শরণার্থী
তিরতির করে কাঁপছে কাদের চোখ
থরথর করে কেঁপে কেঁপে ওঠা হাত
মাতাল ছেলেটা গোঁসাই নামের পিঠে
একটা একটা পালক জুড়ছে গানের
ওদের ঠোঁটের বিষণ্ণতায় লেখা
'শাস্তি' তোমায় আজকে দিলাম ছুটি
গলার স্বরের সেলাই খুলতে থাকে
ছিঁড়ে ছিঁড়ে যায় কণ্ঠনালির হাড়!
অন্ধ মেয়ের পরমায়ু রেখা নেই
স্তনের থাকে না পরিচয়পত্র
কাঁচি গিলে নিল নির্জন ফুসফুস
ব্লেড চিবিয়েও মৃত্যু হয় না কেন?
তুমি ভবঘুরে ওরা ভবঘুরে আমি?
দেশ নেই কোনও, নাম নেই, গোত্র
সবার আজকে এত শীত করে কেন?
তবু বেঁচে আছি কতবড় ধৃষ্টতা!
আহা হাসো হাসো চামড়া পুড়ছে দেখে
তবু হাসো হাসো জুতো খেয়ে বেঁচে থেকে
উঠে এসো তুমি সাহসে হৃদয় বাঁধো
তাক করে রাখো সাহস সবার দিকে!
চাণক্য চন্দ্রগুপ্ত
তুমি হাঁটো স্বদেশের নিবিড় ভাগচাষী
মহাকালের নম্র চাষবাস হাঁটে তোমার পায়ে
নখের ডগায়
দিগন্তের দুর্নিবার নূপুর
প্রজননশীল রাতে জ্যোৎস্নার জন্মকুন্ডলী ছড়ায়
সুগন্ধের কয়েককুচি টোল
তোমার রক্তের দোলে ‘রংতন্ত্র’ রাখে সংবিধানে
ছাত্রের মনে তুরীয় চৌকাঠ ছেড়ে আসায়
জলের ছলছল বেয়ে জলোচ্ছ্বল ঘর ছেড়ে আসায়
তুমিতম আকুল আহ্বান
এসো গান
চলো চলো
রাজার মৃত্যুতে করি স্নান
আজ রাজতন্ত্রের শেষ অনুষ্ঠান!
সেনাছাউনি
তবু আমাদের সমাজবদ্ধ হতে হবে
সমাজ আবদ্ধ থাকবে অসভ্য সন্ত্রাসে মৃত্যুতে
তবু আমরা প্রশ্নহীন গর্বিত মানুষ
আগে ভারতবাসী, পরে মনুষ্যত্ব দেখা যাবে!
এই মুখগুলো একদিন সুবর্ণরেখা হয়ে যেত
হাতে শুধু হাত ছাড়া অন্য কোনও ইশারা ছিল না
আমরা ‘অচ্ছে দিন’ আজ আমরা শিল্প বিপ্লব
তুড়ি মেরে খুলে ফেলি সভ্যতার সমস্ত পোশাক
এই নাও নগ্নতা, এই নাও আমার যাবতীয়
নিলামে তুলবে তাই এই নাও আমার আত্মা
এ মৃত্যু উপত্যকা আমারই তো, এই দেশ আমার
আমি তো মানুষ নই, আমি আগে ‘ভোটার-ভারতীয়!’
চণ্ডাশোক
আগুনের শলাকা দিয়ে লিখেছ আমার পিঠে নাম
লিখেছ মুছেছ ফের লিখেছ অক্ষরে অক্ষরে
রোমাঞ্চের জন্য তুমি হত্যা করতে ভালোবাসো?
শব্দের মধ্যে যে ভয়ংকর স্তব্ধতা আছে
সে তার ধারালো নখ রেখে যায় পাথরের গায়ে
তোমার অকথ্য দৃষ্টিতে আমাদের মুখ ছিঁড়ে যায়!
নিতান্ত শিশু আমি তবে এত উৎসব কেন
সমস্ত ছিনিয়ে নিয়ে তারপর লক্ষ্য করো আমায়
ধর্ম তার ঠোঁটের হাসিতে নিজেকেই তাচ্ছিল্য করে
ধর্মের ঠিকাদার বুঝবে না সে-কথা কোনোদিন
রোমাঞ্চের জন্য ক্ষুর টেনে দিয়ে সবার গলায়—
বলে যাবে ‘পক্ষ নাও পক্ষ নাও পক্ষ নাও এক্ষুনি কোনও!’
না
নিরাপত্তাহীনতা দিয়ে গড়েছ সমস্ত শরীর
অন্ধকারে মিশে যাব তেমন উপায় রাখনি তো
ভ্রূণহত্যার দায় মাথা পেতে নিয়েছি এই দেখো
তবু আমি মেয়ে হয়ে, মেয়ে হয়ে উঠছি ক্রমাগত
যৌনতাসর্বস্ব আমি সম্ভোগের উন্মোচন শুধু
পাঁচজনে ছিঁড়ে খাবে এটাই তো সমাজ দস্তুর
বাজারে বিকোচ্ছি সব মেয়েরাই কুশপুত্তলি
নিজেকে পুড়িয়ে সেই আগুনেই পরীক্ষা হোক
শরীরে বিপন্ন আমি, মনে নই বিকলাঙ্গ ক্লীব
যোনির আঁধার দিয়ে গড়ে তুলি সমাজ সংসার
আমাকে বস্ত্র তুমি দিও না কৃষ্ণ শুধু শোনো—
কামনা করলে ঐ লিঙ্গ আমি টেনে ছিঁড়ে দেব!




মন্তব্য