ক্ষত ও ক্ষতি
পথ থেকে পথ উবে গেছে
উবে গেছে নদী থেকে নদী গাছ থেকে গাছ...
একদিন ভোরবেলা এমনটা দেখা গেল
চারদিক ধু-ধু খাঁখাঁ...
চিন্তা ও দুশ্চিন্তায়
নিজের ভেতরে ঢুকে দরজা আটকে দিলো সবাই
সময়হীন থাকতে থাকতে
মানুষেরা নিজেদের উবে যাওয়ার বিষয়টা
অনুধাবন করল এবং সিদ্ধান্ত নিল
কেউ আর কখনও নিজের ভেতর থেকে বেরোবে না
চারদিক ধু-ধু খাঁখাঁ...
এভাবে পৃথিবী থেকে পৃথিবীই উবে গেলে
পড়ে থাকে শুধু কিছু ক্ষত ও ক্ষতি
একটা মাথার কথা
একটা মাথার কথা ভাবতে ভাবতে
খাও ঘুমাও বেড়াও হাসো কাঁদো...
কত বড় বড় পাস দেয়া ডাক্তার আসলো গেল
হলো না কাজের কাজ কিছু
একদিন একদম চিরতরে মুখ বন্ধ
আর কি বলার নাই কিছু
তারপর গেল দুই চোখ
আর কি দেখার নাই কিছু
খাওয়া বেড়ানো হাসা কাঁদা সব গেছে থেমে
বহুজন বহুকিছু ভেবে নিচ্ছে বলে যাচ্ছে বহু কথা
আর তুমি
সবকিছু বাদ দিয়ে চুপচাপ শুধু
একটা মাথার কথা ভেবে যাচ্ছ
একটা হাতের জন্য
একটা হাতের জন্য এ জীবনে আর কী কী করবে
এখন ডুবন্ত সূর্য পড়ন্ত জীবন
একটু বোঝার চেষ্টা করো
তার খাতার কোথাও তুমি নাই না-অঙ্কে না-কথায়;
তবু পাগলের মতো
একটা একটা করে আঙুল নিজের হাতে কাটছ
তার প্রিয় মাছদের দিচ্ছ
তারা খাচ্ছে বড় হচ্ছে...
তোমার ধারণা একবার হলেও সে
প্রিয় মাছদের দেখতে আসবে
সে কি সত্যি আসবে
আঙুলবিহীন হাত দিয়ে তার হাত তুমি কীভাবে ধরবে
আক্ষরিক ঘরচিন্তাহীন
রাত তো গভীর হবেই ঘরেও যেতে হবে
কিন্তু যার বা যাদের ঘর নাই
তারা সবাই কি পারবে তোমার মতো
"ঘরে যাই" বলে দলছুট হয়ে
পৃথিবী সমান এক ঘরের ভেতর নিজেকে ছুড়ে দিতে
যে ঘরে কোনও দেয়াল নাই আড়াল নাই
সব আছে সবাই আছে কিন্তু কেউ নাই কিছু নাই
তুমি হাসছ ভাবছ
আমার মতো আক্ষরিক ঘরচিন্তাহীন কেউ নাই আর
না মানুষ না বৃক্ষ
বৃক্ষ হতে চেয়ে এক জায়গায়
এতগুলাে বছর কাটিয়ে দিলে
কিন্তু শেকড় গজাল না
পাতাও না
অর্থাৎ তোমার বৃক্ষ হওয়া হলো না
এখন নিজেও বুঝে গেছ
এ জীবনে আর বৃক্ষ হওয়া হবে না
তাই নতুন বাসনা আবার মানুষ হবার
কিন্তু আলো নিভু নিভু
অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে
আপসোস
এ জনমে তুমি না মানুষ হতে পারলে না বৃক্ষ
ব্যর্থতা ও হতাশার গল্প
ছেঁড়াফাটাভাঙাচোরা জন্ম
আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে
সময়ের পথ বেয়ে নিজস্ব নিয়মে যায় হেঁটে...
সঙ্গে বেড়ে যায় ঋণ কমে যায় আয়ু
কমে যায় সব কমে যায়...
কমতে কমতে থাকে শুধু
চিয়া সিড জলের মতন থকথকে জ্যালজেলে কিছু অন্ধকার
আর তার মধ্যে
সমস্ত ব্যর্থতা হতাশার গল্প
একান্ত নিজস্ব ঘর
এই ঘর কোথায় না-কোথায় নিয়ে গেছে
কত কী দিয়েছে
ঘুরিয়েছে
উড়িয়েছে
পুড়িয়েছে
করিয়েছে বহু কর্ম আর অপকর্ম
আকাশকে যেমন দিয়েছে এনে পা'র তলে
তেমনই পাতাল দিয়েছে তুলে মাথার ওপরে;
অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্য এই ঘর নিরন্তর কথা বলে
বলে ভালোবাসি অগণিতবার
সত্যি বলতে আমিও ভালোবাসি তাকে
শুধু বলি না
না থেকেও থেকে যাবে
কোথাও নিজেকে খুঁজে পাচ্ছিল না কেউ
কার বা কাদের সঙ্গে ছিল ওঠাবসা ঘোরাফেরা
সব ঠিক ছিল
পথে পথ
ঘরে ঘর
কণ্ঠে কণ্ঠ
শুধু একজন কার যেন হৃদয়ে হৃদয় ছিল না
তাতেই জীবন থেকে জীবন হাওয়া
সব চেনা পরিচিত জন স্থান হঠাৎ অচেনা
কেন সব চেষ্টা ব্যর্থ কেন যে হলো না বনিবনা
কেন যে শেষ অবধি ঝুলে গেল সিলিংয়ে
সেসব যাবে না আর জানা
তবু থাক অন্তত এটুকু এই কবিতায় থাক
জীবনে জীবন আসে যায়
গুপ্ত শ্লীল তাই
এই বৃত্তে মাতে মৌন উল্লাস
উপলক্ষ চলেই আসে বারংবার
স্বপ্নের সঙ্গে ইচ্ছা তখন মেলে ডানা
কিন্তু সব জীবন তো সবুজ প্রাণ না
মুক্ত নীল আকাশ না
এসেছে আগেও বহু গুপ্ত ও প্রকাশ্য
আর গেছেও হৃদয়হীন হাড় মাংস রক্তসহ
হয়তো এবারও...
তবু কেন যে ইচ্ছা নাচে
মানুষের পৃথিবীতে
তারচে বরং চলে আসো
মানুষ এখানে এখনও কিছু আছে
ভালো মন্দ খোঁজ খবরাখবর নেয় আত্মীয়র মতো
পৃথিবী এখানে এখনও ততটা নিষ্ঠুর হয়নি
যতটা নিষ্ঠুরতার মধ্যে দিয়ে এ যাবৎ তুমি গেছ
চলে আস মানুষের পৃথিবীতে
বাঁচো বাকিটা জীবন মানুষের মধ্যে মানুষের মতো




মন্তব্য