যে চামড়া ইস্তফা দিতে ভালোবাসে
প্রতি বছর শীতকাল আমার কাঁধের ওপর পাঠিয়ে দেয় ইস্তফাপত্র।
আমি চামড়ার ওপর থেকে আরেকটা খোলস টেনে হিঁচড়ে তুলি—
যেটা কদিন আগেও কসম খেয়ে বলেছিল ওটা নাকি আমারই নাম।
বাতিল হয়ে যাওয়া মুখগুলো
পুরনো সফটওয়্যারের মতো স্তূপ হয়ে জমে থাকে—
তবুও তাদের বিশ্বাস,
তারাই নাকি লেটেস্ট আপডেট।
এরই মধ্যে,
ফুটপাথের কংক্রিট চিরে একটা আগাছা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে
কোনো ভাষণ না দিয়েই।
আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মন দিয়ে ডায়রিতে নোট নিই।
উত্তরের পাড়া
যে কটা প্রশ্ন আমি স্রেফ এড়িয়ে গিয়েছিলাম,
সেগুলো আমার বুকের ভেতর
মুদির দোকান খুলে বসল।
তারা বিক্রি করছিল:
একটা ভাঙা কম্পাস,
আধখানা মরা হাসি,
আর তিন গ্রাম ধার করা সাহস।
উত্তর? স্টক আউট।
যা হয় আর কি।
সন্ধে নামার মুখে
আমার পালসটা হয়ে উঠল অসমাপ্ত ফ্লাইওভার,
যেটার ওপর দিয়ে রোজ এমন সব মানুষ হেঁটে যায়
যারা কোনোদিন নিচের দিকে তাকিয়ে দেখেনি।
খতিয়ান
সকাল। না—
তারও আগে একটি আঙুল
কালির ভেতর থেকে উঠে এসে
কপালে লিখে দিল
অসমাপ্ত।
নীরবতা আজকাল ঘর বদলায়।
জুতোর ফিতে খুলে রেখে
প্রশ্নদের অনাহারে পাঠায়।
চায়ের ভাঙা ভাঁড়ে
একটি জোনাকি
নিজের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র চালায়।
আয়না—পেশায় সীমান্ত।
আমি নদীর কাছে চাইলাম পরিচয়পত্র।
নদী পাড় ভেঙে দিল।
টুকটাক মেরামতের সংসার
মা খুব যত্ন করে
জীবনের ফুটো আর গর্তগুলো জমাত।
আর বাবা বিশ্বাস করত,
ছিঁড়ে যাওয়া প্রতিটা সুতো।
আমি বড় হলাম
একটা আলগা সুতোর মতো,
শুধু অন্যের দরকারে লাগার রিহার্সাল দিয়ে,
আর গাঁজাখুরি স্বপ্ন দেখে—
এমন একটা কাঁথা বানাব, যা দেখে শীতকালেরও
লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করবে।
লোকটা রোজ ভোরে বাড়ি ফিরত,
তার বুকে আত্মবিশ্বাসের বদলে থাকত
চটকলের জং আর কারখানার বিষ।
আর প্রেম?
ওই ব্যাটা এক হতচ্ছাড়া মেকানিক,
ভাঙা ছুঁচগুলোতে সমানে তেল মাখিয়ে গেল সারা জীবন,
যেন ওই মরচে-ধরা লোহা
কোনোদিন নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে!
এঁটো হাতের বই
বইগুলোকে কলেজ স্ট্রিটের এটিএম মেশিন ভাবা কবেই ছেড়ে দিয়েছি।
এখন তেরছা ভাবে ঢুকি,
ঠিক যেন নোনাধরা ইটের খাঁজের শ্যাওলা—
কোনো সিভি লাগে না, পারমিশনের গুষ্টি কিলাই।
মগজ বাড়ে বড্ড দেরিতে, পায়ে কাদা মাখা জুতো,
মাথার ভেতরে আঁতেল লাইব্রেরিয়ানটাকে
দাঁত কেলিয়ে হাসে।
ছাদের টবে টমেটো গাছ ছাঁটা ওই আধপাগলা প্রতিবেশী
অনন্তকাল নিয়ে যা বোঝায়,
ফুটনোট খাওয়া উইপোকাদের সে মুরোদ নেই।
মানে খোঁজা কোনো ডেস্টিনেশন নয় গুরু।
এটা শিয়ালদার ওই পাঁপড়ি-ওঠা নেড়ি কুত্তার মতো,
পিছু পিছু বাড়ি অব্দি আসবে
কোনো চুক্তিপত্রে সই না করেই, স্রেফ
তোমার হাড়গোড় চিবোবে বলে।
এঁটো হাতের বই ও অন্যান্য কবিতা
▮ সব্যসাচী রায়
▮ সব্যসাচী রায়




জীবন থেকে উঠে আসা প্রতিটা কবিতাই মন ও মস্তিষ্ক ছুঁয়ে গেল।
উত্তরমুছুন