—শব্দ আসছে না? থাক। লেখার দরকার নাই। মদ খাও, মদ; আর তোমার প্রেমিকা কোথায়?
ভারী কণ্ঠের কথাগুলো কানে এসে বাজলো। শাদা ধোঁয়ার দেওয়াল ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। তার চেহারা অনেকটা অস্পষ্ট। মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা শাদা দাড়ি, পাকা চুল। ফর্সা কপালে, গালে বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট।
অপ্রস্তুত চোখে তাকালাম।
টেবিলে ডান হাতে বরফডোবা কাঁচের গ্লাস রাখলেন। বরফ তখন অর্ধেকও গলেনি। লাল জলে হাবুডুবু খাচ্ছে। বাঁ হাতে কেজ-সাইজের সিগারেটে টান দিয়ে আবার কথা শুরু করলেন।
আমার চোখে তখন চে গুয়েভারার সিগার খাওয়ার বিপ্লবী দৃশ্যটা ভেসে ওঠে; কিন্তু মস্তিষ্ক প্রশ্নবিদ্ধ।
—যৌনতা ছাড়া কবিতা হয়? সঙ্গম করো, ফূর্তি করো। চিয়ার্স।
নাগরিক রাতের তেরছা অন্ধকারে মাদকীয় মাংসের ঘ্রাণের কথা বলছেন তিনি।
—ওসবে নাই আমি। এখানে নিঃসঙ্গতা উদযাপনে এসেছি। একা থাকতে দিন প্লিজ।
লোকটা গম্ভীর। কথাবার্তা বেফাঁস। হাসেন না খুব একটা। এর কারণ অবশ্য জানতেও চাইনি। দাঁতগুলো হলদে। লাল পানি যে বেদম খাওয়া খায়, আঁচ করা যাচ্ছে। নেশাখোর একটা! যত্তসব!
—কিছু বলার থাকলে বলে রাস্তা মাপুন। কোত্থেকে যে আসে এসব!
—“ভেতরের ব্লু বার্ডকে উড়তে দাও”। সে উড়ুক। ক্লান্ত হোক। পেট পুরে নীড়ে ফিরুক। শব্দ আসুক সময়ের পাটাতন খুলে।
একটু থেমে আবার বলতে লাগলেন :
—ভেঙে ফ্যালো বিত্তশালীদের এই কংক্রিটের দালান। বেকারত্ব ধারণ করো। বোহেমিয়ান হও। সুন্দরী তরুণীদের বুকে ঘুমাও। পান করো, ফল নিঙরানো শরাব। দিনমজুরেরা, সংগ্রামী হও। অবাধ যৌনতার নিষিদ্ধ আবরণ সরাও…
একটানা আবৃত্তির মতো করে গেলেন। মন্দ লাগলো না। ভারী কণ্ঠে আবৃত্তি বরাবরই দারুণ লাগে। ছোটো করে বললাম- আপনাকে ধন্যবাদ, একাকীত্বকে আরো প্রগাঢ় করে তোলার জন্য।
সিগারেট এবঙ মদ দু’টোই শেষ। পায়ে পিষে আগুন নেভালেন। দুর্গন্ধ মুখ নিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন :
—তোমার ডাকনামটা যেনো কী?
—বেপরোয়া।
হো হো করে হেসে উঠলেন। উঠতে গিয়ে পড়ে যেতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিলেন।
ব্লু বার্ড, ওড়ো। দ্যাখো, পৃথিবী কতো বিচিত্র অন্ধকারে নিমজ্জিত।
এসব বলতে বলতে অদৃশ্যে মিলিয়ে গেলেন ধোঁয়ার সাথে সাথে।
ভাবলাম, কতোজনই বা বুকাওস্কি হয়ে উঠতে পারে!
ব্লু বার্ড বুকাওস্কি
সাইদ মুহাম্মাদ ওলিউল্লাহ
সাইদ মুহাম্মাদ ওলিউল্লাহ




মন্তব্য