আগন্তুক
এবার অসুখ হলে ব্রহ্মপুত্রে এসো।
পাতা ঝরা শহরে মানুষ ঝরে যাচ্ছে যেভাবে!
তোমাকে নিয়ে তাই নৈরাজ্যের ভয়।
চোখের ভেতর ষড়ঋতু
শুকিয়ে গেলেও
কীভাবে রাখো বর্ষা?
কীভাবে শোধ করো পরিযায়ী জীবনের ঋণ?
কাকে খোঁজ বিষাদ সন্ধায়?
গুনে গুনে পার কর দিন?
এবার অসুখ হলে ব্রহ্মপুত্রে এসো—
নিঃসীম শূন্যতার দূরত্ব মাপতে মাপতে
দিয়ে যাও ঘুম,
আর,
মোহনায় রেখে যাও পতিত জীবনের দলিত ভ্রুম!
যে ফুল ফোটে নাই কোনদিন
চিরকালই যার
থাকে নাই কোন জন,
তার কাছে সান্ত্বনা রেখে যাও—
জিতে গেলেই কি সুখী হয় মানুষের মন?
ঈশ্বর
গলির সব থেকে সরু পথটায়—
সব থেকে ছোট গাছটার নিচে
শঙ্কর মুচি বসে থাকে শুনশান।
ঢুলু ঢুলু চোখ দিয়ে দেখে যায়
আবছা আলোর জগৎপুর
রং বদলানো নগর।
ঘোরের মধ্যে ছোটাছুটি করা
মানুষ আর মানুষ।
শুধু মাঝে মাঝে জুতো হয়ে ফিরে আসে ঈশ্বর!
দূর
আততায়ী ঘুম ভেঙে গেলে
রোদেরা হাওয়া হয়ে উড়ে যায় দূরে…
তোমাকে দেখিনা বহুদিন—
শহরজুড়েই আজ মুমূর্ষ ফড়িংয়ের ডানা ভাঙার শোক।
প্রতিদিন সন্ধ্যে হলে আমার আগেই
ঘুমোতে যায় পায়ের জুতো; সহস্র বছর যে
পথ হাঁটে পৃথিবীর পথে।
অথচ, আমার পথ হাঁটা কত বাকি…
আলকাতরা কালো চাঁদ কি
তোমার মনেও?
রোমন্থন
ক্যাপশনে না তাকিয়েই কি বলতে পারো
সময়ের শাখা-প্রশাখায় বয়ে যাচ্ছে কত নদী?
মানুষের চরাচরে আলুথালু পথে দেখা হোক
আবার পুরনো বন্ধুর সাথে। গোলমরিচের
চা খেতে খেতে ঝরে পড়ুক মোহগ্রস্ত মেঘ।
ঝরে পড়া শিউলীর বিষাদ গুনতে গুনতে সন্ধ্যা নামুক।
অবিশ্রান্ত পথের কোন এক প্রহরে
জুঁই ফুল ফুটে থাকুক পথের ধারে।
একাকিত্বের পরিজন থাকেনা জেনেও কাকে খোঁজে মানুষ?
যেখানে চিরকালই থেকেছি অর্বাচীন।
তার চেয়ে বরং চলে আসা ভালো
এক পাহাড় মেঘ কাঁধে নিয়ে
বিমুগ্ধ কোন ঝিড়িপথ ডিঙিয়ে
মৌতাল বাতাসে ঝরে যাই অচেনা সমুদ্রে।
গর্ভপাত
একটা অস্ফুট গোলাপ ভালোবেসে—
নিঃসঙ্গ মৌমাছি কাটিয়ে দিয়েছে নক্ষত্র বয়সী রাত।
ভেজা ভেজা অন্ধকারে-
পৃথিবীর জরায়ুকে ঘর ভেবে;
ডুবে গেছে বহু বে-হিসাবী চাঁদ।
পরগাছা
ঝড়া পাতা কুড়িয়ে বানিয়েছে ঘর—
অভাবের বালিশে মাথা রেখে ঘুমায় বুড়ি।
মাথাটা মরুভূমি সেজেছে কবেই!
অর্ধাহারে উজাড় হচ্ছে
উকুনের সংসার!
উকুন যখন খোলসে রক্ত না পেয়ে মগজে দৌড়ায়—
বুড়ি তখন বাড়ি বাড়ি খুঁজে ফেরে ভাত।
পরাশ্রয়
স্মৃতি খসিয়ে উৎপাদিত যে কবিতা—
তার ভেতর বসত করি আমিই।
আমার বলতে তো আসলে কিছু নেই!
শুধু স্মৃতির ভেতর বাস করে মৃতেরা।
মরণমুখী
শরীরের পাশ দিয়ে পাতা উড়ে গেলে—
দুম করে হাওয়া বয় বুকের ভেতর।
অন্তিম আলোয়, পাতার সাথে দেহ বদল করে—
মনে হয় আর কিছুটা সময়
পাতা হয়ে উড়ি।
শেষ বিকেলের পাখি
প্রতিদিন আয়নায় নিজের বদলে সন্তানের মুখ দেখি—
যেমন করে দেখেছিল বাবা।
স্থির শৈশব লুকিয়ে—
ক্লান্ত কাকের চোখে দেখেছি বিস্ময়।
পুরোনো দেয়ালে চোখ রেখে জেনেছি—
সম্মুখের শ্যাওলা জমা অন্ধকার।
ক্লান্তি
মনে হয় শরীরটাকে সরিয়ে রাখি
বহুবর্ষী গাছের ভেতর।
শেকড়ের পচন তো কাছ থেকে
দেখা যায় না,
দূর থেকে দেখি তার
সমগ্র পতন।
সুখ
যারা ভেবে নাও
দিনান্তে ফিরবে সুখ—
তোমরা ভেসে যাও
সমূহ দুঃখের ভিড়ে।
তোমাদের ভীষণ অসুখ।
ডুব
সমস্ত কোলাহল শেষে,
নক্ষত্র-পতনের দিনে—
পৃথিবীর সবুজ যে মাঠ,
আমি ফড়িংয়ের ছদ্মবেশে
তার কাছে যাব।
কানে কানে বলে আসব—
পৃথিবীর মোহভঙ্গ শেষে,
আমি তার বুকে বুনো ঘাস হব।
বৃক্ষ হও অথবা পাথর
এত লুকোচুরি ছেড়ে সহজ হও,
বহু ঝড় বুকে নিয়ে তুমি ক্লান্ত মানুষ।
ভেবে নাও, কোথাও কোনো নদী নেই গোপন।
এমনকি জলও নেই সামান্য কান্নার।
অন্তহীন ব্যথা নিয়ে বৃক্ষ হও—
মানুষের চেয়ে কিছুটা অনুভূতিহীন।
যেতে যেতে—
যদি আকাশ নেমে আসে পথে,
তুমি বসে পাথর হও—
পাথর ক্লান্তিহীন।




শুভ কামনা রইলো কবি
উত্তরমুছুনদারুণ
উত্তরমুছুনঅনবদ্য সৃজন
উত্তরমুছুনশব্দের ভাঁজে জীবনের গভীর সত্য—কবিতাগুলো নিঃশব্দে মন ছুঁয়ে যায়।
উত্তরমুছুন