ভূমিকা
বিশৃঙ্খলার ভেতর গোপন স্থিতি: বুকাওস্কির বিড়াল
চার্লস বুকাওস্কি—নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মদে টলোমলো এক নিঃসঙ্গ মানুষ। লস অ্যাঞ্জেলেসের অন্ধকার গলি, সস্তা বারের কোলাহল, একটানা সিগারেটের ধোঁয়া আর ভাঙা টাইপরাইটারের শব্দ—তার পরিচিত চিত্র। কিন্তু সেই বিশৃঙ্খলার ভেতরেই বুকাওস্কি হঠাৎ এমন কিছু লিখেছেন, যা তার রুক্ষ চিত্রটাকে ভেঙে দেয়। বিশেষত তার বিড়াল নিয়ে কবিতাগুলো—যেখানে এক মাতাল কবি একেবারে অন্য এক মানুষ হয়ে ওঠেন।
বুকাওস্কি লিখেছেন: "I know. They are cats and I am a drunk... yet they walk with grace I will never have." পড়লে মনে হয়, বুকাওস্কির চোখে বিড়াল কেবল প্রাণী নয়; বরং একধরনের শুদ্ধ স্থিরতা। যে মানুষ জীবনে অগোছালো, নিজের দেহ-মন বারবার ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, সে কেন বারবার এই প্রাণীগুলোর দিকে টান অনুভব করেছিল? সম্ভবত উত্তরটা লুকিয়ে আছে বিড়ালের সেই মৌন গরিমায়।
বিড়াল কারও জন্য থামে না, কারও কাছে ক্ষমা চায় না। ঠিক বুকাওস্কির মতো, তবে অনেক বেশি নিস্তব্ধ, অনেক বেশি শান্ত। "Cats don’t even know you’re poor... They just sleep on your chest, keep you warm and then go find their own corner." লাইনগুলো শুধু এক মাতাল মানুষের প্রাণীর প্রতি মুগ্ধতা নয়; বরং তার নিজের অক্ষমতার স্বীকারোক্তি।
বুকাওস্কির জীবনের পরিচিত গল্পগুলো—ভাড়া না দেওয়া, অবিরাম মদ্যপান, ঝগড়া, চাকরি হারানো—সব মিলিয়ে সে ছিল walking disaster। কিন্তু ঠিক সেই মানুষটাই লিখেছে: "Having a cat in the house... it’s like having a clock that tells no lies." একটা বিড়াল ঘরের কোনে বসে আছে, নীরবে শরীর চেটে নিচ্ছে, তারপর জানালার দিকে তাকিয়ে স্থির থাকে। বুকাওস্কি দেখছিল এই ক্ষুদ্র দৃশ্য আর খুঁজে পাচ্ছিল নিজের জীবনে অনুপস্থিত একটা জিনিস—নিঃশব্দ শৃঙ্খলা।
তার কবিতাগুলোর ভেতরে বিড়াল আসে প্রায় এক Zen প্রতীক হিসেবে। যখন তার জীবনে মানুষ আসে, ঝগড়া আর হাহাকার নিয়ে আসে। কিন্তু বিড়াল আসে কোনো প্রত্যাশা ছাড়া। "I am sick of human voices... my cat just looks at me, no judgement, no sermons." কবিতাগুলোতে বুকাওস্কি এক শান্তির সাথে কথা বলে। যেন এক মুহূর্তের জন্য সে নিজেকেও শান্ত মনে করতে পারে।
বুকাওস্কির বিড়ালদের প্রতি টান মূলত দুই কারণে: অদম্যতা এবং একাকীত্ব। বিড়াল কখনও হেলাফেলা মেনে নেয় না, আবার চূড়ান্ত একাকী প্রাণী হিসেবেও বেঁচে থাকে। বুকাওস্কি জীবনে নিজেকে হারিয়েছিল বহুবার—অ্যালকোহল, বেকারত্ব, সম্পর্ক ভাঙন। তবু তার কবিতায় বারবার দেখা যায়, বিড়ালের মতো মানুষের কাছ থেকে দূরে গিয়ে নিজের কোণ খুঁজে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা। "When things get too bad, I look at my cat... she doesn’t give a damn about bills or death." কবিতার লাইনটা যেন বুকাওস্কির নিজের বেঁচে থাকার সূত্র। মানুষের দুনিয়া যতই এলোমেলো হোক, বিড়ালের মতো বেঁচে থাকা সম্ভব—কোনো বড় প্রত্যাশা ছাড়া, কিন্তু নিজের স্বাভাবিকতা ধরে রেখে।
বুকাওস্কিকে অনেকেই ‘মাচো’ অভিযোগে সমালোচনা করেছেন। তার কবিতা আর গদ্যের ভাষা রুক্ষ, প্রায়শই নির্দয়। কিন্তু তার বিড়াল নিয়ে লেখা কবিতাগুলো একেবারে ভিন্ন রকম। "My cats, they are my little girls... they come when the world is bad, and we sit together, and it is good enough." বোঝা যায়, বুকাওস্কির কঠিন মুখোশের নিচে এক ভঙ্গুর মানুষ লুকিয়ে ছিল। যে মানুষ মানুষকে প্রায়শই বিশ্বাস করতে পারেনি, কিন্তু একটা প্রাণীর পাশে নিশ্চিন্ত হতে পেরেছিল।
অনেকে বলেন, বুকাওস্কির শেষদিকের কবিতাগুলো আগের মতো অন্ধকার নয়। সেখানে যেন হালকা, সামান্য শান্তি এসে গেছে। অনেক সমালোচক মনে করেন, এর পিছনে বিড়ালদের একটা ভূমিকা ছিল।
তার এক বিখ্যাত কবিতা, “My Cats”—"I have several cats... they are my teachers... when I get too emotional, I look at them and remember: stay cool, keep moving." এখানে বিড়ালকে সে প্রায় একজন গুরু হিসেবে বর্ণনা করছে। এক ধরনের Zen দর্শন—যেখানে কোনো কিছুতে অতিরিক্ত আঁকড়ে না ধরে, শান্ত থাকা শিখতে হয়। বুকাওস্কি কোনোদিন নিজেকে দর্শনের মানুষ বলে দাবি করেননি। কিন্তু বিড়ালের দিকে তাকিয়ে শিখেছিল এমন কিছু, যা তার বিশৃঙ্খল জীবনে অল্প সময়ের জন্য হলেও শান্তির রেখা টেনেছিল।
বুকাওস্কির বিড়াল নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত কবিতা হলো “My Cats”। পুরো কবিতায় বারবার ফিরে আসে এক ধরনের নীরব কৃতজ্ঞতা। "When I am feeling low, I watch my cats… they just keep moving, keep their dignity, while I lose mine." বুকাওস্কি এখানে বিড়ালের ভঙ্গিমা বা নরম চেহারার প্রশংসা করছে না। সে প্রশংসা করছে তাদের নিরপেক্ষতা, তাদের অদম্য আত্মসম্মান। বুকাওস্কির নিজের জীবনে যা অনুপস্থিত ছিল—আত্মসংযম ও নির্লিপ্ততা—তা সে খুঁজে পেয়েছিল বিড়ালের ভেতর। আরেকটি ছোট কবিতা আছে, “one for the shoeshine man”-এর অংশ, যেখানে সে বিড়ালের তুলনায় মানুষের ব্যস্ততাকে উপহাস করে: "My cat stretches, yawns... I rush for nothing and end up with less." বোঝা যায়, বুকাওস্কি দেখছিল মানব সভ্যতার সব ব্যস্ততা—চাকরি, সাফল্য, টাকা—সব এক প্রহসন। বিড়ালগুলো তার চোখে ছিল বিপরীত উদাহরণ, এক নীরব প্রজ্ঞার রূপ।
বুকাওস্কির জীবন ছিল দীর্ঘমেয়াদি মদ্যপান, নষ্ট সম্পর্ক আর দারিদ্র্যের ভেতর আটকে থাকা। কিন্তু বিড়াল নিয়ে লেখা তার কবিতাগুলো যেন অন্ধকার ঘরের ছোট আলো। "When things go wrong, when people leave, my cats stay… they curl near me, breathe slow, and the night becomes bearable." এখানে আর কোনো বিদ্রূপ নেই, নেই তার চেনা আত্মদ্বেষের সুর। বরং আছে একধরনের স্বীকারোক্তি—সবকিছুর ভেতর একটুকরো শান্তি সম্ভব, যদিও সেটা মানুষের মাধ্যমে আসে না, আসে এক প্রাণীর সহজ উপস্থিতি থেকে।
বিড়াল নিয়ে কবিতাগুলো আসলে একাকীত্বকে নতুনভাবে লেখে। সাধারণত একাকীত্ব মানেই বুকাওস্কির জীবনে হতাশা বা মদ্যপ রাতের ছবি। কিন্তু বিড়ালের পাশে সেই একাকীত্ব পায় অন্য মাত্রা। "I talk to them, yes… but it is better than talking to myself." একাকীত্ব আর নিছক শূন্যতা নয়, বরং এক ধরণের সহাবস্থান। মানুষ যেটা দেয়নি—অবিচারহীন সঙ্গ—সেটা দিয়েছে এই প্রাণীগুলো।
বুকাওস্কির কবিতার ভেতর কোমলতা বিরল। বেশিরভাগ সময়ে তার লেখায় থাকে বিদ্রূপ, রাগ, কখনও সরাসরি গালাগালি। কিন্তু বিড়ালের কবিতাগুলোয় সেই সুর বদলে যায়। "They forgive nothing, ask nothing, they just are… and I love them for that." এই লাইনগুলোর ভেতর কৃতজ্ঞতা আছে। মানুষকে বিশ্বাস করতে না পারা বুকাওস্কি অন্তত কিছু প্রাণীর কাছে শান্ত হতে পেরেছিল।
আজকের পাঠক বুকাওস্কিকে প্রায়শই “toxic masculinity”-এর প্রতীক হিসেবে দেখে। কিন্তু বিড়াল নিয়ে লেখা তার কবিতাগুলো সেই ইমেজ ভেঙে দেয়। একদিক থেকে এগুলো আমাদের জন্যও প্রাসঙ্গিক—যে যুগে সবাই দ্রুত দৌড়াচ্ছে, সবকিছু প্রমাণ করতে চাইছে, সেই সময়ে বুকাওস্কির বিড়ালের কবিতা আমাদের শেখায়, মাঝে মাঝে থামা দরকার। "The world is falling, but my cat sleeps... and maybe that is enough wisdom for today." মনে হয়, বুকাওস্কি প্রায় হেসে ফেলছে আমাদের জীবনের সব নাটক দেখে। বিড়াল একধরনের counter-narrative তৈরি করছে—সবকিছু ভেঙে পড়লেও শান্ত থাকার ক্ষমতা।
সাহিত্যে বিড়ালকে বহুবার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। টি.এস. এলিয়টের Old Possum’s Book of Practical Cats বা হারুকি মুরাকামির বিড়ালদের আমরা জানি। কিন্তু বুকাওস্কির বিড়াল অন্যরকম। তারা কোনো রহস্যময়তা বা জাদু বহন করে না। তারা নিত্যদিনের, সাধারণ প্রাণী। কিন্তু বুকাওস্কির জীবনে তারা এক প্রতীক— অদম্যতা: যতবারই তারা পড়ে, তারা আবার উঠে দাঁড়ায়। নির্লিপ্ততা: তারা কারও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকে না। স্বয়ংসম্পূর্ণতা: একাকী থাকতে পারে, অথচ নিজস্ব আনন্দ খুঁজে পায়।
বুকাওস্কির কবিতায় এই তিনটি গুণই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো তার নিজের জীবনের অনুপস্থিত দিক। সে নিজেকে ভেঙে দিতে পারে, কিন্তু বিড়ালের মতো নিজেকে একত্র করতে শেখেনি—যতক্ষণ না তাদের দেখে তা বুঝতে পেরেছে।
জীবনের শেষ দিকে বুকাওস্কির কবিতায় শান্ত সুর আসে। সমালোচকরা বলেন, এটা তার নতুন জীবনের ফল—প্রকাশিত লেখক হিসেবে স্বীকৃতি, সম্পর্কের স্থিতি, আর বিড়ালদের সঙ্গ। "In the end, it is not the bars or the women or the words… it is the cats that kept me from jumping." এই স্বীকারোক্তি হয়তো অতিরঞ্জন, কিন্তু স্পষ্ট করে দেয়: বিড়াল বুকাওস্কির কাছে শুধু পোষা প্রাণী নয়, বরং জীবন বাঁচানোর ছোট কিন্তু দৃঢ় কারণ।
চার্লস বুকাওস্কি এক বিশৃঙ্খল মানুষ ছিলেন—কোনোভাবেই রোল মডেল নন। কিন্তু তার বিড়াল নিয়ে লেখা কবিতাগুলো দেখায়, এমনকি সবচেয়ে অগোছালো জীবনেও এক ধরনের Zen সম্ভব। সেটা আসে না ধর্ম বা গুরু বা সামাজিক নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে, বরং এক প্রাণীর নির্লিপ্ত, স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনের দিকে তাকিয়ে। আজ যখন আমরা অতিরিক্ত চাপে ভুগছি—কাজ, সম্পর্ক, সামাজিক প্রত্যাশা—বুকাওস্কির সেই ছোট বিড়ালের কবিতাগুলো আমাদের শেখাতে পারে: কখন লড়তে হয়, কখন ছেড়ে দিতে হয়। কিভাবে কম প্রত্যাশা নিয়ে শান্ত থাকা যায়। আর কীভাবে নিঃশব্দ সহাবস্থানের ভেতরও জীবনের অর্থ খুঁজে নেওয়া যায়। বুকাওস্কির বিড়াল আসলে আমাদের শেখায় একটাই জিনিস—“সবচেয়ে বড় বিদ্রোহ হলো শান্ত থাকা।”
আমার বিড়ালরা (My Cats)
জানি, জানি—
তাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে,
ভিন্ন চাহিদা আর চিন্তা।
তবু আমি দেখি তাদের—
খাঁচার ভেতর বসে থেকেও
তারা ধরে রাখে মর্যাদা।
তারা আপস করে না,
কাউকে তাদের ভাঙতে দেয় না।
কষ্ট পায়,
তবু ফেরত কষ্ট দেয় না।
শুধু
নিজস্ব গতিতে বেঁচে থাকে…
আমার শিক্ষক।
যখন অতিরিক্ত আবেগে ডুবে যাই,
তাদের দেখি।
ধীর, পরিকল্পিত ভঙ্গিতে
তারা হাঁটে,
ঘুমায়,
স্বপ্ন দেখে।
তারা নিজেদের অবস্থার জন্য
কোনো অভিযোগ করে না।
কষ্ট থেকে শেখে,
কিন্তু কষ্টে ধ্বংস হয় না।
তারা বিশ্রাম নেয়,
শরীর মেলে দেয়,
মনে হয় যেন হাসছে।
আমি তাদের সঙ্গে কখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকি,
আর ভাবি—
জীবন ভালো,
জীবন সহজ,
জীবন যথেষ্ট।
বিড়ালের গান (Cat's Song)
বিছানার কোণে ঘুমিয়ে আছে বিড়াল—
আমি লিখছি,
ভাবছি পৃথিবী কীভাবে ভেঙে পড়ছে।
বিড়ালের কোনো চিন্তা নেই,
কোনো প্রশ্ন নেই,
কোনো নড়াচড়া নেই।
তার শ্বাস ধীর,
স্বপ্নে লেজ সামান্য কেঁপে ওঠে।
আমি হিংসে করি।
ইচ্ছে করে আমিও যেন এমন
সম্পূর্ণ হই,
এমন নিস্তব্ধ,
এমন পূর্ণ।
জেন আর বিড়ালদের জন্য (For Jane and the Cats)
জেন চলে গেছে,
তবু বিড়ালগুলো করিডরে দৌড়ায়,
প্রতিটি ঘরে তার খোঁজ করে।
আমার দিকে তাকায়—
আমার কোনো উত্তর নেই।
আমি বলি,
সে চলে গেছে।
তারা বোঝে না।
তারা খুঁজে যায়,
বন্ধ দরজার সামনে ডাকতে থাকে।
রাতে তারা আমার গায়ে গিয়ে শুয়ে পড়ে—
আমি তাদের ওজন অনুভব করি,
উষ্ণ, জীবন্ত ও নিশ্চুপ।
আর ভাবি:
জেন চলে গেছে,
কিন্তু আমরা একা নই।
জানলার বিড়াল (Cat in the Window)
একটা বিড়াল বসে আছে জানলায়—
বৃষ্টি কাচে টুপটাপ বাজছে,
রাস্তা ভাসছে জলে।
বিড়াল নড়ে না,
চোখের পাতা পর্যন্ত নড়ে না।
শুধু তাকিয়ে থাকে—
চোখে গভীর, অন্তহীন শান্তি,
যেন ঝড়টা কেবল
আরেকটা চলমান বোকা।
সাদা বিড়াল (White Cat)
সাদা বিড়ালটা ঘুমোচ্ছে আমার কোলে—
আমি কফি খাচ্ছি, সিগারেট ধরাচ্ছি,
ভাবছি জীবন, মৃত্যু, খ্যাতি,
এবং সেসব অর্থহীন আবর্জনা নিয়ে।
বিড়ালের এসব নিয়ে কোনো ধারণা নেই।
শুধু ঘুমিয়ে আছে—
তার লোম ওঠানামা করছে, ছোট্ট এক সাগরের ঢেউয়ের মতো,
নরম, নিঃশ্বাস-নেওয়া পাথর।
ভাবছি, যাদের আমি ঘৃণা করেছি—
এখন তারা কেউই আর গুরুত্বপূর্ণ নয়।
যেমন আমি একসময় নিজের কাছে
অপরিহার্য ছিলাম,
এখন আর তা নেই।
বিড়াল ঘুমের ভেতর গুঞ্জন করছে,
পাশ ফিরে শুয়ে হেলান দিচ্ছে,
এবং আমি প্রায় সবাইকে ক্ষমা করে ফেলছি—
নিজেকেও।
বুকাওস্কির বিড়াল
অনুবাদ: সব্যসাচী রায়
অনুবাদ: সব্যসাচী রায়
আরও পড়ুন: [বুকাওস্কি সংখ্যা]




মন্তব্য