রুবাই। একটি চার পংক্তির গভীর অর্থবহ কবিতা (quatrain), এবং ‘রুবাইয়াৎ’ তার বহুবচন। রুবাই লেখার সচরাচর ধরণটি হল— ‘ককখক’, অর্থাৎ প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ পংক্তির শেষে একই ধরণের অন্তমিল থাকবে। অবশ্য, কখনও কখনও এর অন্যথাও গ্রাহ্য হবে। সাধারণভাবে অন্তিম পংক্তিটিতে এসে কবিতাটির অর্থ সম্পূর্ণ হবে।
ওমর খৈয়াম বিখ্যাত ফার্সি কবি, গণিতবেত্তা এবং দার্শনিক। জন্ম ১০৪৮ সালের ১০ মে। রুবাই কবিতার রচয়িতা।
রুবাই ১
Here with a loaf of bread
এই যে হেথায় বনের ছায়ায়
সবুজ ঘাসের গালিচায়
একটু রুটি আর শিরাজীর
পাত্রখানি ওমর চায়।
মরমীয়া কবির লেখা
কেতাব যদি থাকে সাথে,
পরান-সাকী থেকো তুমি
পূর্ণিমা চাঁদ আজকে রাতে।
লতায় ঘেরা তরুর তলে
করুণ সুরে গাইবে গান—
এই বনানী স্বর্গ হবে,
এই শুধু চায় আমার প্রাণ।।
রুবাই ২
Awake! For morning
জাগো সাকী! তরুণ রবি
তীর ছুঁড়েছে রাতের বুকে,
তাই শুনে কি লাজুক তারা
পালিয়ে গেল মলিন মুখে?
পুব-গগনে কনক-রথে
এল বুঝি ঐ শিকারী,
সুলতানেরি মীনার-চূড়া
আলোর পাশে বাঁধ্ল সুখে।।
রুবাই ৩
Oh, come with old Khayyám
ওমরের সাথে এসো তুমি সাকী
কী হবে হেথায় থাকি?
জ্ঞানে গরিমায় গর্বিত যারা
তাদেরে এনো না ডাকি’।
একথা সত্য, জীবন রবে না
আর সবি মিছে ফাঁকি,
যে-ফুল একদা ফুটেছিল শাখে
ধুলায় যাবে সে ঢাকি’।।
রুবাই ৪
Come, fill the cup
এস’ সখী, নাও ভ’রে নাও
লাল শিরাজীর নীল পেয়ালা,
বাসন্তিকার রঙের শিখা
দেখছ নাকি সামনে জ্বালা?
সেই অনলে দাও ফেলে দাও
অনুতাপের শীতের বসন,
সময় যে নেই, খাঁচার পাখী
পাখা মেলে উড়বে এখন।।
রুবাই ৫
Ah, fill the cup
হায় গো সাকী! ঢালো ঢালো
নীল পেয়ালায় লাল শিরাজী,
পায়ের নীচে সময়-চাকা
যায় যে ঘুরে, দেখছি আজি।
অতীত সে-দিন ফিরবে না আর
আগামী তো অন্ধকারে,
আজের দিনটি হাতের মুঠোয়
মধুর ক’রে নাও গো তারে।।
রুবাই ৬
And, strange to tell
মাটির পাত্র গড়েছে শিল্পী
মাটি ছাড়া কিছু নয়,
কারো আছে ভাষা, কেহ বাণীহারা
এমন কেন যে হয়!
তখনি সহসা কে যেন আসিয়া
শুধায় জগতে ডাকি’,
‘কে হ’ল শিল্পী, কে-বা সে পাত্র
আমায় বলিবে নাকি!’
রুবাই ৭
There was a door
একটি দুয়ার দেখেছিনু আমি
ছিল না চাবিটি তার,
ঘোমটা টানিয়া যে গেল চলিয়া
মুখ দেখা হ’ল ভার।
তুমি আর আমি দুজনারে ল’য়ে
ক্ষণিকের আলাপন,
তারপরে হায় তোমারে আমারে
ভুলিল সকল জন।
রুবাই ৮
Think, in this batter’d
এই সে জীর্ণ পান্থশালায়
যাত্রীরা এল হায়,
দ্বারগুলি তার রাত্রি ও দিবা
ঘুরে ঘুরে যেন যায়।
কত সুলতান এসেছে হেথায়
দুনিয়ার রংদার,
দু এক ঘটিকা র’য়ে গেল তারা
ফিরে নাহি এল আর।।
রুবাই ৯
One moment
সর্বনাশের মরুপথে
এক লহমা দাঁড়াও সাকী,
জীবনধারা পান ক’রে নাও
একটি প্রহর আছে বাকি;
রাতের তারা মিলিয়ে গেল
সামনে আসে নূতন প্রভাত,
ত্বরা ক’রে চলছে সবাই
নাই যে সময়, ফুরাল রাত!
রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম
ভাষান্তর: অর্হণ জানা
ভাষান্তর: অর্হণ জানা




সহজ সরল লেখা। জলের মত বয়ে চলা। জলের মত সমান্তরাল। জলের মতই মিশে যায়, জলের সাথে...
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক ধন্যবাদ তোমাকে।
মুছুনএটা অনুবাদ নয়, রিরাইট। যেন অর্হণ একালের খৈয়াম। ভাল হয়েছে অর্হণ। খৈয়াম ঠিকই বলেছেন-
উত্তরমুছুননগদ যা’ পাও হাত পেতে নাও,
বাকীর খাতায় শূন্য থাক—
দূরের বাদ্য লাভ কি শুনে?—
মাঝখানে যে বেজায় ফাঁক।
কে লিখেছেন, বুঝতে পারছি না। তবু বলি, খৈয়ামের ওই জগদ্বিখ্যাত রুবাইগুলিকে বাংলায় অনুবাদ করেছি এই জন্যে যাতে তাঁর দর্শন, তাঁর ভাবনা আপামর মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যায়। আপনার ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল। ধন্যবাদ।
মুছুনঅনুবাদ খুব ভাল লাগলো৷ এত সাবলীল৷ বিন্দুকে ধন্যবাদ, অনুবাদককে ধন্যবাদ
উত্তরমুছুনআমার অনুবাদগুলি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন জেনে ভাল লাগল। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
মুছুন