মোটিভ
আর আমি আড়াই ঘণ্টা যাবৎ খুঁজে চলেছি কয়েকজন তুমিকে
নালায় নৌকা ভাসিয়ে—
এজিয়ান সাগরে বড়শি ও বৃষ্টি একইসাথে নামছে
একজন তুমি এখানে, ক্রোতোনবিতারিত
যার ভাষা শেখার আগে শিখেছি বিরামচিহ্ন
দাঁড়ি
পার্থক্য ফুরিয়ে যাবে— পথও
তত্ত্ব দিয়ে বোঝানোর দিন শেষ হয়ে এলো, শিখা
ইশারা-ইঙ্গিত তোমাকে উপেক্ষা করে করে
মহাজাগতিক স্রোতে ভেসে বেড়াচ্ছে
ভাষা জড়ো করো
ভাবো!
তোমাকে কীরকম পেটমোটা অসীমভুজের ভেতর
বেঁধে রাখা হয়েছে জীবন্ত কিছু চিৎকারের সামনে
ওদের থামাও
দাঁড়ি না বসাও অন্তত জায়গা ফাঁকা রেখো
বিকল্পচিহ্ন
উদ্দেশ্যে তুমি, বিধেয় জুড়ে তোমার চুরমার এবং অর্ধ হাতের টুংটাং
বিকল্পচিহ্নের ন্যায় অসীম এক কৃত্রিম আকাশ
কাচের গুড়োর পোশাক পরে আছে
আকাশ ও পাখির মাঝখানে বিকল্পচিহ্ন যে ধরনের সূত্র
ভেঙে পড়ার আগে তুমি ততটুকু আইডিয়া
হাত গুটিয়ে রেখেছ...
চিহ্ন লাগে না, আমার বিকল্পই আমাকে নিঃসঙ্গ করে দেয়
বিরামচিহ্ন সিরিজ
নাজমুল হোসাইন
নাজমুল হোসাইন




মন্তব্য